ঢাকা ০৭:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আমাদের পরবর্তী গণঅভ্যুত্থান জামায়াতের বিরুদ্ধে হবে: গোলাম মাওলা রনি একাত্তরে দেশ চায়নি জামায়াত, ইশতেহারেও ইসলাম নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গণতন্ত্রের পক্ষে অবদান রাখা বুদ্ধিজীবীদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবি:সংসদে হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান জুলাই আন্দোলনের মাস্টারমাইন্ড একক কেউ নন: বিরোধীদলীয় নেতা হাসিনাকে ফাঁসিকাষ্ঠে ঝোলাতে পুরো বাংলাদেশ ঐক্যবদ্ধ: নাসীরুদ্দীন ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের ঘোষণা রিজার্ভ বেড়ে কত বিলিয়ন ডলার, জানাল কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ ও রপ্তানি বৃদ্ধির রোডম্যাপ তুলে ধরেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী জামায়াতকে নিষিদ্ধ করে কি একদলীয় শাসন কায়েম করবে বিএনপি, প্রশ্ন এটিএম আজহারের বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সম্পর্কের অভিযোগে মাগুরায় কৃষকদল নেতা গ্রেপ্তার

ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলন শুরু

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

দু’দিনব্যাপী ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের ৪৫তম সম্মেলন শুরু হয়েছে। ঢাকায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের হল অব ফেইম-এ শনিবার সকাল ১০টায় ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের ৪৫তম সম্মেলন শুরু হয়।

সম্মেলনে উপস্থিত আছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিনিধিরা। এদিকে অতিথিদের উষ্ণ অভ্যর্থনায় বিমানবন্দর থেকে শুরু করে সম্মেলন কেন্দ্র, আবাসস্থল এবং যাতায়াতের পথ সাজানো হয়েছে বর্ণিল সাজে।

সিএফএম এর বিদায়ী সভাপতি আইভরিকোস্টের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কেল এমন এতে সভাপতিত্ব করছেন। অনুষ্ঠানে সিএফএম এর সভাপতির দায়িত্ব বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করা হবে। ওআইসির মহাসচিব ড. ইউসুফ এ আল ওতাইমিন ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলী উদ্বোধনী পর্বে বক্তব্য রাখবেন।

এই সম্মেলনে রোহিঙ্গা সংকট ইস্যুটি বিশেষ প্রাধান্য পাবে। সম্মেলনে রোহিঙ্গা ইস্যুতে একটি বিশেষ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনে আগত অর্ধশতাধিক দেশের প্রতিনিধিরা শুক্রবার কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন।

ওআইসির সদস্য নয় এমন দেশ যেমন কানাডা, কসোভো ও নর্দান সাইপ্রাসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরাও অংশ নেন সম্মেলনে। সম্মেলন শুরুর আগে শুক্রবার ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করেন।

কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন ওআইসির প্রতিনিধি দলের প্রধান হিশাম ইউসেফ বলেন, শনিবার ও রোববার ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনে রোহিঙ্গা ইস্যুটি প্রাধান্য পাবে।

আগামী বর্ষা মৌসুমে দুর্যোগকালীন পরিস্থিতিতে এবং প্রত্যাবাসন শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওআইসি রোহিঙ্গাদের পাশে থাকবে। হিশাম ইউসেফ বলেন, রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ওআইসি মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা করবে এবং দ্রুত ফেরত নেয়ার বিষয়ে চাপ দেবে।

তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় নিরাপত্তা পরিষদের শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোর যথেষ্ট ভূমিকা রাখার সুযোগ ছিল। কিন্তু তারা সে ভূমিকা পালন করেনি।

এদিকে ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনের প্রস্তুতির বিষয়ে অবহিত করতে বৃহস্পতিবার ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেন, রোহিঙ্গা সংকট সম্মেলনে বিশেষভাবে স্থান পাবে। সম্মেলনকালে একটি বিশেষ অধিবেশনে এ বিষয়ে আলোচিত হবে।

এবারের ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য হল- টেকসই শান্তি, সংহতি ও উন্নয়নের জন্য ইসলামী মূল্যবোধ।

সম্মেলনের আয়োজক দেশ হিসেবে বাংলাদেশ আগামী এক বছর ‘কাউন্সিল অব ফরেন মিনিস্টার্স’র (সিএফএম) চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবে।

