ঢাকা ০৮:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাগেরহাটে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেন মামুনুল হক ক্ষমতায় গেলে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন হবে: তারেক রহমান বাংলাদেশের পরিবর্তনে গনভোটে হ্যাঁ ভোট জরুরি: সাখাওয়াত হোসেন পোস্টাল ভোট সফল করতে পারলে বাংলাদেশের নাম ওয়ার্ল্ড হিস্ট্রিতে থাকবে: সিইসি ঢাকায় ফ্ল্যাট পাচ্ছে ওসমান হাদির পরিবার ইসির আচরণ ও কর্মকাণ্ড সন্দেহজনক : রিজভী নির্বাচনের আগেই লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা ‘না’ ভোট দেওয়া মানেই স্বৈরাচারের পক্ষে দাঁড়ানো: শারমীন মুরশিদ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার যেকোনো অপচেষ্টা মোকাবিলায় প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বস্তিবাসীদের জন্য উন্নত শিক্ষা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে: তারেক রহমান

রিফান্ডের শর্ত শিথিল

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রফতানিকারকদের সুবিধার্থে রিফান্ডের (ডিউটি ড্র ব্যাক বা শুল্ক প্রত্যর্পণ) শর্ত শিথিল করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। ২০১৯ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত পণ্য রফতানির বিপরীতে পিআরসি, ইএক্সপি ও বৈদেশিক মুদ্রা প্রত্যাবাসনের কাগজপত্র জমা দিয়ে রিফান্ড নেয়া যাবে। ৫ সেপ্টেম্বর এ সংক্রান্ত একটি বিশেষ আদেশ জারি করা হয়েছে।

জানা গেছে, শুল্ক প্রত্যর্পণের ক্ষেত্রে ২০১১ সালের ৩০ মার্চ এনবিআর একটি আদেশ জারি করে; যাতে শুল্ক রেয়াত ও প্রত্যর্পণ অধিদফতরকে (ডেডো) রিফান্ড দেয়ার পূর্বে অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেম থেকে রফতানি পণ্য চালানের কায়িক পরীক্ষার তথ্য যাচাই-বাছাই করতে বলা হয়।

মূলত রিফান্ড জালিয়াতি রোধে একটি আদেশ জারি করা হয়। কিন্তু এ আদেশ বাস্তবায়ন করতে গিয়ে ঝামেলা বাধে। কাস্টমস হাউস অনেক সময় অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমের ইনফরমেশন বক্সে কায়িক পরীক্ষার তথ্য এন্ট্রি দেয়া হয় না।

আবার সব কাস্টমস হাউস ও স্থলবন্দরে রফতানির অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেম পুরোপুরিভাবে কার্যকরও হয়নি। এ দুই কারণে রফতানিকারকরা রিফান্ড পেতে জটিলতায় পড়েন। রফতানির সপক্ষে সব কাগজপত্র দাখিল করেও শুধু কায়িক পরীক্ষার তথ্য এন্ট্রি না দেয়ায় রিফান্ড পেতেন না।

৫ সেপ্টেম্বরের বিশেষ আদেশেও জটিলতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সব ধরনের রফতানি চালানের (বিল অব এক্সপোর্ট) বিপরীতে অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমের নির্ধারিত ইনফরমেশন বক্সের ইন্সপেকশন অ্যাক্টে কায়িক পরীক্ষার তথ্য অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি পুরোপুরি চালু হয়নি।

এছাড়া সব কাস্টমস হাউস ও শুল্ক স্টেশনে রফতানির ক্ষেত্রে অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেম এখনও পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করা হয়নি।

এর পরিপ্রেক্ষিতে রিফান্ড জটিলতা দূর করতে অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেম থেকে কায়িক পরীক্ষার তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের বাধ্যবাধকতা শিথিল করা হয়েছে। অর্থাৎ কায়িক পরীক্ষার তথ্য যাচাই-বাছাই ছাড়াই পিআরসি, ইএক্সপি ও বৈদেশিক মুদ্রা প্রত্যাবাসনের দলিলাদিসহ অন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিয়ে রিফান্ড পাওয়া যাবে।

২০১৯ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত এ সুবিধা পাওয়া যাবে। এ বিষয়ে এনবিআরের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, এনবিআর সব সময় রফতানিকে উৎসাহিত করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় রিফান্ড প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে। গত বছরও একটি আদেশ জারির মাধ্যমে এ সুবিধা দেয়া হয়েছিল। সে আদেশের মেয়াদ শেষ হওয়ায় নতুন করে আদেশ জারি করা হয়েছে।

