ঢাকা ০৪:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মূল‍্যস্ফীতি কমিয়ে আনতে কৃষি উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে : রিজভী বিরোধী দলে থেকে কানাকড়িও পাইনি, জেলে গেছি পাঁচবার: স্পিকার বিরোধী দলীয় এমপিদের আসনে প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থে‌কে ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ ভারতে গরুর মাংস রান্না করায় ৩ নারী গ্রেফতার ময়লার স্তূপে মিলল যুবকের মরদেহ, এক পা ভাঙা; শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ৩ কোটি টাকা দিলেন নেইমার দিল্লি থেকে শেখ হাসিনার দেশে ফিরতে চাওয়া স্ট্যান্টবাজি : চিফ প্রসিকিউটর ইরান যুদ্ধের কোনো লক্ষ্যই অর্জন করতে পারেননি ট্রাম্প: নিউজার্সির গভর্নর প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ দিলেন বিরোধীদলের নেতা এবারের বাজেট হবে সুন্দর, স্বাভাবিক ও বাস্তবমুখী: প্রধানমন্ত্রী

উদ্বোধনী মাঠেই নিহত হয় ৬৬ জন ফুটবল দর্শক

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক:

শুরু হলো ফুটবলের বিশ্বযুদ্ধ৷ আলো ঝলমলে লুজনিকি স্টেডিয়ামে শুরুতেই মাঠে নামে উদ্বোধনী রাশিয়া ও সৌদি আরব৷ উদ্বোধনের মঞ্চে সেই ম্যাচ দেখেন ৮০ হাজার দর্শক৷ টানটান ৯০ নব্বই মিনিটের শেষে কেউ কেউ হইহই করতে করতে বাড়ির পথ ধরে৷ আবারও কারও কারও সম্বল হয় শুধুই চোখের পানি৷

কিন্তু মস্কো শহরের এই গ্র্যান্ড স্পোর্টস এরিনায় এমন একদিন গিয়েছে, যেদিন মাঠ থেকে কেউই হাসিমুখে বের হতে পারেননি৷ বরং কেউ কেউ কোনো মতে বাড়ি ফিরেছিলেন৷ কারো আবার ঠাঁই হয়েছিল হাসপাতালে৷ আর ৬৬ জন মাঠ থেকে আর বেঁচে ফিরতে পারেননি৷ চলে গিয়েছিলেন চিরঘুমে৷

এই ঘটনা ১৯৮২ সালের৷ সেদিন লুজনিকি স্টেডিয়ামে উয়েফা কাপের দ্বিতীয় রাউন্ডের একটি ম্যাচ ছিল৷ রাশিয়ার এফসি স্পার্টাক সেদিন খেলতে নেমেছিল ডাচ ক্লাব এইচএফসি হারলেমের বিরুদ্ধে৷

ম্যাচ যখন একেবারে শেষের পথে তখন গ্যালারি ছাড়তে শুরু করেন দর্শকরা৷ বাড়ি ফেরার জন্য মেট্রো ধরতে ম্যাচ শেষের আগেই দর্শকদের একাংশ স্টেডিয়াম ছাড়তে শুরু করছিলেন৷ তাতেই সমস্যা তৈরি হয়৷ শুরু হয়ে যায় হুড়োহুড়ি৷ মাঠে তখন বরফ পড়ছিল৷ সিঁড়িতে সেই বরফে পা পিছলে একজন পড়ে যান৷ এরপরই পা পিছলে পড়তে থাকেন অনেকেই। হুড়োহুড়িতে অনেকে পদপিষ্ট হন৷ বহু দর্শক আহত হন৷ মৃত্যু হয় ৬৬ জন ফুটবল ভক্তের৷

লুজনিকি স্টেডিয়াম উদ্বোধনের আনন্দে মাতলেও সেদিনের সেই আতঙ্কের স্মৃতি এখনও তরতাজা অনেকের কাছে৷ যদিও এই স্টেডিয়ামের সঙ্গে রাশিয়ার ঐতিহ্যও জড়িয়ে রয়েছে৷ ১৯৫৬ সালের ৩১ জুলাই এই স্টেডিয়ামের যাত্রা শুরু৷ তার আগে ১৯৫৫ থেকে ৫৬ সালের মধ্যে টানা সাড়ে চারশো দিন ধরে এই স্টেডিয়াম তৈরি হয়৷

১৯৫২ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী পরিস্থিতিতে অলিম্পিকে ভালো ফল করেছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন৷ তার পরই এই স্টেডিয়াম তৈরির পরিকল্পনা নেয়া হয়৷ এর পর মস্কোতে গড়ে ওঠে একটি গ্র্যান্ড স্পোর্টস এরিনা৷ তার ঠিক মধ্যস্থলে এই স্টেডিয়াম অবস্থিত৷ গোড়ার দিকে এটার নাম ছিল সেন্ট্রাল লেনিন স্টেডিয়াম৷

১৯৮০ সালে এই স্টেডিয়ামেই শুরু হয়েছিল মস্কো অলিম্পিক৷ শেষও হয়েছিল এখানে৷ এবারও তাই৷ উদ্বোধনী ম্যাচের মতো এখানেই এবারের বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ হবে৷ এছাড়া একটি সেমিফাইনাল, একটি প্রিকোয়ার্টার ফাইনাল ও তিনটি গ্রুপ লিগের ম্যাচ হবে এই লুজনিকি স্টেডিয়ামে৷

২০১৩ সালের মে মাসে এখানে শেষ ফুটবল ম্যাচটি হয়েছিল৷ তার পর আগস্টে আইএএএফ অ্যাথলেটিক ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ অনুষ্ঠিত হয়৷ এর পর শুরু হয় বিশ্বকাপের জন্য স্টেডিয়াম সাজানোর কাজ৷

২০১৭ সালে শেষ হয় সেই কাজ৷ নতুন ভাবে গড়ে ওঠা স্টেডিয়ামে প্রথম ম্যাচ হয় ওই বছরের ১১ নভেম্বর৷ সেটা একটা ফ্রেন্ডলি ম্যাচ ছিল৷ সেই ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল আর্জেন্টিনা ও রাশিয়া৷

এখন ৮০ হাজার লোক ওই স্টেডিয়ামে বসে খেলা দেখতে পারছেন৷ তবে আগে এক সঙ্গে ১ লক্ষ লোক বসে খেলা দেখতে পারতেন৷ কিন্তু ১৯৯০ সালের পর স্টেডিয়াম পুনর্গঠন করে আসন সংখ্যা কমানো হয়৷

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মূল‍্যস্ফীতি কমিয়ে আনতে কৃষি উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে : রিজভী

উদ্বোধনী মাঠেই নিহত হয় ৬৬ জন ফুটবল দর্শক

আপডেট সময় ০৮:০৬:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ জুন ২০১৮

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক:

শুরু হলো ফুটবলের বিশ্বযুদ্ধ৷ আলো ঝলমলে লুজনিকি স্টেডিয়ামে শুরুতেই মাঠে নামে উদ্বোধনী রাশিয়া ও সৌদি আরব৷ উদ্বোধনের মঞ্চে সেই ম্যাচ দেখেন ৮০ হাজার দর্শক৷ টানটান ৯০ নব্বই মিনিটের শেষে কেউ কেউ হইহই করতে করতে বাড়ির পথ ধরে৷ আবারও কারও কারও সম্বল হয় শুধুই চোখের পানি৷

কিন্তু মস্কো শহরের এই গ্র্যান্ড স্পোর্টস এরিনায় এমন একদিন গিয়েছে, যেদিন মাঠ থেকে কেউই হাসিমুখে বের হতে পারেননি৷ বরং কেউ কেউ কোনো মতে বাড়ি ফিরেছিলেন৷ কারো আবার ঠাঁই হয়েছিল হাসপাতালে৷ আর ৬৬ জন মাঠ থেকে আর বেঁচে ফিরতে পারেননি৷ চলে গিয়েছিলেন চিরঘুমে৷

