ঢাকা ০৪:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নিরাপত্তার চাদরে কক্সবাজার

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

পর্যটন নগরী কক্সবাজারের পর্যটন এলাকা ও শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট এখন সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় এসেছে। বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতে আসা-যাওয়ার রাস্তা থেকে শুরু করে শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে লাগানো হয়েছে অত্যাধুনিক সিসিটিভি ক্যামেরা।

দিনরাত ২৪ ঘণ্টা ধরে এসব ক্যামেরায় ধারণ করা হচ্ছে শহরের চলমান চিত্র। আর জেলা পুলিশ অফিসের সিসিটিভি ক্যামেরা কন্ট্রোলরুমে বসেই পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে পুরো শহরটি।

পর্যটন শহরটিকে অপরাধমুক্ত রাখতে কক্সবাজার জেলা পুলিশের এমন প্রশংসনীয় উদ্যোগটি শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে। কক্সবাজারের পুলিশ সুপার ড. এ কে এম ইকবাল হোসেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পক্ষে শনিবার দুপুরে সিসিটিভি কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করে বলেন, দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন শহরটিকে অপরাধমুক্ত করার স্বপ্ন বুনেছিলাম এখানে যোগদান করার পরই। সেই স্বপ্ন আজ পূরণ হলো।

পুলিশ সুপার বলেন, কক্সবাজারে প্রতিনিয়ত দেশ-বিদেশের ভ্রমণপিপাসু লোকজন বেড়াতে আসেন। এ কারণে এ শহরেই নানা অপরাধ কার্যক্রমে জড়িত লোকজনের তৎপরতাও থাকে বেশি। শহরের সাগরপাড় থেকে শুরু করে বাস টার্মিনাল, হোটেল-মোটেল জোন এবং কেনাকাটার মার্কেটগুলোতে ওত পেতে থাকে ছিনতাইকারীর দল।

তিনি বলেন, মাত্র দু’বছর আগেও ছিনতাইকারীদের ধরতে গিয়ে একজন পুলিশ সদস্য প্রকাশ্য দিবালোকে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে নিহত হন। অনুরূপ ছিনতাইকারীদের হাতে নিহত হন বেশ ক’জন পর্যটকও। নিত্যদিনের এসব অপরাধজনক ঘটনা নিয়ন্ত্রণের জন্য জেলা পুলিশ উপায় খুঁজছিলেন।

পুলিশ সুপার ড. এ কে এম ইকবাল হোসেন আরও বলেন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণের জন্য সিসিটিভি ক্যামেরায় শহর নিয়ন্ত্রণের মতো এক ব্যয়বহুল উদ্যোগ তিনি অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়েই কাঁধে নেন। শেষ পর্যন্ত এগিয়ে আসে জাতিসংঘের উদ্বাস্তু বিষয়ক হাইকমিশনও (ইউএনএইচসিআর), কক্সবাজারের ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন, কক্সবাজার পৌরসভা, হোটেল-মোটেল মালিক সমিতি থেকে শুরু করে শহরের ব্যবসায়ীরাও। ইউএনএইচসিআর ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে সিসিটিভি ক্যামেরা কন্ট্রোলরুমের অত্যাধুনিক বিশাল পর্দাটির (স্ক্রিন) ব্যবস্থা করে দেন।

জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) সাইফুল ইসলাম জানান, বর্তমানে শহরের গুরুত্বপূর্ণ ৪০টি পয়েন্টে ৬৭টি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। সাগরপাড়, বাস টার্মিনাল ও শহরের গেটওয়ে হিসেবে পরিচিত কলাতলি বঙ্গবন্ধু চত্বরসহ (ডলফিন পয়েন্ট) আরও কয়েকটি স্থানে বসানো ক্যামেরাগুলো রয়েছে প্রতিনিয়ত ঘূর্ণায়মান অবস্থায়।

এসব পয়েন্টগুলোর ২৪ ঘণ্টার চলমান ধারণ করা চিত্র পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে জেলা পুলিশ অফিসে স্থাপিত নিয়ন্ত্রণকক্ষে বসেই। চব্বিশ ঘণ্টায় পালাক্রমে সিসিটিভি নিয়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা নিয়োজিত রয়েছেন এসব চিত্র পর্যবেক্ষণের কাজে। দিনের বেলায় নিয়ন্ত্রণকক্ষে থাকেন নারী পুলিশ সদস্যরা আর রাতের বেলায় থাকেন পুরুষ সদস্যরা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য রাখেন কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা, কক্সবাজার পৌর মেয়র ও আওয়ামী লীগ সম্পাদক মুজিবুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা শাহ আলম, অ্যাভোকেট রনজিত দাশ, ইউএনএইচসিআর প্রতিনিধি, কক্সবাজার সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আবু তাহের চৌধুরী, হোটেল মোটেল মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার প্রমুখ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নিরাপত্তার চাদরে কক্সবাজার

