অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
দেশে ব্যাংকিং খাতে নৈরাজ্য চলছে অভিযোগ করে এটি থেকে উত্তরণ কীভাবে হবে, সেই প্রশ্ন রেখেছেন সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ।
বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে উত্তরণের প্রাথমিক স্বীকৃতিপত্র পাওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জনগণের প্রতি আনা এক ধন্যবাদ প্রস্তাবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই কথা বলেন রওশন।
বৃহস্পতিবার সংসদে জাতীয় পার্টির সদস্য রুস্তম আলী ফরাজী এই প্রস্তাবটি আনেন। এরপর আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, জাসদ, তরীকত ফেডারেশন, বিএনএফের ২০ জনেরও বেশি সংসদ সদস্য এই প্রস্তাবের ওপর বক্তব্য রাখেন। সবার শেষে বক্তব্য রাখেন রওশন।
রওশন এরশাদও প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। তবে এই উত্তরণে বাংলাদেশের জন্য কিছু ঝুঁকি আছে, সেটি জানিয়ে তা মোকাবেলা করতে পরিকল্পনা করার তাগাদা দেন।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘দেখা যাচ্ছে ব্যাংকিং খাতের নৈরাজ্য চলছে, তা উৎরাবেন কী করে, আমাদের সে কথা চিন্তা করতে হবে।’
সুশাসন নিশ্চিত করা, বেকার সমস্যা সমাধানে পর্যাপ্ত শিল্প গড়ে না উঠা, বিনিয়োগে নিম্নগতির কথা তুলে ধরেন রওশন। এ ছাড়া উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ হয়ে গেছে বাংলাদেশের যে কিছু সুযোগ সুবিধা কমে যাবে, সেটিও বলেন তিনি।
বাংলাদেশের ‘চ্যালেঞ্জ’
রওশন বলেন, ‘যখন একটি দেশ এলডিসি থেকে উত্তরণ হয় তখন বিদেশি অনুদান ও কম সুদে ঋণ প্রাপ্তি কমে যায়। বেশি সুদে ঋণ সুবিধা দিতে হয়। এখন বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উত্তরণের ফলে অনুদান ও কম সুদে ঋণ সুবিধা পাবে না।’
বেকারত্বের বিষয়টিও বিশেষভাবে তুলে ধরেন রওশন। বলেন, ‘২০১৬ সালে বিশ্বব্যাংক বলেছিল আমাদের দেশে সাড়ে পাঁচ কোটি মানুষ আছে, তাদের কোনো কর্মসংস্থান নেই। এই কর্মসংস্থান না থাকায় শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কথা বলেছিল তারা। আমরা এখনও তেমন শিল্প কারখানা গড়ে তুলতে পারিনি। গত দুই বছরে মাত্র চার লক্ষ লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে।’
‘২০১৬ সালে কৃষিখাতে নিয়োজিত ছিল দুই কোটি ৫৪ লাখ মানুষ। আর এই বছর তা কমে গেছে প্রায় সাত লাখ। এর কারণ প্রতিকূল প্রাকৃতিক পরিবেশ। এই খাতে বিনিয়োগে অনিশ্চয়তা এবং শ্রমের ন্যায্যমূল্য না পাওয়া।’
বেসরকারি খাতে কাঙ্ক্ষিত বিনিয়োগ না হওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন বিরোধীদলীয় নেতা। বলেন, ‘গত কয়েকবছর ধরে দেখা গেছে বেসরকারি বিনিয়োগের হার কমছে।’
‘এবার প্রবৃদ্ধির মাত্রা ধরা হয়েছে ৭.৪ শতাংশ। এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে হলে জিডিপির ২৪ শতাংশ বিনিয়োগের প্রয়োজন। অর্থাৎ চলতি বছর বেসরকারি খাতে পাঁচ লাখ ২৪ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ দরকার। কিন্তু বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ প্রদত্ত তথ্যমতে এ বছর প্রথম ছয় মাসে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ হয়েছে ৬০ হাজার কোটি টাকা। যা গত অর্থবছরের এই সময় ছিল ৭৯ হাজার কোটি টাকা।’