৬০২ পণ্যে শুল্ক হ্রাস সুবিধা : এদিকে এশিয়া প্যাসিফিক ট্রেড এগ্রিমেন্ট (আপটা) চুক্তির আওতায় ভারত, চীন, শ্রীলঙ্কা, লাও রিপাবলিক ও রিপাবলিক অব কোরিয়া থেকে আমদানি করা ৬০২টি পণ্যে হ্রাসকৃত হারে শুল্ক সুবিধা দেয়া হয়েছে।

১০ সেপ্টেম্বর এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে এনবিআর। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, চুক্তি স্বাক্ষরকারী দেশগুলো থেকে ৬০২টি পণ্য আমদানিতে ১০ থেকে ৭০ শতাংশ শুল্ক ছাড় পাওয়া যাবে। এসব পণ্যের মধ্যে নারিকেল, কোকো পাতা, সানফ্লাওয়ার অয়েল, কটন সীড অয়েল, নারিকেল তেল, কফি, গ্রাফাইট, শিল্পের ব্যবহৃত পানি শোধনযন্ত্র, রেলওয়ে স্লিপার, স্ক্র্যাপ, এয়ার কম্প্রেসার, পাম্প, কপার ওর, লেড ওর, নিকেল ওর, জিংক ওর, জিংক সালফেট, নেপথালিন, কার্বন, আয়োডিন, জিংক সালফেট, সোডিয়াম সালফেট অন্যতম।

জানা গেছে, আপটার চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ ৫৯৮টি পণ্যে ১০ থেকে ৭০ শতাংশ এবং এলডিসিভুক্ত দেশের জন্য আরও ৪টি পণ্যে ২০ থেকে ৫০ শতাংশ ছাড় দেয়ার কথা রয়েছে। চীন ২ হাজার ১৯১টি পণ্যে ৫ থেকে ১০০ শতাংশ এবং এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর জন্য আরও ১৮১টি পণ্যে শূন্য থেকে সাড়ে ১২ শতাংশ শুল্ক সুবিধা দেবে।

ভারত ৩ হাজার ৩৩৪টি পণ্যে ৫ থেকে ১০০ শতাংশ এবং এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর জন্য ১৪ থেকে ১০০ শতাংশ ছাড় দেবে। শুল্ক ছাড়ের বিষয়ে দক্ষিণ কোরিয়া ২ হাজার ৭৯৬টি পণ্যে ১০ থেকে ৫০ শতাংশ এবং এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর জন্য ৯৬১টি পণ্যে ২০ থেকে ১০০ শতাংশ। শ্

রীলঙ্কা ৫৮৫টি পণ্যে ৫ থেকে ৬২ দশমিক ৫ শতাংশ এবং এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর জন্য ৭৫টি পণ্যে ১০ থেকে ৫০ শতাংশ ছাড় দেবে। লাওস বাণিজ্য সুবিধা দেবে ৯৯৯টি পণ্যে ২০ থেকে ৩৭ শতাংশ এবং মঙ্গোলিয়া ৩৩৩টি পণ্যে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ শুল্ক ছাড় দেবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রিফান্ডের শর্ত শিথিল

আপডেট সময় ০৬:৩৭:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রফতানিকারকদের সুবিধার্থে রিফান্ডের (ডিউটি ড্র ব্যাক বা শুল্ক প্রত্যর্পণ) শর্ত শিথিল করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। ২০১৯ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত পণ্য রফতানির বিপরীতে পিআরসি, ইএক্সপি ও বৈদেশিক মুদ্রা প্রত্যাবাসনের কাগজপত্র জমা দিয়ে রিফান্ড নেয়া যাবে। ৫ সেপ্টেম্বর এ সংক্রান্ত একটি বিশেষ আদেশ জারি করা হয়েছে।

জানা গেছে, শুল্ক প্রত্যর্পণের ক্ষেত্রে ২০১১ সালের ৩০ মার্চ এনবিআর একটি আদেশ জারি করে; যাতে শুল্ক রেয়াত ও প্রত্যর্পণ অধিদফতরকে (ডেডো) রিফান্ড দেয়ার পূর্বে অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেম থেকে রফতানি পণ্য চালানের কায়িক পরীক্ষার তথ্য যাচাই-বাছাই করতে বলা হয়।

মূলত রিফান্ড জালিয়াতি রোধে একটি আদেশ জারি করা হয়। কিন্তু এ আদেশ বাস্তবায়ন করতে গিয়ে ঝামেলা বাধে। কাস্টমস হাউস অনেক সময় অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমের ইনফরমেশন বক্সে কায়িক পরীক্ষার তথ্য এন্ট্রি দেয়া হয় না।

আবার সব কাস্টমস হাউস ও স্থলবন্দরে রফতানির অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেম পুরোপুরিভাবে কার্যকরও হয়নি। এ দুই কারণে রফতানিকারকরা রিফান্ড পেতে জটিলতায় পড়েন। রফতানির সপক্ষে সব কাগজপত্র দাখিল করেও শুধু কায়িক পরীক্ষার তথ্য এন্ট্রি না দেয়ায় রিফান্ড পেতেন না।

