ঢাকা ০৮:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাগেরহাটে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেন মামুনুল হক ক্ষমতায় গেলে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন হবে: তারেক রহমান বাংলাদেশের পরিবর্তনে গনভোটে হ্যাঁ ভোট জরুরি: সাখাওয়াত হোসেন পোস্টাল ভোট সফল করতে পারলে বাংলাদেশের নাম ওয়ার্ল্ড হিস্ট্রিতে থাকবে: সিইসি ঢাকায় ফ্ল্যাট পাচ্ছে ওসমান হাদির পরিবার ইসির আচরণ ও কর্মকাণ্ড সন্দেহজনক : রিজভী নির্বাচনের আগেই লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা ‘না’ ভোট দেওয়া মানেই স্বৈরাচারের পক্ষে দাঁড়ানো: শারমীন মুরশিদ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার যেকোনো অপচেষ্টা মোকাবিলায় প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বস্তিবাসীদের জন্য উন্নত শিক্ষা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে: তারেক রহমান

চলতি অর্থবছর জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ৭.৫%

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

চলতি অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৫ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ, রফতানি আয় ও রেমিটেন্স প্রবাহে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকায় এটি অর্জন হবে বলে মনে করছে সংস্থাটি।

তবে এটি সরকারের পক্ষ থেকে বাজেটের লক্ষ্যমাত্রা ৭ দশমিক ৮ শতাংশের কম। তারপরও এই প্রবৃদ্ধি অর্জন করলেও সেটি দেশের অর্থনীতির জন্য অন্যতম অর্জন হবে বলে মনে করছে এডিবি। সেই সঙ্গে বলা হয়েছে আগামীতে ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনও সম্ভব।

তবে সেক্ষেত্রে বিচক্ষণ সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতিমালা গ্রহণ, সুষ্ঠু ঋণ ব্যবস্থাপনা, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং নতুন প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরামর্শ দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনীতির অবস্থা নিয়ে ‘এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক-২০১৮ আপডেট’ শীর্ষক প্রতিবেদনে প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসসহ এসব বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। সেই সঙ্গে অর্থনীতিতে চার ধরনের ঝুঁকি রয়েছে বলেও মনে করছে সংস্থাটি।

বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এডিবি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এ সময় বক্তব্য রাখেন সংস্থাটির কান্ট্রি ডিরেক্টর মনমোহন প্রকাশ। প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন, এডিবির সিনিয়র ইকোনমিস্ট সুং চ্যান হুং এবং প্রিন্সিপাল কান্ট্রি স্পেশালিষ্ট জয়তসানা ভারমা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বহিঃসম্পর্ক বিভাগের প্রধান গোবিন্দ বার।

এক প্রশ্নের জবাবে মনমোহন প্রকাশ বলেন, জাতীয় নির্বাচন যে কোনো দেশের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তবে বাংলাদেশে একটি অংশগ্রহণমূলক জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য জনগণ ব্যাপক আগ্রহী হয়ে আছে।

তাছাড়া দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো রয়েছে। তাই নির্বাচন অর্থনীতিতে খুব বেশি নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না। তবে সামান্য প্রভাব পড়তে পারে। বিনিয়োগ প্রসঙ্গে বলেন, বেসরকারি বিনিয়োগ কিছুটা বাড়লেও তা কাক্সিক্ষত নয়। তবে সরকারি বিনিয়োগ হচ্ছে ব্যাপক। তার প্রভাবে আশা করা যাচ্ছে বেসরকারি বিনিয়োগও বাড়বে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি অনেক ভালো। গত তিন বছর ধারাবাহিকভাবে ৭ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হচ্ছে, যা বর্তমানে ৮ শতাংশের কাছাকাছি। এই ধরাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বাংলাদেশ বর্তমানে অনুদানপ্রাপ্ত দেশের তালিকায় না থাকলেও রোহিঙ্গাদের সহায়তার জন্য ইতিমধ্যেই ১০ কোটি মার্কিন ডলার অনুদান দেয়া হয়েছে। এই অর্থে যেসব প্রকল্পে হাতে নেয়া হয়েছে সেগুলোর সঠিক বাস্তবায়ন হলে আরও ১০ কোটি ডলার দেয়া হবে।

প্রতিবেদনে উপস্থাপনের সময় সুং চ্যান হুং বলেন, গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বাংলাদেশে ৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এর আগে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৭ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছিল। এই ধারাবাহিকতায় চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাংলাদেশ ৭ দশমিক ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি হতে পারে বলে আমরা মনে করছি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছর রফতানির অবস্থা স্থিতিশীল থাকবে। তবে আমদানির গতি ধীর হবে। এছাড়া শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধি ধারাবাহিক ও স্থিতিশীলতায় জিডিপি প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে।

মূল্যস্ফীতির বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ছিল ৫ দশমিক ৪ শতাংশ, সেটি বেড়ে গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরে হয়েছে ৫ দশমিক ৮ শতাংশ। চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরেও মূল্যস্ফীতি চাপে থাকবে দেশ।

এর কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, টাকার অবমূল্যায়ন, সেবার মূল্যবৃদ্ধি এবং শস্যের উৎপাদন হ্রাসের কারণে অভ্যন্তরীণ বাজারে চালের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় মূল্যস্ফীতিতে চাপ পড়বে।

প্রতিবেদনে অর্থনীতিতে চার ধরনের ঝুঁকির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে, আমদানি চাহিদা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা, মেগা প্রকল্পগুলোতে চাহিদামতো অর্থায়ন সরবরাহ করতে না পারা, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং প্রতিকূল আবহাওয়া। এসব কারণে দেশের অর্থনীতি ঝুঁকির মুখে রয়েছে।

