ঢাকা ১১:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এমপি যদি সৎ হন, ঠিকাদারের বাপের সাধ্য নেই চুরি করার: রুমিন ফারহানা ‘ধর্মের নামে ব্যবসা করে যারা নির্বাচনে জিততে চায়, তারা এ দেশে আর কখনো গ্রহণযোগ্যতা পাবে না’:ফারুক পার্থকে ছেড়ে দিলেন বিএনপির প্রার্থী গোলাম নবী গণহত্যার বিচারে ধরনের কম্প্রোমাইজ নয়: প্রসিকিউটর তামিম স্ত্রীর কোনো স্বর্ণ নেই, তাহেরির আছে ৩১ ভরি স্বর্ণ নির্বাচনে ভোট ডাকাতি যেন আর কখনো না ঘটে, সে ব্যবস্থা করতে হবে : প্রধান উপদেষ্টা ইরানে অর্ধশতাধিক মসজিদ-১৮০ অ্যাম্বুলেন্সে আগুন দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা নির্বাচনে ৩০ আসনে লড়বে এনসিপি: আসিফ মাহমুদ নির্বাচন বানচালে দেশবিরোধী শক্তি অপচেষ্টা ও সহিংসতা চালাচ্ছে : মির্জা আব্বাস বিজয় আমাদের হয়েই গেছে, ১২ ফেব্রুয়ারি শুধু আনুষ্ঠানিকতা: নুরুল হক নুর

যুদ্ধাপরাধ মামলায় বিএনপি নেতা খোকার বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দাখিল

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

দীর্ঘ প্রায় ২৯ মাস তদন্ত শেষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা বগুড়া-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল মোমিন তালুকদার খোকার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল হয়েছে।

বৃহস্পতিবার তদন্ত কর্মকর্তা সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার জেএম আলতাফুর রহমান ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে প্রতিবেদনটি দাখিল করেছেন।

আবদুল মোমিন তালুকদার খোকার বিরুদ্ধে আনা তিনটি অভিযোগে যুদ্ধের সময় ১৯ জনকে হত্যা ও গণহত্যা এবং ১৯ বাড়ির মালামাল লুট ও অগ্নিসংযোগে ধ্বংসসহ নানা অপরাধের উল্লেখ করা হয়েছে।

গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর তিনি দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে আছেন। প্রসিকিউটির সুলতান মাহমুদ শিমন জানান, আগামী ৬ মে এ ব্যাপারে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার বাজার এলাকার সাবেক এমপি মৃত আবদুল মজিদ তালুকদারের ছেলে আবদুল মোমিন তালুকদার খোকা (৬৬)। তিনি ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় মুসলিম লীগের (কনভেনশন) একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন।

পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীকে সহযোগিতা করতে সশস্ত্র রাজাকার বাহিনীতে যোগদান করেন। আদমদীঘি থানার রাজাকার কমান্ডার হিসেবে অন্যান্য রাজাকার ও পাকিস্তান দখলদার সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় এলাকায় মানবতাবিরোধী অপরাধ করেন।

খোকা ১৯৭৮ সালে বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৮৮ ও ১৯৯২ সালে পরপর দুবার আদমদীঘির ছাতিয়ানগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। আদমদীঘি উপজেলা বিএনপির কোষাধ্যক্ষ ও সভাপতি ছিলেন তিনি। পরবর্তীতে জেলা বিএনপির সহসভাপতি হন। বর্তমানে কেন্দ্রীয় বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক পদে আছেন।

বগুড়া-৩ (আদমদীঘি-দুপচাঁচিয়া) আসনে ২০০১ ও ২০০৮ সালে পরপর দুবার এমপি নির্বাচিত হন। নবম সংসদে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সভাপতি ছিলেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তা সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার জেএম আলতাফুর রহমান ২০১৬ সালের ১৮ জানুয়ারি থেকে তদন্ত শুরু করেন। বৃহস্পতিবার চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের আগে ২৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন। এছাড়া জব্দ তালিকায় ৫ জন সাক্ষী রয়েছেন।

গত প্রায় ২৯ মাস তদন্তে খোকার বিরুদ্ধে ১৯ জনকে হত্যা ও গণহত্যা, ১৯ বাড়ির মালামাল লুট ও অগ্নিসংযোগে ধ্বংসের প্রমাণ পেয়েছেন।

