ঢাকা ০২:১১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬, ১৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
১৭ বছ‌রের গুম-খুন-কান্না, রিমান্ড অত‌্যাচার সহ্য ক‌রে‌ছি: পার্থ একটি দল টাকা দিয়ে ভোট কিনছে : সেলিমা রহমান তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাই: আবু সাঈদের বাবা ‘ঘুম থেকে উঠে মানুষ আল্লাহর নাম নেয়, একজন আছে জেগেই আমার নাম নেন’:মির্জা আব্বাস সরকারি কর্মচারীরা ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিতে পারবেন না: ইসি সানাউল্লাহ গরিবের টিন-কম্বল কেউ আত্মসাৎ করতে পারবে না : মুফতি ফয়জুল করিম রাজধানীতে আবাসিক ভবনে আগুন, নিয়ন্ত্রণে চারটি ইউনিট কিশোরগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধে ভাতিজার হাতে চাচা খুন আমরা অনেক অপরচুনিটি মিস করেছি: নাহিদ হেলমেট না থাকায় ‘সেনাসদস্যের মারধরে’ যুবকের মৃত্যু

নিয়ন্ত্রিত নির্বাচন রুখে দিতে হবে: বি চৌধুরী

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে যে কয়েকটি স্থানীয় নির্বাচন হয়েছে তার একটাও সুষ্ঠু হয়নি দাবি করে যুক্তফ্রন্টের সভাপতি ও বিকল্পধারা বাংলাদেশে প্রেসিডেন্ট একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও যদি তারা এমন করার চেষ্টা করে তাহলে কোনো ছাড় দেয়া হবে না।

সরকার স্বেচ্ছাচারী আচরণ করছে উল্লেখ করে বি চৌধুরী বলেন, জনগণ সঙ্গে থাকলে কারো স্বেচ্ছাচারী হওয়ার সুযোগ নেই।

শুক্রবার দুপুরে মতিঝিলে নির্মাণশ্রমিক পরিষদ নামের একটি সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠানে সাবেক রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।

অপরদিকে শুক্রবার সন্ধ্যায় দলের কুড়িল বিশ্বরোডের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব ও পেশাজীবীসহ বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীদের বিকল্পধারায় যোগদান উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, ২০১৪ সালে দেশের মানুষ ভোটাধিকার বঞ্চিত হয়েছে। এই ধরনের নির্বাচন আবার যদি জাতীয় সংসদে হয় তাহলে গণতন্ত্র চিরনির্বাসিত হবে। দেশবাসী আর ছিনিয়ে নেয়া নির্বাচন হতে দেবে না। তাই যুক্তফ্রন্ট দেশবাসীর কাছে আহ্বান রাখছে, এই ধরনের নিয়ন্ত্রিত নির্বাচন রুখে দিতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা গণতান্ত্রিক নির্বাচন চাই। সংসদ ও মন্ত্রিসভা ভেঙে দিতে হবে। নির্বাচনে সবার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে। নির্বাচনের আগে সব রাজবন্দিকে মুক্তি দিতে হবে। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে। প্রয়োজনে সংবিধান সংশোধন করতে হবে।

বি চৌধুরী বলেন, সংসদের অধিকাংশ আসনে বিনা ভোটে সরকারি দলের সদস্যরা নির্বাচিত হয়েছে। ভোটে অনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা মন্ত্রী হয়েছেন, সংবিধান সংশোধন করেছেন এবং অনেকে ব্যাপক দুর্নীতির অংশীদার হয়েছেন।

