অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেছেন, দুঃশাসনের বিরুদ্ধে গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন আগেও একবার মাঠে নেমে সরে দাঁড়ান। ২০০৬ সালে হাওয়া ভবনের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে তিনি একই কথা বলেছিলেন। আওয়ামী লীগের সঙ্গে এবং দরকার হলে শয়তানের সঙ্গে হাত মেলাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তারপরে তা আর হয়নি।
সোমবার রাজধানীর পল্টনের মুক্তিভবনে ‘দ্বিদলীয় মেরুকরণের বাইরে বাম-গণতান্ত্রিক বিকল্প গড়ে তোলো’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
সিপিবি সভাপতি বলেন, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতারা শুধু অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য দাবি উত্থাপন করেননি। তারা বিএনপির সঙ্গে জোট প্রক্রিয়াকে অগ্রসর করেছেন।
তিনি বলেন, শুধু তাই নয়, গত ২২ সেপ্টেম্বর মহানগর নাট্যমঞ্চে ঐক্য প্রক্রিয়ার নাগরিক সমাবেশে হেফাজতের ঢাকা জেলার সাধারণ সম্পাদক অংশ নেন, যার নেতৃত্বে ২০১৩ সালে হেফাজতের তাণ্ডবের সময় সিপিবি অফিসে আগুন দেয়া হয়। এ সময় আগামী ৫ অক্টোবর বেলা ৩টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ ও লাল পতাকা মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতাদের শুধু টেবিলে বসে দাবি উত্থাপন না করে রাজপথে নেমে আন্দোলন করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘তারা যেসব দাবি করেছে, আমি আশা করব, এই দাবিতে তারা রাজপথে নামবে। প্রেসক্লাব থেকে শহীদ মিনার যাওয়ার পথে দুই ফুট এগিয়ে আবার ফিরে আসবে না।’
সিপিবি আওয়ামী লীগ বা বিএনপির সঙ্গে কোনো মেরুকরণে যাবে না দাবি করে তিনি বলেন, ‘এক দুঃশাসন শেষ হলে আরেক দুঃশাসন এসে পড়ে। তিন দশক ধরে আমরা এই অবস্থায় আছি। এই দুঃশাসনের দুষ্টুচক্র ভাঙতে হবে।’
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয়েই এই দেশের নির্বাচনকে প্রহসন বানিয়েছে।
ফুটবল বিশ্বকাপ চলার সময়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছিলেন, মেসি-রোনালদো পেনালটি মিস করলেও শেখ হাসিনা পেনালটি মিস করে না। সে প্রসঙ্গ টেনে মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এমন ব্যবস্থা করা হয়েছে যে এক গজ দূর থেকেই পেনালটি কিক করা হবে। এর সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে প্রতিপক্ষের গোলে কোনো গোলকিপার থাকবে না। যার ফলে পেনালটি মিস হওয়ার কোনো আশঙ্কা তারা দেখছে না।’
নির্বাচনে অংশ নেয়া প্রসঙ্গে সিপিবি সভাপতি বলেন, পরিস্থিতি বুঝে তারা সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে এখন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে তারা আন্দোলন করবেন। প্রয়োজন হলে নির্বাচন বয়কট করতে পারেন, আবার অংশও নিতে পারেন। অংশ নিলে বামজোট ও প্রগতিশীল ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়ে ৩০০ আসনে প্রার্থী দেবেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, সিপিবির সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম। সেখানে বলা হয়, সরকার ২০১৪ সালের মতো আরও একটি একতরফা নির্বাচনের ক্ষেত্র প্রস্তুত করছে। তফসিল ঘোষণার আগে সরকারকে পদত্যাগ করে আলোচনার মাধ্যমে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ তদারকি সরকার গঠনের দাবিও জানানো হয়।
এছাড়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮ এর সমালোচনা করে বলা হয়, এই আইনের মধ্য দিয়ে মানুষের কথা বলার অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 




















