অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
রিকশা চোরদের সংগঠনের লাইসেন্সে চলছে রাজধানীর রাজপথে বহু রিকশা। এই সংগঠন থেকে এককালীন চাঁদার বিনিময়ে লাইসেন্স নিয়ে রিকশা চালালে সে রিকশা চুরি হবে না। অবশ্য প্রতিমাসেও তাদের দিতে হচ্ছে নির্দিষ্ট পরিমাণ চাঁদা। যেসব রিকশায় ওই সংগঠনের লাইসেন্সের নম্বর প্লেট নেই, তা কয়েকদিনের মধ্যে চুরি হয়ে যাচ্ছে।
তবে কখনো কখনো লাইসেন্সযুক্ত রিকশা চুরি হলে এবং ওই সংগঠনের কার্যালয়ে যোগাযোগ করলে তা ফেরত পাওয়া যায়। সূত্র জানায়, রিকশা চুরি করে তা ওই সংগঠনের কার্যালয়ে জমা করা হয়। গত কয়েক দিন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার রিকশা শ্রমিক-মালিক ও রিকশা-ভ্যান মালিক-শ্রমিক সম্পর্কিত বিভিন্ন নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অনেক আগে প্রতিষ্ঠিত ওই সংগঠনটির নাম ২০০৭-০৮ সাল পর্যন্ত ছিল ‘ঢাকা মহানগর রিকশা চোর প্রতিরোধ কমিটি’। রিকশা চুরির হাত থেকে বাঁচাতে নির্দিষ্ট টাকার বিনিময়ে নম্বর প্লেট দেয়া হতো। একই সঙ্গে প্রতিমাসেও চাঁদা নেয়া হতো ওই নম্বর প্লেট অনুযায়ী। কোনো রিকশায় সংগঠনের নম্বর প্লেট থাকলে কোনো চোর তা চুরি করতো না। ২০০৮ সালের পর সংগঠনের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘বাংলাদেশ রিকশা ও ভ্যান মালিক ফেডারেশন’। বর্তমানে সংগঠনটির প্রধান কার্যালয় যাত্রবাড়ীর ১৮৫ উত্তর কুতুবখালী।
তেজগাঁও রেলস্টেশন এলাকার কয়েকটি রিকশা গ্যারেজের মালিক জানান, একটি রিকশা নামালে কমপক্ষে ৪টি সংগঠনকে চাঁদা দিতে হয়। আর চোরের সংগঠনের চাঁদা না দিয়ে রাস্তায় রিকশা চালানো যায় না। প্রতি দুই মাস অন্তর ৪০০ টাকার বিনিময়ে ওই নম্বর প্লেট সংগ্রহ করতে হয়। এরপর প্রতি মাসে চাঁদা দিতে হয় ২০ টাকা করে। ওই এলাকার রিকশা গ্যারেজের মালিক মফিজুল ইসলাম একটি রিকশায় ‘বাংলাদেশ রিকশা ও ভ্যান মালিক ফেডারেশন’র নম্বর প্লেট দেখিয়ে বলেন, এটি হলো চোরের সংগঠনের নম্বর প্লেট। এটা না থাকলে যেকোনো সময় রিকশা চুরি হয়ে যাবে।
তবে এই নম্বর প্লেট থাকার পরও কোনো রিকশা চুরি হলে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গিয়ে জানালে ২-১ দিনের মধ্যে রিকশা ফিরে পাওয়া যায়। এতে ৭০০ টাকা দিতে হয় অফিসকে। তিনি জানান, চোরেরা রিকশা চুরি করে ওই সংগঠনের অফিসে জমা করে। এতে নম্বর প্লেট দেয়ার সময় আমাদের দেয়া মোবাইল ফোনে কল করে অফিস থেকে জানিয়েও দেয়া হয় আপনার রিকশা চুরি হয়েছে। সেটা সংগঠনের অফিসে যোগাযোগ করে ছাড়িয়ে নিতে বলা হয়।
চোরের চাঁদা কে সংগ্রহ করে জানতে চাইলে ওই রিকশার গ্যারেজের মালিক বলেন, প্রত্যেক এলাকায় একজন করে ওই সংগঠনের সভাপতি আছে। তাদের মাধ্যমে নম্বর প্লেটগুলো নিতে হয়। তারাই প্রতি মাসের চাঁদাগুলো নিয়ে যায়। তেজগাঁও এলাকার শাহাদাত মোল্লা নামের অপর এক রিকশা গ্যারেজের মালিক বলেন, প্রতি রিকশার জন্য প্রত্যেক মাসে ফেডারেশনের লোকদের ২০০০ টাকা দেয়া লাগে। এটা দিলে চোরের চাঁদা, রিকশা মালিক-শ্রমিক লীগসহ বিভিন্ন সংগঠনের চাঁদা আর দেয়া লাগে না। তবে ‘বাংলাদেশ রিকশা ও ভ্যান মালিক ফেডারেশন’র সেক্রেটারি আর এ জামান এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, আমরা কারো কাছ থেকে কোনো চাঁদা তুলি না। ঢাকা মহানগরীর বহু রিকশা মালিক আমাদের ফেডারেশনের সদস্য। বিভিন্ন সময় আন্দোলন সংগ্রামের প্রয়োজন হলে তখন মালিকদের ডেকে আলোচনার ভিত্তিতে কিছু চাঁদা তোলা হয়। এর বাইরে প্রতি মাসে আমরা কারো থেকে কোনো চাঁদা তুলি না।
১৯৮৬ সালে ঢাকা সিটি করপোরেশন রিকশার লাইসেন্স দেয় ৭৯৩০০টি। বর্তমানে এই সংখ্যা ১ লাখের বেশি। তবে বাংলাদেশ রিকশা ও ভ্যান মালিক ফেডারেশনের নেতাদের কয়েকটি সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীতে রিকশা মালিকদের কাছে ফেডারেশনের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত এক লাখ ৬৫ হাজার কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। এই হিসেবে রিকশাপ্রতি ২০ টাকা হারে প্রতি মাসে ৩৩ লাখ টাকা চাঁদা তুলছে ‘বাংলাদেশ রিকশা ও ভ্যান মালিক ফেডারেশন’।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 
