গত অর্থবছরের অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে এডিবি বলেছে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বাংলাদেশ ব্যাপক জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে, যা ৭ দশমিক ৯ শতাংশ। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির এ হার ছিল ৭ দশমিক ৩ শতাংশ।

এই প্রবৃদ্ধি অর্জনের মূল কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, সরকারি বিনিয়োগ ও ভোগ ব্যয় বেড়েছে। মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন, বেসরকারি বিনিয়োগও কিছুটা বেড়েছে। রফতানিও কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চলতি অর্থবছর জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ৭.৫%

আপডেট সময় ০৯:৩২:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

চলতি অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৫ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ, রফতানি আয় ও রেমিটেন্স প্রবাহে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকায় এটি অর্জন হবে বলে মনে করছে সংস্থাটি।

তবে এটি সরকারের পক্ষ থেকে বাজেটের লক্ষ্যমাত্রা ৭ দশমিক ৮ শতাংশের কম। তারপরও এই প্রবৃদ্ধি অর্জন করলেও সেটি দেশের অর্থনীতির জন্য অন্যতম অর্জন হবে বলে মনে করছে এডিবি। সেই সঙ্গে বলা হয়েছে আগামীতে ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনও সম্ভব।

তবে সেক্ষেত্রে বিচক্ষণ সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতিমালা গ্রহণ, সুষ্ঠু ঋণ ব্যবস্থাপনা, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং নতুন প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরামর্শ দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনীতির অবস্থা নিয়ে ‘এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক-২০১৮ আপডেট’ শীর্ষক প্রতিবেদনে প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসসহ এসব বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। সেই সঙ্গে অর্থনীতিতে চার ধরনের ঝুঁকি রয়েছে বলেও মনে করছে সংস্থাটি।

বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এডিবি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এ সময় বক্তব্য রাখেন সংস্থাটির কান্ট্রি ডিরেক্টর মনমোহন প্রকাশ। প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন, এডিবির সিনিয়র ইকোনমিস্ট সুং চ্যান হুং এবং প্রিন্সিপাল কান্ট্রি স্পেশালিষ্ট জয়তসানা ভারমা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বহিঃসম্পর্ক বিভাগের প্রধান গোবিন্দ বার।

এক প্রশ্নের জবাবে মনমোহন প্রকাশ বলেন, জাতীয় নির্বাচন যে কোনো দেশের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তবে বাংলাদেশে একটি অংশগ্রহণমূলক জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য জনগণ ব্যাপক আগ্রহী হয়ে আছে।

তাছাড়া দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো রয়েছে। তাই নির্বাচন অর্থনীতিতে খুব বেশি নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না। তবে সামান্য প্রভাব পড়তে পারে। বিনিয়োগ প্রসঙ্গে বলেন, বেসরকারি বিনিয়োগ কিছুটা বাড়লেও তা কাক্সিক্ষত নয়। তবে সরকারি বিনিয়োগ হচ্ছে ব্যাপক। তার প্রভাবে আশা করা যাচ্ছে বেসরকারি বিনিয়োগও বাড়বে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি অনেক ভালো। গত তিন বছর ধারাবাহিকভাবে ৭ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হচ্ছে, যা বর্তমানে ৮ শতাংশের কাছাকাছি। এই ধরাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বাংলাদেশ বর্তমানে অনুদানপ্রাপ্ত দেশের তালিকায় না থাকলেও রোহিঙ্গাদের সহায়তার জন্য ইতিমধ্যেই ১০ কোটি মার্কিন ডলার অনুদান দেয়া হয়েছে। এই অর্থে যেসব প্রকল্পে হাতে নেয়া হয়েছে সেগুলোর সঠিক বাস্তবায়ন হলে আরও ১০ কোটি ডলার দেয়া হবে।

প্রতিবেদনে উপস্থাপনের সময় সুং চ্যান হুং বলেন, গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বাংলাদেশে ৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এর আগে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৭ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছিল। এই ধারাবাহিকতায় চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাংলাদেশ ৭ দশমিক ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি হতে পারে বলে আমরা মনে করছি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছর রফতানির অবস্থা স্থিতিশীল থাকবে। তবে আমদানির গতি ধীর হবে। এছাড়া শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধি ধারাবাহিক ও স্থিতিশীলতায় জিডিপি প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে।

মূল্যস্ফীতির বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ছিল ৫ দশমিক ৪ শতাংশ, সেটি বেড়ে গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরে হয়েছে ৫ দশমিক ৮ শতাংশ। চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরেও মূল্যস্ফীতি চাপে থাকবে দেশ।

এর কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, টাকার অবমূল্যায়ন, সেবার মূল্যবৃদ্ধি এবং শস্যের উৎপাদন হ্রাসের কারণে অভ্যন্তরীণ বাজারে চালের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় মূল্যস্ফীতিতে চাপ পড়বে।

প্রতিবেদনে অর্থনীতিতে চার ধরনের ঝুঁকির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে, আমদানি চাহিদা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা, মেগা প্রকল্পগুলোতে চাহিদামতো অর্থায়ন সরবরাহ করতে না পারা, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং প্রতিকূল আবহাওয়া। এসব কারণে দেশের অর্থনীতি ঝুঁকির মুখে রয়েছে।

গত অর্থবছরের অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে এডিবি বলেছে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বাংলাদেশ ব্যাপক জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে, যা ৭ দশমিক ৯ শতাংশ। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির এ হার ছিল ৭ দশমিক ৩ শতাংশ।

এই প্রবৃদ্ধি অর্জনের মূল কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, সরকারি বিনিয়োগ ও ভোগ ব্যয় বেড়েছে। মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন, বেসরকারি বিনিয়োগও কিছুটা বেড়েছে। রফতানিও কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী।