ঢাকা ০৯:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে সব ধরনের সংগঠনের নির্বাচন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে ইসি এমপি যদি সৎ হন, ঠিকাদারের বাপের সাধ্য নেই চুরি করার: রুমিন ফারহানা ‘ধর্মের নামে ব্যবসা করে যারা নির্বাচনে জিততে চায়, তারা এ দেশে আর কখনো গ্রহণযোগ্যতা পাবে না’:ফারুক পার্থকে ছেড়ে দিলেন বিএনপির প্রার্থী গোলাম নবী গণহত্যার বিচারে ধরনের কম্প্রোমাইজ নয়: প্রসিকিউটর তামিম স্ত্রীর কোনো স্বর্ণ নেই, তাহেরির আছে ৩১ ভরি স্বর্ণ নির্বাচনে ভোট ডাকাতি যেন আর কখনো না ঘটে, সে ব্যবস্থা করতে হবে : প্রধান উপদেষ্টা ইরানে অর্ধশতাধিক মসজিদ-১৮০ অ্যাম্বুলেন্সে আগুন দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা নির্বাচনে ৩০ আসনে লড়বে এনসিপি: আসিফ মাহমুদ নির্বাচন বানচালে দেশবিরোধী শক্তি অপচেষ্টা ও সহিংসতা চালাচ্ছে : মির্জা আব্বাস

মনে হল কোনো কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে ঢুকে পড়েছি: আসিফ

আকাশ বিনোদন ডেস্ক:

তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) আইনে করা মামলায় কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবর জামিন পেয়েছেন গত সোমবার। জেল থেকে বেরিয়ে তার ভক্ত-অনুরাগীদের জন্য জেলখানার স্মৃতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লিখছেন নিয়মিত।

এর আগের ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি নিজেকে একজন বাবা-মা হারা এতিম সন্তানের সঙ্গে তুলনা করেছেন। বৃহস্পতিবারের স্ট্যাটাসে তিনি আটক হওয়ার পর কারাগারে যাওয়া ও কয়েদিদের ভালোবাসা পাওয়ার অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন।

তার ফেসবুক স্ট্যাটাসটি দৈনিক আকাশ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হল-

চোখেমুখে বিরক্তি নিয়ে রেডি হলাম। শুধু দাঁত ব্রাশ আর মাথায় তেল-পানি দিয়েছি। লুঙ্গি-স্যান্ডেল সু আর গোল গলার টি-শার্ট পরা আমি ২৫০২৭।

সকালের ঝাঁজালো রোদ স্বল্প ঘুমের চোখ দুটোকে মুক্তি দেয়নি। লাইনে দাঁড়ানো থেকে বেঁচে গেলাম। আমদানিতে নতুন কয়েদিরা বসে আছে। মনে হল কোনো কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে ঢুকে পড়েছি।

রাত জাগা সাধারণ কয়েদিরা সিরিয়াল মেনে বসে আছে। একটু শঙ্কা জাগলো। আমাকেও কি এভাবে হাঁটু ভেঙে বসতে হবে? নাহ… বেঁচে গেলাম। যথাবিহিত সম্মান জানিয়ে শাওন আমাকে নিয়ে গেল রেজিস্ট্রি বইটার কাছে। শুধু সাইন করেই মুক্তি পেলাম।

রাইটার ছেলেটা শুধু বলল- কষ্ট করে কেন এসেছেন!! বেশি কথা না বলার সিদ্ধান্ত যেহেতু নিয়েছি, তাই বললাম- নিয়ম ঠিক রাখতে এসেছি, ছবি কখন তুলবেন?

বলল- ভাই সাড়ে ১০টায়। আমি জিজ্ঞেস করলাম- তা হলে কি অপেক্ষা করব? আশ্বস্ত হলাম। ওরা বলল আপনি বিশ্রাম করুন, আমরা সাড়ে ১০টায় ক্যামেরা নিয়ে আসব।

চান্স পেয়েই বলে ফেললাম- ভাই সাড়ে ১১টায় আসেন, একটু ঘুমাব। প্রত্যুত্তর –সমস্যা নাই, কেবিনে গিয়ে শুয়ে পড়লাম। তার পর থেকেই বিভিন্ন সেলের কয়েদিরা আমার রুমে ঢুকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে জিজ্ঞেস করা শুরু করল- কেমন আছি!!

এমনিতেই প্যাঁচে আছি। শুস্ক হাসি দিয়ে বলেছি- ভালো আছি, একটু ঘুমাতে চাই ভাই। লাভ হল না…। এর মধ্যে আমার কেবিনমেটরা কড়াকড়ি স্থাপন করলেন, আর কেউ ঘুম ভাঙাতে পারেনি অন্তত এক ঘণ্টার জন্য।

যারা আমাকে চেনেন না, এই মানুষগুলো আমার ঘুমের সুযোগ করে দিলেন কোন সম্পর্কের অধিকারে!! আসলেই উনারা কি ভয়ঙ্কর আসামি!!

