অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
বিরক্তির দিন শেষ। কর জমা দিতে আর ব্যাংকে লম্বা লাইন ধরতে হবে না। এখন ঘরে বসেই করদাতারা খুব সহজে কর পরিশোধ করতে পারবেন। সরকারি-বেসরকারি ২৭ ব্যাংকের ডেবিট, ক্রেডিট অথবা প্রি-পেইড কার্ডের মাধ্যমে কর পরিশোধ করা যাবে। তবে এ জন্য করদাতাকে কিছু প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।
সরেজমিন দেখা গেছে, রাজধানীতে আয়কর মেলায় আগত বেশিরভাগ তরুণ করদাতাই অনলাইনে কর পরিশোধের প”তি সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। অনেকে কীভাবে কর পরিশোধ করা যায়, সেটি শিখে নিচ্ছেন।
মেলার প্রথম দিনে দেশব্যাপী ২৬ জন অনলআইনে ৩ লাখ টাকা কর পরিশোধ করেছেন। মেলায় অনলাইনে কর পরিশোধে সহায়তা করতে আলাদা বুথ স্থাপন করা হয়েছে। গতবারের মেলায় ১ কোটি টাকার বেশি কর অনলাইনে আদায় হয়।
আয়কর মেলায় ই-পেমেন্ট বুথে সেবা দেয়া প্রতিষ্ঠান আইটিসিএলের সমন্বয়ক তরিকুজ্জামান বলেন, বেশিরভাগ তরুণ করদাতাই অনলাইনে কর পরিশোধের বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন। যাদের অনলাইনে পেমেন্ট করার জন্য নির্ধারিত ব্যাংকের কার্ড রয়েছে তাদের কর পরিশোধের চালান প্রিন্ট করে দেয়া হয়েছে।
আবার অনেককে কর পরিশোধের পুরো পদ্ধতিটি হাতে-কলমে শিখিয়ে দেয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এরা বাসায় বসে কর পরিশোধ করতে পারবেন বলে আশা করছি। তিনি আরও বলেন, অনেক সময় হাতে চালান লিখলে ই-টিআইএন বা অন্য ধরনের ভুল হয়। অনলাইন পদ্ধতিতে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
অনলাইনে কর পরিশোধ করতে আসা স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাসি বিভাগের শিক্ষক লোকমান হোসেন বলেন, গতবার মেলায় ব্যাংকের লম্বা লাইন ধরে কর পরিশোধ করেছি। এবার ই-পেমেন্ট বুথে কর পরিশোধ প”তি শিখে নিয়েছি। এরপর থেকে বাসায় বসেই কর পরিশোধ করব। মেলায় শুধু রিটার্ন জমা দিতে আসব।
যেভাবে টাকা পরিশোধ করবেন : অনলাইনে কর পরিশোধ করতে প্রথমে আগ্রহী করদাতাকে এনবিআরের নির্ধারিত ওয়েবসাইটে (www.nbrepayment.gov.bd) প্রবেশ করতে হবে। এরপর নাম, ই-মেইল, মোবাইল নম্বর দিয়ে সাইন আপ করতে হবে। সাইন আপের পর করদাতার দেয়া ই-মেইল নম্বরে সিস্টেম থেকে একটি ই-মেইল করা হবে। ওই ই-মেইল ভেরিফিকেশনের করলেই করদাতার একটি আইডি তৈরি হয়ে যাবে।
পরবর্তী এই আইডি ব্যবহার করে সিস্টেমে প্রবেশ করা যাবে। সাইন-ইন করলে প্রথমে একটি পেজ আসবে, যেখানে করদাতাকে শুরুতে তার ই-টিআইএন নম্বর দিতে হবে। এরপর সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে করদাতার নাম-ঠিকানা দেখাবে।
পরবর্তীতে পেমেন্ট টাইপ অপশনে ক্লিক করলে অগ্রিম কর, রিটার্নের সঙ্গে কর, দাবিনামার কর ও জরিমানার অপশন দেখাবে। এ অপশন থেকে অনলাইনে যেই ক্ষেত্রের ট্যাক্স দিতে চান, সেটিতে ক্লিক করতে হবে।
পেমেন্ট আন্ডার সেকশন অপশনটিতে স্বয়ংক্রিভাবে চলে আসবে, কোন ধারায় আপনি রিটার্ন জমা দিতে চাচ্ছেন। এরপর করবর্ষ ও কত টাকা পরিশোধ করবেন তা উল্লেখ করে সাবমিট করুন।
এর পরের পেজে ডেবিট, ক্রেডিট নাকি প্রি-পেইড কার্ডের মাধ্যমে টাকা জমার অপশনটি আসবে। পছন্দসই কার্ড ক্লিক করলে কার্ডের প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করলে চালান দেখা যাবে। ওই চালান প্রিন্ট দিয়ে রিটার্নের সঙ্গে জমা দিলে হবে।
এ ক্ষেত্রে কার্ড ই-কমার্স সার্ভিস ব্যবহার উপযোগী হতে হবে। মানে আপনার কার্ড দিয়ে অনলাইনে কেনাকাটা করার অপশন চালু থাকতে হবে। অপশন চালু না থাকলে আপনার ব্যাংকের হেল্প লাইনে ফোন দিয়ে কার্ডের ই-কমার্স সার্ভিস চালু করে নিতে হবে। আরেকটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে- তা হচ্ছে, চাকরিজীবীদের অনেকের বেতন থেকে উৎসে কর কেটে নেয়া হয়।
এ জন্য অনলাইনে কর পরিশোধের আগে সঠিকভাবে করের হিসাব করে নিয়ে যে টাকা উৎসে কর হিসেবে কেটে নেয়া হয়েছে, সেটি বাদ দিয়ে বাকি অঙ্কের টাকা পরিশোধ করতে হবে।
যেসব ব্যাংকের কার্ডের মাধ্যমে কর দেয়া যাবে : কমার্স ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, বেসিক ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, মেঘনা ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, মধুমতি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক, এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, সীমান্ত ব্যাংক, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক, সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক, দ্য সিটি ব্যাংক ও উরি ব্যাংক।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 