এই ঘটনা ১৯৮২ সালের৷ সেদিন লুজনিকি স্টেডিয়ামে উয়েফা কাপের দ্বিতীয় রাউন্ডের একটি ম্যাচ ছিল৷ রাশিয়ার এফসি স্পার্টাক সেদিন খেলতে নেমেছিল ডাচ ক্লাব এইচএফসি হারলেমের বিরুদ্ধে৷

ম্যাচ যখন একেবারে শেষের পথে তখন গ্যালারি ছাড়তে শুরু করেন দর্শকরা৷ বাড়ি ফেরার জন্য মেট্রো ধরতে ম্যাচ শেষের আগেই দর্শকদের একাংশ স্টেডিয়াম ছাড়তে শুরু করছিলেন৷ তাতেই সমস্যা তৈরি হয়৷ শুরু হয়ে যায় হুড়োহুড়ি৷ মাঠে তখন বরফ পড়ছিল৷ সিঁড়িতে সেই বরফে পা পিছলে একজন পড়ে যান৷ এরপরই পা পিছলে পড়তে থাকেন অনেকেই। হুড়োহুড়িতে অনেকে পদপিষ্ট হন৷ বহু দর্শক আহত হন৷ মৃত্যু হয় ৬৬ জন ফুটবল ভক্তের৷

লুজনিকি স্টেডিয়াম উদ্বোধনের আনন্দে মাতলেও সেদিনের সেই আতঙ্কের স্মৃতি এখনও তরতাজা অনেকের কাছে৷ যদিও এই স্টেডিয়ামের সঙ্গে রাশিয়ার ঐতিহ্যও জড়িয়ে রয়েছে৷ ১৯৫৬ সালের ৩১ জুলাই এই স্টেডিয়ামের যাত্রা শুরু৷ তার আগে ১৯৫৫ থেকে ৫৬ সালের মধ্যে টানা সাড়ে চারশো দিন ধরে এই স্টেডিয়াম তৈরি হয়৷

১৯৫২ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী পরিস্থিতিতে অলিম্পিকে ভালো ফল করেছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন৷ তার পরই এই স্টেডিয়াম তৈরির পরিকল্পনা নেয়া হয়৷ এর পর মস্কোতে গড়ে ওঠে একটি গ্র্যান্ড স্পোর্টস এরিনা৷ তার ঠিক মধ্যস্থলে এই স্টেডিয়াম অবস্থিত৷ গোড়ার দিকে এটার নাম ছিল সেন্ট্রাল লেনিন স্টেডিয়াম৷

১৯৮০ সালে এই স্টেডিয়ামেই শুরু হয়েছিল মস্কো অলিম্পিক৷ শেষও হয়েছিল এখানে৷ এবারও তাই৷ উদ্বোধনী ম্যাচের মতো এখানেই এবারের বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ হবে৷ এছাড়া একটি সেমিফাইনাল, একটি প্রিকোয়ার্টার ফাইনাল ও তিনটি গ্রুপ লিগের ম্যাচ হবে এই লুজনিকি স্টেডিয়ামে৷

২০১৩ সালের মে মাসে এখানে শেষ ফুটবল ম্যাচটি হয়েছিল৷ তার পর আগস্টে আইএএএফ অ্যাথলেটিক ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ অনুষ্ঠিত হয়৷ এর পর শুরু হয় বিশ্বকাপের জন্য স্টেডিয়াম সাজানোর কাজ৷

২০১৭ সালে শেষ হয় সেই কাজ৷ নতুন ভাবে গড়ে ওঠা স্টেডিয়ামে প্রথম ম্যাচ হয় ওই বছরের ১১ নভেম্বর৷ সেটা একটা ফ্রেন্ডলি ম্যাচ ছিল৷ সেই ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল আর্জেন্টিনা ও রাশিয়া৷

এখন ৮০ হাজার লোক ওই স্টেডিয়ামে বসে খেলা দেখতে পারছেন৷ তবে আগে এক সঙ্গে ১ লক্ষ লোক বসে খেলা দেখতে পারতেন৷ কিন্তু ১৯৯০ সালের পর স্টেডিয়াম পুনর্গঠন করে আসন সংখ্যা কমানো হয়৷