ঢাকা ০৫:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

বাড়িতে জানেনা আমি রিক্সা চালাই

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মানুষের জীবন বড়ই বৈচিত্রময় । কখন কোন পরিস্থিতিতে মানুষকে পড়তে হবে আদৌ সে জানেনা। একটা কথা আছে সকাল বেলার ধনীরে তুই ফকির সন্ধা বেলা। মানুষের জীবনটা আসলেই এমন । অনিশ্চয়তার চাদরে ঢাকা পুরোটা সময়। গতকাল বাজার থেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনাকাটার পরে বাসায় ফিরব। একটা রিক্সা ডাকলাম। আসতে আসতে রিক্সাওয়ালার সাথে কিছুক্ষণ সময় কথা হল। সেসময় জানতে পারলাম তার রিক্সা চালানোর কাহীনি।

আগে যে ব্যবসা করত। কাচামালের ব্যবসা বেশ ভালই চলছিল তার। ব্যবসায় ভালর জন্য তারই প্রায় ১০ বছরের পরিচিত এক বন্ধুকে নিয়ে আসল। দুজনে মিলে বেশ ভালই চলছিল । কিন্তু সব মানুষ তো আর সমান হয় না। সবাই তো আর ভালোও হয় না। এখানেও তেমনি হল। একদিন সেই বন্ধুটি ৪/৫ লাখ টাকা নিয়ে উধাও। দুর্দিনের সেই শুরু। টাকা হারিয়ে ব্যবসাও বন্ধ হয়ে যায়। এরপর কিছুদিন ছোটখাট ব্যবসা করলেও সেটা ভালো না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত রিক্সা চালাচ্ছেন তিনি । বাড়িতে জানে কিনা জিজ্ঞাস করলে তিনি বলেন, বাড়িতে জানেনা আমি রিক্সা চালাই। সবাই জানে এখনো ছোটখাট ব্যবসা করি।

অন্য আরেকটি ঘটনা। একদিন রিক্সা করে আসছিলাম। অনেকটা রাস্তাই আসতে হয়েছিল রিক্সা করে। তাই বোবা হয়ে বসে থাকার চেয়ে রিক্সা ওয়ালার সাথে কথা বলতে বলতে যাওয়াই ভালো। এই ভেবে তার সাথে কথা বলা শুরু করলাম। রিক্সাওয়ালা যুবক। তার কথায় আমার কিছুটা সন্দেহ হল। কথাগুলো ছিল শুদ্ধ। তাকে জিজ্ঞাস করলাম তার সম্পর্কে। সে বলল সে ঢাকার একটি নাম করা কলেজে (সঙ্গত কারণেই নাম প্রকাশ করা হলনা) ডিগ্রিতে পড়াশোনা করে । তার বাড়ি বরিশালে । তার কথা শুনে তো তাজ্জব বনে যাওয়ার অবস্থা।

জিজ্ঞাস করলাম রিক্সা চালায় কেন? তারচেয়ে কোন জব কিংবা টিউশনি করালেই তো হয়। নিজের খরচটা চালাতে পারে।

জবাবে সে বলল, সকালে দুইজনকে পড়ায়। তারপর রিক্সা নিয়ে বের হয়। ক্লাসের সময় ব্যতীত বাকি সময়টা রিক্সা চালায়। প্রতিদিন তাতে ভালই আয় হয় । কোন এলাকায় রিক্সা চালান জানতে চাইলে সে বলল, কোন এলাকা না, টাকা হলে যেকোন জায়গাতেই চলে যায় । বাড়িতে জানে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে সে বলে, বাড়িতে জানলে বাবা মা খুব কষ্ট পাবে । গরীব মানুষ। আমাকে পড়াশোনা করানোর মত সামর্থ আমার বাবা মায়ের নেই । তাই রিক্সা চালিয়ে পড়াশোনা করি । পাশাপাশি বাড়িতেও মাস শেষে কিছু টাকা পাঠাতে পারি। বাড়িতে জানে আমি চাকরি করি।

বাড়িতে কত দিন পর পর যাওয়া হয় এমন প্রশ্ন করলে সে বলে , ভাই যদি বাড়িতে যাই তাহলে সব মিলিয়ে হয়তো ৭-৮ হাজার টাকা খরচ হয়ে যায় । তারওপর যদি বাড়িতে গিয়ে ৫-৬ দিন সময় নষ্ট হয় তাহলে আমার খুবই কষ্ট হয়ে যায়। তারচেয়ে বাড়িতে যেতে যে খরচটা সেটা যদি বাড়িতে না গিয়ে পাঠিয়ে দেই তাহলে পরিবারের জন্যও ভালো হয়। আবার যে ৫-৬ দিন নষ্ট হওয়ার কথা, সেই দিনগুলোতে আরো ৭-৮ হাজার টাকা ইনকাম করা যায়।

মানুষের জীবনের কত রুপ । নিজের চোখে না দেখলে কোন কিছুই উপলব্দি করা যায় না । ভালো থাকুক এইসব রিক্সা চালকরা। ভালো থাকুক তাদের পরিবার।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

