ঢাকা ০৮:৩৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট বনশ্রীতে স্কুলছাত্রী খুন,পুলিশের সন্দেহের তালিকায় পলাতক রেস্তোরাঁ কর্মী স্বৈরাচারের লোকেরা নির্বাচন ভণ্ডুলের চেষ্টা করবে: ড. মুহাম্মদ ইউনূস গাজীপুরে নবজাতকের লাশ নিয়ে কুকুরের টানাহ্যাঁচড়া, উদ্ধার করল পুলিশ ধর্মকে পুঁজি করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে, ধোঁকা দেওয়া হচ্ছে : খায়রুল কবির খোকন দলে বড় নাম থাকলেও জেতার জন্য সবাইকে আরও দায়িত্ব নিতে হবে: সোহান ২৫ জন বাংলাদেশিকে ক্ষমা করল আমিরাত দেশের ভবিষ্যত গড়ার জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয় নিশ্চিত করতে হবে : চরমোনাই পীর ব্যালটবাক্স ভরে কোনো নির্দিষ্ট প্রতীকের জয়ের সুযোগ নেই: রুমিন ফারহানা এইচএসসি পাসে নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ , রোগী দেখেন দুই জেলায়

ভোট ডাকাতি হলেই আমাকে হারানো সম্ভব: মঞ্জু

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নিরপেক্ষ ভোট হলে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী খুলনা সিটি করপোরেশনের বিএনপির মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু। আর ভোটে হারলে তিনি তা কোনোভাবেই মেনে নেবেন না। তার দাবি, ভোট ডাকাতি হলেই তাকে হারানো সম্ভব।

তবে ভোটের আগের রাতে দৈনিক আকাশকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে বিএনপি নেতা এমনও বলেন, প্রশাসন ‘ন্যাক্কারজনকভাবে’ বিএনপির নেতাকর্মীদের হয়রানি করছে। এতে নিরপক্ষে ভোট নিয়ে তার মধ্যে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

গত ২৪ এপ্রিল ভোটের প্রচার শুরুর পর থেকেই মঞ্জুর অভিযোগ ছিল, তিনি নির্বিঘ্নে প্রচার চালাতে পারছেন না। তার কর্মী-সমর্থকদেরকে হয়রানি করছে পুলিশ। মঙ্গলবার ভোটের আগের রাতেও রিটার্নিং কর্মকর্তা ইউনুচ আলীর কাছে বেশ কিছু অভিযোগ জমা দেন মঞ্জু।

নির্বাচন কমিশনে কী অভিযোগ করেছেন?

-‘তিনটি অভিযোগ করেছি। কেএমপি কমিশনার, পাঁচ থানার ওসি, ডিসি ডিবি প্রত্যাহার এবং হোটেলগুলোতে বহিরাগতদের ধরতে তল্লাশি চালানোর দাবি জানিয়েছে।’

রিটার্নিং কর্মকর্তা কী বলেছেন?

-‘তিনি বলেছেন দেখবেন।’

আপনি কি নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগে সন্তুষ্ট?

-‘না। নির্বাচন কমিশনের এখানকার কর্মকর্তারা অথর্ব। তারা ক্লারিকাল (কেরানির) কাজ করে। আমার অভিযোগ সম্পর্কে তারা কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেনি।’

‘আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচন কমিশন সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। আওয়ামী লীগ মরিয়া হয়ে উঠেছে। আমাদের নেতাকর্মীসহ পোলিং এজেন্টদের বাড়ি বাড়ি তল্লাশি ও আটক করছে পুলিশ।’

তার মানে আপনি বলতে চাইছেন ভোট কারচুপির আশঙ্কা আছে?

-‘শতাধিক কেন্দ্রে কারচুপির আশঙ্কা করছি। তবে আমরা পিছু হটব না। নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে কোনোভাবেই ভোট কেন্দ্র ছাড়া যাবে না। আমরা চাই, দেশের মানুষ দেখুক, বিএনপির বিজয়কে ছিনিয়ে নিতে আওয়ামী লীগ কতটা মরিয়া।’

আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেকও আপনার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করেছেন। আপনার সঙ্গে সন্ত্রাসী ও জঙ্গি আছে।

-‘আমাদের দলে কোনো জঙ্গি, সন্ত্রাসী নেই। কালো টাকা ও সন্ত্রাসী বাহিনী ব্যবহারের মাধ্যমে আওয়ামী লীগই জিততে চায়।’

আপনাদের বিবেচনায় ভোট সুষ্ঠু না হলে কী করবেন?

-‘নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকব। সরকারি দল ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা যদি অনিয়ম, কেন্দ্র দখল, ভোট কারচুপি করেন তা জাতির সামনে তুলে ধরব।’

জনগণ কেন আপনাকে ভোট দেবে?

-‘আমি মানুষের কল্যাণে রাজনীতি করি। গত ৪০ বছর সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছি। নগরীর উন্নয়ন আন্দোলনে সবসময় জনগণের প্রয়োজনে কথা বলেছি। এজন্য জনগণ আমাকে ভোট দেবে।’

আপনাদের দলের মেয়র মনিরুজ্জামান মনি কাজ করতে পারেননি বলে অভিযোগ আছে। এ জন্য তাকে মনোনয়নও দেয়া হয়নি।

-গত পাঁচ বছর আওয়ামী লীগ বর্তমান মেয়রকে দায়িত্ব পালন করতে দেয়নি, উন্নয়নে বাধা দিয়েছে। জনগণ এর বিচার করবে।

কিন্তু যদি হেরে যান?

