ঢাকা ০১:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘পরিবারের সুখ শান্তিকে তছনছ করে দিয়েছি’: মনোনয়ন না পেয়ে বিএনপি নেত্রী যিশুর মূর্তি ভাঙচুর ইসরাইলি সেনার, বিশ্বজুড়ে তোলপাড় নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে সিরিজে সমতা ফেরাল বাংলাদেশ আমি এই মন্ত্রী, এই মন্ত্রণালয়ে যে দুর্নীতি করবে, ২৪ ঘণ্টা থাকতে পারবে না: শিক্ষামন্ত্রী নিজের জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে সংসদে উদ্বেগের কথা জানালেন হান্নান মাসুদ কাগজপত্র থাকলে সৌদিতে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশি পাসপোর্ট দেওয়ার নির্দেশ ১৮টি দেশে কর্মী পাঠানোর চুক্তি হয়েছে: নুরুল হক পরীক্ষা ভীতি দূর করে আনন্দময় শিক্ষা নিশ্চিত করতে চায় সরকার: মাহদী আমিন বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে যাওয়ার আহ্বান জাপানি প্রধানমন্ত্রীর পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে এনে জনগণকে দেওয়া হবে: তারেক রহমান

বাড়িতে জানেনা আমি রিক্সা চালাই

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মানুষের জীবন বড়ই বৈচিত্রময় । কখন কোন পরিস্থিতিতে মানুষকে পড়তে হবে আদৌ সে জানেনা। একটা কথা আছে সকাল বেলার ধনীরে তুই ফকির সন্ধা বেলা। মানুষের জীবনটা আসলেই এমন । অনিশ্চয়তার চাদরে ঢাকা পুরোটা সময়। গতকাল বাজার থেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনাকাটার পরে বাসায় ফিরব। একটা রিক্সা ডাকলাম। আসতে আসতে রিক্সাওয়ালার সাথে কিছুক্ষণ সময় কথা হল। সেসময় জানতে পারলাম তার রিক্সা চালানোর কাহীনি।

আগে যে ব্যবসা করত। কাচামালের ব্যবসা বেশ ভালই চলছিল তার। ব্যবসায় ভালর জন্য তারই প্রায় ১০ বছরের পরিচিত এক বন্ধুকে নিয়ে আসল। দুজনে মিলে বেশ ভালই চলছিল । কিন্তু সব মানুষ তো আর সমান হয় না। সবাই তো আর ভালোও হয় না। এখানেও তেমনি হল। একদিন সেই বন্ধুটি ৪/৫ লাখ টাকা নিয়ে উধাও। দুর্দিনের সেই শুরু। টাকা হারিয়ে ব্যবসাও বন্ধ হয়ে যায়। এরপর কিছুদিন ছোটখাট ব্যবসা করলেও সেটা ভালো না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত রিক্সা চালাচ্ছেন তিনি । বাড়িতে জানে কিনা জিজ্ঞাস করলে তিনি বলেন, বাড়িতে জানেনা আমি রিক্সা চালাই। সবাই জানে এখনো ছোটখাট ব্যবসা করি।

অন্য আরেকটি ঘটনা। একদিন রিক্সা করে আসছিলাম। অনেকটা রাস্তাই আসতে হয়েছিল রিক্সা করে। তাই বোবা হয়ে বসে থাকার চেয়ে রিক্সা ওয়ালার সাথে কথা বলতে বলতে যাওয়াই ভালো। এই ভেবে তার সাথে কথা বলা শুরু করলাম। রিক্সাওয়ালা যুবক। তার কথায় আমার কিছুটা সন্দেহ হল। কথাগুলো ছিল শুদ্ধ। তাকে জিজ্ঞাস করলাম তার সম্পর্কে। সে বলল সে ঢাকার একটি নাম করা কলেজে (সঙ্গত কারণেই নাম প্রকাশ করা হলনা) ডিগ্রিতে পড়াশোনা করে । তার বাড়ি বরিশালে । তার কথা শুনে তো তাজ্জব বনে যাওয়ার অবস্থা।

জিজ্ঞাস করলাম রিক্সা চালায় কেন? তারচেয়ে কোন জব কিংবা টিউশনি করালেই তো হয়। নিজের খরচটা চালাতে পারে।

জবাবে সে বলল, সকালে দুইজনকে পড়ায়। তারপর রিক্সা নিয়ে বের হয়। ক্লাসের সময় ব্যতীত বাকি সময়টা রিক্সা চালায়। প্রতিদিন তাতে ভালই আয় হয় । কোন এলাকায় রিক্সা চালান জানতে চাইলে সে বলল, কোন এলাকা না, টাকা হলে যেকোন জায়গাতেই চলে যায় । বাড়িতে জানে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে সে বলে, বাড়িতে জানলে বাবা মা খুব কষ্ট পাবে । গরীব মানুষ। আমাকে পড়াশোনা করানোর মত সামর্থ আমার বাবা মায়ের নেই । তাই রিক্সা চালিয়ে পড়াশোনা করি । পাশাপাশি বাড়িতেও মাস শেষে কিছু টাকা পাঠাতে পারি। বাড়িতে জানে আমি চাকরি করি।

বাড়িতে কত দিন পর পর যাওয়া হয় এমন প্রশ্ন করলে সে বলে , ভাই যদি বাড়িতে যাই তাহলে সব মিলিয়ে হয়তো ৭-৮ হাজার টাকা খরচ হয়ে যায় । তারওপর যদি বাড়িতে গিয়ে ৫-৬ দিন সময় নষ্ট হয় তাহলে আমার খুবই কষ্ট হয়ে যায়। তারচেয়ে বাড়িতে যেতে যে খরচটা সেটা যদি বাড়িতে না গিয়ে পাঠিয়ে দেই তাহলে পরিবারের জন্যও ভালো হয়। আবার যে ৫-৬ দিন নষ্ট হওয়ার কথা, সেই দিনগুলোতে আরো ৭-৮ হাজার টাকা ইনকাম করা যায়।

