ঢাকা ০৩:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আয়কর মেলায় ছুটির দিনে ভিড় করদাতাদের

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ছুটির দিনে আয়কর মেলায় করদাতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। ঢাকার ১৫টি কর অঞ্চলের করদাতারা অফিসার্স ক্লাবের মেলায় সকাল থেকে রিটার্ন জমা দিতে লাইন ধরেন। শুক্রবার যারা রিটার্ন জমা দিতে এসেছিলেন, তাদের অধিকাংশই বেসরকারি চাকরিজীবী। করদাতাদের ভিড় সামলাতে কর কর্মকর্তারা তৎপর ছিলেন। মেলার চতুর্থ দিনে আয় হয়েছে ২৫৩ কোটি টাকা। আয়কর মেলা ঘুরে ও কর কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

গাজীপুরের শ্রীপুর থেকে মেলায় রিটার্ন জমা দিতে এসেছিলেন হ্যামস গার্মেন্টসের সহকারী মহাব্যবস্থাপক ইমাম হোসেন রনি। তিনি ঢাকার কর অঞ্চল-১২ এর করদাতা। তিনি বলেন, প্রতি বছর নিজের রিটার্ন নিজেই জমা দেই। এবার প্রথমবার মেলায় রিটার্ন দিতে আসলাম। এখানে এক ছাদের নিচে সব সেবা পাওয়া যায়। ভালোভাবে রিটার্ন জমা দিতে পেরেছি।

তিনি আরও বলেন, করদাতাদের জন্য আরও বেশি বসার স্থান রাখা উচিত ছিল। একই সঙ্গে রিটার্ন পূরণের নির্দেশিকা ব্যাগের সঙ্গে না দিয়ে ফরমের সঙ্গে দিলে সবার উপকার হতো। কারণ একজন করদাতা রিটার্ন জমা দিলে তাকে ব্যাগ দেয়া হচ্ছে, ওই ব্যাগে নির্দেশিকা থাকছে। রিটার্ন জমার পরে এটি তার কোনো কাজেই আসছে না। তার আগে খুঁটিনাটি বিষয় জানতে ভিড় ঠেলে হেল্পডেস্কের সহায়তা নিতে হচ্ছে। একাধিকবার গেলে অনেকে আবার বিরক্ত হচ্ছেন।

রামপুরা থেকে কর দিতে আসেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী সিরাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, ভেবেছিলাম সকালে মেলায় খুব একটা ভিড় থাকবে না। কিন্তু এসে দেখি, আমার মতো অনেকেই রিটার্ন জমা দিতে এসেছেন। তারপরও অল্প সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করতে পেরেছি।

তিনি আরও বলেন, কর অঞ্চলগুলোতে রিটার্ন জাম দিতে গেলে অনেক প্রশ্ন করা হয়, খুঁটিনাটি ভুল ধরা হয়। কিন্তু মেলায় কর্মকর্তারা হয়রানি করেন না। এ জন্য মেলায় কর দিতে এসেছি।

মুক্তিযোদ্ধাদের বুথের কর্মকর্তা খান মো. জাহাঙ্গীর বাবুল জানান, আয়কর মেলার রিটার্ন দাখিল করেছেন সাড়ে তিনশ’র বেশি মুক্তিযোদ্ধা। তারা বেশ আনন্দের সঙ্গে কর দিয়েছেন। তবে তাদের কাছ থেকে কত অর্থ আদায় হয়েছে, তা এখনও গণনা করা হয়নি।

আয়কর মেলার আহ্বায়ক এনবিআরের কর প্রশাসন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের সদস্য জিয়া উদ্দিন মাহমুদ বলেন, প্রতি বছরই মেলায় ছুটির দিনে করদাতাদের সমাগম বেশি হয়। এজন্য আমাদের বিশেষ প্রস্তুতি আছে। সবাইকে ভালো সেবা দিতে আমার সহকর্মীরা কাজ করছেন।

