ঢাকা ০৯:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এখন কি বলা যাবে উনি ঋণখেলাপি ছিলেন, আসলাম চৌধুরী প্রসঙ্গে জামায়াত এমপি বাবাকে অপমানের ক্ষোভে ৫ বছরের শিশুকে হত্যা করেন নিহা ‘রিফাইন্ড’ বা অন্য নামেও আওয়ামী লীগ কর্মসূচি করতে পারবে না : তথ্য উপদেষ্টা গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূতি উপলক্ষে জামায়াতের মাসব্যাপী কর্মসূচি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বাজেট পরবর্তী নৈশভোজ বাতিল রাজধানীর তিন সরকারি হাসপাতালে র‍্যাবের অভিযান, আটক ১৩ পাকিস্তানে কোচিং সেন্টারের ছাদ ধসে ১৪ শিশু নিহত ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনা প্রত্যাহার করল বিরোধী দল ১১ বছর পর রায়, বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের দায়ে যাবজ্জীবন প্যারোলে মুক্তি পেয়ে মায়ের জানাজায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা

স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন গৃহবধূ

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

স্বামী ও তার পরিবারের যৌতুকের নির্মম নির্যাতন থেকে রক্ষা পেতে মামলা করায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় পালিয়ে বেড়াচ্ছেন ফেনীর পরশুরামের গৃহবধূ রোকসানা আক্তার।

বৃহস্পতিবার বিকালে রোকসানা আক্তার জেলা পুলিশ সুপারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে হুমকি ও নির্যাতন থেকে রক্ষা পেতে নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন করেছেন। এছাড়া মামলার প্রধান আসামি দেলোয়ার হোসেন বৃহস্পতিবার জামিনে মুক্তি পেয়ে বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন ওই গৃহবধূ।

পুলিশ ও আইনজীবী সূত্রে জানা যায়, ২০০৭ সালে ৮ জানুয়ারি ফুলগাজীর জয়পুর গ্রামের মো. মোস্তফার ছেলে প্রবাসী দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে বিয়ে হয় পরশুরাম উপজেলা দক্ষিণ চন্দনা গ্রামের কৃষক সেলিম চৌধুরীর মেয়ে রোকসানার।

এরই মধ্যে রোকসানা ২টি পুত্রসন্তানের মা হন। স্বামী প্রবাসে থাকায় দেবর জাকির হোসেন তাকে বিভিন্ন সময় কুপ্রস্তাব দিত। রোকসানা বিষয়টি শাশুড়ি নুর নাহার ও স্বামীকে জানায়।

এর মধ্যে স্বামী দেলোয়ার হোসেন আগেও একটি বিয়ে করেছে বলে জানতে পান রোকসানা। বিয়ের বিষয়টির সত্যতার জন্য স্বামীর কাছ থেকে জানতে চাইলে পারিবারিক নির্যাতন শুরু হয়। কিন্তু দুই সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে রোকসানা নির্যাতন সহ্য করে স্বামীর বাড়িতে আবস্থান করেন।

নির্যাতনের বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জানিয়ে এর শান্তিপূর্ণ সমাধানের চেষ্টা করেও কোনো সমাধান হয়নি। গত ৯ এপ্রিল পুনরায় নির্যাতন চালানো হয় রোকসানার ওপর। নির্যাতন সইতে না পেরে সন্তানদের মাদ্রাসায় দিয়ে ফেনী সদর হাসপাতালে এসে চিকিৎসা শেষে ফুফু পেয়ারা বেগমের বাড়িতে আশ্রয় নেন রোকসানা।

এ বিষয়ে পরশুরাম থানা ও ফুলগাজী থানায় গিয়ে বিচার প্রার্থনা করে লিখিত আবেদন করলেও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের মদদে থানা পুলিশ লিখিত আবেদন গ্রহণ করেনি।

পরে ৭ মে ফেনী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে স্বামী দেলোয়ার হোসেনকে প্রধান আসামি করে ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করলে বিচারক প্রধান আসামিকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেন। পরে ফুলগাজী থানা পুলিশ স্বামী দেলোয়ারকে গ্রেফতার করে।

দেলোয়ার গ্রেফতার হওয়ার পর অপর আসামি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সুফিয়ান গত ১৫ মে পরশুরাম থানার এসআই সফিকের উপস্থিতিতে রোকসানার বাবার বাড়িতে গিয়ে গালমন্দ করে। পুলিশও তাদের সঙ্গে গালমন্দ করে।

ইউপি চেয়ারম্যান ও সুফিয়ানের নেতৃত্বে রোকসানার বাবার বাড়িতে হামলা চালিয়ে অপহরণের জন্য হুমকি দেয়। এ হুমকি ও মামলা দায়েরের ঘটনার পর থেকে বাড়ি ছেড়ে বিভিন্ন স্থানে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন রোকসানা। জেলা পুলিশ সুপার এস, এম জাহাঙ্গীর আলম সরকার গৃহবধূ রোকসানার আবেদনটি আমলে নিয়ে সরেজমিনে তদন্ত করে ডিবিকে প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশ দেন।