৫ সেপ্টেম্বরের বিশেষ আদেশেও জটিলতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সব ধরনের রফতানি চালানের (বিল অব এক্সপোর্ট) বিপরীতে অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমের নির্ধারিত ইনফরমেশন বক্সের ইন্সপেকশন অ্যাক্টে কায়িক পরীক্ষার তথ্য অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি পুরোপুরি চালু হয়নি।

এছাড়া সব কাস্টমস হাউস ও শুল্ক স্টেশনে রফতানির ক্ষেত্রে অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেম এখনও পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করা হয়নি।

এর পরিপ্রেক্ষিতে রিফান্ড জটিলতা দূর করতে অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেম থেকে কায়িক পরীক্ষার তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের বাধ্যবাধকতা শিথিল করা হয়েছে। অর্থাৎ কায়িক পরীক্ষার তথ্য যাচাই-বাছাই ছাড়াই পিআরসি, ইএক্সপি ও বৈদেশিক মুদ্রা প্রত্যাবাসনের দলিলাদিসহ অন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিয়ে রিফান্ড পাওয়া যাবে।

২০১৯ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত এ সুবিধা পাওয়া যাবে। এ বিষয়ে এনবিআরের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, এনবিআর সব সময় রফতানিকে উৎসাহিত করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় রিফান্ড প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে। গত বছরও একটি আদেশ জারির মাধ্যমে এ সুবিধা দেয়া হয়েছিল। সে আদেশের মেয়াদ শেষ হওয়ায় নতুন করে আদেশ জারি করা হয়েছে।

৬০২ পণ্যে শুল্ক হ্রাস সুবিধা : এদিকে এশিয়া প্যাসিফিক ট্রেড এগ্রিমেন্ট (আপটা) চুক্তির আওতায় ভারত, চীন, শ্রীলঙ্কা, লাও রিপাবলিক ও রিপাবলিক অব কোরিয়া থেকে আমদানি করা ৬০২টি পণ্যে হ্রাসকৃত হারে শুল্ক সুবিধা দেয়া হয়েছে।

১০ সেপ্টেম্বর এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে এনবিআর। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, চুক্তি স্বাক্ষরকারী দেশগুলো থেকে ৬০২টি পণ্য আমদানিতে ১০ থেকে ৭০ শতাংশ শুল্ক ছাড় পাওয়া যাবে। এসব পণ্যের মধ্যে নারিকেল, কোকো পাতা, সানফ্লাওয়ার অয়েল, কটন সীড অয়েল, নারিকেল তেল, কফি, গ্রাফাইট, শিল্পের ব্যবহৃত পানি শোধনযন্ত্র, রেলওয়ে স্লিপার, স্ক্র্যাপ, এয়ার কম্প্রেসার, পাম্প, কপার ওর, লেড ওর, নিকেল ওর, জিংক ওর, জিংক সালফেট, নেপথালিন, কার্বন, আয়োডিন, জিংক সালফেট, সোডিয়াম সালফেট অন্যতম।

জানা গেছে, আপটার চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ ৫৯৮টি পণ্যে ১০ থেকে ৭০ শতাংশ এবং এলডিসিভুক্ত দেশের জন্য আরও ৪টি পণ্যে ২০ থেকে ৫০ শতাংশ ছাড় দেয়ার কথা রয়েছে। চীন ২ হাজার ১৯১টি পণ্যে ৫ থেকে ১০০ শতাংশ এবং এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর জন্য আরও ১৮১টি পণ্যে শূন্য থেকে সাড়ে ১২ শতাংশ শুল্ক সুবিধা দেবে।

ভারত ৩ হাজার ৩৩৪টি পণ্যে ৫ থেকে ১০০ শতাংশ এবং এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর জন্য ১৪ থেকে ১০০ শতাংশ ছাড় দেবে। শুল্ক ছাড়ের বিষয়ে দক্ষিণ কোরিয়া ২ হাজার ৭৯৬টি পণ্যে ১০ থেকে ৫০ শতাংশ এবং এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর জন্য ৯৬১টি পণ্যে ২০ থেকে ১০০ শতাংশ। শ্

রীলঙ্কা ৫৮৫টি পণ্যে ৫ থেকে ৬২ দশমিক ৫ শতাংশ এবং এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর জন্য ৭৫টি পণ্যে ১০ থেকে ৫০ শতাংশ ছাড় দেবে। লাওস বাণিজ্য সুবিধা দেবে ৯৯৯টি পণ্যে ২০ থেকে ৩৭ শতাংশ এবং মঙ্গোলিয়া ৩৩৩টি পণ্যে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ শুল্ক ছাড় দেবে।