ঢাকা ০৩:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

মাতারবাড়ী সমুদ্র বন্দর চালু হলে কমবে পণ্য পরিবহন ব্যয়: নৌমন্ত্রী

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

দেশের প্রথম গভীর সমুদ্র বন্দর মাতারবাড়ী পুরোদমে চালু হলে পণ্য পরিবহন ও খালাসের ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে কমবে এবং সময় বাঁচবে বলে জানিয়েছেন নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি জানান, এই বন্দরে বড় আকারের মাদার ভেসেল সরাসরি ভিড়তে পারবে, যা দেশের অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

সোমবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে নৌমন্ত্রী এ তথ্য জানান। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

নৌমন্ত্রী জানান, বর্তমানে কর্ণফুলী চ্যানেলের গভীরতা ৮.৫ থেকে ১০ মিটার পর্যন্ত বজায় রাখা হচ্ছে। এর ফলে চট্টগ্রাম বন্দরে বর্তমানে সর্বোচ্চ ১০ মিটার ড্রাফটের এবং ৩ হাজার টিইইউএস ধারণক্ষমতাসম্পন্ন জাহাজ ভিড়তে পারছে। তবে দেশের ক্রমবর্ধমান বৈদেশিক বাণিজ্য সামাল দিতে মাতারবাড়ীতে গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।

মন্ত্রী জানান, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্র বন্দরে ১২-১৪ মিটার ড্রাফটের জাহাজ সরাসরি ভিড়ানো সম্ভব হবে। এই বন্দরের চ্যানেল ১৬ মিটার গভীর এবং ৩৫০ মিটার প্রশস্ত করে নির্মাণ করা হচ্ছে। ২০২৬ সালের মধ্যে বন্দরটি সচল করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এটি চালু হলে ৮ হাজার ২০০ টিইইউএস ধারণক্ষমতাসম্পন্ন কন্টেইনারবাহী জাহাজ বা ৩ লাখ ডিডব্লিউটি ধারণক্ষমতার মাদার ভেসেল সরাসরি ভিড়তে পারবে। বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে সিঙ্গাপুর বা কলম্বো হয়ে ছোট জাহাজে পণ্য আনতে যে বাড়তি খরচ ও সময় লাগে, মাতারবাড়ী বন্দর চালু হলে তা অনেকাংশে সাশ্রয় হবে।

চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি প্রসঙ্গে শেখ রবিউল আলম বলেন, বন্দরের কন্টেইনার খালাস ও ডেলিভারি সংক্রান্ত কার্যক্রম ইতোমধ্যে ৮০ শতাংশ ডিজিটালাইজড করা হয়েছে। এছাড়া ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সরাসরি শিপিং রুট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নিজস্ব অর্থায়নে পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনাল (পিসিটি) নির্মাণ করা হয়েছে, যা বর্তমানে জিটুজি চুক্তির আওতায় বিদেশি অপারেটর দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে।

মন্ত্রী আরও জানান, কন্টেইনার জট কমাতে বে-টার্মিনাল নির্মাণের কাজও চলমান রয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশ আঞ্চলিক সমুদ্র বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘হাব’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে এবং ব্লু-ইকোনমি বা নীল অর্থনীতিতে শক্তিশালী ভূমিকা রাখবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

মাতারবাড়ী সমুদ্র বন্দর চালু হলে কমবে পণ্য পরিবহন ব্যয়: নৌমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৫:৪০:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

দেশের প্রথম গভীর সমুদ্র বন্দর মাতারবাড়ী পুরোদমে চালু হলে পণ্য পরিবহন ও খালাসের ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে কমবে এবং সময় বাঁচবে বলে জানিয়েছেন নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি জানান, এই বন্দরে বড় আকারের মাদার ভেসেল সরাসরি ভিড়তে পারবে, যা দেশের অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

সোমবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে নৌমন্ত্রী এ তথ্য জানান। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

নৌমন্ত্রী জানান, বর্তমানে কর্ণফুলী চ্যানেলের গভীরতা ৮.৫ থেকে ১০ মিটার পর্যন্ত বজায় রাখা হচ্ছে। এর ফলে চট্টগ্রাম বন্দরে বর্তমানে সর্বোচ্চ ১০ মিটার ড্রাফটের এবং ৩ হাজার টিইইউএস ধারণক্ষমতাসম্পন্ন জাহাজ ভিড়তে পারছে। তবে দেশের ক্রমবর্ধমান বৈদেশিক বাণিজ্য সামাল দিতে মাতারবাড়ীতে গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।

মন্ত্রী জানান, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্র বন্দরে ১২-১৪ মিটার ড্রাফটের জাহাজ সরাসরি ভিড়ানো সম্ভব হবে। এই বন্দরের চ্যানেল ১৬ মিটার গভীর এবং ৩৫০ মিটার প্রশস্ত করে নির্মাণ করা হচ্ছে। ২০২৬ সালের মধ্যে বন্দরটি সচল করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এটি চালু হলে ৮ হাজার ২০০ টিইইউএস ধারণক্ষমতাসম্পন্ন কন্টেইনারবাহী জাহাজ বা ৩ লাখ ডিডব্লিউটি ধারণক্ষমতার মাদার ভেসেল সরাসরি ভিড়তে পারবে। বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে সিঙ্গাপুর বা কলম্বো হয়ে ছোট জাহাজে পণ্য আনতে যে বাড়তি খরচ ও সময় লাগে, মাতারবাড়ী বন্দর চালু হলে তা অনেকাংশে সাশ্রয় হবে।

চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি প্রসঙ্গে শেখ রবিউল আলম বলেন, বন্দরের কন্টেইনার খালাস ও ডেলিভারি সংক্রান্ত কার্যক্রম ইতোমধ্যে ৮০ শতাংশ ডিজিটালাইজড করা হয়েছে। এছাড়া ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সরাসরি শিপিং রুট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নিজস্ব অর্থায়নে পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনাল (পিসিটি) নির্মাণ করা হয়েছে, যা বর্তমানে জিটুজি চুক্তির আওতায় বিদেশি অপারেটর দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে।

মন্ত্রী আরও জানান, কন্টেইনার জট কমাতে বে-টার্মিনাল নির্মাণের কাজও চলমান রয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশ আঞ্চলিক সমুদ্র বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘হাব’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে এবং ব্লু-ইকোনমি বা নীল অর্থনীতিতে শক্তিশালী ভূমিকা রাখবে।