অভিযোগের বিষয়ে পরশুরাম উপজেলার চিথলিয়ার ইউপি চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিনের মোবাইল ফোনে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এখন কি বলা যাবে উনি ঋণখেলাপি ছিলেন, আসলাম চৌধুরী প্রসঙ্গে জামায়াত এমপি

স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন গৃহবধূ

আপডেট সময় ১০:৪৮:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ মে ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

স্বামী ও তার পরিবারের যৌতুকের নির্মম নির্যাতন থেকে রক্ষা পেতে মামলা করায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় পালিয়ে বেড়াচ্ছেন ফেনীর পরশুরামের গৃহবধূ রোকসানা আক্তার।

বৃহস্পতিবার বিকালে রোকসানা আক্তার জেলা পুলিশ সুপারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে হুমকি ও নির্যাতন থেকে রক্ষা পেতে নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন করেছেন। এছাড়া মামলার প্রধান আসামি দেলোয়ার হোসেন বৃহস্পতিবার জামিনে মুক্তি পেয়ে বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন ওই গৃহবধূ।

পুলিশ ও আইনজীবী সূত্রে জানা যায়, ২০০৭ সালে ৮ জানুয়ারি ফুলগাজীর জয়পুর গ্রামের মো. মোস্তফার ছেলে প্রবাসী দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে বিয়ে হয় পরশুরাম উপজেলা দক্ষিণ চন্দনা গ্রামের কৃষক সেলিম চৌধুরীর মেয়ে রোকসানার।

এরই মধ্যে রোকসানা ২টি পুত্রসন্তানের মা হন। স্বামী প্রবাসে থাকায় দেবর জাকির হোসেন তাকে বিভিন্ন সময় কুপ্রস্তাব দিত। রোকসানা বিষয়টি শাশুড়ি নুর নাহার ও স্বামীকে জানায়।

এর মধ্যে স্বামী দেলোয়ার হোসেন আগেও একটি বিয়ে করেছে বলে জানতে পান রোকসানা। বিয়ের বিষয়টির সত্যতার জন্য স্বামীর কাছ থেকে জানতে চাইলে পারিবারিক নির্যাতন শুরু হয়। কিন্তু দুই সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে রোকসানা নির্যাতন সহ্য করে স্বামীর বাড়িতে আবস্থান করেন।

নির্যাতনের বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জানিয়ে এর শান্তিপূর্ণ সমাধানের চেষ্টা করেও কোনো সমাধান হয়নি। গত ৯ এপ্রিল পুনরায় নির্যাতন চালানো হয় রোকসানার ওপর। নির্যাতন সইতে না পেরে সন্তানদের মাদ্রাসায় দিয়ে ফেনী সদর হাসপাতালে এসে চিকিৎসা শেষে ফুফু পেয়ারা বেগমের বাড়িতে আশ্রয় নেন রোকসানা।

এ বিষয়ে পরশুরাম থানা ও ফুলগাজী থানায় গিয়ে বিচার প্রার্থনা করে লিখিত আবেদন করলেও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের মদদে থানা পুলিশ লিখিত আবেদন গ্রহণ করেনি।

পরে ৭ মে ফেনী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে স্বামী দেলোয়ার হোসেনকে প্রধান আসামি করে ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করলে বিচারক প্রধান আসামিকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেন। পরে ফুলগাজী থানা পুলিশ স্বামী দেলোয়ারকে গ্রেফতার করে।

দেলোয়ার গ্রেফতার হওয়ার পর অপর আসামি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সুফিয়ান গত ১৫ মে পরশুরাম থানার এসআই সফিকের উপস্থিতিতে রোকসানার বাবার বাড়িতে গিয়ে গালমন্দ করে। পুলিশও তাদের সঙ্গে গালমন্দ করে।

ইউপি চেয়ারম্যান ও সুফিয়ানের নেতৃত্বে রোকসানার বাবার বাড়িতে হামলা চালিয়ে অপহরণের জন্য হুমকি দেয়। এ হুমকি ও মামলা দায়েরের ঘটনার পর থেকে বাড়ি ছেড়ে বিভিন্ন স্থানে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন রোকসানা। জেলা পুলিশ সুপার এস, এম জাহাঙ্গীর আলম সরকার গৃহবধূ রোকসানার আবেদনটি আমলে নিয়ে সরেজমিনে তদন্ত করে ডিবিকে প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশ দেন।

অভিযোগের বিষয়ে পরশুরাম উপজেলার চিথলিয়ার ইউপি চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিনের মোবাইল ফোনে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।