বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন হলো রাজকীয় রয়েল বেঙ্গল টাইগারের প্রধান আবাসস্থল। বাঘ মূলত মার্জার বা বিড়াল পরিবারের সদস্য এবং এই প্রজাতির মধ্যে এটি সবচেয়ে বড় ও শক্তিশালী প্রাণী। বিড়ালের শারীরিক গঠন ও আচরণের সঙ্গে বাঘের ব্যাপক মিল থাকায় লোকজ ভাষায় বিড়ালকে ‘বাঘের মাসি’ হিসেবে অভিহিত করা হয়। প্রশ্ন: বাংলাদেশের জাতীয় পশুর নাম কী এবং এটি কোথায় বাস করে। প্রশ্ন: কোন কোন বৈশিষ্ট্য বাঘকে দক্ষ শিকারি বানিয়েছে। প্রশ্ন: বাঘের সাঁতারের ব্যাপারে কী বলা হয়।
একটি পূর্ণবয়স্ক পুরুষ বাঘের গড় ওজন প্রায় ২২০ কেজি এবং বাঘিনীর গড় ওজন ১৪০ কেজির মতো হয়ে থাকে। এদের কাঁধের উচ্চতা সাধারণত ১০০ সেন্টিমিটারের কাছাকাছি হয়। রয়েল বেঙ্গল টাইগারের গায়ের রঙ সাধারণত হলুদ থেকে গাঢ় কমলা রঙের হয় এবং সারা শরীরে কালো রঙের ডোরাকাটা দাগ থাকে, যা একে স্বতন্ত্র রূপ দেয়। তবে বাঘের পেটের দিকটি ধবধবে সাদা রঙের হয়।
শিকারের কৌশলে বাঘ অত্যন্ত দক্ষ।
এদের থাবার নিচের অংশ অত্যন্ত নরম ও পুরু হওয়ায় হাঁটার সময় কোনো শব্দ হয় না। শিকারের সময় বাঘের থাবা থেকে নখর বেরিয়ে আসে। এছাড়া এদের প্রখর দৃষ্টি, শ্রবণ ও ঘ্রাণশক্তি শিকারের ক্ষেত্রে বড় সহায়তা করে। বাঘের চোয়াল ও দাঁত অত্যন্ত শক্তিশালী, যা খাবার চিবানোর কাজে লাগে। বিশেষ করে পানির স্রোতের বিপরীতেও নিখুঁতভাবে সাঁতরে নদী বা খাল পার হওয়ার অনন্য ক্ষমতা বাঘের রয়েছে। এই বিশেষ গঠনের কারণে বনের ভেতরে হাঁটা বা শিকার ধরার সময় বাঘের পায়ের কোনো শব্দ হয় না। যদি স্রোতের কারণে কিছুদূর সরে যায়, তবে আবার ঠিক আগের জায়গায় ফিরে আসে।
সুন্দরবনের হরিণ, বুনো শূকর ও বানর বাঘের প্রধান খাদ্য। একটি পূর্ণবয়স্ক বাঘ প্রতিদিন গড়ে ৭ থেকে ৮ কেজি কাঁচা মাংস খেয়ে থাকে। বাঘ সাধারণত ৩০ থেকে ৩৫ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। বাঘিনী সাধারণত প্রতি তিন বছর অন্তর ৩ থেকে ৪টি করে বাচ্চা দেয়, যারা প্রায় এক বছর পর্যন্ত মায়ের সান্নিধ্যে থাকে। প্রশ্ন: বাঘ কীভাবে নিঃশব্দে চলাফেরা করতে পারে। ফলে সে নিঃশব্দে শিকারের খুব কাছে পৌঁছাতে পারে। উত্তর: বাঘ খুব ভালো সাঁতার কাটতে পারে। ∎ পাঠ থেকে কে, কী, কখন, কোথায়, কেন, কীভাবে ইত্যাদি ব্যবহার করে প্রশ্ন তৈরি করো।
দুর্ভাগ্যজনকভাবে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও মানুষের শিকারের কারণে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কমে যাচ্ছে। অনেক সময় চামড়া বা শরীরের অন্যান্য অঙ্গের লোভে চোরা শিকারিরা বাঘ মেরে ফেলে, যা প্রাণীটিকে বিলুপ্তির মুখে ঠেলে দিয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিলে বাঘের জীবন বিপন্ন হয়।
শব্দ ও অর্থের সামঞ্জস্য রক্ষায় কিছু বিপরীত শব্দ গুরুত্বপূর্ণ।
যেমন: নরমের বিপরীত শব্দ শক্ত (বাক্য: প্রচণ্ড রোদে মাটি শক্ত হয়ে যায়), সুন্দরের বিপরীত বিশ্রী (বাক্য: ডাস্টবিনের নোংরা থেকে বিশ্রী গন্ধ আসে), সোজার বিপরীত বাঁকা (বাক্য: বাঁকা পথ ধরে গ্রামে যাওয়া যায়), তীক্ষ্ণের বিপরীত ভোঁতা (বাক্য: ভোঁতা ছুরিতে ধার দেওয়া হচ্ছে), এবং মজবুতের বিপরীত দুর্বল (বাক্য: বয়সের ভারে মানুষ দুর্বল হয়ে যায়)। সুন্দর—বিশ্রী: রাস্তার পাশের নোংরা ডাস্টবিন থেকে বিশ্রী গন্ধ আসছে। সোজা—বাঁকা: বাঁকা পথ ধরে গ্রামের দিকে যাওয়া যাবে। তীক্ষ্ণ—ভোঁতা: দাদু তার ভোঁতা ছুরিতে ধার দিচ্ছেন। মো. সুজাউদ দৌলা, সহকারী অধ্যাপক রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 