২৫৩ কোটি টাকা আদায় : সারা দেশের আয়কর মেলায় শুক্রবার রিটার্ন জমা পড়েছে ৭৫ হাজার ৭৩৬টি, যা গত বছরের মেলার চেয়ে ৪১ দশমিক ২৩ শতাংশ বেশি। রিটার্নের সঙ্গে করদাতারা ২৫৩ কোটি ১৫ লাখ ৮১ হাজার ৫৪০ টাকা আয়কর দিয়েছেন। গতবার মেলার চতুর্থ দিনে ৫৩ হাজার ৬২৫টি রিটার্ন জমা পড়েছিল। আর আয়কর আদায় হয়েছিল ২১৬ কোটি টাকা। এছাড়া মেলায় কর সেবা নিয়েছেন ২ লাখ ৮৮ হাজার ৪৬ জন। নতুন ই-টিআইএন নিয়েছেন ৩ হাজার ৬৫১ জন, যা গতবারের চেয়ে ১১৯ শতাংশ বেশি।

১৯ নভেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত মেলা খোলা থাকবে। মেলায় নতুন-পুরাতন করদাতাদের ই-টিআইএন, অনলাইনে রিটার্ন জমার জন্য ইউজান আইডি দেয়া হচ্ছে। এছাড়া আয়কর রিটার্ন দাখিল, ই-পেমেন্ট, করের টাকা জমা দেয়ার জন্য সোনালী, জনতা ও বেসিক ব্যাংকের বুথ রাখা হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা, নারী, প্রতিবন্ধী ও প্রবীণ করদাতাদের জন্য রয়েছে আলাদা বুথ। করদাতাদের যাতায়াত সুবিধার জন্য রাজধানীর টিএসসি, রামপুরা, বেইলি রোড, মতিঝিল, মিরপুর ও উত্তরা থেকে ১৫টি শাটল বাসের ব্যবস্থা রেখেছে এনবিআর।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আয়কর মেলায় ছুটির দিনে ভিড় করদাতাদের

আপডেট সময় ০৯:৫২:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ছুটির দিনে আয়কর মেলায় করদাতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। ঢাকার ১৫টি কর অঞ্চলের করদাতারা অফিসার্স ক্লাবের মেলায় সকাল থেকে রিটার্ন জমা দিতে লাইন ধরেন। শুক্রবার যারা রিটার্ন জমা দিতে এসেছিলেন, তাদের অধিকাংশই বেসরকারি চাকরিজীবী। করদাতাদের ভিড় সামলাতে কর কর্মকর্তারা তৎপর ছিলেন। মেলার চতুর্থ দিনে আয় হয়েছে ২৫৩ কোটি টাকা। আয়কর মেলা ঘুরে ও কর কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

গাজীপুরের শ্রীপুর থেকে মেলায় রিটার্ন জমা দিতে এসেছিলেন হ্যামস গার্মেন্টসের সহকারী মহাব্যবস্থাপক ইমাম হোসেন রনি। তিনি ঢাকার কর অঞ্চল-১২ এর করদাতা। তিনি বলেন, প্রতি বছর নিজের রিটার্ন নিজেই জমা দেই। এবার প্রথমবার মেলায় রিটার্ন দিতে আসলাম। এখানে এক ছাদের নিচে সব সেবা পাওয়া যায়। ভালোভাবে রিটার্ন জমা দিতে পেরেছি।

তিনি আরও বলেন, করদাতাদের জন্য আরও বেশি বসার স্থান রাখা উচিত ছিল। একই সঙ্গে রিটার্ন পূরণের নির্দেশিকা ব্যাগের সঙ্গে না দিয়ে ফরমের সঙ্গে দিলে সবার উপকার হতো। কারণ একজন করদাতা রিটার্ন জমা দিলে তাকে ব্যাগ দেয়া হচ্ছে, ওই ব্যাগে নির্দেশিকা থাকছে। রিটার্ন জমার পরে এটি তার কোনো কাজেই আসছে না। তার আগে খুঁটিনাটি বিষয় জানতে ভিড় ঠেলে হেল্পডেস্কের সহায়তা নিতে হচ্ছে। একাধিকবার গেলে অনেকে আবার বিরক্ত হচ্ছেন।

