ঢাকা ০৬:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মডেল মসজিদ প্রকল্পে দুর্নীতি অত্যন্ত গর্হিত ও ন্যক্কারজনক কাজ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাতারবাড়ী সমুদ্র বন্দর চালু হলে কমবে পণ্য পরিবহন ব্যয়: নৌমন্ত্রী জয়পুরহাটে মাদরাসাছাত্রী ধর্ষণ মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড বাংলাদেশ হবে ‘ডিস্যাবিলিটি ইনক্লুসিভ সোসাইটি’র রোল মডেল: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ছাত্রশিবিরকে বিদায় জানালেন সাদিক কায়েম ৭ জেলায় বন্যা : ক্ষতিগ্রস্ত ৬ লাখের বেশি মানুষ, মৃত্যু বেড়ে ৫৪ আইএমএফ প্রতিনিধিদের সঙ্গে পে স্কেলের বিষয়ে আলোচনা হয়নি: অর্থমন্ত্রী হবিগঞ্জে ড্রোন দিয়ে সহায়তা নিয়ে দুর্গতের পাশে বিজিবি বন্যায় প্রাণহানির জন্য ফ্যাসিস্ট সরকারের অপরিকল্পিত উন্নয়ন দায়ী: রিজভী শেখ হাসিনা যেখানেই আত্মসমর্পণ করুক তাকে আগে জেলে যেতে হবে:পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

মাতারবাড়ী সমুদ্র বন্দর চালু হলে কমবে পণ্য পরিবহন ব্যয়: নৌমন্ত্রী

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

দেশের প্রথম গভীর সমুদ্র বন্দর মাতারবাড়ী পুরোদমে চালু হলে পণ্য পরিবহন ও খালাসের ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে কমবে এবং সময় বাঁচবে বলে জানিয়েছেন নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি জানান, এই বন্দরে বড় আকারের মাদার ভেসেল সরাসরি ভিড়তে পারবে, যা দেশের অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

সোমবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে নৌমন্ত্রী এ তথ্য জানান। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

নৌমন্ত্রী জানান, বর্তমানে কর্ণফুলী চ্যানেলের গভীরতা ৮.৫ থেকে ১০ মিটার পর্যন্ত বজায় রাখা হচ্ছে। এর ফলে চট্টগ্রাম বন্দরে বর্তমানে সর্বোচ্চ ১০ মিটার ড্রাফটের এবং ৩ হাজার টিইইউএস ধারণক্ষমতাসম্পন্ন জাহাজ ভিড়তে পারছে। তবে দেশের ক্রমবর্ধমান বৈদেশিক বাণিজ্য সামাল দিতে মাতারবাড়ীতে গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।

মন্ত্রী জানান, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্র বন্দরে ১২-১৪ মিটার ড্রাফটের জাহাজ সরাসরি ভিড়ানো সম্ভব হবে। এই বন্দরের চ্যানেল ১৬ মিটার গভীর এবং ৩৫০ মিটার প্রশস্ত করে নির্মাণ করা হচ্ছে। ২০২৬ সালের মধ্যে বন্দরটি সচল করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এটি চালু হলে ৮ হাজার ২০০ টিইইউএস ধারণক্ষমতাসম্পন্ন কন্টেইনারবাহী জাহাজ বা ৩ লাখ ডিডব্লিউটি ধারণক্ষমতার মাদার ভেসেল সরাসরি ভিড়তে পারবে। বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে সিঙ্গাপুর বা কলম্বো হয়ে ছোট জাহাজে পণ্য আনতে যে বাড়তি খরচ ও সময় লাগে, মাতারবাড়ী বন্দর চালু হলে তা অনেকাংশে সাশ্রয় হবে।

চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি প্রসঙ্গে শেখ রবিউল আলম বলেন, বন্দরের কন্টেইনার খালাস ও ডেলিভারি সংক্রান্ত কার্যক্রম ইতোমধ্যে ৮০ শতাংশ ডিজিটালাইজড করা হয়েছে। এছাড়া ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সরাসরি শিপিং রুট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নিজস্ব অর্থায়নে পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনাল (পিসিটি) নির্মাণ করা হয়েছে, যা বর্তমানে জিটুজি চুক্তির আওতায় বিদেশি অপারেটর দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে।

