ঢাকা ০১:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা সংসদে গেলে স্বর্ণের দেশে পরিণত হবে’: রেজাউল করিম শেখ হাসিনা চাচ্ছে না বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচন হোক : মেজর হাফিজ ৫৪ বছরে ক্ষমতায় যারা ছিল, তাদের শ্বশুরবাড়ির সম্পদ হু হু করে বেড়েছে:শফিকুর রহমান ৫ দশমিক ৯ মাত্রায় ফের ভূমিকম্পে কাঁপল দেশ স্বাধীনতার বিপক্ষে অবস্থানকারী দলের ইতিহাস বিকৃতিতে জাতি স্তব্ধ: মাহদী আমিন সাপ আর ভারতীয়র দেখা একসঙ্গে পেলে, আগে ভারতীয়কে মারা উচিত: এপস্টেইন নথি ‘আগামীতে এমনও শুনতে হবে জামায়াত দেশের স্বাধীনতার পক্ষে যুদ্ধ করেছিল’:সালাহউদ্দিন দায়িত্ব শেষে আমি নাগরিক সমাজের কাজে ফিরে যাবো : শিক্ষা উপদেষ্টা আমেরিকার সঙ্গে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে ভিয়েতনাম, গোপন নথি ফাঁস পাতানো নির্বাচনের স্বপ্ন দেখে লাভ নেই, অধিকার আদায়ে জনগণ জীবন দিতে প্রস্তুত: আসিফ মাহমুদ

রাজশাহীতে আ’লীগ-বিএনপির ৯০ নেতার মনোনয়ন যুদ্ধ

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বিগত সংসদীয় নির্বাচনগুলোতে বড় দুটি দল আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি থেকে মনোনয়ন চাইতেন দলের হেভিওয়েট নেতারা। কিন্তু এর ব্যতিক্রম ঘটেছে। এখন সবাই চাইছেন দলীয় মনোনয়ন। হতে চাইছেন সবাই এমপি। গত দুই সংসদ নির্বাচনকে পেছনে ফেলে এবার রাজশাহীতে সব রেকর্ড ভেঙেছে মনোনয়নপ্রত্যাশীর সংখ্যা।

রাজশাহীর ছয়টি আসনে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি থেকে এবার ৯০ জন নেতা মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ থেকে ৪৭ এবং বিএনপিতে রয়েছেন ৪৩ জন।

রেকর্ড ভেঙে মনোনয়নপ্রত্যাশীর সংখ্যা বাড়ার কারণ সম্পর্কে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০১৪ সালে প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন নির্বাচন, স্থানীয় পর্যায়ে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক স্থবিরতা, সংসদীয় আসনগুলোতে এমপির সঙ্গে রাজনৈতিক নেতাদের দূরত্ব এবং কোন্দল ও দলের হাইকমান্ডের কাছে মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতাদের নিজেকে উপস্থাপন করা।

২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহীর ছয়টি আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন ১৫ জন। আর বিএনপিতে ছিলেন ১৪ জন। ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন ২৬জন। এ নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত বিএনপি অংশ না নিলেও মনোয়নপ্রত্যাশী ছিলেন ২২ জন।

আর এবার রাজশাহী-১ আসনে ১১জন, রাজশাহী-২ এ ৫ জন, রাজশাহী-৩ এ ১২ জন, রাজশাহী-৪ এ ৬ জন, রাজশাহী-৫ আসনে ৯ জন এবং রাজশাহী-৬ আসনে ৪ জনসহ মোট ৪৭ জন নেতা আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন।

এছাড়া বিএনপি থেকে রাজশাহী-১ আসনে এ ৩জন, রাজশাহী-২ এ ২জন, রাজশাহী-৩ এ ১৩ জন, রাজশাহী-৪ এ ৮ জন, রাজশাহী-৫ এ ৮ জন এবং রাজশাহী-৬ আসনে ৯ জনসহ মনোনপ্রত্যাশীর সংখ্যা মোট ৪৩ জন।

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর আব্দুল খালেক বলেন, রাজনীতি থেকে পুরাতনরা একসময় চলে যাবেন। নতুনরা আসবেন। এ কারণে মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা থাকাটাই স্বাভাবিক। অবশ্য দলীয়প্রধান অনেক হিসাব-নিকাশ করেই প্রার্থী দেবেন। এটাই আমরা সবাই প্রত্যাশা করি। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বলেন, গণতন্ত্রের ক্ষেত্রে ভোট হলো সবচেয়ে বড় উৎসব। আমরা বিষয়টিকে সেভাবেই দেখছি। অনেকেই দলীয় মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। তবে দলীয়প্রধান শেখ হাসিনা যাকেই মনোনয়ন দেন, আমরা তার পক্ষেই কাজ করব।

জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুন বলেন, বিএনপি নেতারা গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটে অংশ নেননি। একারণে তাদের মধ্যে আগ্রহ একটু বেশি।

এছাড়া বর্তমান অনির্বাচিত সরকারের প্রতি বিএনপি নেতাকর্মীদের ক্ষোভ এবং অসন্তোষ রয়েছে। এ কারণে ভোটের মাঠে বিএনপি সক্রিয় রয়েছে প্রমাণ করতেই আরও বেশি মনোনয়ন জমা দিয়েছেন দলীয় নেতারা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা সংসদে গেলে স্বর্ণের দেশে পরিণত হবে’: রেজাউল করিম

রাজশাহীতে আ’লীগ-বিএনপির ৯০ নেতার মনোনয়ন যুদ্ধ

আপডেট সময় ০৬:১৬:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বিগত সংসদীয় নির্বাচনগুলোতে বড় দুটি দল আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি থেকে মনোনয়ন চাইতেন দলের হেভিওয়েট নেতারা। কিন্তু এর ব্যতিক্রম ঘটেছে। এখন সবাই চাইছেন দলীয় মনোনয়ন। হতে চাইছেন সবাই এমপি। গত দুই সংসদ নির্বাচনকে পেছনে ফেলে এবার রাজশাহীতে সব রেকর্ড ভেঙেছে মনোনয়নপ্রত্যাশীর সংখ্যা।

রাজশাহীর ছয়টি আসনে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি থেকে এবার ৯০ জন নেতা মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ থেকে ৪৭ এবং বিএনপিতে রয়েছেন ৪৩ জন।

রেকর্ড ভেঙে মনোনয়নপ্রত্যাশীর সংখ্যা বাড়ার কারণ সম্পর্কে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০১৪ সালে প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন নির্বাচন, স্থানীয় পর্যায়ে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক স্থবিরতা, সংসদীয় আসনগুলোতে এমপির সঙ্গে রাজনৈতিক নেতাদের দূরত্ব এবং কোন্দল ও দলের হাইকমান্ডের কাছে মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতাদের নিজেকে উপস্থাপন করা।

২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহীর ছয়টি আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন ১৫ জন। আর বিএনপিতে ছিলেন ১৪ জন। ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন ২৬জন। এ নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত বিএনপি অংশ না নিলেও মনোয়নপ্রত্যাশী ছিলেন ২২ জন।

আর এবার রাজশাহী-১ আসনে ১১জন, রাজশাহী-২ এ ৫ জন, রাজশাহী-৩ এ ১২ জন, রাজশাহী-৪ এ ৬ জন, রাজশাহী-৫ আসনে ৯ জন এবং রাজশাহী-৬ আসনে ৪ জনসহ মোট ৪৭ জন নেতা আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন।

এছাড়া বিএনপি থেকে রাজশাহী-১ আসনে এ ৩জন, রাজশাহী-২ এ ২জন, রাজশাহী-৩ এ ১৩ জন, রাজশাহী-৪ এ ৮ জন, রাজশাহী-৫ এ ৮ জন এবং রাজশাহী-৬ আসনে ৯ জনসহ মনোনপ্রত্যাশীর সংখ্যা মোট ৪৩ জন।

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর আব্দুল খালেক বলেন, রাজনীতি থেকে পুরাতনরা একসময় চলে যাবেন। নতুনরা আসবেন। এ কারণে মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা থাকাটাই স্বাভাবিক। অবশ্য দলীয়প্রধান অনেক হিসাব-নিকাশ করেই প্রার্থী দেবেন। এটাই আমরা সবাই প্রত্যাশা করি। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বলেন, গণতন্ত্রের ক্ষেত্রে ভোট হলো সবচেয়ে বড় উৎসব। আমরা বিষয়টিকে সেভাবেই দেখছি। অনেকেই দলীয় মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। তবে দলীয়প্রধান শেখ হাসিনা যাকেই মনোনয়ন দেন, আমরা তার পক্ষেই কাজ করব।

জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুন বলেন, বিএনপি নেতারা গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটে অংশ নেননি। একারণে তাদের মধ্যে আগ্রহ একটু বেশি।

এছাড়া বর্তমান অনির্বাচিত সরকারের প্রতি বিএনপি নেতাকর্মীদের ক্ষোভ এবং অসন্তোষ রয়েছে। এ কারণে ভোটের মাঠে বিএনপি সক্রিয় রয়েছে প্রমাণ করতেই আরও বেশি মনোনয়ন জমা দিয়েছেন দলীয় নেতারা।