‘এই বিনিয়োগ আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ। কারণ স্বল্পোন্নত দেশের বিনিয়োগ আর উন্নয়নশীল দেশের মধ্যে বিনিয়োগের সুবিধার মধ্যে তারতম্য আছে। স্বল্পোন্নত দেশের চাইতে উন্নয়নশীল দেশে করের পরিমাণ বাড়ে বলে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ সৃষ্টিতে বাধার কারণ হতে পারে।’
‘তাছাড়া বাংলাদেশে বেসরকারি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কিছু প্রতিবন্ধকতাও আছে। এর অন্যতম হলো শিল্প প্রতিষ্ঠানে কাঁচামালের যোগান সমস্যা, গ্যাস-বিদ্যুৎ সমস্যা, শ্রম আইনের বাস্তবায়ন না থাকায় শ্রমিক আন্দোলনের সমস্যা।’
সুশাসন নিশ্চিত করারও তাগাদা দেন রওশন। বলেন, ‘সুশাসন না হলে আমরা এই সফলতা অর্জন করতে পারব না।’
‘উন্নয়নের অংশীদার আমরাও’
ঝুঁকি থাকলেও দেশে যে উন্নয়ন হচ্ছে সেটি স্বীকার করে এর কৃতিত্বও দাবি করেন রওশন। বলেন, ‘২১ বছর পর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতায় এসেছিলেন আমাদের সহযোগিতায়। কাজেই আমি বলব, এই উন্নয়নের সব কিছুর অংশীদার আমরা।’
স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় আমাদের নাম উঠলেও এই উত্তরণ এখনও শেষ হয়নি বলে রওশন বলেন, ‘আমাদের এই অর্জনগুলো ধরে রেখে এগিয়ে যেতে হবে। …আমরা সবাই মিলে যদি উদ্যোগ নিয়ে কাজ করতে পারি, তাহলে এটা হতে পারে।’
আর এ ক্ষেত্রে জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতারও আশ্বাস দেন বিরোধী দলীয় নেতা।
‘আমরা সব সময় দেশের জন্য জনগণের জন্য কাজ করতে চাই। সেই লক্ষ্যেই কিন্তু আমরা গত নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছি। আমরা চাই দেশটা ভালো চলুক। আমরা সেই লক্ষ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে উদ্যোগ নিয়েছেন, সেই উদ্যোগকে সাহায্য সহযোগিতা করি।’
‘সব সময় আমরা পার্লামেন্টে আছি। গত চার বছরে যেভাবে পার্লামেন্ট চালিয়েছি, এর আগে কোনোদিন কোনো পার্লামেন্ট এভাবে চলেনি। তাতে বুঝা যায় যে আমাদের সহযোগিতা করার মন মানসিকতা আছে।’
‘বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণে কাজ করেছেন এরশাদ’
রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন পূরণে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ কাজ করেছেন বলেও দাবি করেন তার পত্নী। বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু আমাদেরকে একটি স্বাধীন দেশ দিয়ে গেছেন। একটি স্বাধীন পতাকা দিয়ে গেছেন। মাথা উঁচু করে বাঁচবার শক্তি দিয়ে গেছেন। কিন্তু তিনি স্বাধীনতাকে সুসংহত করতে পারেননি, যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশকে তিনি গড়ে তুলতে পারেননি।’
‘ওনার যে স্বপ্ন ছিল স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য জাতীয় পার্টির সময় হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ উদ্যোগ নিয়েছিলেন স্বাধীনতার স্বাদ ঘরে ঘরে পৌঁছে দেয়ার জন্য।’
‘তিনি (এরশাদ) তখন যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের অবকাঠামো গড়ে তুলেছিলেন, রাস্তাঘাট, ব্রিজ, পুল কালভার্ট বিভিন্নভাবে। উন্নয়নের জন্য তিনি চেষ্টা করেছিলেন।’
‘এখন যে গার্মেন্ট শিল্প আছে, আমাদের সময় কিন্তু এই গার্মেন্ট শিল্প শুরু হয়েছিল। তারপর উপজেলা সৃষ্টি করেছিলেন। জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করার জন্য তিনি (এরশাদ) চেষ্টা করেছেন এবং উদ্যোগ নিয়েছিলেন।’
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















