অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিদিনকার বাজার দরের তালিকা নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। সরকারি সংস্থাগুলোর ওয়েবসাইটে দেয়া পণ্যমূল্যের সঙ্গে বাজারের মূল্য মিলছে না। বাজার মূল্যের চেয়ে অনেক কম মূল্য দেখাচ্ছে সরকারি সংস্থাগুলো। ফলে একদিকে সরকারি নীতিনির্ধারকরা বিভ্রান্ত হচ্ছেন। অন্যদিকে বাজার তদারকি করতে গিয়েও সংস্থাগুলো বিপাকে পড়ছে।
এদিকে প্রতিটি বাজারের ব্যবসায়ী সমিতি ও সিটি কর্পোরেশন যৌথভাবে বাজারের সামনে যে পণ্যমূল্য তালিকা টানিয়ে দিচ্ছে তার সঙ্গেও বাজারের দর মিলছে না। ওই দরের চেয়ে বেশি দামে বাজারে পণ্য বিক্রি হচ্ছে। নিয়ম থাকলেও কোনো কোনো বাজারে ওই পণ্যমূল্য তালিকা আপডেট করা হচ্ছে না। রাজধানীর নয়া বাজার, কাপ্তান বাজারসহ বেশ কয়েকটি বাজারে প্রতিদিনকার পণ্যমূল্য টানানো হচ্ছে, কিন্তু আপডেট করা হচ্ছে বিলম্ব করে।
সূত্র জানায়, বাজার তদারকির অংশ হিসেবে সরকারি সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি), কৃষি বিপণন অধিদফতর এবং প্রতিটি বাজারের ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষ থেকে প্রতিদিনকার পণ্যমূল্যের তালিকা প্রকাশ করা হয়। সরকারি সংস্থা দুটি তাদের ওয়েবসাইটে ওই মূল্য তালিকা প্রকাশ করে। এগুলো তারা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে শুরু করে বাজার তদারকির সঙ্গে জড়িত সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোতেও পাঠায়। প্রতিটি সমিতির পক্ষ থেকে প্রতিদিন সকালে বাজারের সামনে দৃশ্যমান কোনো স্থানে পণ্যমূল্য টানানোর নিয়ম রয়েছে, কিন্তু অনেক বাজারেই এটি করা হয় না। এদিকে তারা যেসব পণ্যমূল্য প্রদর্শন করে তার সঙ্গে বাজার মূল্যের মিল পাওয়া যায় না। ওই মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দামে বাজারে পণ্য বিক্রি হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ক্যাবের সভাপতি গোলাম রহমান যুগান্তরকে বলেন, বাজারের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে সরকারি সংস্থাগুলোর দৈনিক বাজার দরের তালিকা তৈরি করতে হবে। তবে রাজধানীর একেকটি বাজারে পণ্য ভিন্ন ভিন্ন দামে বিক্রি হয়, এটাও তাদের লক্ষ্য রাখতে হবে। কিন্তু সব মিলে সরকারিভাবে বাজারে পণ্যের মূল্য প্রকাশ করা সংস্থাগুলোর তালিকায় যদি বিভ্রান্তি থাকে, তবে ভোক্তারা সংস্থাগুলোর প্রতি আস্থা হারাবে। এতে প্রতিষ্ঠানগুলোর বদনাম হবে।
