ঢাকা ০৮:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আপিল শুনানিতে কোনো ধরনের পক্ষপাত করিনি : সিইসি নির্বাচনে অংশ নেবে কিনা ভাববে এনসিপি : আসিফ মাহমুদ প্রশাসন ধীরে ধীরে একটি রাজনৈতিক দলের দিকে ঝুঁকে পড়ছে : আব্দুল্লাহ মো. তাহের একটি রাজনৈতিক দল বিভিন্ন এলাকা থেকে ভোটারদের ঢাকায় স্থানান্তর করে আনছে: ফখরুলের অভিযোগ নরসিংদীতে দুই ব্যবসায়ীর ঝগড়ায় একজনের মৃত্যু, অভিযুক্তর বাড়িতে ভাঙচুর-আগুন ৭ কলেজ নিয়ে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ অধ্যাদেশ চূড়ান্ত আমি এসেছি শুধু শুনতে, শিখতে এবং একসঙ্গে কাজ করার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে যেতে: জাইমা রহমান চাকরির ক্ষেত্রে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হয়েছে কিনা তা দেখা উচিত : আমীর খসরু ওসমানী হাসপাতাল ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার যুক্তরাষ্ট্রেকেও খেসারত দিতে হবে, ফরাসি কৃষিমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি

এবার এশার বহিষ্কারাদেশ তুলল ঢাবি

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

কোটা সংস্কারে আন্দোলনের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি সুফিয়া কামাল হলে এক ছাত্রীকে পায়ের রগ কেটে দেওয়ার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কৃত ছাত্রলীগ নেত্রী ইফফাত জাহান এশার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বুধবার বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এ কে এম গোলাম রব্বানী বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে দৈনিক আকাশকে নিশ্চিত করেছেন।

এশার বহিষ্কারাদেশ তুলে নেওয়ার পাশাপাশি ১০ এপ্রিল কবি সুফিয়া কামাল হলের ঘটনায় ওই হলের ২৬ ছাত্রীকে চিহ্নিত করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান জানিয়েছেন, ১০ এপ্রিলের ঘটনায় জড়িত ২৬ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাদের শোকজ করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে তদন্তানুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এশার বিরুদ্ধে হলে কোটা আন্দোলনে যোগ দেয়া ছাত্রীদের মারধর এবং মোর্শেদার রগ কেটে দেয়ার গুজব ছড়িয়ে তাকে আপত্তিকর সাজা দিয়ে হল থেকে বের করে দেয়া হয়েছিল। আর এই ঘটনার ছয় দিন পর সোমবার রাতে ছাত্রলীগের এক বিজ্ঞপ্তিতে ২৪ জনকে বহিষ্কারের এই আদেশ দেয়ার কথা জানানো হয়।

গত ১০ এপ্রিল দিবাগত গভীর রাতে হলে কোটা সংস্কার আন্দোলনে যোগ দেয়া ছাত্রীদেরকে মারধরের অভিযোগ উঠে। আর তার কক্ষে মোর্শেদার সঙ্গে বাদানুবাদ হয় ওই রাতে এবং এই ছাত্রলীগ নেত্রীর পা কেটে যায় ঘটনাচক্রে।

কিন্তু সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া হয় মোর্শেদার পায়ের রগ কেটে দিয়েছেন এশা। আর মূলধারার গণমাধ্যমগুলোও এই খবর যাচাই না করেই প্রচার করে।

আর এই ঘটনা প্রকাশের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্সের ছাত্রী এশাকে তাৎক্ষণিক বহিষ্কার করে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি। পরে তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও বহিষ্কার করা হয়।

পরে জানা যায়, রগ কাটার প্রচার নিতান্তই গুজব। মোর্শেদা কাঁচের জানলায় লাথি মারার পর তার পা কেটে যায়।

কোটা সংস্কার আন্দোলনের পক্ষে ছিল না ছাত্রলীগ। তবে সংগঠনের অবস্থানের বাইরে গিয়ে মোর্শেদা কোটা এই আন্দোলনের অংশ নেন। আর এ কারণে এশা তাকে ডেকে নিয়ে গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগ আছে।

আর মোর্শেদার রগ কাটার এই গুজব ছড়ানোর পর ছেলেদের বিভিন্ন হল থেকে কয়েক হাজার ছাত্র সুফিয়া কামাল হলে গিয়ে বিক্ষোভ করে। আর হলের ভেতরেও মেয়েরা তাকে ঘিরে ধরে লাঞ্ছনা করে।

পরে এশাকে আপত্তিকর সাজা দিয়ে হল থেকে বের করে দেয়া হয়। এ সময় তার জামা ধরেও টানাটানি করে কয়েকজন ছেলে। তাকে জুতার মালা পড়িয়ে এই ভিডিও সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়া হয়।

