ঢাকা ০৫:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পেপারলেস এনবিআর গড়ার লক্ষ্য সরকারের

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) পেপারলেস বা কাগজহীন করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। এজন্য একটি সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করতে হবে।

যে সময়ের মধ্যে এবং পরিকল্পনায় এনবিআরকে কাগজহীন করা যাবে, সেই পরিকল্পনা দেশের অন্য সব সরকারি প্রতিষ্ঠানকে দেয়া হবে। রোববার কাকরাইলের আইডিইবি ভবনে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ এসব কথা বলেন।

এনবিআর ও সঞ্চয় অধিদফতরের ‘১১টি উদ্ভাবনকে শোকেসিং’ করতে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আবুল কালাম আজাদ বলেন, ডিজিটাল পদ্ধতি ছাড়া আর্থিক খাতকে দুর্নীতিমুক্ত করা সম্ভব নয়। এনবিআর যে ১১টি উদ্ভাবন করেছে, সেই ১১টি সেবাকে একটি অ্যাপ বা একই ছাতার তলে নিয়ে আসা উচিত।

এই উদ্ভাবনকে শুধু একটি অফিসের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সরকারি অন্য সব অফিসকে এই সেবার আওতায় আনতে হবে। সিস্টেমকে যত দ্রুত সহজ করা যাবে তত দ্রুত দেশে বিনিয়োগ বাড়বে। এটা না হলে বিনিয়োগ বাংলাদেশে থাকবে না।

এনবিআরের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এনবিআরকে পেপারলেস হিসেবে গড়ে তুলতে কতদিন লাগবে? ১ বছর, ২ বছর, ৫ বছর, ১০ বছর বা ২০ বছর? যত দ্রুত করা যায় ততই এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ। একক প্রতিষ্ঠান হিসেবে এনবিআর পেপারলেস হয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানের অগ্রজ হয়ে থাকবে বলে আশা করছি।

পরে এনবিআর চেয়ারম্যানের উদ্দেশে তিনি বলেন, কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে পেপারলেস এনবিআর করতে একটি সময় নির্ধারণ করুন। যে সময় নির্ধারণ করবেন, যে পরিকল্পনা করবেন, সেই পরিকল্পনা ও সময় আমরা অন্যান্য অফিসের জন্যও নির্ধারণ করে দেব।

সভাপতির বক্তব্যে এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, এনবিআরে জনবল বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় এনবিআরের কার্যক্রম ছড়িয়ে দিতে চাই। সেবাকে ডিজিটাল করা সম্ভব হলে সহজেই তা সম্ভব।

বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, আর্থিক খাতকে জনবান্ধব ও দুর্নীতিমুক্ত করতে ডিজিটাল পদ্ধতির ব্যবহার বাধ্যতামূলক। ডিজিটাল পদ্ধতিতে রাজস্ব আদায় করলে তা কয়েক বছরেই দুই থেকে তিন গুণ বাড়বে।

তিনি আরও বলেন, এনবিআরকে অন্তত ৫০০ উপজেলায় যাওয়া উচিত। কারণ প্রতিটি উপজেলায় একটি করে বাজার আছে, যা থেকে প্রচুর রাজস্ব আদায় সম্ভব। এটা করা গেলে রাজস্বে প্রবৃদ্ধি আরও সাড়ে ৩ শতাংশ বাড়বে।

অনুষ্ঠানে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের আওতাধীন এনবিআর ও সঞ্চয় অধিদফতরের ১১টি উদ্ভাবন প্রদর্শন করা হয়। উদ্ভাবনীমূলক সেবার মধ্যে রয়েছে বেনাপাস, অডিট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম, ডিমান্ড অ্যান্ড কালেকশন টুল, ব্যাংক সার্চ টুল, অ্যাডভান্স ট্যাক্স রিমাইন্ডার টুল, এক্সেল শিটের মাধ্যমে আয়কর রিটার্ন প্রসেসিং, ভ্যাট ইস্ট, কাস্টমস ই-পেমেন্ট, ই-ইজিএম, এলটিইউ-ভ্যাট মোবাইল অ্যাপ ও ই-সেভিংস।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পেপারলেস এনবিআর গড়ার লক্ষ্য সরকারের