মানুষের জীবনের কত রুপ । নিজের চোখে না দেখলে কোন কিছুই উপলব্দি করা যায় না । ভালো থাকুক এইসব রিক্সা চালকরা। ভালো থাকুক তাদের পরিবার।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

‘পরিবারের সুখ শান্তিকে তছনছ করে দিয়েছি’: মনোনয়ন না পেয়ে বিএনপি নেত্রী

বাড়িতে জানেনা আমি রিক্সা চালাই

আপডেট সময় ০৫:২০:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ অগাস্ট ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মানুষের জীবন বড়ই বৈচিত্রময় । কখন কোন পরিস্থিতিতে মানুষকে পড়তে হবে আদৌ সে জানেনা। একটা কথা আছে সকাল বেলার ধনীরে তুই ফকির সন্ধা বেলা। মানুষের জীবনটা আসলেই এমন । অনিশ্চয়তার চাদরে ঢাকা পুরোটা সময়। গতকাল বাজার থেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনাকাটার পরে বাসায় ফিরব। একটা রিক্সা ডাকলাম। আসতে আসতে রিক্সাওয়ালার সাথে কিছুক্ষণ সময় কথা হল। সেসময় জানতে পারলাম তার রিক্সা চালানোর কাহীনি।

আগে যে ব্যবসা করত। কাচামালের ব্যবসা বেশ ভালই চলছিল তার। ব্যবসায় ভালর জন্য তারই প্রায় ১০ বছরের পরিচিত এক বন্ধুকে নিয়ে আসল। দুজনে মিলে বেশ ভালই চলছিল । কিন্তু সব মানুষ তো আর সমান হয় না। সবাই তো আর ভালোও হয় না। এখানেও তেমনি হল। একদিন সেই বন্ধুটি ৪/৫ লাখ টাকা নিয়ে উধাও। দুর্দিনের সেই শুরু। টাকা হারিয়ে ব্যবসাও বন্ধ হয়ে যায়। এরপর কিছুদিন ছোটখাট ব্যবসা করলেও সেটা ভালো না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত রিক্সা চালাচ্ছেন তিনি । বাড়িতে জানে কিনা জিজ্ঞাস করলে তিনি বলেন, বাড়িতে জানেনা আমি রিক্সা চালাই। সবাই জানে এখনো ছোটখাট ব্যবসা করি।

অন্য আরেকটি ঘটনা। একদিন রিক্সা করে আসছিলাম। অনেকটা রাস্তাই আসতে হয়েছিল রিক্সা করে। তাই বোবা হয়ে বসে থাকার চেয়ে রিক্সা ওয়ালার সাথে কথা বলতে বলতে যাওয়াই ভালো। এই ভেবে তার সাথে কথা বলা শুরু করলাম। রিক্সাওয়ালা যুবক। তার কথায় আমার কিছুটা সন্দেহ হল। কথাগুলো ছিল শুদ্ধ। তাকে জিজ্ঞাস করলাম তার সম্পর্কে। সে বলল সে ঢাকার একটি নাম করা কলেজে (সঙ্গত কারণেই নাম প্রকাশ করা হলনা) ডিগ্রিতে পড়াশোনা করে । তার বাড়ি বরিশালে । তার কথা শুনে তো তাজ্জব বনে যাওয়ার অবস্থা।

জিজ্ঞাস করলাম রিক্সা চালায় কেন? তারচেয়ে কোন জব কিংবা টিউশনি করালেই তো হয়। নিজের খরচটা চালাতে পারে।

জবাবে সে বলল, সকালে দুইজনকে পড়ায়। তারপর রিক্সা নিয়ে বের হয়। ক্লাসের সময় ব্যতীত বাকি সময়টা রিক্সা চালায়। প্রতিদিন তাতে ভালই আয় হয় । কোন এলাকায় রিক্সা চালান জানতে চাইলে সে বলল, কোন এলাকা না, টাকা হলে যেকোন জায়গাতেই চলে যায় । বাড়িতে জানে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে সে বলে, বাড়িতে জানলে বাবা মা খুব কষ্ট পাবে । গরীব মানুষ। আমাকে পড়াশোনা করানোর মত সামর্থ আমার বাবা মায়ের নেই । তাই রিক্সা চালিয়ে পড়াশোনা করি । পাশাপাশি বাড়িতেও মাস শেষে কিছু টাকা পাঠাতে পারি। বাড়িতে জানে আমি চাকরি করি।

বাড়িতে কত দিন পর পর যাওয়া হয় এমন প্রশ্ন করলে সে বলে , ভাই যদি বাড়িতে যাই তাহলে সব মিলিয়ে হয়তো ৭-৮ হাজার টাকা খরচ হয়ে যায় । তারওপর যদি বাড়িতে গিয়ে ৫-৬ দিন সময় নষ্ট হয় তাহলে আমার খুবই কষ্ট হয়ে যায়। তারচেয়ে বাড়িতে যেতে যে খরচটা সেটা যদি বাড়িতে না গিয়ে পাঠিয়ে দেই তাহলে পরিবারের জন্যও ভালো হয়। আবার যে ৫-৬ দিন নষ্ট হওয়ার কথা, সেই দিনগুলোতে আরো ৭-৮ হাজার টাকা ইনকাম করা যায়।

মানুষের জীবনের কত রুপ । নিজের চোখে না দেখলে কোন কিছুই উপলব্দি করা যায় না । ভালো থাকুক এইসব রিক্সা চালকরা। ভালো থাকুক তাদের পরিবার।