ঢাকা ১১:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চাইলে এক দিনেই ইরানকে ধ্বংস করতে পারি: ট্রাম্প জাতীয় সংসদে এক অধিবেশনে এত বেশি বিল পাসের নজির নেই: চিফ হুইপ বিএনপি ‘আত্মঘাতী’ রাজনীতি করছে: মামুনুল হক জুলাই সনদ সরকার ও বিরোধী দলকে মুখোমুখি পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে :পার্থ সনদ বাস্তবায়ন না হলে রাজপথে নামার হুঁশিয়ার শহীদ পরিবার ও জুলাইযোদ্ধার শান্তি আলোচনা ভেস্তে গেলে ‘প্রত্যেক দেশই ক্ষতিগ্রস্ত’ হবে: শামা ওবায়েদ ইরানকে ‘উপযুক্ত সময়ে’ ধ্বংসের হুমকি ট্রাম্পের বিএনপি নেতাকর্মীদের প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করার নির্দেশনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাংয়ের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ‘অ্যালেক্স ইমন’ নিহত তুরস্কের কাছে ‘সবচেয়ে সুন্দরী নারী’ চেয়ে উগান্ডার সেনাপ্রধানের হুঁশিয়ারি!

১৮ ছাত্র-শিক্ষক মিলে ধর্ষণ এক ছাত্রীকে

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

ভারতে ধর্ষণের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়ে চলেছে। প্রতিদিনই দেশটিতে ধর্ষণের অনেক ভয়ানক ঘটনা সামনে আসছে। তবে এবার যে ঘটনা সামনে এসেছে তাতে হতবাক সবাই। বিহার রাজ্যের নবম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীসহ মোট ১৮জন মিলে ধর্ষণ করেছে।

মেয়েটিকে ধর্ষণের তালিকায় রয়েছে স্কুলটির প্রধান শিক্ষক, অন্য দুই শিক্ষক এবং ১৫ জন সহপাঠী। ছাত্রীটির বাবা জেলে ছিলেন। সেই সুযোগ নিয়ে নবম শ্রেণির ওই ছাত্রীকে গত সাত মাস ধরে লাগাতার গণধর্ষণ করেছেন তারা। বিহারের সারন জেলার পারসাগড় গ্রামের একটি বেসরকারি স্কুলের ঘটনা এটি। খবর আনন্দবাজারের।

বছর তেরোর ওই ছাত্রী এই ঘটনায় জড়িত মোট ১৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে। তার অভিযোগের ভিত্তিতে প্রধান শিক্ষক উদয় কুমার ওরফে মুকুন্দ সিংহ ও দুই শিক্ষককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আটক করা হয়েছে দুই নাবালক ছাত্রকে। বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।

ঘটনার সূত্রপাত ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে। ছাত্রীর অভিযোগ, সে মাসেই তিন ছাত্র মিলে স্কুলের ল্যাবরেটরিতে তাকে গণধর্ষণ করে। শুধু তাই নয়, ধর্ষণের ভিডিও করে ছাত্ররা। স্কুল বা বাড়ির কাউকে জানালে সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছেড়ে দেবে বলেও হুমকি দেয় তারা। এখানেই থেমে থাকেনি ওই ছাত্রেরা। ভিডিওটি স্কুলের অন্য ছাত্রদের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়। ওই তিন ছাত্রের সঙ্গে আরও ১২ জন ছাত্র যোগ দেয়। ক্রমে সেই ভিডিও স্কুলের শিক্ষকদের হাতে গিয়ে পড়ে। শুধু সহপাঠী ছাত্ররাই নয়, ভিডিও হাতে পাওয়ার পরই ভয় দেখিয়ে দিনের পর দিন ধর্ষণ করতে থাকেন দুই শিক্ষক।

বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ জানাতে স্কুলের প্রধান শিক্ষকের দ্বারস্থ হয়েছিল ছাত্রীটি। অভিযোগ, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া তো দূরে থাক, উল্টে তিনি নিজেই ছাত্রীটিকে ধর্ষণ করেন। এইভাবে বাড়তে বাড়তে সংখ্যাটা এক সময় ১৮তে গিয়ে দাঁড়ায়। সাত মাস ধরে লাগাতার ধর্ষণ করতে থাকে স্কুলের অধ্যক্ষ, দুই শিক্ষকসহ ১৮ জন।