ঢাকায় সিএফএম বৈঠকে যেসব বিষয় গুরুত্ব পাবে সেগুলো হল- মুসলিম বিশ্বের সংঘাত ও চ্যালেঞ্জ, আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী, বিশ্বব্যাপী মুসলমানরা যে ধরনের মানবিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হচ্ছে কিভাবে সেগুলো সমাধান করা যায়, বিশ্বব্যাপী যে ইসলামোফোবিয়া তৈরি হয়েছে তা দূরীকরণের উপায় যথা- সভ্যতা ও সংস্কৃতির আন্তঃসংলাপ, মুসলিম উম্মাহর আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, ওআইসি দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং সাংস্কৃতিক বিষয়সহ বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতার ক্ষেত্র খুঁজে বের করা প্রভৃতি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আমাদের পরবর্তী গণঅভ্যুত্থান জামায়াতের বিরুদ্ধে হবে: গোলাম মাওলা রনি

ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলন শুরু

আপডেট সময় ১০:৪৬:১০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ মে ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

দু’দিনব্যাপী ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের ৪৫তম সম্মেলন শুরু হয়েছে। ঢাকায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের হল অব ফেইম-এ শনিবার সকাল ১০টায় ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের ৪৫তম সম্মেলন শুরু হয়।

সম্মেলনে উপস্থিত আছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিনিধিরা। এদিকে অতিথিদের উষ্ণ অভ্যর্থনায় বিমানবন্দর থেকে শুরু করে সম্মেলন কেন্দ্র, আবাসস্থল এবং যাতায়াতের পথ সাজানো হয়েছে বর্ণিল সাজে।

সিএফএম এর বিদায়ী সভাপতি আইভরিকোস্টের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কেল এমন এতে সভাপতিত্ব করছেন। অনুষ্ঠানে সিএফএম এর সভাপতির দায়িত্ব বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করা হবে। ওআইসির মহাসচিব ড. ইউসুফ এ আল ওতাইমিন ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলী উদ্বোধনী পর্বে বক্তব্য রাখবেন।

এই সম্মেলনে রোহিঙ্গা সংকট ইস্যুটি বিশেষ প্রাধান্য পাবে। সম্মেলনে রোহিঙ্গা ইস্যুতে একটি বিশেষ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনে আগত অর্ধশতাধিক দেশের প্রতিনিধিরা শুক্রবার কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন।

ওআইসির সদস্য নয় এমন দেশ যেমন কানাডা, কসোভো ও নর্দান সাইপ্রাসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরাও অংশ নেন সম্মেলনে। সম্মেলন শুরুর আগে শুক্রবার ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করেন।

কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন ওআইসির প্রতিনিধি দলের প্রধান হিশাম ইউসেফ বলেন, শনিবার ও রোববার ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনে রোহিঙ্গা ইস্যুটি প্রাধান্য পাবে।

আগামী বর্ষা মৌসুমে দুর্যোগকালীন পরিস্থিতিতে এবং প্রত্যাবাসন শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওআইসি রোহিঙ্গাদের পাশে থাকবে। হিশাম ইউসেফ বলেন, রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ওআইসি মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা করবে এবং দ্রুত ফেরত নেয়ার বিষয়ে চাপ দেবে।

তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় নিরাপত্তা পরিষদের শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোর যথেষ্ট ভূমিকা রাখার সুযোগ ছিল। কিন্তু তারা সে ভূমিকা পালন করেনি।

এদিকে ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনের প্রস্তুতির বিষয়ে অবহিত করতে বৃহস্পতিবার ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেন, রোহিঙ্গা সংকট সম্মেলনে বিশেষভাবে স্থান পাবে। সম্মেলনকালে একটি বিশেষ অধিবেশনে এ বিষয়ে আলোচিত হবে।

এবারের ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য হল- টেকসই শান্তি, সংহতি ও উন্নয়নের জন্য ইসলামী মূল্যবোধ।

সম্মেলনের আয়োজক দেশ হিসেবে বাংলাদেশ আগামী এক বছর ‘কাউন্সিল অব ফরেন মিনিস্টার্স’র (সিএফএম) চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবে।

ঢাকায় সিএফএম বৈঠকে যেসব বিষয় গুরুত্ব পাবে সেগুলো হল- মুসলিম বিশ্বের সংঘাত ও চ্যালেঞ্জ, আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী, বিশ্বব্যাপী মুসলমানরা যে ধরনের মানবিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হচ্ছে কিভাবে সেগুলো সমাধান করা যায়, বিশ্বব্যাপী যে ইসলামোফোবিয়া তৈরি হয়েছে তা দূরীকরণের উপায় যথা- সভ্যতা ও সংস্কৃতির আন্তঃসংলাপ, মুসলিম উম্মাহর আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, ওআইসি দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং সাংস্কৃতিক বিষয়সহ বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতার ক্ষেত্র খুঁজে বের করা প্রভৃতি।