মন্ত্রী আরও জানান, কন্টেইনার জট কমাতে বে-টার্মিনাল নির্মাণের কাজও চলমান রয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশ আঞ্চলিক সমুদ্র বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘হাব’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে এবং ব্লু-ইকোনমি বা নীল অর্থনীতিতে শক্তিশালী ভূমিকা রাখবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মডেল মসজিদ প্রকল্পে দুর্নীতি অত্যন্ত গর্হিত ও ন্যক্কারজনক কাজ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মাতারবাড়ী সমুদ্র বন্দর চালু হলে কমবে পণ্য পরিবহন ব্যয়: নৌমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৫:৪০:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

দেশের প্রথম গভীর সমুদ্র বন্দর মাতারবাড়ী পুরোদমে চালু হলে পণ্য পরিবহন ও খালাসের ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে কমবে এবং সময় বাঁচবে বলে জানিয়েছেন নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি জানান, এই বন্দরে বড় আকারের মাদার ভেসেল সরাসরি ভিড়তে পারবে, যা দেশের অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

সোমবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে নৌমন্ত্রী এ তথ্য জানান। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

নৌমন্ত্রী জানান, বর্তমানে কর্ণফুলী চ্যানেলের গভীরতা ৮.৫ থেকে ১০ মিটার পর্যন্ত বজায় রাখা হচ্ছে। এর ফলে চট্টগ্রাম বন্দরে বর্তমানে সর্বোচ্চ ১০ মিটার ড্রাফটের এবং ৩ হাজার টিইইউএস ধারণক্ষমতাসম্পন্ন জাহাজ ভিড়তে পারছে। তবে দেশের ক্রমবর্ধমান বৈদেশিক বাণিজ্য সামাল দিতে মাতারবাড়ীতে গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।

মন্ত্রী জানান, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্র বন্দরে ১২-১৪ মিটার ড্রাফটের জাহাজ সরাসরি ভিড়ানো সম্ভব হবে। এই বন্দরের চ্যানেল ১৬ মিটার গভীর এবং ৩৫০ মিটার প্রশস্ত করে নির্মাণ করা হচ্ছে। ২০২৬ সালের মধ্যে বন্দরটি সচল করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এটি চালু হলে ৮ হাজার ২০০ টিইইউএস ধারণক্ষমতাসম্পন্ন কন্টেইনারবাহী জাহাজ বা ৩ লাখ ডিডব্লিউটি ধারণক্ষমতার মাদার ভেসেল সরাসরি ভিড়তে পারবে। বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে সিঙ্গাপুর বা কলম্বো হয়ে ছোট জাহাজে পণ্য আনতে যে বাড়তি খরচ ও সময় লাগে, মাতারবাড়ী বন্দর চালু হলে তা অনেকাংশে সাশ্রয় হবে।

চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি প্রসঙ্গে শেখ রবিউল আলম বলেন, বন্দরের কন্টেইনার খালাস ও ডেলিভারি সংক্রান্ত কার্যক্রম ইতোমধ্যে ৮০ শতাংশ ডিজিটালাইজড করা হয়েছে। এছাড়া ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সরাসরি শিপিং রুট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নিজস্ব অর্থায়নে পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনাল (পিসিটি) নির্মাণ করা হয়েছে, যা বর্তমানে জিটুজি চুক্তির আওতায় বিদেশি অপারেটর দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে।

মন্ত্রী আরও জানান, কন্টেইনার জট কমাতে বে-টার্মিনাল নির্মাণের কাজও চলমান রয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশ আঞ্চলিক সমুদ্র বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘হাব’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে এবং ব্লু-ইকোনমি বা নীল অর্থনীতিতে শক্তিশালী ভূমিকা রাখবে।