ঢাকা ১১:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬, ১৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বাজেটে দুর্নীতি ও লুটপাটের ধারা অব্যাহত রাখা হয়েছে: সাকি

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সদ্য ঘোষিত বাজেটে দুর্নীতি ও লুটপাটের ধারা অব্যাহত রাখা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি। তার মতে বাজেটে দেশের অর্থনীতিকে মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী সংকটের দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে।

রবিবার রাজধানীর হাতিরপুলে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত ২০১৮-১৯ সালের প্রস্তাবিত বাজেট প্রতিক্রিয়ায় তিনি এসব কথা বলেন।

জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘একটা বাজেটে সরকারের সামগ্রিক পরিকল্পনা ও নীতির প্রতিফলন থাকে। সেদিক থেকে এই সরকারের নীতি ও পরিকল্পনার ছাপও এই বাজেটে আছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ইত্যাদি বিষয়ে ধারাবাহিক ও গুণগত পরিবর্তনের কোনো উদ্যোগ নেই। সাইকেলে কর বাড়িয়ে হাইব্রিড গাড়িতে কর হ্রাস ইত্যাদি যে দেশ নিয়ে সরকারের কোনো দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নেই তারই উদাহরণ।’

সাকি বলেন, ‘সরকারসত্যি ভোট করতে চাইলে জনগণের ওপর অতিরিক্ত করের বোঝা না চাপিয়ে বরং অর্থনৈতিক অভিঘাত থেকে তাদের রক্ষার চেষ্টা করতে উদ্যোগ নিত। কিন্তু তার বিপরীতে লুটপাটের মাধ্যমে জনগণের অর্থ লোপাট ও ক্ষমতা নিয়ন্ত্রকদের নানা সুবিধা দেবার তাৎপর্যই লক্ষ্য করছি।’

সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গণসংহতি আন্দোলনের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল।

মূল প্রবন্ধে বলা হয়, ‘সরকার ধনী-গরিব সবার জন্য প্রযোজ্য ভ্যাট আহরণে যতটা উদ্যোগী, মধ্যবিত্ত আর উচ্চবিত্তের কাছ থেকে আয় ও মুনাফার কর আহরণে ততটা আগ্রহী নয়। সরকারের কর এবং ভ্যাট আহরণের সক্ষমতা বৃদ্ধির এমন কোনো নমুনা দেখা যাচ্ছে না যাতে বলা যায় যে, তারা এমন নাটকীয় মাত্রায় আহরণ বাড়াতে সক্ষম হবে। বাজেটের আকার সময়ের সঙ্গে যেভাবে বাড়াতে হয়েছে, সেভাবে সরকারের কর-বহির্ভূত আয় বাড়েনি। তাই করের পরিমাণ অসমানুপাতিক হারে বাড়াতে হয়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন গণসংহতি আন্দোলনের রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য ফিরোজ আহমেদ, তসলিমা আখতার ও কেন্দ্রীয় সংগঠক আব্দুল্লাহ নাদভীসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।

রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য তসলিমা আখতার বলেন, ‘গার্মেন্টস শ্রমিকদের জীবনযাত্রার সঙ্গে তাল রেখে তাদের বেতন বাড়ছে না। অথচ প্রবাসী শ্রমিক ও গার্মেন্টস শ্রমিকরাই এদেশের অর্থনীতিকে টিকিয়ে রেখেছে। তাদের অবদান ছাড়া দেশের অর্থনীতি ধসে পড়ত।’

এছাড়াও সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, কেন্দ্রীয় নেতা বাচ্চু ভূঁইয়া, আবু বকর রিপন, অপরাজিতা চন্দ, জান্নাতুল মরিয়ম, দীপক রায়সহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাজেটে দুর্নীতি ও লুটপাটের ধারা অব্যাহত রাখা হয়েছে: সাকি

আপডেট সময় ০৬:১৮:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ জুন ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সদ্য ঘোষিত বাজেটে দুর্নীতি ও লুটপাটের ধারা অব্যাহত রাখা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি। তার মতে বাজেটে দেশের অর্থনীতিকে মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী সংকটের দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে।

রবিবার রাজধানীর হাতিরপুলে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত ২০১৮-১৯ সালের প্রস্তাবিত বাজেট প্রতিক্রিয়ায় তিনি এসব কথা বলেন।

জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘একটা বাজেটে সরকারের সামগ্রিক পরিকল্পনা ও নীতির প্রতিফলন থাকে। সেদিক থেকে এই সরকারের নীতি ও পরিকল্পনার ছাপও এই বাজেটে আছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ইত্যাদি বিষয়ে ধারাবাহিক ও গুণগত পরিবর্তনের কোনো উদ্যোগ নেই। সাইকেলে কর বাড়িয়ে হাইব্রিড গাড়িতে কর হ্রাস ইত্যাদি যে দেশ নিয়ে সরকারের কোনো দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নেই তারই উদাহরণ।’

সাকি বলেন, ‘সরকারসত্যি ভোট করতে চাইলে জনগণের ওপর অতিরিক্ত করের বোঝা না চাপিয়ে বরং অর্থনৈতিক অভিঘাত থেকে তাদের রক্ষার চেষ্টা করতে উদ্যোগ নিত। কিন্তু তার বিপরীতে লুটপাটের মাধ্যমে জনগণের অর্থ লোপাট ও ক্ষমতা নিয়ন্ত্রকদের নানা সুবিধা দেবার তাৎপর্যই লক্ষ্য করছি।’

সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গণসংহতি আন্দোলনের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল।

মূল প্রবন্ধে বলা হয়, ‘সরকার ধনী-গরিব সবার জন্য প্রযোজ্য ভ্যাট আহরণে যতটা উদ্যোগী, মধ্যবিত্ত আর উচ্চবিত্তের কাছ থেকে আয় ও মুনাফার কর আহরণে ততটা আগ্রহী নয়। সরকারের কর এবং ভ্যাট আহরণের সক্ষমতা বৃদ্ধির এমন কোনো নমুনা দেখা যাচ্ছে না যাতে বলা যায় যে, তারা এমন নাটকীয় মাত্রায় আহরণ বাড়াতে সক্ষম হবে। বাজেটের আকার সময়ের সঙ্গে যেভাবে বাড়াতে হয়েছে, সেভাবে সরকারের কর-বহির্ভূত আয় বাড়েনি। তাই করের পরিমাণ অসমানুপাতিক হারে বাড়াতে হয়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন গণসংহতি আন্দোলনের রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য ফিরোজ আহমেদ, তসলিমা আখতার ও কেন্দ্রীয় সংগঠক আব্দুল্লাহ নাদভীসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।

রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য তসলিমা আখতার বলেন, ‘গার্মেন্টস শ্রমিকদের জীবনযাত্রার সঙ্গে তাল রেখে তাদের বেতন বাড়ছে না। অথচ প্রবাসী শ্রমিক ও গার্মেন্টস শ্রমিকরাই এদেশের অর্থনীতিকে টিকিয়ে রেখেছে। তাদের অবদান ছাড়া দেশের অর্থনীতি ধসে পড়ত।’

এছাড়াও সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, কেন্দ্রীয় নেতা বাচ্চু ভূঁইয়া, আবু বকর রিপন, অপরাজিতা চন্দ, জান্নাতুল মরিয়ম, দীপক রায়সহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।