ঢাকা ০৪:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাস্তার পাশে ছাইয়ের আগুনে গৃহবধূর মৃত্যু

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নওগাঁর মহাদেবপুরের কুঞ্জবন এলাকায় রাস্তার পাশে স্তূপ করে রাখা বয়লারের ছাইয়ের আগুনে গৌরী রানী মহন্ত (২২) নামে গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে।

ছাইয়ের আগুনে দগ্ধ হয়ে দীর্ঘ ১৪ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে রাজশাহী মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে মারা যান তিনি। গৌরী রানী মহন্ত উপজেলার প্রবীণ সাংবাদিক গৌতম কুমার মহন্তের মেয়ে ও জেলার বদলগাছী উপজেলা সদরের সন্তোষ কুমার মহন্তের স্ত্রী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গৌরী রানী মোহন্ত স্বামী সন্তান নিয়ে বাবার বাড়িতেই বসবাস করতেন। দুই সন্তানের জননী গত ২০ মার্চ সকালে ৯টার দিকে বাড়ির পাশে রাস্তায় জিল্লুর রহমানের বয়লার চাতালের গরম ছাই স্তূপ করে রাখা ছিল। সেই ছাইয়ে যে জ্বলন্ত আগুন ছিল তা তার জানা ছিল না। রাস্তার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় পা পিছলে ছাইয়ের মধ্যে পড়ে যান গৌরী। গরম অনুভব করায় একটি শজনে গাছের ডাল ধরে উঠে আসার চেষ্টা করেন। কিন্তু ডাল ভেঙে ছাইয়ের মধ্যে পড়েন। এতে আগুনে বুক পর্যন্ত পুরো ঝলসে যায়। শরীরের প্রায় ৬০ ভাগ পুড়ে যায় তার।

মারাত্মক অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় সঙ্গে প্রথমে মহাদেবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বার্ন ইউনিটের প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয়। ওই বিভাগের প্রধান ডা. আফরোজ নাজনীনের নেতৃত্বে ৬ সদস্যবিশিষ্ট একটি টিম তার চিকিৎসা শুরু করে।

গত ১ এপ্রিল গৌরীর অবস্থার খুবই অবনতি হওয়ায় হাল ছেড়ে দেন চিকিৎসকরা। বাধ্য হয়ে তাকে ২ এপ্রিল নিয়ে আসা হয় বাড়িতে। বাড়িতে নিয়ে আসার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বুধবার ভোররাতে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন গৌরী।

বয়লার চাতাল মালিকদের অসতর্কতা আর উদাসীনতার কারণে গৌরীকে অকালে চলে যেতে হলো সুন্দর এই পৃথিবী ছেড়ে।

সরেজমিনে দেখা যায়, নওগাঁ শহরের সদর উপজেলার ডাক্তারের মোড় থেকে রাস্তার দু’পাশে রয়েছে শত শত বয়লার চাতাল। এসব চাতালের ছাই অনিয়মিতভাবে স্তূপ করে রাখা হয় রাস্তার পাশেই। এসব ছাই সার্বক্ষণিক পথচারীদের বিড়ম্বনার কারণ হয়ে দেখা দেয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাস্তার পাশে ছাইয়ের আগুনে গৃহবধূর মৃত্যু

আপডেট সময় ০৯:৫০:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ এপ্রিল ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নওগাঁর মহাদেবপুরের কুঞ্জবন এলাকায় রাস্তার পাশে স্তূপ করে রাখা বয়লারের ছাইয়ের আগুনে গৌরী রানী মহন্ত (২২) নামে গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে।

ছাইয়ের আগুনে দগ্ধ হয়ে দীর্ঘ ১৪ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে রাজশাহী মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে মারা যান তিনি। গৌরী রানী মহন্ত উপজেলার প্রবীণ সাংবাদিক গৌতম কুমার মহন্তের মেয়ে ও জেলার বদলগাছী উপজেলা সদরের সন্তোষ কুমার মহন্তের স্ত্রী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গৌরী রানী মোহন্ত স্বামী সন্তান নিয়ে বাবার বাড়িতেই বসবাস করতেন। দুই সন্তানের জননী গত ২০ মার্চ সকালে ৯টার দিকে বাড়ির পাশে রাস্তায় জিল্লুর রহমানের বয়লার চাতালের গরম ছাই স্তূপ করে রাখা ছিল। সেই ছাইয়ে যে জ্বলন্ত আগুন ছিল তা তার জানা ছিল না। রাস্তার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় পা পিছলে ছাইয়ের মধ্যে পড়ে যান গৌরী। গরম অনুভব করায় একটি শজনে গাছের ডাল ধরে উঠে আসার চেষ্টা করেন। কিন্তু ডাল ভেঙে ছাইয়ের মধ্যে পড়েন। এতে আগুনে বুক পর্যন্ত পুরো ঝলসে যায়। শরীরের প্রায় ৬০ ভাগ পুড়ে যায় তার।

মারাত্মক অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় সঙ্গে প্রথমে মহাদেবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বার্ন ইউনিটের প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয়। ওই বিভাগের প্রধান ডা. আফরোজ নাজনীনের নেতৃত্বে ৬ সদস্যবিশিষ্ট একটি টিম তার চিকিৎসা শুরু করে।

গত ১ এপ্রিল গৌরীর অবস্থার খুবই অবনতি হওয়ায় হাল ছেড়ে দেন চিকিৎসকরা। বাধ্য হয়ে তাকে ২ এপ্রিল নিয়ে আসা হয় বাড়িতে। বাড়িতে নিয়ে আসার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বুধবার ভোররাতে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন গৌরী।

বয়লার চাতাল মালিকদের অসতর্কতা আর উদাসীনতার কারণে গৌরীকে অকালে চলে যেতে হলো সুন্দর এই পৃথিবী ছেড়ে।

সরেজমিনে দেখা যায়, নওগাঁ শহরের সদর উপজেলার ডাক্তারের মোড় থেকে রাস্তার দু’পাশে রয়েছে শত শত বয়লার চাতাল। এসব চাতালের ছাই অনিয়মিতভাবে স্তূপ করে রাখা হয় রাস্তার পাশেই। এসব ছাই সার্বক্ষণিক পথচারীদের বিড়ম্বনার কারণ হয়ে দেখা দেয়।