ঢাকা ১২:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মৃত্যু নির্বাচনে ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় জাতিসংঘের সহায়তা চাইলেন মুহাম্মদ ইউনূস থাইল্যান্ডে চলন্ত ট্রেনের ওপর ভেঙে পড়ল ক্রেন, নিহত ২২ জাস্টিস ফর হাদি, ইনশাআল্লাহ : মির্জা ফখরুল আলমগীর টাকা খেয়ে ভোট দিলে নেতা এসে রাস্তা খেয়ে ফেলবে: আখতার হোসেন সুষ্ঠু নির্বাচনে জার্মানির সহায়তা চাইলেন জামায়াত আমির জাতীয় পতাকা হাতে প্যারাস্যুট জাম্প, গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে বাংলাদেশ বরেণ্য লোকসংগীতশিল্পী ও মুক্তিযুদ্ধের কণ্ঠযোদ্ধা মলয় কুমার মারা গেছেন ভবিষ্যৎ অর্থনীতির শক্ত ভিত্তি গড়ার দায়িত্ব সরকারের : আশিক মাহমুদ গণভোটে ‘হ্যাঁ’র পক্ষে বিএনপি : নজরুল ইসলাম খান

নড়িয়া নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর তিরস্কার, বিএনপির লজ্জার ‘বন্যা’

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

হাজারো খবরের মাঝে এখন শরিয়তপুরের নড়িয়ায় চলছে কেয়ামত! পূর্বপুরুষের ভিটেমাটি, ঘরবাড়ি নিমেষেই চলে যাচ্ছে পদ্মার পেটে। ফসলি জমির কথা না হয় বাদই দিলাম। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সর্বনাশা পদ্মার দিকে তাকিয়ে চোখের পানি ফেলা ছাড়া কিছু করার নেই অসহায় এই মানুষগুলোর!

গত কয়েকদিন ধরে ভাঙনের প্রকোপ বেশি হওয়ায় একদিনের ব্যবধানে সব সম্পদ হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছেন নড়িয়াবাসী। আমরা দূরে বসে আফসোস করা, দোয়া করা ছাড়া কিছু করতে পারিনি। আর গণমাধ্যমে যার যার মতো করে সংবাদ প্রকাশ করে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেছে।

কিন্তু যারা নির্বাচনে এখানকার ভোটারদের ভোট পেয়ে এমপি, মন্ত্রী হয়েছেন, ক্ষমতার বাইরে থাকলেও এসব মানুষকে পুঁজি করে রাজনীতি করা মানুষগুলোর ঘুম কি ভেঙেছে? ভাঙলেও কখন ভেঙেছে?

ক্ষমতাসীন দলের ঘুম ভাঙলো প্রধানমন্ত্রীর তিরস্কারের পর। আর বিএনপি ঘুম থেকে উঠছে একইদিন ১৮সেপ্টেম্বর রাত আটটায়! অথচ প্রতিদিন দু দলের নেতারা তুচ্ছ কারণেও একাধিকবার সংবাদ সম্মেলন, বক্তৃতা, পাল্টা বক্তব্য দিয়ে মুখে ফেনা তুলে ফেলেন।

দেখুন কখন মন্ত্রীদের ঘুম ভাঙলো! সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নড়িয়ায় এমন বিপর্যয় হলেও এতদিনে মন্ত্রী এবং দায়িত্বশীলরা সেখানে না যাওয়ার তিরস্কার করেন বলে গণমাধ্যমে খবর এসেছে। দ্রুত সেখানে গিয়ে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানা গেছে।

যদিও গত কয়েকদিন ধরে এসব মানুষের পাশে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা এনামুল হক শামীমকে দেখা গেছে। আর আজকে প্রধানমন্ত্রীর তিরস্কারে সদলবলে নড়িয়া গেলেন মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া। তিনি ছাড়াও ছিলেন ওখানকার এমপিসহ জনপ্রতিনিধিরা গেছেন। ত্রাণ দিলেন, আশ্বাস দিলেন। টিভিতে ছবি আসছে, পত্রিকায়ও ছাপা হয়েছে। অথচ একটাবার এই মানুষগুলো চিন্তা করলো না প্রধানমন্ত্রী বলার আগে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে না পারাটা তাদের জন্য লজ্জার বিষয় কি না?

