অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
চলতি অর্থবছর থেকে উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থছাড় সহজ করতে আনা হয় ব্যাপক সংস্কার। আগে সরকারি তহবিলের অর্থ চার কিস্তিতে ছাড় করা হতো। এ অর্থবছর থেকে প্রথম ও দ্বিতীয় কিস্তি হিসেবে ছাড়ের কোনো বিষয় রাখা হয়নি।
গত জুন মাসে জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছিলেন, অর্থছাড়ে আমূল সংস্কার প্রক্রিয়ার অংশহিসেবে সরকারি প্রতিষ্ঠানের বাস্তবায়িত প্রকল্পের সরকারি তহবিলের প্রথম ও দ্বিতীয় কিস্তির অর্থছাড়ের কোনো প্রয়োজন হবে না। ফলে এখন থেকে বাজেট অনুমোদনের পর প্রকল্প পরিচালকরা জুলাই মাসের ১ তারিখ থেকেই প্রকল্পের অর্থ ব্যবহার করতে পারবেন।
কিন্তু বাস্তবাতায় দেখা যাচ্ছে উল্টো চিত্র। অর্থাৎ নতুন এই সংস্কার করা হয় প্রকল্পের বাস্তবায়ন গতি বাড়ানোর জন্য। কিন্তু গত তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়ন হার কমেছে।
সরকারি প্রকল্প তদারকির একমাত্র সংস্থা বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে এডিপি বাস্তবায়িত হয়েছিল ১০ দশমিক ২১ শতাংশ। এ সময় টাকা খরচ হয়েছিল ১৬ হাজার ৭৫৫ কোটি টাকা। কিন্তু চলতি অর্থবছরের তিন মাসে এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছে ৮ দশমিক ২৫ শতাংশ। এই সময়ে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো ব্যয় করেছে ১৪ হাজার ৯২৭ কোটি টাকা। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বাস্তবায়নের হার ছিল ৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পরিকল্পনা সচিব মো. জিয়াউল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমি খুব বেশিকিছু বলতে পারছি না। তবে আপনাদের তো ধারণা ছিল নির্বাচন কাছাকাছি হওয়ায় ব্যাপক অর্থ খরচ হবে, কিন্তু বাস্তবতায় সেটিতো হচ্ছে না। এর কারণ এবং নতুন সংস্কার বিষয়ে জানতে অর্থ মন্ত্রণালয় অথবা আইএমইডির সঙ্গে যোগাযোগ করার পরার্শ দেন তিনি।
আইএমইডির সচিব মো. মফিজুল ইসলাম জানান, গত অর্থবছরের তুলনায় এ অর্থবছরের শুরুতে ব্যাপক বৃষ্টিপাত এবং দীর্ঘায়িত বৃষ্টিপাতের কারণে প্রকল্প বাস্তবায়ন কম হয়েছে।
তাছাড়া আমরা তো অর্থ ব্যয়ের হিসেবে এডিপি বাস্তবায়নের অগ্রগতি হিসাব করি। সাধারণত অর্থবছরের শেষ দিকে প্রকল্পের বিপরীতে অর্থ ব্যয় হয়ে থাকে। তাই এ সময় অগ্রগতির প্রকৃত চিত্র পাওয়া কঠিন।
সূত্র জানায়, আইএমইডি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যে সব বাঁধা চিহ্নিত করেছে। তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে সময় মতো অর্থছাড় না হওয়া। তাছাড়া বিভিন্ন সময় প্রকল্প বাস্তবায়ন গতি না থাকারও অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা যায় এটি।
এ প্রেক্ষাপটেই অর্থমন্ত্রীর এ ঘোষণা উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি ফিরিয়ে আনবে বলে মনে করেছিলেন বিশেষজ্ঞরা। বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আরও বলেছেন, উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এডিপির আকার দিনে দিনে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাছাড়া বর্তমান সময়ে এডিপির আওতায় বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মেগা প্রকল্প।
ইতিমধ্যেই বিভিন্ন আর্থিক সংস্কারের প্রভাবে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর বাজেট বাস্তবায়ন সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। উন্নয়ন কর্মসূচির সঠিক ও সময়মতো বাস্তবায়নে আরও উৎকর্ষ সাধণে আমরা এখন এডিপির অর্থছাড় প্রক্রিয়ায় আমূল সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছি।
পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম ওই সময় যুগান্তরকে বলেছিলেন, এটি প্রকল্পের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় একটি অন্যতম সংস্কার এবং বড় উদ্যোগ বলা যায়।
কেন না প্রথম ও দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ ছাড়ের ক্ষেত্রে প্রক্রিয়া শেষ করতেই জুলাই মাসের শেষ দিকে অথবা আগস্ট মাসে গিয়ে অর্থছাড় হয়। এ ক্ষেত্রে অর্থবছরের শুরুর দিন থেকে প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হয় না। কিন্তু আগামী অর্থবছর (চলতি অর্থবছর) থেকে অর্থছাড় সহজ হওয়ায় প্রকল্পের বাস্তবায়ন বাড়বে।
আইএমইডির তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের তিন মাসে এক টাকাও খরচ করতে পারেনি ৩টি মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থা। এগুলো হচ্ছে- পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ।
এখনও ৫ শতাংশের নিচে এডিপি বাস্তবায়নের হার ২০টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের। এগুলো হচ্ছে- দুর্নীতি দমন কমিশন, সমাজকল্যাণ, জনপ্রশাসন, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ, তথ্য, বস্ত্র ও পাট, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়, ভূমি, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়, শিল্প, প্রতিরক্ষা, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় প্রভৃতি।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 

























