ঢাকা ০৪:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাজধানীতে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ ও আধুনিক ওসমানী উদ্যান উদ্বোধন করলেন শেরেবাংলা নগরে সরছে সচিবালয়, অনুমোদন দিল মন্ত্রিসভা দেশ গড়ার কাজে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে বাংলাদেশ চুপ থাকবে না: শামা ওবায়েদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সফল পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

যেভাবে টাইটানিক থেকে বেঁচে ফিরেছিলেন নরিস

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

‘টাইটানিক’ বললেই মানুষের চোখের সামনে ভেসে ওঠে রোজ-জ্যাকের বিষাদঘন প্রেমের আখ্যান। চোখের সামনে জ্যাক তলিয়ে গেলেন সমুদ্রের হিমশীতল জলের ভিতরে। বেঁচে গিয়েছিলেন রোজ।

ওই দৃশ্য সেলুলয়েডের কাহিনি মাত্র। সত্যিকারের টাইটানিকে রোজ বা জ্যাক কেউই ছিলেন না। কিন্তু অতিকায় জাহাজডুবির ঐতিহাসিক ঘটনায় রোজের মতো কেউ কেউ ফিরে এসেছিলেন।

টাইটানিক থেকে বেঁচে ফেরা মানুষদের মধ্যে একজন ছিলেন রিচার্ড নরিস উইলিয়ামস। নরিসের মানুষটির জীবন রুপালি পর্দার কাহিনিকেও হার মানায়।

১৯১২ সালের এপ্রিল মাসে টাইটানিকে ছিলেন নরিস। জাহাজডুবির পরে তিনি সমুদ্রের হিমশীতল পানিতে ভেসে ছিলেন দীর্ঘ সময়।

কিন্তু ধৈর্য হারান হননি নরিস। শেষ পর্যন্ত উদ্ধারকারী দল গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। পানিতে যখন তিনি ভেসে ছিলেন তখন ঠান্ডায় তার পা অবশ হয়ে গিয়েছিল। পরে পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছে যে, নরিসের পা কেটে ফেলার চিন্তা করছিলেন চিকিৎসকরা। কিন্তু হাল ছাড়েননি নরিস। তিনি চিকিৎসকদের জানান, তিনি ঠিকই ফিরে আসবেন।

তিনি দেখিয়ে দিয়েছিলেন এভাবেও ফিরে আসা যায়। কবির নজরে এপ্রিল ‘নিষ্ঠুরতম’ মাস হতে পারে, কিন্তু সে সদয় হয়েছিল নরিসের প্রতি। ফিরে এসে দীর্ঘ জীবন পেয়েছিলেন। ১৯৬৮ সালে মৃত্যু হয় তার।

কেবল দীর্ঘ জীবন পাওয়াই নয়, সেই জীবনকে সাফল্যের চুড়োতেও নিয়ে গিয়েছিলেন নরিস। টেনিসকে কেরিয়ার হিসেবে গড়েছিলেন তিনি।

ইউএস ওপেন খেলতে নেমে দুইবার চ্যাম্পিয়ন। উইলম্বডন সেমিফাইনালিস্ট। নরিস দেখিয়ে দিয়েছিলেন ইচ্ছাশক্তি থাকলে একজন মানুষ কীভাবে নিজের জীবনে জয়ী হতে পারেন।

পর্দার ‘জ্যাক’কে বাঁচাননি পরিচালক জেমস ক্যামেরন। কিন্তু রক্তমাংসের দুনিয়ায় সুদর্শন নরিস ফিরেছিলেন। মনের জোর ও জীবনের প্রতি দুর্বার ভালবাসাকে সঙ্গী করে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

যেভাবে টাইটানিক থেকে বেঁচে ফিরেছিলেন নরিস

আপডেট সময় ০৭:১১:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ এপ্রিল ২০১৮

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

‘টাইটানিক’ বললেই মানুষের চোখের সামনে ভেসে ওঠে রোজ-জ্যাকের বিষাদঘন প্রেমের আখ্যান। চোখের সামনে জ্যাক তলিয়ে গেলেন সমুদ্রের হিমশীতল জলের ভিতরে। বেঁচে গিয়েছিলেন রোজ।

ওই দৃশ্য সেলুলয়েডের কাহিনি মাত্র। সত্যিকারের টাইটানিকে রোজ বা জ্যাক কেউই ছিলেন না। কিন্তু অতিকায় জাহাজডুবির ঐতিহাসিক ঘটনায় রোজের মতো কেউ কেউ ফিরে এসেছিলেন।

টাইটানিক থেকে বেঁচে ফেরা মানুষদের মধ্যে একজন ছিলেন রিচার্ড নরিস উইলিয়ামস। নরিসের মানুষটির জীবন রুপালি পর্দার কাহিনিকেও হার মানায়।

১৯১২ সালের এপ্রিল মাসে টাইটানিকে ছিলেন নরিস। জাহাজডুবির পরে তিনি সমুদ্রের হিমশীতল পানিতে ভেসে ছিলেন দীর্ঘ সময়।

কিন্তু ধৈর্য হারান হননি নরিস। শেষ পর্যন্ত উদ্ধারকারী দল গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। পানিতে যখন তিনি ভেসে ছিলেন তখন ঠান্ডায় তার পা অবশ হয়ে গিয়েছিল। পরে পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছে যে, নরিসের পা কেটে ফেলার চিন্তা করছিলেন চিকিৎসকরা। কিন্তু হাল ছাড়েননি নরিস। তিনি চিকিৎসকদের জানান, তিনি ঠিকই ফিরে আসবেন।

তিনি দেখিয়ে দিয়েছিলেন এভাবেও ফিরে আসা যায়। কবির নজরে এপ্রিল ‘নিষ্ঠুরতম’ মাস হতে পারে, কিন্তু সে সদয় হয়েছিল নরিসের প্রতি। ফিরে এসে দীর্ঘ জীবন পেয়েছিলেন। ১৯৬৮ সালে মৃত্যু হয় তার।

কেবল দীর্ঘ জীবন পাওয়াই নয়, সেই জীবনকে সাফল্যের চুড়োতেও নিয়ে গিয়েছিলেন নরিস। টেনিসকে কেরিয়ার হিসেবে গড়েছিলেন তিনি।

ইউএস ওপেন খেলতে নেমে দুইবার চ্যাম্পিয়ন। উইলম্বডন সেমিফাইনালিস্ট। নরিস দেখিয়ে দিয়েছিলেন ইচ্ছাশক্তি থাকলে একজন মানুষ কীভাবে নিজের জীবনে জয়ী হতে পারেন।

পর্দার ‘জ্যাক’কে বাঁচাননি পরিচালক জেমস ক্যামেরন। কিন্তু রক্তমাংসের দুনিয়ায় সুদর্শন নরিস ফিরেছিলেন। মনের জোর ও জীবনের প্রতি দুর্বার ভালবাসাকে সঙ্গী করে।