আর বিএনপির জন্য লজ্জাটা একটু ভিন্নরকম বটে! দীর্ঘদিন ক্ষমতায় নেই যে কারণে এসব মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সক্ষমতা নেই বলতেই পারে। যদিও বিভিন্ন সময় এমন বিপর্যয়ে তারা চেষ্টা করেছে সহায়তা দিতে। কিন্তু এই দলটিও আওয়ামী লীগের মন্ত্রীদের ঘুম ভাঙার দিনে সজাগ হলো। বিবৃতি দিয়ে সরকার, নেতাকর্মী ও বিত্তবানদের সহায়তা দেয়ার আহ্বান জানালো।

লজ্জাটা এখানেও না। সারা দুনিয়ার মানুষ গণমাধ্যম এবং বাস্তবে যখন নদীভাঙনের কবলে পড়ে গৃহহীন হচ্ছে নড়িয়ার হাজার হাজার মানুষ, তখন ভয়াবহ বন্যার কবলে নড়িয়াবাসী বলে বিবৃতি দিলো দলটি। বিবৃতিতে বলা হয়, প্রবল গ্রামের পর গ্রাম বাড়িঘর, স্থাপনা পদ্মা নদীতে বিলীন হওয়ায় বন্যা উপদ্রুত মানুষ এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

আমজনতা হিসেবে আমার খটকা লাগলো, মানুষ দিশেহারা ঠিক কিন্তু বন্যার কারণে এ তথ্য কোথা থেকে পেলো বিএনপি! পুরো বিবৃতিতে সাত জায়গায় বন্যার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

বিবৃতি পড়ার পর থেকে মাথায় ঘুরতেছে একটা কথা- গত কয়েকদিন তাহলে কি আমরা ভুল জানতেছি না বিএনপি ভুল জানলো।

বিএনপির কারো না কারো নজরে নিশ্চয়ই লেখাটা পড়বে হয়ত। আমার জানায় ভুল হলে সংশোধনের সুযোগ দিবেন খুশি হবো। আর নদী ভাঙন আর বন্যা এক বিষয় হয়ে গেলেও বলবেন। যদি লেখা নাও পড়েন তাতেও জোর করবো না..

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নড়িয়া নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর তিরস্কার, বিএনপির লজ্জার ‘বন্যা’

আপডেট সময় ০২:৪৭:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

হাজারো খবরের মাঝে এখন শরিয়তপুরের নড়িয়ায় চলছে কেয়ামত! পূর্বপুরুষের ভিটেমাটি, ঘরবাড়ি নিমেষেই চলে যাচ্ছে পদ্মার পেটে। ফসলি জমির কথা না হয় বাদই দিলাম। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সর্বনাশা পদ্মার দিকে তাকিয়ে চোখের পানি ফেলা ছাড়া কিছু করার নেই অসহায় এই মানুষগুলোর!

গত কয়েকদিন ধরে ভাঙনের প্রকোপ বেশি হওয়ায় একদিনের ব্যবধানে সব সম্পদ হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছেন নড়িয়াবাসী। আমরা দূরে বসে আফসোস করা, দোয়া করা ছাড়া কিছু করতে পারিনি। আর গণমাধ্যমে যার যার মতো করে সংবাদ প্রকাশ করে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেছে।

কিন্তু যারা নির্বাচনে এখানকার ভোটারদের ভোট পেয়ে এমপি, মন্ত্রী হয়েছেন, ক্ষমতার বাইরে থাকলেও এসব মানুষকে পুঁজি করে রাজনীতি করা মানুষগুলোর ঘুম কি ভেঙেছে? ভাঙলেও কখন ভেঙেছে?