আপডেট সময় ০৫:৪২:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ নভেম্বর ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) পেপারলেস বা কাগজহীন করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। এজন্য একটি সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করতে হবে।

যে সময়ের মধ্যে এবং পরিকল্পনায় এনবিআরকে কাগজহীন করা যাবে, সেই পরিকল্পনা দেশের অন্য সব সরকারি প্রতিষ্ঠানকে দেয়া হবে। রোববার কাকরাইলের আইডিইবি ভবনে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ এসব কথা বলেন।

এনবিআর ও সঞ্চয় অধিদফতরের ‘১১টি উদ্ভাবনকে শোকেসিং’ করতে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আবুল কালাম আজাদ বলেন, ডিজিটাল পদ্ধতি ছাড়া আর্থিক খাতকে দুর্নীতিমুক্ত করা সম্ভব নয়। এনবিআর যে ১১টি উদ্ভাবন করেছে, সেই ১১টি সেবাকে একটি অ্যাপ বা একই ছাতার তলে নিয়ে আসা উচিত।

এই উদ্ভাবনকে শুধু একটি অফিসের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সরকারি অন্য সব অফিসকে এই সেবার আওতায় আনতে হবে। সিস্টেমকে যত দ্রুত সহজ করা যাবে তত দ্রুত দেশে বিনিয়োগ বাড়বে। এটা না হলে বিনিয়োগ বাংলাদেশে থাকবে না।

এনবিআরের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এনবিআরকে পেপারলেস হিসেবে গড়ে তুলতে কতদিন লাগবে? ১ বছর, ২ বছর, ৫ বছর, ১০ বছর বা ২০ বছর? যত দ্রুত করা যায় ততই এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ। একক প্রতিষ্ঠান হিসেবে এনবিআর পেপারলেস হয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানের অগ্রজ হয়ে থাকবে বলে আশা করছি।

পরে এনবিআর চেয়ারম্যানের উদ্দেশে তিনি বলেন, কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে পেপারলেস এনবিআর করতে একটি সময় নির্ধারণ করুন। যে সময় নির্ধারণ করবেন, যে পরিকল্পনা করবেন, সেই পরিকল্পনা ও সময় আমরা অন্যান্য অফিসের জন্যও নির্ধারণ করে দেব।

সভাপতির বক্তব্যে এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, এনবিআরে জনবল বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় এনবিআরের কার্যক্রম ছড়িয়ে দিতে চাই। সেবাকে ডিজিটাল করা সম্ভব হলে সহজেই তা সম্ভব।

বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, আর্থিক খাতকে জনবান্ধব ও দুর্নীতিমুক্ত করতে ডিজিটাল পদ্ধতির ব্যবহার বাধ্যতামূলক। ডিজিটাল পদ্ধতিতে রাজস্ব আদায় করলে তা কয়েক বছরেই দুই থেকে তিন গুণ বাড়বে।

তিনি আরও বলেন, এনবিআরকে অন্তত ৫০০ উপজেলায় যাওয়া উচিত। কারণ প্রতিটি উপজেলায় একটি করে বাজার আছে, যা থেকে প্রচুর রাজস্ব আদায় সম্ভব। এটা করা গেলে রাজস্বে প্রবৃদ্ধি আরও সাড়ে ৩ শতাংশ বাড়বে।

অনুষ্ঠানে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের আওতাধীন এনবিআর ও সঞ্চয় অধিদফতরের ১১টি উদ্ভাবন প্রদর্শন করা হয়। উদ্ভাবনীমূলক সেবার মধ্যে রয়েছে বেনাপাস, অডিট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম, ডিমান্ড অ্যান্ড কালেকশন টুল, ব্যাংক সার্চ টুল, অ্যাডভান্স ট্যাক্স রিমাইন্ডার টুল, এক্সেল শিটের মাধ্যমে আয়কর রিটার্ন প্রসেসিং, ভ্যাট ইস্ট, কাস্টমস ই-পেমেন্ট, ই-ইজিএম, এলটিইউ-ভ্যাট মোবাইল অ্যাপ ও ই-সেভিংস।