বাড়িতে জানেনা আমি রিক্সা চালাই

আপডেট সময় ০৫:২০:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ অগাস্ট ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মানুষের জীবন বড়ই বৈচিত্রময় । কখন কোন পরিস্থিতিতে মানুষকে পড়তে হবে আদৌ সে জানেনা। একটা কথা আছে সকাল বেলার ধনীরে তুই ফকির সন্ধা বেলা। মানুষের জীবনটা আসলেই এমন । অনিশ্চয়তার চাদরে ঢাকা পুরোটা সময়। গতকাল বাজার থেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনাকাটার পরে বাসায় ফিরব। একটা রিক্সা ডাকলাম। আসতে আসতে রিক্সাওয়ালার সাথে কিছুক্ষণ সময় কথা হল। সেসময় জানতে পারলাম তার রিক্সা চালানোর কাহীনি।

আগে যে ব্যবসা করত। কাচামালের ব্যবসা বেশ ভালই চলছিল তার। ব্যবসায় ভালর জন্য তারই প্রায় ১০ বছরের পরিচিত এক বন্ধুকে নিয়ে আসল। দুজনে মিলে বেশ ভালই চলছিল । কিন্তু সব মানুষ তো আর সমান হয় না। সবাই তো আর ভালোও হয় না। এখানেও তেমনি হল। একদিন সেই বন্ধুটি ৪/৫ লাখ টাকা নিয়ে উধাও। দুর্দিনের সেই শুরু। টাকা হারিয়ে ব্যবসাও বন্ধ হয়ে যায়। এরপর কিছুদিন ছোটখাট ব্যবসা করলেও সেটা ভালো না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত রিক্সা চালাচ্ছেন তিনি । বাড়িতে জানে কিনা জিজ্ঞাস করলে তিনি বলেন, বাড়িতে জানেনা আমি রিক্সা চালাই। সবাই জানে এখনো ছোটখাট ব্যবসা করি।

অন্য আরেকটি ঘটনা। একদিন রিক্সা করে আসছিলাম। অনেকটা রাস্তাই আসতে হয়েছিল রিক্সা করে। তাই বোবা হয়ে বসে থাকার চেয়ে রিক্সা ওয়ালার সাথে কথা বলতে বলতে যাওয়াই ভালো। এই ভেবে তার সাথে কথা বলা শুরু করলাম। রিক্সাওয়ালা যুবক। তার কথায় আমার কিছুটা সন্দেহ হল। কথাগুলো ছিল শুদ্ধ। তাকে জিজ্ঞাস করলাম তার সম্পর্কে। সে বলল সে ঢাকার একটি নাম করা কলেজে (সঙ্গত কারণেই নাম প্রকাশ করা হলনা) ডিগ্রিতে পড়াশোনা করে । তার বাড়ি বরিশালে । তার কথা শুনে তো তাজ্জব বনে যাওয়ার অবস্থা।

জিজ্ঞাস করলাম রিক্সা চালায় কেন? তারচেয়ে কোন জব কিংবা টিউশনি করালেই তো হয়। নিজের খরচটা চালাতে পারে।

জবাবে সে বলল, সকালে দুইজনকে পড়ায়। তারপর রিক্সা নিয়ে বের হয়। ক্লাসের সময় ব্যতীত বাকি সময়টা রিক্সা চালায়। প্রতিদিন তাতে ভালই আয় হয় । কোন এলাকায় রিক্সা চালান জানতে চাইলে সে বলল, কোন এলাকা না, টাকা হলে যেকোন জায়গাতেই চলে যায় । বাড়িতে জানে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে সে বলে, বাড়িতে জানলে বাবা মা খুব কষ্ট পাবে । গরীব মানুষ। আমাকে পড়াশোনা করানোর মত সামর্থ আমার বাবা মায়ের নেই । তাই রিক্সা চালিয়ে পড়াশোনা করি । পাশাপাশি বাড়িতেও মাস শেষে কিছু টাকা পাঠাতে পারি। বাড়িতে জানে আমি চাকরি করি।

বাড়িতে কত দিন পর পর যাওয়া হয় এমন প্রশ্ন করলে সে বলে , ভাই যদি বাড়িতে যাই তাহলে সব মিলিয়ে হয়তো ৭-৮ হাজার টাকা খরচ হয়ে যায় । তারওপর যদি বাড়িতে গিয়ে ৫-৬ দিন সময় নষ্ট হয় তাহলে আমার খুবই কষ্ট হয়ে যায়। তারচেয়ে বাড়িতে যেতে যে খরচটা সেটা যদি বাড়িতে না গিয়ে পাঠিয়ে দেই তাহলে পরিবারের জন্যও ভালো হয়। আবার যে ৫-৬ দিন নষ্ট হওয়ার কথা, সেই দিনগুলোতে আরো ৭-৮ হাজার টাকা ইনকাম করা যায়।

মানুষের জীবনের কত রুপ । নিজের চোখে না দেখলে কোন কিছুই উপলব্দি করা যায় না । ভালো থাকুক এইসব রিক্সা চালকরা। ভালো থাকুক তাদের পরিবার।