অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
এক মাসে ১২৫ কোটি টাকা সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পেয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বিএনপির আট নেতার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরুর সিদ্ধান্ত নেয়ার তীব্র সমালোচনা করেছেন রুহুল কবির রিজভী।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, তিনি একে ‘খালেদা দিয়ার মুক্তি আন্দোলনকে বাধাগ্রস্ত করতেই দুদককে কাজে লাগানো হচ্ছে।… আসলে সরকার দুদককে দিয়ে নতুন প্রকল্প খুলেছে।’
দুদক এই অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত দেয়ার পরদিন মঙ্গলবার নয়াপল্টনের দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করছিলেন রিজভী।
বিএনপির আট নেতার বিরুদ্ধে সন্দেহজনক লেনদেনের যে তথ্য পেয়ে দুদক এই অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেই তথ্যকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বানোয়াট বলেন রিজভী।
‘তারা আবারো একটি ভোটারবিহীন নির্বাচন করতে চায়। কিন্তু সেটা তারা করতে পারবে না।’
সম্প্রতি একটি অনলাইন পত্রিকায় বিএনপির আট নেতার ব্যাংক হিসাবে এক মাসে ১২৫ কোটি টাকা লেনদেনের তথ্য প্রকাশ হয়। গোয়েন্দা তথ্যের সূত্র ধরে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, এই লেনদেনকে ‘সন্দেহজনক’ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
ওই সংবাদের সূত্র ধরেই দুদক এ বিষয়ে অনুসন্ধানে সংস্থাটির উপপরিচালক সামছুল আলমকে দায়িত্ব দিয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে।
দুদকের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য না এলেও জানা গেছে, যাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু হচ্ছে তাদের মধ্যে আছেন দলের স্থায়ী কমিটির চার সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও মির্জা আব্বাস।
অন্য চারজন হলেন দুই ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু ও এম মোর্শেদ খান; যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল এবং স্থগিত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী তাবিথ আউয়াল।
সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম মোর্শেদ খানের ছেলে খান ফয়সাল মোর্শেদ খানের বিরুদ্ধেও অনুসন্ধান হচ্ছে।
ওই অনলাইন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী তিনটি বেসরকারি ব্যাংকে আবদুল আউয়াল মিন্টুর হিসাব থেকে ১১, ১৫ ও ২২ ফেব্রুয়ারি মোট ৩২ কোটি টাকা তোলা হয়। একই মাসে তাঁর ছেলে তাবিথ আউয়ালের হিসাব থেকে তোলা হয় ২০ কোটি টাকা।
মোর্শেদ খানের ব্যাংক হিসাব থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি তোলা হয় ১৮ কোটি টাকা। তাঁর ছেলে ফয়সাল মোর্শেদ খানের হিসাব থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি তোলা হয় ৯ কোটি টাকা।
খন্দকার মোশাররফ হোসেন ৩ থেকে ১২ মার্চের মধ্যে একটি বেসরকারি ব্যাংক থেকে ১২টি চেকে ২১ কোটি টাকা তুলেছেন। এর মধ্যে ছয়টি চেকে টাকা তোলা হয়েছে ঢাকার বাইরে থেকে।
২৮ ফেব্রুয়ারি ও ৪ মার্চ ঢাকা ব্যাংকে মির্জা আব্বাসের হিসাব থেকে ১৬ কোটি টাকা তোলা হয়। এ ছাড়া নজরুল ইসলাম খান এবং হাবিব উন নবী খান সোহেলের ব্যাংক হিসাব থেকে বিভিন্ন সময়ে ৭ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে।
দুদকের এই সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় রিজভীর করা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন খন্দকার মোশাররফ হোসেনও। তিনি ওই প্রতিবেদনে তাকে ও তার রাজনৈতিক সহকর্মীদের জড়িয়ে যে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে তার নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘সরকার খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনকে বাধাদান এবং বিএনপিকে কালিমালিপ্ত করতেই আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, যা মিথ্যা ও বানোয়াট।’
যাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরুর তথ্য মিলেছে তাদের মধ্যে নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, আব্দুল আউয়াল মিন্টুও এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
এদের বাইরে ছিলেন বরকতুল্লাহ বুলু, আবদুস সালাম আজাদ, আব্দুল আউয়াল খান প্রমুখ।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 






