-‘ভোট ডাকাতির ফলাফল মেনে নেয়ার প্রশ্নই আসে না। জনগণের রায় দখলের মধ্য দিয়ে রায় পরিবর্তন মেনে নিতে পারি না। এ নির্বাচনে ভোট ডাকাতি হলে জাতীয় নির্বাচন নিয়ে সংকট ঘনীভূত হবে। সরকার ও ইসির (নির্বাচন কমিশন) পরীক্ষা হবে।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট

ভোট ডাকাতি হলেই আমাকে হারানো সম্ভব: মঞ্জু

আপডেট সময় ১১:০১:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ মে ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নিরপেক্ষ ভোট হলে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী খুলনা সিটি করপোরেশনের বিএনপির মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু। আর ভোটে হারলে তিনি তা কোনোভাবেই মেনে নেবেন না। তার দাবি, ভোট ডাকাতি হলেই তাকে হারানো সম্ভব।

তবে ভোটের আগের রাতে দৈনিক আকাশকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে বিএনপি নেতা এমনও বলেন, প্রশাসন ‘ন্যাক্কারজনকভাবে’ বিএনপির নেতাকর্মীদের হয়রানি করছে। এতে নিরপক্ষে ভোট নিয়ে তার মধ্যে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

গত ২৪ এপ্রিল ভোটের প্রচার শুরুর পর থেকেই মঞ্জুর অভিযোগ ছিল, তিনি নির্বিঘ্নে প্রচার চালাতে পারছেন না। তার কর্মী-সমর্থকদেরকে হয়রানি করছে পুলিশ। মঙ্গলবার ভোটের আগের রাতেও রিটার্নিং কর্মকর্তা ইউনুচ আলীর কাছে বেশ কিছু অভিযোগ জমা দেন মঞ্জু।

নির্বাচন কমিশনে কী অভিযোগ করেছেন?

-‘তিনটি অভিযোগ করেছি। কেএমপি কমিশনার, পাঁচ থানার ওসি, ডিসি ডিবি প্রত্যাহার এবং হোটেলগুলোতে বহিরাগতদের ধরতে তল্লাশি চালানোর দাবি জানিয়েছে।’

রিটার্নিং কর্মকর্তা কী বলেছেন?

-‘তিনি বলেছেন দেখবেন।’

আপনি কি নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগে সন্তুষ্ট?

-‘না। নির্বাচন কমিশনের এখানকার কর্মকর্তারা অথর্ব। তারা ক্লারিকাল (কেরানির) কাজ করে। আমার অভিযোগ সম্পর্কে তারা কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেনি।’

‘আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচন কমিশন সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। আওয়ামী লীগ মরিয়া হয়ে উঠেছে। আমাদের নেতাকর্মীসহ পোলিং এজেন্টদের বাড়ি বাড়ি তল্লাশি ও আটক করছে পুলিশ।’

তার মানে আপনি বলতে চাইছেন ভোট কারচুপির আশঙ্কা আছে?

-‘শতাধিক কেন্দ্রে কারচুপির আশঙ্কা করছি। তবে আমরা পিছু হটব না। নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে কোনোভাবেই ভোট কেন্দ্র ছাড়া যাবে না। আমরা চাই, দেশের মানুষ দেখুক, বিএনপির বিজয়কে ছিনিয়ে নিতে আওয়ামী লীগ কতটা মরিয়া।’

আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেকও আপনার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করেছেন। আপনার সঙ্গে সন্ত্রাসী ও জঙ্গি আছে।

-‘আমাদের দলে কোনো জঙ্গি, সন্ত্রাসী নেই। কালো টাকা ও সন্ত্রাসী বাহিনী ব্যবহারের মাধ্যমে আওয়ামী লীগই জিততে চায়।’

আপনাদের বিবেচনায় ভোট সুষ্ঠু না হলে কী করবেন?

-‘নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকব। সরকারি দল ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা যদি অনিয়ম, কেন্দ্র দখল, ভোট কারচুপি করেন তা জাতির সামনে তুলে ধরব।’

জনগণ কেন আপনাকে ভোট দেবে?

-‘আমি মানুষের কল্যাণে রাজনীতি করি। গত ৪০ বছর সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছি। নগরীর উন্নয়ন আন্দোলনে সবসময় জনগণের প্রয়োজনে কথা বলেছি। এজন্য জনগণ আমাকে ভোট দেবে।’

আপনাদের দলের মেয়র মনিরুজ্জামান মনি কাজ করতে পারেননি বলে অভিযোগ আছে। এ জন্য তাকে মনোনয়নও দেয়া হয়নি।

-গত পাঁচ বছর আওয়ামী লীগ বর্তমান মেয়রকে দায়িত্ব পালন করতে দেয়নি, উন্নয়নে বাধা দিয়েছে। জনগণ এর বিচার করবে।

কিন্তু যদি হেরে যান?

-‘ভোট ডাকাতির ফলাফল মেনে নেয়ার প্রশ্নই আসে না। জনগণের রায় দখলের মধ্য দিয়ে রায় পরিবর্তন মেনে নিতে পারি না। এ নির্বাচনে ভোট ডাকাতি হলে জাতীয় নির্বাচন নিয়ে সংকট ঘনীভূত হবে। সরকার ও ইসির (নির্বাচন কমিশন) পরীক্ষা হবে।’