ঢাকা ০৮:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নেপালকে হারিয়ে টানা তৃতীয়বার সাফের ফাইনালে বাংলাদেশ ভারতের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করা উচিত: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী রুমিন ফারহানার বক্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ বরগুনায় ডাকবাংলো থেকে দুই শিশু ও মায়ের মরদেহ উদ্ধার মায়ের প্রতি অবহেলা: শাস্তি পাবেন সেই যুগ্ম সচিব বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারের মাসিক চার্জ প্রত্যাহার মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করলে আরেকটি গণঅভ্যুত্থান হবে: প্রতিমন্ত্রী ইশরাক এমপিদের সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির জ্ঞান থাকা আবশ্যক : স্পিকার ইরানের সুপ্রিম লিডার মোজতবার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চান ট্রাম্প ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না, দাবি ট্রাম্পের

ড্রাইভারকে গুলি করলে মাইক্রোবাসটি উল্টে যায়

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে রাঙামাটির নানিয়াচর উপজেলায় প্রতিপক্ষের গুলিতে ইউপিডিএফ বর্মা গ্রুপের প্রধান তপন জ্যোতি চাকমা বর্মাসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ সময় গুলিতে আহত হয়েছেন আরও ৯ জন।

শুক্রবার দুপুরে এ ঘটনার পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরপর এত মানুষ হতাহতের ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

গুলিতে আহত জীবন্ত চাকমা নিজেকে সাধারণ গ্রামবাসী দাবী করে বলেন, ওরা সবাই যাচ্ছিলেন সন্ত্রাসীদের গুলিতে রাঙামাটির নানিয়াচর উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শক্তিমান চাকমার দাহক্রিয়া অনুষ্ঠানে যোগ দিতে। কিন্ত তাদের বহনকারী মাইক্রোবাসটি খাগড়াছড়ি সীমানা অতিক্রম করে রাঙামাটির নানিয়াচর উপজেলার বেতছড়ি পৌঁছামাত্র সন্ত্রাসীরা এলোপাতাড়ি গুলি চালায়।

গুলিতে আহত নীরও কুমার চাকমা জানান, ইউপিডিএফ (প্রসীত) সন্ত্রাসীরা প্রথমে ড্রাইভারকে গুলি করলে মাইক্রোবাসটি উল্টে যায়। এরপর সন্ত্রাসীরা এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়লে ঘটনাস্থলে তিনজন নিহত হয়। আহত হয় ১০ জন।

তিনি জানান, খবর পেয়ে নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছলে সন্ত্রাসীরা তাদের উপরও গুলি চালালে দুই পক্ষের গোলাগুলি শুরু হয়। পরে সন্ত্রাসীরা নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতিরোধে টিকতে না পেরে পালিয়ে যায়। এরপর নিরাপত্তা বাহিনী আহতদের উদ্ধার করে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে প্রেরণ করে।

খাগড়াছড়ি হাসপাতালে আনা হলে মাইক্রোবাসচালক মো. সজিবসহ দুজন মারা যায়। নিহত ও আহতদের খাগড়াছড়ি হাসপাতালে আনা হলে শহরে শোকের ছায়া নেমে আছে।

খাগড়াছড়ি হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডাক্তার নয়নময় ত্রিপুরা জানান, হাসপাতালে ১০ জনকে আনা হলে দুজন মারা যায়। আশঙ্কাজনক হওয়ায় আহতদের মধ্যে চারজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে।

রাঙামাটি পুলিশ সুপার আলমগীর কবির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঘটনাস্থল পুলিশ ঘিরে রেখেছে।

বৃহস্পতিবার সকালে রাঙামাটির নানিয়াচর উপজেলা পরিষদ এলাকায় দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হয় খাগড়াছড়ি জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য, নানিয়াচর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেএসএস এমএন লারমা গ্রুপের কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি শক্তিমান চাকমা। এ ঘটনার জন্য প্রতিপক্ষ ইউপিডিএফ প্রসিত গ্রুপকে দায়ী করছে জেএসএস এনএম লারমা সমর্থিতরা।

শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে শক্তিমান চাকমার দাহক্রিয়া অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি সড়কে নানিয়াচরে সন্ত্রাসীদের গুলিতে পাঁচজন মারা যান। নিহতরা হলেন- ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক দলের প্রধান তপন জ্যোতি চাকমা (৫০) ওরফে বর্মা, একই দলের কেন্দ্রীয় নেতা কনক চাকমা (৩৮), সুজন চাকমা (৩০) এবং গুলিতে আহত ৯ জনকে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে একই দলের নেতা সেতু লাল চাকমা (৩৮) ও গাড়ির চালক মো. সজীব (২৮) মারা যান।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পৃথিবীর সব চাওয়ার ঊর্ধ্বে যে চাওয়া— আল্লাহর ভালোবাসা লাভের দোয়া

ড্রাইভারকে গুলি করলে মাইক্রোবাসটি উল্টে যায়

আপডেট সময় ০৫:৪৮:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ মে ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে রাঙামাটির নানিয়াচর উপজেলায় প্রতিপক্ষের গুলিতে ইউপিডিএফ বর্মা গ্রুপের প্রধান তপন জ্যোতি চাকমা বর্মাসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ সময় গুলিতে আহত হয়েছেন আরও ৯ জন।

শুক্রবার দুপুরে এ ঘটনার পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরপর এত মানুষ হতাহতের ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

গুলিতে আহত জীবন্ত চাকমা নিজেকে সাধারণ গ্রামবাসী দাবী করে বলেন, ওরা সবাই যাচ্ছিলেন সন্ত্রাসীদের গুলিতে রাঙামাটির নানিয়াচর উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শক্তিমান চাকমার দাহক্রিয়া অনুষ্ঠানে যোগ দিতে। কিন্ত তাদের বহনকারী মাইক্রোবাসটি খাগড়াছড়ি সীমানা অতিক্রম করে রাঙামাটির নানিয়াচর উপজেলার বেতছড়ি পৌঁছামাত্র সন্ত্রাসীরা এলোপাতাড়ি গুলি চালায়।

গুলিতে আহত নীরও কুমার চাকমা জানান, ইউপিডিএফ (প্রসীত) সন্ত্রাসীরা প্রথমে ড্রাইভারকে গুলি করলে মাইক্রোবাসটি উল্টে যায়। এরপর সন্ত্রাসীরা এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়লে ঘটনাস্থলে তিনজন নিহত হয়। আহত হয় ১০ জন।

তিনি জানান, খবর পেয়ে নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছলে সন্ত্রাসীরা তাদের উপরও গুলি চালালে দুই পক্ষের গোলাগুলি শুরু হয়। পরে সন্ত্রাসীরা নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতিরোধে টিকতে না পেরে পালিয়ে যায়। এরপর নিরাপত্তা বাহিনী আহতদের উদ্ধার করে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে প্রেরণ করে।

খাগড়াছড়ি হাসপাতালে আনা হলে মাইক্রোবাসচালক মো. সজিবসহ দুজন মারা যায়। নিহত ও আহতদের খাগড়াছড়ি হাসপাতালে আনা হলে শহরে শোকের ছায়া নেমে আছে।

খাগড়াছড়ি হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডাক্তার নয়নময় ত্রিপুরা জানান, হাসপাতালে ১০ জনকে আনা হলে দুজন মারা যায়। আশঙ্কাজনক হওয়ায় আহতদের মধ্যে চারজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে।

রাঙামাটি পুলিশ সুপার আলমগীর কবির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঘটনাস্থল পুলিশ ঘিরে রেখেছে।

বৃহস্পতিবার সকালে রাঙামাটির নানিয়াচর উপজেলা পরিষদ এলাকায় দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হয় খাগড়াছড়ি জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য, নানিয়াচর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেএসএস এমএন লারমা গ্রুপের কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি শক্তিমান চাকমা। এ ঘটনার জন্য প্রতিপক্ষ ইউপিডিএফ প্রসিত গ্রুপকে দায়ী করছে জেএসএস এনএম লারমা সমর্থিতরা।

শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে শক্তিমান চাকমার দাহক্রিয়া অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি সড়কে নানিয়াচরে সন্ত্রাসীদের গুলিতে পাঁচজন মারা যান। নিহতরা হলেন- ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক দলের প্রধান তপন জ্যোতি চাকমা (৫০) ওরফে বর্মা, একই দলের কেন্দ্রীয় নেতা কনক চাকমা (৩৮), সুজন চাকমা (৩০) এবং গুলিতে আহত ৯ জনকে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে একই দলের নেতা সেতু লাল চাকমা (৩৮) ও গাড়ির চালক মো. সজীব (২৮) মারা যান।