সাবেক এই রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে উন্নয়ন এবং গণতন্ত্র উভয়ই থাকতে হবে। একটা গাছের জন্য যেমন আলো তেমনি পানিও প্রয়োজন। শুধু প্রচুর আলোর মধ্যে একটি গাছ থাকলে তাতে যদি যথেষ্ট পানি না দেয়া হয় অথবা বৃষ্টি না থাকে, তা হলে গাছ মরে যায়। অন্যদিকে প্রচুর পানি দিলেও গাছটি যদি অন্ধকারে রাখা হয় তা হলে গাছটি বাঁচবে না। রাষ্ট্র নামক বৃক্ষটিও তাই। উন্নয়ন যেমন প্রয়োজন, তাকে নিশ্বাস নেয়ার জন্য, কথা বলার জন্য, মতামত প্রকাশ করার জন্য ভোটের অধিকার প্রয়োজন, এর নামই গণতন্ত্র। কাজেই সুখী রাষ্ট্র গঠনের জন্য গণতন্ত্র এবং উন্নয়ন দুটিই দরকার। শুধু উন্নয়নে মন ভরবে না, শুধু গণতন্ত্রে পেট ভরবে না। দুটোই প্রয়োজন।

তিনি বলেন, দেশে উন্নয়ন হয়েছে, প্রবৃদ্ধি বেড়েছে সন্দেহ নেই, কিন্তু শুধুমাত্র কয়েক হাজার রাতারাতি হওয়া কোটিপতি এই প্রবৃদ্ধির সিংহভাগ খেয়ে ফেলেছে। সরকারের হিসাবে দেশে এখনো দারিদ্র্যের হার ২২ ভাগের নিচে। তিনি প্রশ্ন করেন, কোথায় প্রবৃদ্ধির সুফল?

এর আগে বাংলাদেশ গলফ ফেডারেশনের লেডি ক্যাপ্টেন মাহমুদা চৌধুরী, বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশন কেন্দ্রীয় নারী কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আম্বিয়া খাতুন শীলা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. নূর উদ্দিন, চিকিৎসক ডা. মো. শাহাদাত হোসেন, ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল হোসেনসহ বিভিন্নদলের শতাধিক নেতাকর্মী বি চৌধুরীর হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে বিকল্পধারায় যোগদান করেন।

বিকল্পধারার মহাসচিব মেজর (অব.) আবদুল মান্নানের সভাপতিত্বে আয়োজিত আলোচনা সভা ও যোগদান অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন বিকল্পধারার যুগ্ম মহাসচিব মাহী বি চৌধুরী, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুর রউফ মান্নান, ব্যারিস্টার ওমর ফারুক, ইঞ্জিনিয়ার মুহম্মদ ইউসুফ, মাহবুব আলী, সাহিদুর রহমান, ওয়াসিমুল ইসলাম প্রমুখ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নিয়ন্ত্রিত নির্বাচন রুখে দিতে হবে: বি চৌধুরী

আপডেট সময় ১০:৪৪:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে যে কয়েকটি স্থানীয় নির্বাচন হয়েছে তার একটাও সুষ্ঠু হয়নি দাবি করে যুক্তফ্রন্টের সভাপতি ও বিকল্পধারা বাংলাদেশে প্রেসিডেন্ট একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও যদি তারা এমন করার চেষ্টা করে তাহলে কোনো ছাড় দেয়া হবে না।

সরকার স্বেচ্ছাচারী আচরণ করছে উল্লেখ করে বি চৌধুরী বলেন, জনগণ সঙ্গে থাকলে কারো স্বেচ্ছাচারী হওয়ার সুযোগ নেই।

শুক্রবার দুপুরে মতিঝিলে নির্মাণশ্রমিক পরিষদ নামের একটি সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠানে সাবেক রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।