রামপুরা থেকে কর দিতে আসেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী সিরাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, ভেবেছিলাম সকালে মেলায় খুব একটা ভিড় থাকবে না। কিন্তু এসে দেখি, আমার মতো অনেকেই রিটার্ন জমা দিতে এসেছেন। তারপরও অল্প সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করতে পেরেছি।

তিনি আরও বলেন, কর অঞ্চলগুলোতে রিটার্ন জাম দিতে গেলে অনেক প্রশ্ন করা হয়, খুঁটিনাটি ভুল ধরা হয়। কিন্তু মেলায় কর্মকর্তারা হয়রানি করেন না। এ জন্য মেলায় কর দিতে এসেছি।

মুক্তিযোদ্ধাদের বুথের কর্মকর্তা খান মো. জাহাঙ্গীর বাবুল জানান, আয়কর মেলার রিটার্ন দাখিল করেছেন সাড়ে তিনশ’র বেশি মুক্তিযোদ্ধা। তারা বেশ আনন্দের সঙ্গে কর দিয়েছেন। তবে তাদের কাছ থেকে কত অর্থ আদায় হয়েছে, তা এখনও গণনা করা হয়নি।

আয়কর মেলার আহ্বায়ক এনবিআরের কর প্রশাসন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের সদস্য জিয়া উদ্দিন মাহমুদ বলেন, প্রতি বছরই মেলায় ছুটির দিনে করদাতাদের সমাগম বেশি হয়। এজন্য আমাদের বিশেষ প্রস্তুতি আছে। সবাইকে ভালো সেবা দিতে আমার সহকর্মীরা কাজ করছেন।

২৫৩ কোটি টাকা আদায় : সারা দেশের আয়কর মেলায় শুক্রবার রিটার্ন জমা পড়েছে ৭৫ হাজার ৭৩৬টি, যা গত বছরের মেলার চেয়ে ৪১ দশমিক ২৩ শতাংশ বেশি। রিটার্নের সঙ্গে করদাতারা ২৫৩ কোটি ১৫ লাখ ৮১ হাজার ৫৪০ টাকা আয়কর দিয়েছেন। গতবার মেলার চতুর্থ দিনে ৫৩ হাজার ৬২৫টি রিটার্ন জমা পড়েছিল। আর আয়কর আদায় হয়েছিল ২১৬ কোটি টাকা। এছাড়া মেলায় কর সেবা নিয়েছেন ২ লাখ ৮৮ হাজার ৪৬ জন। নতুন ই-টিআইএন নিয়েছেন ৩ হাজার ৬৫১ জন, যা গতবারের চেয়ে ১১৯ শতাংশ বেশি।

১৯ নভেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত মেলা খোলা থাকবে। মেলায় নতুন-পুরাতন করদাতাদের ই-টিআইএন, অনলাইনে রিটার্ন জমার জন্য ইউজান আইডি দেয়া হচ্ছে। এছাড়া আয়কর রিটার্ন দাখিল, ই-পেমেন্ট, করের টাকা জমা দেয়ার জন্য সোনালী, জনতা ও বেসিক ব্যাংকের বুথ রাখা হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা, নারী, প্রতিবন্ধী ও প্রবীণ করদাতাদের জন্য রয়েছে আলাদা বুথ। করদাতাদের যাতায়াত সুবিধার জন্য রাজধানীর টিএসসি, রামপুরা, বেইলি রোড, মতিঝিল, মিরপুর ও উত্তরা থেকে ১৫টি শাটল বাসের ব্যবস্থা রেখেছে এনবিআর।