সোমবার টিসিবির দৈনিক বাজার মূল্য তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সেখানে প্রতি কেজি খোলা আটার মূল্য দেয়া হয়েছে ২৪-৩০ টাকা। এই একই পণ্য কৃষি বিপণন অধিদফতরের মূল্য তালিকায় দেয়া হয়েছে ২৬-২৭ টাকা। আবার এই খোলা আটা রাজধানীর একাধিক বাজারে সিটি কর্পোরেশনের মূল্য তালিকায় দেয়া আছে ২৬-৩০ টাকা। কিন্তু এই একই আটা রাজধানীর হাতিরপুল কাঁচাবাজারে গিয়ে ৩২ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে। একই ভাবে টিসিবির মূল্য তালিকায় প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের (লুজ) দাম দেয়া আছে ৮০-৮৪ টাকা। একই পণ্য কৃষি বিপণন অধিদফতরের দৈনিক বাজার দরের তালিকায় দুই টাকা কমিয়ে দেয়া আছে ৮০-৮২ টাকা। আর সিটি কর্পোরেশনের মূল্য তালিকায় দেয়া আছে ৮২-৮৩ টাকা। কিন্তু কারওয়ান বাজারের মুদি দোকানে এই লুজ সয়াবিন তেল প্রতি লিটার বিক্রি হচ্ছে ৮৫-৯০ টাকায়।
টিসিবির পণ্যমূল্য তালিকায় প্রতি কেজি সরু চালের দাম দেয়া আছে ৫৬-৬৫ টাকা। একই চাল কৃষি বিপণন অধিদফতরের মূল্য তালিকায় দেয়া আছে ৫০-৬২ টাকা। রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোর সামনে টানানো সিটি কর্পোরেশনের মূল্য তালিকায় দেয়া আছে ৫২-৬৪ টাকা। কিন্তু কিছুটা হেরফের দামে এই মানের চাল রাজধানীর মালিবাগ বাজারের ৫৬-৬৫ বা ৬৮ টাকায় বিক্রি হতে দেখা দেছে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে টিসিবির মুখপাত্র হুমায়ুন কবির সোমবার যুগান্তরকে বলেন, প্রতিদিন টিসিবির জনবল দিয়ে একাধিক বাজার হতে সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যে পণ্যমূল্য সংগ্রহের মাধ্যমে সেগুলো ওয়েবপেজে প্রকাশ করে। যদি কারও মনে হয় টিসিবির মূল্য তালিকায় পণ্যের মূল্য ভুল আছে, সেক্ষেত্রে আমাদের লিখিতভাবে দিলে আমরা তাকে অনুরূপভাবে এর ব্যাখ্যা জানাব। দরকার হলে আমাদের সঙ্গে নিয়ে বাজারে যাব। তিনি আরও বলেন, টিসিবি যে শুধু পণ্যের প্রতিদিনের মূল্য প্রকাশ করে সেটা নয়, কোন পণ্যের দাম বাড়ল বা কমল সেটাও প্রকাশ করে থাকে। এতে ভোক্তাদের উপকার হয়। সোমবারের টিসিবির মূল্য তালিকায় কেজিতে ব্রয়লার মুরগির দাম দেয়া আছে ১২০-১৩৫ টাকা। এ মুরগি কৃষি বিপণন অধিদফতরের দৈনিক বাজার দরের তালিকায় দেয়া আছে ১২০-১২৫ টাকা। একই মুরগি সিটি কর্পোরেশনের বাজার মূল্য তালিকায় দেয়া আছে ১৪২-১৪৭ টাকা কেজি। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে ব্রয়লার মুরগি সোমবার হাতিরপুল কাঁচাবাজারে বিক্রি হয়েছে ১৪০ টাকা কেজিতে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কৃষি বিপণন অধিদফতরের একজন কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, তাদের লোকজন প্রতিদিন সকালে বাজারে গিয়ে পণ্যের মূল্য তালিকা সংগ্রহ করে। পরে এগুলো প্রকাশ করা হয়। কোন বাজারে কেমন মূল্য আছে সেটাও প্রকাশ করা হয়। এছাড়া পাইকারি ও খুচরা বাজারের পার্থক্যও দেয়া থাকে। রাজধানীর সঙ্গে অন্যান্য জেলার তুলনা করে পণ্যের দামও দেয়া হয়। তাই আমাদের পণ্যমূল্য তালিকার সঙ্গে বাজারের মূল্য ভুল হওয়ার কথা না। তবে কোনো অসাধু ব্যবসায়ী যদি পণ্যের দাম বাড়িয়ে বিক্রি করে সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 

