পুলিশ জানিয়েছে, বাবা জেল খাটার কারণে ভয়ে, আতঙ্কে ঘটনাটা কাউকে জানানোর সাহস পায়নি ওই ছাত্রী। বাবা জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরই তাকে গোটা ঘটনাটি জানায় সে। এরপরই মেয়েকে নিয়ে ওই ব্যক্তি পুলিশের দ্বারস্থ হন। পারসাগড়ে একমা থানায় ১৮ জনের বিরুদ্ধে গণধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করে ওই ছাত্রী।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ পাওয়া মাত্রই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। গ্রেপ্তার করা হয় স্কুলের অধ্যক্ষ এবং দুই শিক্ষককে। আটক করা হয় দুই ছাত্রকে। মহিলা থানায় ছাত্রীটির গোপন জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। তদন্তের জন্য একটি মেডিক্যাল বোর্ড করা হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

চাইলে এক দিনেই ইরানকে ধ্বংস করতে পারি: ট্রাম্প

১৮ ছাত্র-শিক্ষক মিলে ধর্ষণ এক ছাত্রীকে

আপডেট সময় ০২:১৪:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ জুলাই ২০১৮

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

ভারতে ধর্ষণের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়ে চলেছে। প্রতিদিনই দেশটিতে ধর্ষণের অনেক ভয়ানক ঘটনা সামনে আসছে। তবে এবার যে ঘটনা সামনে এসেছে তাতে হতবাক সবাই। বিহার রাজ্যের নবম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীসহ মোট ১৮জন মিলে ধর্ষণ করেছে।

মেয়েটিকে ধর্ষণের তালিকায় রয়েছে স্কুলটির প্রধান শিক্ষক, অন্য দুই শিক্ষক এবং ১৫ জন সহপাঠী। ছাত্রীটির বাবা জেলে ছিলেন। সেই সুযোগ নিয়ে নবম শ্রেণির ওই ছাত্রীকে গত সাত মাস ধরে লাগাতার গণধর্ষণ করেছেন তারা। বিহারের সারন জেলার পারসাগড় গ্রামের একটি বেসরকারি স্কুলের ঘটনা এটি। খবর আনন্দবাজারের।

বছর তেরোর ওই ছাত্রী এই ঘটনায় জড়িত মোট ১৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে। তার অভিযোগের ভিত্তিতে প্রধান শিক্ষক উদয় কুমার ওরফে মুকুন্দ সিংহ ও দুই শিক্ষককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আটক করা হয়েছে দুই নাবালক ছাত্রকে। বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।

ঘটনার সূত্রপাত ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে। ছাত্রীর অভিযোগ, সে মাসেই তিন ছাত্র মিলে স্কুলের ল্যাবরেটরিতে তাকে গণধর্ষণ করে। শুধু তাই নয়, ধর্ষণের ভিডিও করে ছাত্ররা। স্কুল বা বাড়ির কাউকে জানালে সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছেড়ে দেবে বলেও হুমকি দেয় তারা। এখানেই থেমে থাকেনি ওই ছাত্রেরা। ভিডিওটি স্কুলের অন্য ছাত্রদের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়। ওই তিন ছাত্রের সঙ্গে আরও ১২ জন ছাত্র যোগ দেয়। ক্রমে সেই ভিডিও স্কুলের শিক্ষকদের হাতে গিয়ে পড়ে। শুধু সহপাঠী ছাত্ররাই নয়, ভিডিও হাতে পাওয়ার পরই ভয় দেখিয়ে দিনের পর দিন ধর্ষণ করতে থাকেন দুই শিক্ষক।

বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ জানাতে স্কুলের প্রধান শিক্ষকের দ্বারস্থ হয়েছিল ছাত্রীটি। অভিযোগ, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া তো দূরে থাক, উল্টে তিনি নিজেই ছাত্রীটিকে ধর্ষণ করেন। এইভাবে বাড়তে বাড়তে সংখ্যাটা এক সময় ১৮তে গিয়ে দাঁড়ায়। সাত মাস ধরে লাগাতার ধর্ষণ করতে থাকে স্কুলের অধ্যক্ষ, দুই শিক্ষকসহ ১৮ জন।

পুলিশ জানিয়েছে, বাবা জেল খাটার কারণে ভয়ে, আতঙ্কে ঘটনাটা কাউকে জানানোর সাহস পায়নি ওই ছাত্রী। বাবা জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরই তাকে গোটা ঘটনাটি জানায় সে। এরপরই মেয়েকে নিয়ে ওই ব্যক্তি পুলিশের দ্বারস্থ হন। পারসাগড়ে একমা থানায় ১৮ জনের বিরুদ্ধে গণধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করে ওই ছাত্রী।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ পাওয়া মাত্রই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। গ্রেপ্তার করা হয় স্কুলের অধ্যক্ষ এবং দুই শিক্ষককে। আটক করা হয় দুই ছাত্রকে। মহিলা থানায় ছাত্রীটির গোপন জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। তদন্তের জন্য একটি মেডিক্যাল বোর্ড করা হয়েছে।