ভয়ঙ্কর ব্যাপারটা আসলে কি? আমি অবুঝ হিসেবেই নিজেকে বোঝাতে পেরেছি- ওরাই আমার বন্ধু, কারাবন্ধু। কোনো লেনদেন ছাড়াই ভালোবেসে ঋণী করে রেখেছেন…

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে সব ধরনের সংগঠনের নির্বাচন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে ইসি

মনে হল কোনো কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে ঢুকে পড়েছি: আসিফ

আপডেট সময় ১২:৪০:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ জুন ২০১৮

আকাশ বিনোদন ডেস্ক:

তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) আইনে করা মামলায় কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবর জামিন পেয়েছেন গত সোমবার। জেল থেকে বেরিয়ে তার ভক্ত-অনুরাগীদের জন্য জেলখানার স্মৃতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লিখছেন নিয়মিত।

এর আগের ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি নিজেকে একজন বাবা-মা হারা এতিম সন্তানের সঙ্গে তুলনা করেছেন। বৃহস্পতিবারের স্ট্যাটাসে তিনি আটক হওয়ার পর কারাগারে যাওয়া ও কয়েদিদের ভালোবাসা পাওয়ার অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন।

তার ফেসবুক স্ট্যাটাসটি দৈনিক আকাশ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হল-

চোখেমুখে বিরক্তি নিয়ে রেডি হলাম। শুধু দাঁত ব্রাশ আর মাথায় তেল-পানি দিয়েছি। লুঙ্গি-স্যান্ডেল সু আর গোল গলার টি-শার্ট পরা আমি ২৫০২৭।

সকালের ঝাঁজালো রোদ স্বল্প ঘুমের চোখ দুটোকে মুক্তি দেয়নি। লাইনে দাঁড়ানো থেকে বেঁচে গেলাম। আমদানিতে নতুন কয়েদিরা বসে আছে। মনে হল কোনো কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে ঢুকে পড়েছি।

রাত জাগা সাধারণ কয়েদিরা সিরিয়াল মেনে বসে আছে। একটু শঙ্কা জাগলো। আমাকেও কি এভাবে হাঁটু ভেঙে বসতে হবে? নাহ… বেঁচে গেলাম। যথাবিহিত সম্মান জানিয়ে শাওন আমাকে নিয়ে গেল রেজিস্ট্রি বইটার কাছে। শুধু সাইন করেই মুক্তি পেলাম।

রাইটার ছেলেটা শুধু বলল- কষ্ট করে কেন এসেছেন!! বেশি কথা না বলার সিদ্ধান্ত যেহেতু নিয়েছি, তাই বললাম- নিয়ম ঠিক রাখতে এসেছি, ছবি কখন তুলবেন?

বলল- ভাই সাড়ে ১০টায়। আমি জিজ্ঞেস করলাম- তা হলে কি অপেক্ষা করব? আশ্বস্ত হলাম। ওরা বলল আপনি বিশ্রাম করুন, আমরা সাড়ে ১০টায় ক্যামেরা নিয়ে আসব।

চান্স পেয়েই বলে ফেললাম- ভাই সাড়ে ১১টায় আসেন, একটু ঘুমাব। প্রত্যুত্তর –সমস্যা নাই, কেবিনে গিয়ে শুয়ে পড়লাম। তার পর থেকেই বিভিন্ন সেলের কয়েদিরা আমার রুমে ঢুকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে জিজ্ঞেস করা শুরু করল- কেমন আছি!!

এমনিতেই প্যাঁচে আছি। শুস্ক হাসি দিয়ে বলেছি- ভালো আছি, একটু ঘুমাতে চাই ভাই। লাভ হল না…। এর মধ্যে আমার কেবিনমেটরা কড়াকড়ি স্থাপন করলেন, আর কেউ ঘুম ভাঙাতে পারেনি অন্তত এক ঘণ্টার জন্য।

যারা আমাকে চেনেন না, এই মানুষগুলো আমার ঘুমের সুযোগ করে দিলেন কোন সম্পর্কের অধিকারে!! আসলেই উনারা কি ভয়ঙ্কর আসামি!!

ভয়ঙ্কর ব্যাপারটা আসলে কি? আমি অবুঝ হিসেবেই নিজেকে বোঝাতে পেরেছি- ওরাই আমার বন্ধু, কারাবন্ধু। কোনো লেনদেন ছাড়াই ভালোবেসে ঋণী করে রেখেছেন…