এক নম্বর অভিযোগ: ১৯৭১ সালের ২২ এপ্রিল দুপুর ১২টার দিকে আবদুল মোমিন তালুকদার খোকা, ৫-৬ জন স্বাধীনতাবিরোধী ও ১৫-২০ জন পাক বাহিনী আদমদীঘির কলসা বাজার, রথবাড়ি ও তিয়রপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১০ জন মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা ও গণহত্যা চালায়। তাদের বাড়িঘরে আগুন দিয়ে ধ্বংস করে। লাশগুলো গুম করতে কুপে ফেলে দেয়।

দুই নম্বর অভিযোগ: তিনি ১৯৭১ সালের ২৪ অক্টোবর বেলা ১০টা থেকে ২৭ অক্টোবর বিকাল ৩টা পর্যন্ত সশস্ত্র রাজাকার ও খানসেনাদের সহযোগিতায় কাশিমালা গ্রামে ১৬-১৭টি বাড়ি লুট, আগুনে ধ্বংস এবং অপহরণের পর ৫ মুক্তিযোদ্ধকে গুলিতে হত্যা করে। তাদের লাশ পার্শ্ববর্তী সুদিন রেল ব্রিজের পাশে মাটি চাপা দেয়।

তিন নম্বর অভিযোগ: রাজাকার ও খান সেনাদের সহযোগিতায় খোকা ১৯৭১ সালের ২৫ অক্টোবর রাত ১২টা থেকে ১৩ নভেম্বর সকাল ৯টা পর্যন্ত আদমদীঘির তালশন, কোমারপুর, ছোট আখিরা ও অন্যন্য স্থানে অপারেশন চালিয়ে ৪ জন মুক্তিযোদ্ধা ও ৮ জন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের নিরীহ মানুষকে আদমদীঘি থানায় আটকে রেখে অমানুষিক নির্যাতন চালায়। পরবর্তীতে খারির ব্রিজসংলগ্ন শ্মশানঘাটে নিয়ে ৪ জন মুক্তিযোদ্ধাকে গুলিতে হত্যা করে। অন্যরা পরে ছাড়া পেয়েছেন।

এদিকে বিএনপি নেতা আবদুল মোমিন তালুকদারে এসব মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য আদমদীঘির কায়েতপাড়া গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা সুবেদ আলী ২০১১ সালের ৮ মার্চ থানায় মামলা করেন। পরবর্তীতে মামলাটি আন্তজার্তিক মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর হয়।

গত বছরের ১৮ মে ট্রাইব্যুনালের বিচারপতি শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের ট্রাইব্যুনাল তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। এরপর খোকা আত্মগোপন করেন। এদিকে বিএনপি নেতা খোকার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল হওয়ায় সংসদীয় এলাকার জনগণের মাঝে স্বস্তি দেখা দিয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এমপি যদি সৎ হন, ঠিকাদারের বাপের সাধ্য নেই চুরি করার: রুমিন ফারহানা

যুদ্ধাপরাধ মামলায় বিএনপি নেতা খোকার বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দাখিল

আপডেট সময় ১০:১৯:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ মে ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

দীর্ঘ প্রায় ২৯ মাস তদন্ত শেষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা বগুড়া-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল মোমিন তালুকদার খোকার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল হয়েছে।

বৃহস্পতিবার তদন্ত কর্মকর্তা সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার জেএম আলতাফুর রহমান ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে প্রতিবেদনটি দাখিল করেছেন।

আবদুল মোমিন তালুকদার খোকার বিরুদ্ধে আনা তিনটি অভিযোগে যুদ্ধের সময় ১৯ জনকে হত্যা ও গণহত্যা এবং ১৯ বাড়ির মালামাল লুট ও অগ্নিসংযোগে ধ্বংসসহ নানা অপরাধের উল্লেখ করা হয়েছে।

গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর তিনি দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে আছেন। প্রসিকিউটির সুলতান মাহমুদ শিমন জানান, আগামী ৬ মে এ ব্যাপারে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার বাজার এলাকার সাবেক এমপি মৃত আবদুল মজিদ তালুকদারের ছেলে আবদুল মোমিন তালুকদার খোকা (৬৬)। তিনি ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় মুসলিম লীগের (কনভেনশন) একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন।

পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীকে সহযোগিতা করতে সশস্ত্র রাজাকার বাহিনীতে যোগদান করেন। আদমদীঘি থানার রাজাকার কমান্ডার হিসেবে অন্যান্য রাজাকার ও পাকিস্তান দখলদার সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় এলাকায় মানবতাবিরোধী অপরাধ করেন।

খোকা ১৯৭৮ সালে বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৮৮ ও ১৯৯২ সালে পরপর দুবার আদমদীঘির ছাতিয়ানগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। আদমদীঘি উপজেলা বিএনপির কোষাধ্যক্ষ ও সভাপতি ছিলেন তিনি। পরবর্তীতে জেলা বিএনপির সহসভাপতি হন। বর্তমানে কেন্দ্রীয় বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক পদে আছেন।

বগুড়া-৩ (আদমদীঘি-দুপচাঁচিয়া) আসনে ২০০১ ও ২০০৮ সালে পরপর দুবার এমপি নির্বাচিত হন। নবম সংসদে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সভাপতি ছিলেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তা সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার জেএম আলতাফুর রহমান ২০১৬ সালের ১৮ জানুয়ারি থেকে তদন্ত শুরু করেন। বৃহস্পতিবার চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের আগে ২৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন। এছাড়া জব্দ তালিকায় ৫ জন সাক্ষী রয়েছেন।

গত প্রায় ২৯ মাস তদন্তে খোকার বিরুদ্ধে ১৯ জনকে হত্যা ও গণহত্যা, ১৯ বাড়ির মালামাল লুট ও অগ্নিসংযোগে ধ্বংসের প্রমাণ পেয়েছেন।

এক নম্বর অভিযোগ: ১৯৭১ সালের ২২ এপ্রিল দুপুর ১২টার দিকে আবদুল মোমিন তালুকদার খোকা, ৫-৬ জন স্বাধীনতাবিরোধী ও ১৫-২০ জন পাক বাহিনী আদমদীঘির কলসা বাজার, রথবাড়ি ও তিয়রপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১০ জন মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা ও গণহত্যা চালায়। তাদের বাড়িঘরে আগুন দিয়ে ধ্বংস করে। লাশগুলো গুম করতে কুপে ফেলে দেয়।

দুই নম্বর অভিযোগ: তিনি ১৯৭১ সালের ২৪ অক্টোবর বেলা ১০টা থেকে ২৭ অক্টোবর বিকাল ৩টা পর্যন্ত সশস্ত্র রাজাকার ও খানসেনাদের সহযোগিতায় কাশিমালা গ্রামে ১৬-১৭টি বাড়ি লুট, আগুনে ধ্বংস এবং অপহরণের পর ৫ মুক্তিযোদ্ধকে গুলিতে হত্যা করে। তাদের লাশ পার্শ্ববর্তী সুদিন রেল ব্রিজের পাশে মাটি চাপা দেয়।

তিন নম্বর অভিযোগ: রাজাকার ও খান সেনাদের সহযোগিতায় খোকা ১৯৭১ সালের ২৫ অক্টোবর রাত ১২টা থেকে ১৩ নভেম্বর সকাল ৯টা পর্যন্ত আদমদীঘির তালশন, কোমারপুর, ছোট আখিরা ও অন্যন্য স্থানে অপারেশন চালিয়ে ৪ জন মুক্তিযোদ্ধা ও ৮ জন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের নিরীহ মানুষকে আদমদীঘি থানায় আটকে রেখে অমানুষিক নির্যাতন চালায়। পরবর্তীতে খারির ব্রিজসংলগ্ন শ্মশানঘাটে নিয়ে ৪ জন মুক্তিযোদ্ধাকে গুলিতে হত্যা করে। অন্যরা পরে ছাড়া পেয়েছেন।

এদিকে বিএনপি নেতা আবদুল মোমিন তালুকদারে এসব মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য আদমদীঘির কায়েতপাড়া গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা সুবেদ আলী ২০১১ সালের ৮ মার্চ থানায় মামলা করেন। পরবর্তীতে মামলাটি আন্তজার্তিক মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর হয়।

গত বছরের ১৮ মে ট্রাইব্যুনালের বিচারপতি শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের ট্রাইব্যুনাল তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। এরপর খোকা আত্মগোপন করেন। এদিকে বিএনপি নেতা খোকার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল হওয়ায় সংসদীয় এলাকার জনগণের মাঝে স্বস্তি দেখা দিয়েছে।