ঢাকা ০৫:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

এসডিজি বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির তাগিদ

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির তাগিদ দেয়া হয়েছে।

বলা হয়েছে, সীমান্ত বাধা থাকলে এই লক্ষ্য বাস্তবায়ন কঠিন হবে। এজন্য দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলা, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা, বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বৃদ্ধি, সামাজিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন।

সোমবার বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজির (বিইউবিটি) আয়োজনে ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স-২০১৮ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ তাগিদ দেয়া হয়। রাজধানীর মিরপুরে বিইউবিটির স্থায়ী ক্যাম্পাসের ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স হলে দু’দিনের এ কনফারেন্সের উদ্বোধন করা হয়।

‘সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট থ্রু ক্রস-বর্ডার কো-অপারেশন’ শীর্ষক থিমকে সামনে রেখে আয়োজিত কনফারেন্সের উদ্বাধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিইউবিটির ভিসি প্রফেসর মো. আবু সালেহ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল মান্নান। অনুষ্ঠানে পৃষ্ঠপোষক হিসেবে বক্তব্য দেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ জামাতা ও বিইউবিটি ট্রাস্টের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. সফিক আহমেদ সিদ্দিক। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নয়াদিল্লির ইন্সটিটিউট অব সোশ্যাল সায়েন্সের সিনিয়র ফেলো প্রফেসর ড. পার্থ এস ঘোষ।

বক্তব্য দেন বিইউবিটি রিচার্স সেন্টারের পরিচালক ও কনফারেন্স চেয়ার প্রফেসর সান্তি এন ঘোষ, ফ্যাকাল্টি অব বিজনেস, বিইউবিটির ডিন ও কনফারেন্স কো-চেয়ার ড. সৈয়দ মাসুদ হুসেন।

উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দৌহিত্র বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কাউন্সেলর, বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের সম্পাদক এবং ইউএনডিপির কনসালট্যান্ট রেদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি। সম্মেলনে মিডিয়ার পার্টনার হিসেবে রয়েছে দৈনিক যুগান্তর।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর আবদুল মান্নান বলেন, শুধু উন্নয়ন করলেই হবে না, সেটি হতে হবে টেকসই উন্নয়ন। এজন্য আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পারস্পরিক সহযোগিতা প্রয়েজন।

বাংলাদেশ বর্তমানে তরুণ জনশক্তির সুবিধা ভোগ করছে। দেশেল ৬৫ শতাংশ তরুণ যাদের বয়স ৩৫ বছরের নিচে। এই তরুণ জনশক্তিকে প্রকৃত দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রকৃত শিক্ষা দেয়ার মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করতে হবে। এজন্য সরকার এরই মধ্যে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, পদ্মা সেতু তৈরিতে যদিও চীনা কোম্পানি কাজ করছে, কিন্তু সেখানে শতভাগ বাংলাদেশি ইঞ্জিনিয়াররা কাজ করছেন। সেটি অনেকেই জানেন না। এদিকে পোশাক খাতে প্রায় ৪০ লাখ মানুষ জড়িত। এদের ৯০ শতাংশই নারী শ্রমিক। এটি ভালো খবর, কিন্তু সতর্কমূলক একটি খবর হচ্ছে- বর্তমানে পোশাক খাতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে।

এ খাত অটোমেটেড হলে শ্রমিকের সংখ্যা কমে যেতে পারে। তাই বলে মেশিন মানুষের শত্রু নয়, বরং শ্রমিকদের দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে অন্য কাজের জন্য প্রস্তুত করতে হবে। এ সময় তিনি বাংলাদেশের খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, বৈদেশিক সহায়তা নির্ভরতা কমানোসহ উন্নয়নের বিভিন্ন বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

তিনি আরও বলেন, উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ তার পরিবর্তন সাধন করতে সক্ষম হয়েছে, এখন অন্যান্য দেশ বাংলাদেশ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করছে। বাংলাদেশ বিভিন্ন সেক্টরে যে অর্জন করেছে, তা অতীতের গরিবি তকমা থেকে দেশকে বের করে আনতে সহায়তা করছে।

তিনি বিভিন্ন দেশের শিক্ষাবিদদের জ্ঞান বিনিময়ের পরামর্শ দিয়ে আরও বলেন, সীমানা একটি রাজনৈতিক বিষয়, কিন্তু শিক্ষা বিনিময়ের কোনো সীমানা নেই। তার মতে, উন্নয়ন ও বিভিন্ন দেশের আন্তঃসহযোগিতার ভিত্তি হওয়া উচিত মানব উন্নয়ন। মানুষেরই একমাত্র উন্নয়নের সুবিধাভোগী হওয়া উচিত।

প্রফেসর ড. সফিক আহমেদ সিদ্দিক বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে স্বপ্ন দেখে উন্নত দেশের। এরই মধ্যে এসডিজি বাস্তবায়নে ব্যাপকভাবে কাজ শুরু করা হয়েছে। সরকার দারিদ্র্য নিরসন, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষায় স্বাস্থ্য খাতে উন্নতি হয়েছে।

বিশেষ করে মাতৃমৃত্যু, শিশুমৃত্যু এবং স্যানিটেশনে বিশ্বে উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। মাথাপিছু আয় প্রতিবছর বাড়ছে। বাংলাদেশ তলাবিহীন ঝুড়ি আর নয়। উন্নয়নের রোল মডেল।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এসডিজি বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির তাগিদ

