ঢাকা ০৮:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান সরকার অনুমোদন দিলে ক্রসফায়ারও করবে পুলিশ: আইজিপি

ইসরাইলকে ইরানি স্থাপনায় হামলার অনুমতি দিয়েছিলেন পুতিন

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

রাশিয়ার বিজয় দিবস উপলক্ষে গত ৯ মে দেশটিতে সফরে গিয়েছিলেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ এ দিবসে নেতানিয়াহুই ছিলেন একমাত্র সরকারপ্রধান যিনি পুতিনের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।

রাশিয়া সফরে যাওয়ার আগে নেতানিয়াহু মন্তব্য করেছিলেন, সিরিয়াতে এই মুহূর্তে যা ঘটছে তাতে রাশিয়ান সেনাবাহিনীর সঙ্গে ইসরাইলি ডিফেন্স ফোর্সের যে সামরিক সমঝোতা আছে, তার ধারাবাহিকতা পুনরায় নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেছিলেন, এটা মনে করার কোনো ভিত্তি নেই যে, সিরিয়াতে ইসরাইলের সামরিক পদক্ষেপে রাশিয়া বাধার সৃষ্টি করবে। রাশিয়ার বিজয় দিবসের রাতে ১টার দিকে ইসরাইল তার বিমানবাহিনীর ২৮টি এফ-১৫ এবং এফ-১৬ যুদ্ধবিমান থেকে সিরিয়ার ভূমিতে অন্তত ৬০টি মিসাইল নিক্ষেপ করে।

ওইসব মিসাইল সিরিয়ায় অবস্থিত ইরানের প্রায় ৫০টি সামরিক স্থাপনার ওপর আঘাত হানে। এতে অন্তত ২৭ জন নিহত। নিহতের মধ্যে ১১ জন ছিল ইরানি সেনা। নেতানিয়াহুর সফর, তার বক্তব্য এবং সবশেষে রাশিয়ার ভূমিকায় বিজনেস ইনসাইডার, জেরুজালেম পোস্ট, হারেৎজসহ বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় সন্দেহ প্রকাশ করা হয়, ইরানি স্থাপনার ওপর ইসরাইলের এ হামলার পেছনে রাশিয়ার সম্মতি ছিল।

সামরিক ইতিহাসবিদ ও সাংবাদিক বাবাক তাগভাই রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সূত্রের বরাত দিয়ে দাবি করেন, নেতানিয়াহুর সফরকালে পুতিন তাকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে, ইসরাইল যদি ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ডের স্থাপনার ওপর হামলা করে তাহলে রাশিয়া তাতে বাধা দেবে না।

বাবাক তাগভাই তার সূত্রের বরাত দিয়ে দাবি করেন, ইসরাইলের প্রস্তাবে রাশিয়ার রাজি হওয়ার কারণ হচ্ছে, ইরানের উপস্থিতি নেই এমন কোনো সিরীয় স্থাপনায় ইসরাইল হামলা করবে না। এছাড়া ইসরাইলকে ইরানের ওপর হামলার সুযোগ দেয়ার বিনিময়ে ইসরাইল যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোর তাদের যেসব লবিং রয়েছে তা কাজে লাগিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে তাদের সম্পর্ক উন্নয়নের সুযোগ করে দেবে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র যাতে সিরিয়ায় হস্তক্ষেপ না করে বা যুক্তরাষ্ট্রকে সিরিয়ায় হস্তক্ষেপ থেকে বিরত রাখতে ইসরাইল যেন ভূমিকা রাখে এ জন্য ইসরাইলকে এ সুযোগ করে দিয়ে সমঝোতা হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এ সমঝোতার বিষয়টি প্রথমে উত্থাপন করেছেন বাবাক তাগভাই। আর তিনি কোনো নির্দিষ্ট সূত্র প্রকাশ করেননি। তাই এটি সত্য নাও হতে পারে।

তবে এ কথা সত্য যে, রাশিয়া এবং ইরান উভয়েই বাশার আল-আসাদের বিজয়ের জন্য অপরিহার্য ছিল। এবং আসাদ সরকারকে টিকিয়ে রাখতে রাশিয়ার জন্য ইরান এখনো গুরুত্বপূর্ণ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

