ঢাকা ১০:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কোনোভাবেই উগ্রবাদকে প্রশ্রয় দেবে না সরকার:প্রধানমন্ত্রী অহংকারী মনোভাব বাদ দিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরকারের বসা উচিত:নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ২৬ কার্যদিবসের বাজেট অধিবেশন সমাপ্ত, ১০ সরকারি বিল পাস এমপিরা পৃষ্ঠপোষক না হলে দুর্নীতি কানে ধরে বিদায় নেবে:সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা সরকারি সব সুযোগ-সুবিধা নিয়ে চালু হবে ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ বস্ত্র খাত পুনরুজ্জীবনে গভর্নরকে বিটিএমএ’র ১০ দফা প্রস্তাব থানায় গায়ে কেরোসিন ঢেলে আত্মহত্যার চেষ্টা, উদ্ধার করল পুলিশ কাতারের সাবেক আমিরের স্মরণে রাজধানীতে সড়কের নামকরণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর জুলাইকে ইতিহাসের পাতায় তুলে ধরার আহ্বান বিরোধীদলীয় নেতার জুলাইয়ের প্রথম ১৪ দিনে দেশে এলো ১৫৪ কোটি ২০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স

চাকরি চাই না, অন্তত একটা চোখের আলো ফিরিয়ে দিন: সিদ্দিকুর

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

‘চোখের আলো ফিরিয়ে দিন, আমি পৃথিবীর আলো দেখতে চাই, প্রকৃতির সৌন্দর্য্য উপভোগ চাই। আমার সরকারি চাকরির দরকার নেই। প্রয়োজনে আমি যেকোনো কাজ করে খাব। গায়ে খাটব। তাও আমি অন্তত একটা চোখের আলো ফেরত চাই।’

ভারতের চেন্নাইয়ের শঙ্কর নেত্রালয়ে চিকিৎসাধীন তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী সিদ্দিকুর এভাবেই তাঁর বন্ধু শেখ ফরিদের কাছে সোমবার এই আকুতি জানান। সম্প্রতি স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম সিদ্দিকুর দেশে ফেরার পর স্বাস্থ্য অধিদফতরের অধীনে তাঁর চাকরির ব্যবস্থা করার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী সিদ্দিকুর রহমানের বাঁ চোখেও দৃষ্টি ফেরার সম্ভাবনা ক্ষীণ। এ ছাড়া আপাতত তাঁর চোখ প্রতিস্থাপনের সম্ভাবনাও নেই। ফলে সিদ্দিকুর বেশ বিমর্ষ হয়ে পড়েছেন বলে জানান তার বন্ধু শেখ ফরিদ। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, ১১ জুলাই শুক্রবার সিদ্দিকুর দেশে ফিরবেন।

শেখ ফরিদ জানান, ডাক্তাররা বৃহস্পতিবার আবার সিদ্দিকুরকে দেখবেন। আগামী চার-পাঁচ সপ্তাহ চোখে ওষুধ দেওয়া আর পর্যবেক্ষণে রাখা ছাড়া অন্য কোনো চিকিৎসা নেই। চোখে আলো ফিরবে কি না, এর পরই তা বোঝা যাবে। দেশের হাসপাতালে রেখেও এ পর্যবেক্ষণ চলতে পারে। তাই সিদ্দিকুরকে দেশে ফিরিয়ে এনে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে রাখা হবে।

শেখ ফরিদ আরো জানান, চেন্নাইয়ের ডাক্তাররা জানিয়েছেন, রেটিনা মূলত চোখে আলো দেয়। সেই রেটিনার ৯০ শতাংশই একেবারে নষ্ট হয়ে গেছে সিদ্দিকুরের। এ ছাড়া বেশির ভাগ নার্ভ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে চোখ প্রতিস্থাপনের সুযোগও নেই। যদি পরে আরো উন্নত চিকিৎসা করা যায়, তাহলে বোঝা যাবে প্রতিস্থাপনের কোনো সুযোগ আছে কি না।