আপডেট সময় ০৯:১৫:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ অক্টোবর ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির তাগিদ দেয়া হয়েছে।

বলা হয়েছে, সীমান্ত বাধা থাকলে এই লক্ষ্য বাস্তবায়ন কঠিন হবে। এজন্য দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলা, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা, বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বৃদ্ধি, সামাজিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন।

সোমবার বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজির (বিইউবিটি) আয়োজনে ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স-২০১৮ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ তাগিদ দেয়া হয়। রাজধানীর মিরপুরে বিইউবিটির স্থায়ী ক্যাম্পাসের ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স হলে দু’দিনের এ কনফারেন্সের উদ্বোধন করা হয়।

‘সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট থ্রু ক্রস-বর্ডার কো-অপারেশন’ শীর্ষক থিমকে সামনে রেখে আয়োজিত কনফারেন্সের উদ্বাধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিইউবিটির ভিসি প্রফেসর মো. আবু সালেহ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল মান্নান। অনুষ্ঠানে পৃষ্ঠপোষক হিসেবে বক্তব্য দেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ জামাতা ও বিইউবিটি ট্রাস্টের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. সফিক আহমেদ সিদ্দিক। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নয়াদিল্লির ইন্সটিটিউট অব সোশ্যাল সায়েন্সের সিনিয়র ফেলো প্রফেসর ড. পার্থ এস ঘোষ।

বক্তব্য দেন বিইউবিটি রিচার্স সেন্টারের পরিচালক ও কনফারেন্স চেয়ার প্রফেসর সান্তি এন ঘোষ, ফ্যাকাল্টি অব বিজনেস, বিইউবিটির ডিন ও কনফারেন্স কো-চেয়ার ড. সৈয়দ মাসুদ হুসেন।

উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দৌহিত্র বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কাউন্সেলর, বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের সম্পাদক এবং ইউএনডিপির কনসালট্যান্ট রেদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি। সম্মেলনে মিডিয়ার পার্টনার হিসেবে রয়েছে দৈনিক যুগান্তর।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর আবদুল মান্নান বলেন, শুধু উন্নয়ন করলেই হবে না, সেটি হতে হবে টেকসই উন্নয়ন। এজন্য আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পারস্পরিক সহযোগিতা প্রয়েজন।

বাংলাদেশ বর্তমানে তরুণ জনশক্তির সুবিধা ভোগ করছে। দেশেল ৬৫ শতাংশ তরুণ যাদের বয়স ৩৫ বছরের নিচে। এই তরুণ জনশক্তিকে প্রকৃত দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রকৃত শিক্ষা দেয়ার মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করতে হবে। এজন্য সরকার এরই মধ্যে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, পদ্মা সেতু তৈরিতে যদিও চীনা কোম্পানি কাজ করছে, কিন্তু সেখানে শতভাগ বাংলাদেশি ইঞ্জিনিয়াররা কাজ করছেন। সেটি অনেকেই জানেন না। এদিকে পোশাক খাতে প্রায় ৪০ লাখ মানুষ জড়িত। এদের ৯০ শতাংশই নারী শ্রমিক। এটি ভালো খবর, কিন্তু সতর্কমূলক একটি খবর হচ্ছে- বর্তমানে পোশাক খাতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে।

এ খাত অটোমেটেড হলে শ্রমিকের সংখ্যা কমে যেতে পারে। তাই বলে মেশিন মানুষের শত্রু নয়, বরং শ্রমিকদের দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে অন্য কাজের জন্য প্রস্তুত করতে হবে। এ সময় তিনি বাংলাদেশের খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, বৈদেশিক সহায়তা নির্ভরতা কমানোসহ উন্নয়নের বিভিন্ন বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

তিনি আরও বলেন, উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ তার পরিবর্তন সাধন করতে সক্ষম হয়েছে, এখন অন্যান্য দেশ বাংলাদেশ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করছে। বাংলাদেশ বিভিন্ন সেক্টরে যে অর্জন করেছে, তা অতীতের গরিবি তকমা থেকে দেশকে বের করে আনতে সহায়তা করছে।

তিনি বিভিন্ন দেশের শিক্ষাবিদদের জ্ঞান বিনিময়ের পরামর্শ দিয়ে আরও বলেন, সীমানা একটি রাজনৈতিক বিষয়, কিন্তু শিক্ষা বিনিময়ের কোনো সীমানা নেই। তার মতে, উন্নয়ন ও বিভিন্ন দেশের আন্তঃসহযোগিতার ভিত্তি হওয়া উচিত মানব উন্নয়ন। মানুষেরই একমাত্র উন্নয়নের সুবিধাভোগী হওয়া উচিত।

প্রফেসর ড. সফিক আহমেদ সিদ্দিক বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে স্বপ্ন দেখে উন্নত দেশের। এরই মধ্যে এসডিজি বাস্তবায়নে ব্যাপকভাবে কাজ শুরু করা হয়েছে। সরকার দারিদ্র্য নিরসন, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষায় স্বাস্থ্য খাতে উন্নতি হয়েছে।

বিশেষ করে মাতৃমৃত্যু, শিশুমৃত্যু এবং স্যানিটেশনে বিশ্বে উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। মাথাপিছু আয় প্রতিবছর বাড়ছে। বাংলাদেশ তলাবিহীন ঝুড়ি আর নয়। উন্নয়নের রোল মডেল।