অপরদিকে শুক্রবার সন্ধ্যায় দলের কুড়িল বিশ্বরোডের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব ও পেশাজীবীসহ বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীদের বিকল্পধারায় যোগদান উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, ২০১৪ সালে দেশের মানুষ ভোটাধিকার বঞ্চিত হয়েছে। এই ধরনের নির্বাচন আবার যদি জাতীয় সংসদে হয় তাহলে গণতন্ত্র চিরনির্বাসিত হবে। দেশবাসী আর ছিনিয়ে নেয়া নির্বাচন হতে দেবে না। তাই যুক্তফ্রন্ট দেশবাসীর কাছে আহ্বান রাখছে, এই ধরনের নিয়ন্ত্রিত নির্বাচন রুখে দিতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা গণতান্ত্রিক নির্বাচন চাই। সংসদ ও মন্ত্রিসভা ভেঙে দিতে হবে। নির্বাচনে সবার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে। নির্বাচনের আগে সব রাজবন্দিকে মুক্তি দিতে হবে। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে। প্রয়োজনে সংবিধান সংশোধন করতে হবে।

বি চৌধুরী বলেন, সংসদের অধিকাংশ আসনে বিনা ভোটে সরকারি দলের সদস্যরা নির্বাচিত হয়েছে। ভোটে অনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা মন্ত্রী হয়েছেন, সংবিধান সংশোধন করেছেন এবং অনেকে ব্যাপক দুর্নীতির অংশীদার হয়েছেন।

সাবেক এই রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে উন্নয়ন এবং গণতন্ত্র উভয়ই থাকতে হবে। একটা গাছের জন্য যেমন আলো তেমনি পানিও প্রয়োজন। শুধু প্রচুর আলোর মধ্যে একটি গাছ থাকলে তাতে যদি যথেষ্ট পানি না দেয়া হয় অথবা বৃষ্টি না থাকে, তা হলে গাছ মরে যায়। অন্যদিকে প্রচুর পানি দিলেও গাছটি যদি অন্ধকারে রাখা হয় তা হলে গাছটি বাঁচবে না। রাষ্ট্র নামক বৃক্ষটিও তাই। উন্নয়ন যেমন প্রয়োজন, তাকে নিশ্বাস নেয়ার জন্য, কথা বলার জন্য, মতামত প্রকাশ করার জন্য ভোটের অধিকার প্রয়োজন, এর নামই গণতন্ত্র। কাজেই সুখী রাষ্ট্র গঠনের জন্য গণতন্ত্র এবং উন্নয়ন দুটিই দরকার। শুধু উন্নয়নে মন ভরবে না, শুধু গণতন্ত্রে পেট ভরবে না। দুটোই প্রয়োজন।

তিনি বলেন, দেশে উন্নয়ন হয়েছে, প্রবৃদ্ধি বেড়েছে সন্দেহ নেই, কিন্তু শুধুমাত্র কয়েক হাজার রাতারাতি হওয়া কোটিপতি এই প্রবৃদ্ধির সিংহভাগ খেয়ে ফেলেছে। সরকারের হিসাবে দেশে এখনো দারিদ্র্যের হার ২২ ভাগের নিচে। তিনি প্রশ্ন করেন, কোথায় প্রবৃদ্ধির সুফল?

এর আগে বাংলাদেশ গলফ ফেডারেশনের লেডি ক্যাপ্টেন মাহমুদা চৌধুরী, বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশন কেন্দ্রীয় নারী কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আম্বিয়া খাতুন শীলা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. নূর উদ্দিন, চিকিৎসক ডা. মো. শাহাদাত হোসেন, ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল হোসেনসহ বিভিন্নদলের শতাধিক নেতাকর্মী বি চৌধুরীর হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে বিকল্পধারায় যোগদান করেন।

বিকল্পধারার মহাসচিব মেজর (অব.) আবদুল মান্নানের সভাপতিত্বে আয়োজিত আলোচনা সভা ও যোগদান অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন বিকল্পধারার যুগ্ম মহাসচিব মাহী বি চৌধুরী, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুর রউফ মান্নান, ব্যারিস্টার ওমর ফারুক, ইঞ্জিনিয়ার মুহম্মদ ইউসুফ, মাহবুব আলী, সাহিদুর রহমান, ওয়াসিমুল ইসলাম প্রমুখ।