গত ২০ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাত কলেজের ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা চেয়ে বিক্ষোভের সময় শাহবাগে পুলিশের ছোড়া টিয়ার শেলের আঘাতে সিদ্দিকুরের দুই চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘটনার দিনই তাঁকে জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঢাকায় অস্ত্রোপচারের পর সিদ্দিকুর রহমানের ডান চোখে দৃষ্টি ফেরার সম্ভাবনা নেই বলে জানান চিকিৎসকরা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কোনোভাবেই উগ্রবাদকে প্রশ্রয় দেবে না সরকার:প্রধানমন্ত্রী

চাকরি চাই না, অন্তত একটা চোখের আলো ফিরিয়ে দিন: সিদ্দিকুর

আপডেট সময় ০৪:১২:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ অগাস্ট ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

‘চোখের আলো ফিরিয়ে দিন, আমি পৃথিবীর আলো দেখতে চাই, প্রকৃতির সৌন্দর্য্য উপভোগ চাই। আমার সরকারি চাকরির দরকার নেই। প্রয়োজনে আমি যেকোনো কাজ করে খাব। গায়ে খাটব। তাও আমি অন্তত একটা চোখের আলো ফেরত চাই।’

ভারতের চেন্নাইয়ের শঙ্কর নেত্রালয়ে চিকিৎসাধীন তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী সিদ্দিকুর এভাবেই তাঁর বন্ধু শেখ ফরিদের কাছে সোমবার এই আকুতি জানান। সম্প্রতি স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম সিদ্দিকুর দেশে ফেরার পর স্বাস্থ্য অধিদফতরের অধীনে তাঁর চাকরির ব্যবস্থা করার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী সিদ্দিকুর রহমানের বাঁ চোখেও দৃষ্টি ফেরার সম্ভাবনা ক্ষীণ। এ ছাড়া আপাতত তাঁর চোখ প্রতিস্থাপনের সম্ভাবনাও নেই। ফলে সিদ্দিকুর বেশ বিমর্ষ হয়ে পড়েছেন বলে জানান তার বন্ধু শেখ ফরিদ। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, ১১ জুলাই শুক্রবার সিদ্দিকুর দেশে ফিরবেন।

শেখ ফরিদ জানান, ডাক্তাররা বৃহস্পতিবার আবার সিদ্দিকুরকে দেখবেন। আগামী চার-পাঁচ সপ্তাহ চোখে ওষুধ দেওয়া আর পর্যবেক্ষণে রাখা ছাড়া অন্য কোনো চিকিৎসা নেই। চোখে আলো ফিরবে কি না, এর পরই তা বোঝা যাবে। দেশের হাসপাতালে রেখেও এ পর্যবেক্ষণ চলতে পারে। তাই সিদ্দিকুরকে দেশে ফিরিয়ে এনে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে রাখা হবে।

শেখ ফরিদ আরো জানান, চেন্নাইয়ের ডাক্তাররা জানিয়েছেন, রেটিনা মূলত চোখে আলো দেয়। সেই রেটিনার ৯০ শতাংশই একেবারে নষ্ট হয়ে গেছে সিদ্দিকুরের। এ ছাড়া বেশির ভাগ নার্ভ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে চোখ প্রতিস্থাপনের সুযোগও নেই। যদি পরে আরো উন্নত চিকিৎসা করা যায়, তাহলে বোঝা যাবে প্রতিস্থাপনের কোনো সুযোগ আছে কি না।

গত ২০ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাত কলেজের ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা চেয়ে বিক্ষোভের সময় শাহবাগে পুলিশের ছোড়া টিয়ার শেলের আঘাতে সিদ্দিকুরের দুই চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘটনার দিনই তাঁকে জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঢাকায় অস্ত্রোপচারের পর সিদ্দিকুর রহমানের ডান চোখে দৃষ্টি ফেরার সম্ভাবনা নেই বলে জানান চিকিৎসকরা।