ক্ষমতাসীন দলের ঘুম ভাঙলো প্রধানমন্ত্রীর তিরস্কারের পর। আর বিএনপি ঘুম থেকে উঠছে একইদিন ১৮সেপ্টেম্বর রাত আটটায়! অথচ প্রতিদিন দু দলের নেতারা তুচ্ছ কারণেও একাধিকবার সংবাদ সম্মেলন, বক্তৃতা, পাল্টা বক্তব্য দিয়ে মুখে ফেনা তুলে ফেলেন।

দেখুন কখন মন্ত্রীদের ঘুম ভাঙলো! সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নড়িয়ায় এমন বিপর্যয় হলেও এতদিনে মন্ত্রী এবং দায়িত্বশীলরা সেখানে না যাওয়ার তিরস্কার করেন বলে গণমাধ্যমে খবর এসেছে। দ্রুত সেখানে গিয়ে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানা গেছে।

যদিও গত কয়েকদিন ধরে এসব মানুষের পাশে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা এনামুল হক শামীমকে দেখা গেছে। আর আজকে প্রধানমন্ত্রীর তিরস্কারে সদলবলে নড়িয়া গেলেন মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া। তিনি ছাড়াও ছিলেন ওখানকার এমপিসহ জনপ্রতিনিধিরা গেছেন। ত্রাণ দিলেন, আশ্বাস দিলেন। টিভিতে ছবি আসছে, পত্রিকায়ও ছাপা হয়েছে। অথচ একটাবার এই মানুষগুলো চিন্তা করলো না প্রধানমন্ত্রী বলার আগে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে না পারাটা তাদের জন্য লজ্জার বিষয় কি না?

আর বিএনপির জন্য লজ্জাটা একটু ভিন্নরকম বটে! দীর্ঘদিন ক্ষমতায় নেই যে কারণে এসব মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সক্ষমতা নেই বলতেই পারে। যদিও বিভিন্ন সময় এমন বিপর্যয়ে তারা চেষ্টা করেছে সহায়তা দিতে। কিন্তু এই দলটিও আওয়ামী লীগের মন্ত্রীদের ঘুম ভাঙার দিনে সজাগ হলো। বিবৃতি দিয়ে সরকার, নেতাকর্মী ও বিত্তবানদের সহায়তা দেয়ার আহ্বান জানালো।

লজ্জাটা এখানেও না। সারা দুনিয়ার মানুষ গণমাধ্যম এবং বাস্তবে যখন নদীভাঙনের কবলে পড়ে গৃহহীন হচ্ছে নড়িয়ার হাজার হাজার মানুষ, তখন ভয়াবহ বন্যার কবলে নড়িয়াবাসী বলে বিবৃতি দিলো দলটি। বিবৃতিতে বলা হয়, প্রবল গ্রামের পর গ্রাম বাড়িঘর, স্থাপনা পদ্মা নদীতে বিলীন হওয়ায় বন্যা উপদ্রুত মানুষ এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

আমজনতা হিসেবে আমার খটকা লাগলো, মানুষ দিশেহারা ঠিক কিন্তু বন্যার কারণে এ তথ্য কোথা থেকে পেলো বিএনপি! পুরো বিবৃতিতে সাত জায়গায় বন্যার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

বিবৃতি পড়ার পর থেকে মাথায় ঘুরতেছে একটা কথা- গত কয়েকদিন তাহলে কি আমরা ভুল জানতেছি না বিএনপি ভুল জানলো।

বিএনপির কারো না কারো নজরে নিশ্চয়ই লেখাটা পড়বে হয়ত। আমার জানায় ভুল হলে সংশোধনের সুযোগ দিবেন খুশি হবো। আর নদী ভাঙন আর বন্যা এক বিষয় হয়ে গেলেও বলবেন। যদি লেখা নাও পড়েন তাতেও জোর করবো না..