অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে অশুভ শক্তির পদধ্বনি শুনতে পাচ্ছি।
আন্দোলনে ব্যর্থ বিএনপিসহ তাদের সাম্প্রদায়িক দোসররা আন্দোলনের নামে নাশকতা ও সহিংসতার ছক আঁটছে। সহিংসতার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে।
আন্দোলনের নামে লাফালাফির পরিণতি শুভ হবে না। হুমকি-ধমকি দিলে আমরা ঘরে বসে ডুগডুগি বাজাব, তা হবে না। এটাই আমাদের মেসেজ, ইনফরমেশন।
বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার সকালে দলটির সম্পাদকমণ্ডলীর যৌথ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপির সভাটা কবে হবে, এটা তো এখনও ঠিক হয়নি। বিএনপি জোর করে ২৯ তারিখে করবে? কেন এই জেদাজেদি? অনুমোদন ছাড়া আপনি সভা করবেন, এত লাফালাফি কেন? ১০ বছরে ১০ মিনিটও রাস্তায় নামতে পারেননি। এখন আপনি হঠাৎ করে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে খুশি করে ব্যর্থতা ঢাকতে লাফালাফি করছেন।
১৪ দলীয় জোটের ২৯ তারিখের নাগরিক সমাবেশ সম্পর্কে জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ১৪ দল পেশাজীবীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছে, নিজেরা বসেছে। এখন তারা মহানগর নাট্যমঞ্চে আরও একটু বড় পরিসরে নেতাকর্মীদের সমাবেশ করবে, এটা বিএনপির সঙ্গে কোনো পাল্টাপাল্টি নয়।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের মধ্যে কোনো উদ্বেগ নেই, তবে সতর্কতা আছে। আমরা সতর্ক আছি।
ওবায়দুল কাদের বলেন, তারা আজকে জাতীয় ঐক্যের কথা বলছে। কিছুদিন আগে আইআরআইয়ের গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে, আমাদের দলীয় সভাপতির জনপ্রিয়তা ৬৬ শতাংশ ও দলের জনপ্রিয়তা ৬৪ শতাংশ।
প্রশ্ন রেখে ওবায়দুল কাদের বলেন, দেশের ৬৬ শতাংশ মানুষ যে দল ও নেত্রীকে সমর্থন করেন, জনতার এই সিংহভাগকে বাদ দিয়ে কিভাবে জাতীয় ঐক্য? এটা তো আসলে জাতীয় ঐক্য নয়, এটা আসলে জাতীয়তাবাদী সাম্প্রদায়িক ঐক্য। জনতা নয়, নেতায়-নেতায় ঐক্য।
তিনি বলেন, ২০ দলের সঙ্গে ১০ দলের ঐক্য এখনও নড়বড়ে কারণ বিএনপি তাদের মূল পার্টনার সাম্প্রদায়িক জামায়াতকে ছাড়া এক পাও এগোতে পারবে না। সেই অবস্থায় যুক্তফ্রন্ট এ প্রক্রিয়ায় শর্ত দিয়েছে, জামায়াত যদি বিএনপির সঙ্গে আন্দোলনে থাকে, তাহলে যে ঐক্য করে তারা সরকার পতনের আন্দোলনের কথা বলছে, তার সূচনা করতে পারবে না। এই পাঁচমিশালি জগাখিচুড়ি ঐক্যের কোনো ভবিষ্যৎ আছে বলে আমরা মনে করি না।
তিনি বলেন, দেশের জনগণের বেশির ভাগ অংশই ইতিমধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে, আগামী নির্বাচনে উন্নয়নের জন্য শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের বিকল্প নেই। আগামী নির্বাচনে তারা আবারও নৌকায় ভোট দিতে চান।
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমরা সরকারি দল, আমাদের কলসি ভরা, ভরা কলসি নড়ে না। যাদের শূন্য কলসি, তারাই ফাঁকা আওয়াজ করে। আমাদের উত্তেজিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। আমরা কারও উসকানির ফাঁদে পা দেব না। দেশের মানুষ খুশি, নির্বাচন হবে। পরিবেশটা শান্তিপূর্ণ থাকবে এটাই আমরা চাই। আমরা নির্বাচনের জন্য সুশৃঙ্খলভাবে সংগঠিত হচ্ছি। দেশের অর্ধেক অংশে আমাদের নির্বাচনী প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এ সময় কেন আমরা সংঘাত করব, আমরা তো ক্ষমতায় আছি। আমরা পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি করব না।
তিনি বলেন, বিএনপি সমাবেশ ডেকেছে, এখন আমাদের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি নেই। আমাদের নেত্রী পরিষ্কারভাবে বলে দিয়েছেন, আমাদের কর্মসূচি আমরা দেব। কারও কোনো পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি আমরা দেব না। তারা সভা করবে আমরা পাল্টা করব; দেশের মানুষকে আতঙ্কে রেখে এ ধরনের রাজনীতি আমাদের প্রয়োজন নেই। নির্বাচন পর্যন্ত পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে হবে।
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, আন্দোলনের নামে সভা-সমাবেশে যদি নৈরাজ্য, নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হয়, তাহলে আমরা রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করব। আর সহিংসতা ও নাশকতার ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যথাযথ জবাব দেবে। আমরা সব দিক থেকে প্রস্তুত আছি। শান্তিপূর্ণ সমাবেশ হলে আমরা রাজনৈতিকভাবে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে মোকাবেলা করব। আর সহিংসতা ও নাশকতার দিকে যদি বিএনপি তার দোসরদের নিয়ে পা বাড়ায় তাহলে তার দাঁতভাঙা জবাব দেবে জনগণ।
১ অক্টোবর থেকে দেশব্যাপী গণসংযোগ করবে আওয়ামী লীগ : আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ১ অক্টোবর থেকে সপ্তাহব্যাপী রাজধানীসহ দেশব্যাপী গণসংযোগ করব। আমরা ভোটারদের কাছে যাব, বাড়িতে বাড়িতে যাব; গণসংযোগ করব। আমরা রাস্তায় অবরোধ করে মানুষের জন্য দুর্ভোগ হবে এমন কোনো সভা-সমাবেশ করব না।
আর রাস্তা অবরোধ, বন্ধ করে কাউকে সভা-সমাবেশ করতেও দেয়া হবে না। আমরা নিজেরাই নিয়ম মেনে চলছি। অন্য কেউ নিয়ম ভঙ্গ করে রাস্তায় প্রেস ক্লাবের সামনে, পল্টনের রাস্তায় সভা-সমাবেশ করবে সেটা অ্যালাউ করা হবে না, জনগণের দুর্ভোগ কিছুতেই হতে দেব না।
যৌথ সভায় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, কৃষি ও সমবায় সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আফজাল হোসেন, উপদফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ, মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদা বেগম, যুব মহিলা লীগের সভাপতি নাজমা আখতার, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা মো. আবু কাওছার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সকালে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন ওবায়দুল কাদের।
এ বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, কয়েকজনের কথা শুনেছি। এর মাধ্যমে সবার আবেগ সেন্টিমেন্ট আমরা জেনেছি। জনসমর্থনের দিক থেকে বরগুনা আমাদের দলের ঘাঁটি। সেখানে আওয়ামী লীগকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য সভাটি ডেকেছিলাম। তিনি বলেন, আমাদের নেত্রীর দিকনির্দেশনা তাদের বলেছি। সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার কথা বলেছেন।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 

