এই ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর তীব্র সমালোচনা তৈরি হয়েছে। সমালোচকরা বলছেন, এশার বিরুদ্ধে ছাত্রী নিপীড়নের অভিযোগ থাকলে তদন্ত করে তার সাজা হবে। কিন্তু এভাবে আপত্তিকর সাজা কখনও গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

পরে ছাত্রলীগের তদন্ত কমিটি অভিযোগের প্রমাণ না পাওয়া পর গত ১৩ এপ্রিল এশার বহিষ্কারাদেশ তুলে নেয়। আগের দিনই অবশ্য তাকে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে হলে তোলা হয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এবার এশার বহিষ্কারাদেশ তুলল ঢাবি

আপডেট সময় ১২:১০:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ এপ্রিল ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

কোটা সংস্কারে আন্দোলনের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি সুফিয়া কামাল হলে এক ছাত্রীকে পায়ের রগ কেটে দেওয়ার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কৃত ছাত্রলীগ নেত্রী ইফফাত জাহান এশার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বুধবার বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এ কে এম গোলাম রব্বানী বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে দৈনিক আকাশকে নিশ্চিত করেছেন।

এশার বহিষ্কারাদেশ তুলে নেওয়ার পাশাপাশি ১০ এপ্রিল কবি সুফিয়া কামাল হলের ঘটনায় ওই হলের ২৬ ছাত্রীকে চিহ্নিত করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান জানিয়েছেন, ১০ এপ্রিলের ঘটনায় জড়িত ২৬ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাদের শোকজ করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে তদন্তানুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এশার বিরুদ্ধে হলে কোটা আন্দোলনে যোগ দেয়া ছাত্রীদের মারধর এবং মোর্শেদার রগ কেটে দেয়ার গুজব ছড়িয়ে তাকে আপত্তিকর সাজা দিয়ে হল থেকে বের করে দেয়া হয়েছিল। আর এই ঘটনার ছয় দিন পর সোমবার রাতে ছাত্রলীগের এক বিজ্ঞপ্তিতে ২৪ জনকে বহিষ্কারের এই আদেশ দেয়ার কথা জানানো হয়।

গত ১০ এপ্রিল দিবাগত গভীর রাতে হলে কোটা সংস্কার আন্দোলনে যোগ দেয়া ছাত্রীদেরকে মারধরের অভিযোগ উঠে। আর তার কক্ষে মোর্শেদার সঙ্গে বাদানুবাদ হয় ওই রাতে এবং এই ছাত্রলীগ নেত্রীর পা কেটে যায় ঘটনাচক্রে।

কিন্তু সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া হয় মোর্শেদার পায়ের রগ কেটে দিয়েছেন এশা। আর মূলধারার গণমাধ্যমগুলোও এই খবর যাচাই না করেই প্রচার করে।

আর এই ঘটনা প্রকাশের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্সের ছাত্রী এশাকে তাৎক্ষণিক বহিষ্কার করে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি। পরে তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও বহিষ্কার করা হয়।

পরে জানা যায়, রগ কাটার প্রচার নিতান্তই গুজব। মোর্শেদা কাঁচের জানলায় লাথি মারার পর তার পা কেটে যায়।

কোটা সংস্কার আন্দোলনের পক্ষে ছিল না ছাত্রলীগ। তবে সংগঠনের অবস্থানের বাইরে গিয়ে মোর্শেদা কোটা এই আন্দোলনের অংশ নেন। আর এ কারণে এশা তাকে ডেকে নিয়ে গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগ আছে।

আর মোর্শেদার রগ কাটার এই গুজব ছড়ানোর পর ছেলেদের বিভিন্ন হল থেকে কয়েক হাজার ছাত্র সুফিয়া কামাল হলে গিয়ে বিক্ষোভ করে। আর হলের ভেতরেও মেয়েরা তাকে ঘিরে ধরে লাঞ্ছনা করে।

পরে এশাকে আপত্তিকর সাজা দিয়ে হল থেকে বের করে দেয়া হয়। এ সময় তার জামা ধরেও টানাটানি করে কয়েকজন ছেলে। তাকে জুতার মালা পড়িয়ে এই ভিডিও সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়া হয়।

এই ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর তীব্র সমালোচনা তৈরি হয়েছে। সমালোচকরা বলছেন, এশার বিরুদ্ধে ছাত্রী নিপীড়নের অভিযোগ থাকলে তদন্ত করে তার সাজা হবে। কিন্তু এভাবে আপত্তিকর সাজা কখনও গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

পরে ছাত্রলীগের তদন্ত কমিটি অভিযোগের প্রমাণ না পাওয়া পর গত ১৩ এপ্রিল এশার বহিষ্কারাদেশ তুলে নেয়। আগের দিনই অবশ্য তাকে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে হলে তোলা হয়।