অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঋণখেলাপি প্রার্থীদের অংশগ্রহণ ঠেকাতে বহুমুখী ব্যবস্থা নিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংক। দুটি প্রতিষ্ঠানই বলেছে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঋণখেলাপি প্রার্থীদের ঠেকাতে সর্বাত্মক ব্যবস্থা নিতে হবে। কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান ঋণখেলাপি প্রার্থীদের তথ্য মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের সময় রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে উপস্থাপনে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানো চিঠি ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তৈরি চিঠি থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
ঋণখেলাপি প্রার্থীদের ঠেকানোর বিষয়ে বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন, রিটার্নিং কর্মকর্তা, বাংলাদেশ ব্যাংক, বাণিজ্যিক ব্যাংক, বিশেষায়িত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তাদের করণীয় সম্পর্কে দিকনির্দেশনা জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। ওই দিনই এটি অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে নির্বাচন কমিশন, বাংলাদেশ ব্যাংক ও রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন ও অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো চিঠি ও সংশোধিত গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ (আরপিও) অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংক, বিশেষায়িত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য একটি দিকনির্দেশনা তৈরি করা হয়েছে।
এটি সোম বা মঙ্গলবার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হবে। প্রধান নির্বাহীদের দফতর থেকে এটি পাঠানো হবে শাখা বা আঞ্চলিক অফিসগুলোর দফতরে। ওই চিঠিতে এসব নির্দেশনা থাকছে। এ ছাড়া এ নির্দেশনাগুলো ইতিমধ্যে মৌলিকভাবে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে।
এতে অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, ঋণখেলাপি প্রার্থীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ ঠেকাতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে খেলাপি সম্পর্কিত তথ্যের দায়-দায়িত্ব ও এর সঠিকতা সম্পূর্ণভাবে বহন করতে হবে। কোনো ভুল তথ্য উপস্থাপন করা হলে এর দায়-দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ওপর বর্তাবে। ভুল তথ্য পরিবেশন বা খেলাপি প্রার্থীর তথ্য উপস্থাপনে ব্যর্থ হলে বা গোপন করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
নির্বাচনে ঋণখেলাপিদের ঠেকাতে তিন স্তরে যাচাই-বাছাই করা হবে। শাখা থেকে রিটার্নিং কর্মকর্তা, ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয় থেকে শাখা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সরাসরি নির্বাচন কমিশন, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয়ে যাচাই-বাছাই হবে। নিজ এলাকার বাইরে যেসব প্রার্থী ব্যাংক হিসাব পরিচালনা করেন, তাদের কেউ খেলাপি হলে এসব প্রক্রিয়ার আওতায় আটকে যাবেন।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, ঋণখেলাপিদের নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া ঠেকাতে আমরা বহুমুখী পদক্ষেপ নিয়েছি। কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েই এসব পদক্ষেপ নিচ্ছে। রিটার্নিং কর্মকর্তাদেরও এ বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট একজন জানান, ব্যাংকগুলোকে খেলাপি প্রার্থীদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে আগেই নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এখন অফিসিয়ালি নির্দেশনা যাচ্ছে। আশা করি, এবার কোনো খেলাপি প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনোনয়নপত্র দাখিলের দিন থেকে বাছাই শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিজ নিজ দফতরে অবস্থান করবেন। রিটার্নিং অফিসার কোনো তথ্য বা কোনো সহায়তা চাইলে তা দিতে হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তাকে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের সময় রিটার্নিং কর্মকর্তার দফতরে উপস্থিত থাকতে হবে।
এতে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক, বিশেষায়িত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শাখা ব্যবস্থাপক বা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা নির্বাচনে ঋণখেলাপিদের ঠেকানোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইন ও এর ব্যাখ্যা অনুসারে সব হিসাব হালনাগাদ করে খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের একটি তালিকা প্রণয়ন করবেন। তারা বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত বা অন্য কোনো উৎস থেকে প্রাপ্ত প্রার্থীদের তালিকার সঙ্গে খেলাপির তালিকা মিলিয়ে দেখবেন এবং সংশ্লিষ্ট শাখায় কোনো খেলাপি প্রার্থী আছে কিনা তা নিশ্চিত হবেন। প্রার্থীদের ঋণখেলাপ সংক্রান্ত তথ্য মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের দিন বা তার আগে রিটার্নিং অফিসারকে দিতে হবে।
মনোনয়নপত্র দাখিলের পর সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের কাছ থেকে প্রার্থীদের তালিকা সংগ্রহ করবেন শাখা ব্যবস্থাপকরা। এর সঙ্গে প্রার্থীর পিতা, মাতা, স্বামীর নাম-ঠিকানাসহ সংগ্রহ করে সেগুলো মিলিয়ে দেখতে হবে তার শাখায় কোনো ঋণখেলাপি প্রার্থী আছে কিনা। কোনো প্রার্থীর ঋণখেলাপির তথ্য থাকলে সেগুলো রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠাতে হবে। একই সঙ্গে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের এমডির দফতরে পাঠাতে হবে।
একই সঙ্গে তার শাখার কোনো খেলাপি প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করে থাকলে সেসব তথ্য বিস্তারিতভাবে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের কাছে পাঠাতে হবে। মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের সময় শাখার কর্মকর্তাদের খেলাপি প্রার্থীর প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে উপস্থিত থাকতে হবে।
যেসব প্রার্থী নিজ এলাকার বাইরে অন্য কোথাও ঋণ হিসাব বা ব্যাংক হিসাব পরিচালনা করেন তাদের ঋণখেলাপির তথ্যও সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের কাছে পাঠাতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রার্থীদের একটি তালিকা নির্বাচন কমিশন রিটার্নিং অফিসারের কাছ থেকে সংগ্রহ করে সেগুলো ব্যাংকগুলোর এমডিদের কাছে পাঠাবেন। খেলাপির হালনাগাদ তালিকার সঙ্গে তারা ওই তালিকা মিলিয়ে দেখে যদি কোনো খেলাপি প্রার্থীর সন্ধান পান তবে সেসব তথ্য নির্বাচন কমিশন, সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসার, শাখার ব্যবস্থাপক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফর্মেশন ব্যুরোতে পাঠাতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে প্রার্থীদের তালিকা সংগ্রহ করে সেগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফর্মেশন ব্যুরোতে (সিআইবি) যাচাই-বাছাই করে খেলাপি প্রার্থীর তথ্য সরাসরি ইসিতে পাঠাবে। কমিশন সেগুলো রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে পাঠাবে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 