ইসরাইলকে ইরানি স্থাপনায় হামলার অনুমতি দিয়েছিলেন পুতিন

আপডেট সময় ০৮:৩১:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ মে ২০১৮

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

রাশিয়ার বিজয় দিবস উপলক্ষে গত ৯ মে দেশটিতে সফরে গিয়েছিলেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ এ দিবসে নেতানিয়াহুই ছিলেন একমাত্র সরকারপ্রধান যিনি পুতিনের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।

রাশিয়া সফরে যাওয়ার আগে নেতানিয়াহু মন্তব্য করেছিলেন, সিরিয়াতে এই মুহূর্তে যা ঘটছে তাতে রাশিয়ান সেনাবাহিনীর সঙ্গে ইসরাইলি ডিফেন্স ফোর্সের যে সামরিক সমঝোতা আছে, তার ধারাবাহিকতা পুনরায় নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেছিলেন, এটা মনে করার কোনো ভিত্তি নেই যে, সিরিয়াতে ইসরাইলের সামরিক পদক্ষেপে রাশিয়া বাধার সৃষ্টি করবে। রাশিয়ার বিজয় দিবসের রাতে ১টার দিকে ইসরাইল তার বিমানবাহিনীর ২৮টি এফ-১৫ এবং এফ-১৬ যুদ্ধবিমান থেকে সিরিয়ার ভূমিতে অন্তত ৬০টি মিসাইল নিক্ষেপ করে।

ওইসব মিসাইল সিরিয়ায় অবস্থিত ইরানের প্রায় ৫০টি সামরিক স্থাপনার ওপর আঘাত হানে। এতে অন্তত ২৭ জন নিহত। নিহতের মধ্যে ১১ জন ছিল ইরানি সেনা। নেতানিয়াহুর সফর, তার বক্তব্য এবং সবশেষে রাশিয়ার ভূমিকায় বিজনেস ইনসাইডার, জেরুজালেম পোস্ট, হারেৎজসহ বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় সন্দেহ প্রকাশ করা হয়, ইরানি স্থাপনার ওপর ইসরাইলের এ হামলার পেছনে রাশিয়ার সম্মতি ছিল।

সামরিক ইতিহাসবিদ ও সাংবাদিক বাবাক তাগভাই রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সূত্রের বরাত দিয়ে দাবি করেন, নেতানিয়াহুর সফরকালে পুতিন তাকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে, ইসরাইল যদি ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ডের স্থাপনার ওপর হামলা করে তাহলে রাশিয়া তাতে বাধা দেবে না।

বাবাক তাগভাই তার সূত্রের বরাত দিয়ে দাবি করেন, ইসরাইলের প্রস্তাবে রাশিয়ার রাজি হওয়ার কারণ হচ্ছে, ইরানের উপস্থিতি নেই এমন কোনো সিরীয় স্থাপনায় ইসরাইল হামলা করবে না। এছাড়া ইসরাইলকে ইরানের ওপর হামলার সুযোগ দেয়ার বিনিময়ে ইসরাইল যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোর তাদের যেসব লবিং রয়েছে তা কাজে লাগিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে তাদের সম্পর্ক উন্নয়নের সুযোগ করে দেবে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র যাতে সিরিয়ায় হস্তক্ষেপ না করে বা যুক্তরাষ্ট্রকে সিরিয়ায় হস্তক্ষেপ থেকে বিরত রাখতে ইসরাইল যেন ভূমিকা রাখে এ জন্য ইসরাইলকে এ সুযোগ করে দিয়ে সমঝোতা হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এ সমঝোতার বিষয়টি প্রথমে উত্থাপন করেছেন বাবাক তাগভাই। আর তিনি কোনো নির্দিষ্ট সূত্র প্রকাশ করেননি। তাই এটি সত্য নাও হতে পারে।

তবে এ কথা সত্য যে, রাশিয়া এবং ইরান উভয়েই বাশার আল-আসাদের বিজয়ের জন্য অপরিহার্য ছিল। এবং আসাদ সরকারকে টিকিয়ে রাখতে রাশিয়ার জন্য ইরান এখনো গুরুত্বপূর্ণ।