আপডেট সময় ০৯:৪৫:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

পর্যটন নগরী কক্সবাজারের পর্যটন এলাকা ও শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট এখন সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় এসেছে। বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতে আসা-যাওয়ার রাস্তা থেকে শুরু করে শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে লাগানো হয়েছে অত্যাধুনিক সিসিটিভি ক্যামেরা।

দিনরাত ২৪ ঘণ্টা ধরে এসব ক্যামেরায় ধারণ করা হচ্ছে শহরের চলমান চিত্র। আর জেলা পুলিশ অফিসের সিসিটিভি ক্যামেরা কন্ট্রোলরুমে বসেই পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে পুরো শহরটি।

পর্যটন শহরটিকে অপরাধমুক্ত রাখতে কক্সবাজার জেলা পুলিশের এমন প্রশংসনীয় উদ্যোগটি শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে। কক্সবাজারের পুলিশ সুপার ড. এ কে এম ইকবাল হোসেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পক্ষে শনিবার দুপুরে সিসিটিভি কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করে বলেন, দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন শহরটিকে অপরাধমুক্ত করার স্বপ্ন বুনেছিলাম এখানে যোগদান করার পরই। সেই স্বপ্ন আজ পূরণ হলো।

পুলিশ সুপার বলেন, কক্সবাজারে প্রতিনিয়ত দেশ-বিদেশের ভ্রমণপিপাসু লোকজন বেড়াতে আসেন। এ কারণে এ শহরেই নানা অপরাধ কার্যক্রমে জড়িত লোকজনের তৎপরতাও থাকে বেশি। শহরের সাগরপাড় থেকে শুরু করে বাস টার্মিনাল, হোটেল-মোটেল জোন এবং কেনাকাটার মার্কেটগুলোতে ওত পেতে থাকে ছিনতাইকারীর দল।

তিনি বলেন, মাত্র দু’বছর আগেও ছিনতাইকারীদের ধরতে গিয়ে একজন পুলিশ সদস্য প্রকাশ্য দিবালোকে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে নিহত হন। অনুরূপ ছিনতাইকারীদের হাতে নিহত হন বেশ ক’জন পর্যটকও। নিত্যদিনের এসব অপরাধজনক ঘটনা নিয়ন্ত্রণের জন্য জেলা পুলিশ উপায় খুঁজছিলেন।

পুলিশ সুপার ড. এ কে এম ইকবাল হোসেন আরও বলেন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণের জন্য সিসিটিভি ক্যামেরায় শহর নিয়ন্ত্রণের মতো এক ব্যয়বহুল উদ্যোগ তিনি অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়েই কাঁধে নেন। শেষ পর্যন্ত এগিয়ে আসে জাতিসংঘের উদ্বাস্তু বিষয়ক হাইকমিশনও (ইউএনএইচসিআর), কক্সবাজারের ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন, কক্সবাজার পৌরসভা, হোটেল-মোটেল মালিক সমিতি থেকে শুরু করে শহরের ব্যবসায়ীরাও। ইউএনএইচসিআর ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে সিসিটিভি ক্যামেরা কন্ট্রোলরুমের অত্যাধুনিক বিশাল পর্দাটির (স্ক্রিন) ব্যবস্থা করে দেন।

জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) সাইফুল ইসলাম জানান, বর্তমানে শহরের গুরুত্বপূর্ণ ৪০টি পয়েন্টে ৬৭টি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। সাগরপাড়, বাস টার্মিনাল ও শহরের গেটওয়ে হিসেবে পরিচিত কলাতলি বঙ্গবন্ধু চত্বরসহ (ডলফিন পয়েন্ট) আরও কয়েকটি স্থানে বসানো ক্যামেরাগুলো রয়েছে প্রতিনিয়ত ঘূর্ণায়মান অবস্থায়।

এসব পয়েন্টগুলোর ২৪ ঘণ্টার চলমান ধারণ করা চিত্র পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে জেলা পুলিশ অফিসে স্থাপিত নিয়ন্ত্রণকক্ষে বসেই। চব্বিশ ঘণ্টায় পালাক্রমে সিসিটিভি নিয়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা নিয়োজিত রয়েছেন এসব চিত্র পর্যবেক্ষণের কাজে। দিনের বেলায় নিয়ন্ত্রণকক্ষে থাকেন নারী পুলিশ সদস্যরা আর রাতের বেলায় থাকেন পুরুষ সদস্যরা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য রাখেন কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা, কক্সবাজার পৌর মেয়র ও আওয়ামী লীগ সম্পাদক মুজিবুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা শাহ আলম, অ্যাভোকেট রনজিত দাশ, ইউএনএইচসিআর প্রতিনিধি, কক্সবাজার সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আবু তাহের চৌধুরী, হোটেল মোটেল মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার প্রমুখ।