অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে পর্দার আড়ালে চলছে সমঝোতার চেষ্টা। এতে ভূমিকা রাখছেন তার স্বজনরা। একটি প্রভাবশালী দেশের কূটনীতিকদের সহায়তায় খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যরা সমঝোতার জন্য দৌড়ঝাঁপ করছেন। তারা যে কোনো মূল্যে কারামুক্ত করতে চান বিএনপি প্রধানকে। তাদের প্রচেষ্টাতেই নির্ধারিত হচ্ছে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ। সম্পূর্ণ মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই এ পথে হাঁটছেন সমঝোতাকারীরা। তাদের মতে, জেলে দীর্ঘদিন থাকার বয়স এখন নেই খালেদা জিয়ার। সরকারের সঙ্গে খালেদা জিয়াকে নিয়ে বিএনপির সমঝোতার প্রথম প্রচেষ্টা ভেস্তে যাওয়ায় পরিবারের সদস্যরা এ পথে হাঁটছেন বলে জানা গেছে।
সমঝোতার প্রথম প্রচেষ্টা হিসেবে বিএনপির আট নেতা খালেদা জিয়ার সঙ্গে কারাগারে সোয়া ঘণ্টার বৈঠক করেন? সে বৈঠক ফলপ্রসূ না হওয়ায় এবার মাঠে নেমেছেন তার স্বজনরা। পরিবারের সদস্যরা ইতোমধ্যে কয়েক দফা কারাগারে গিয়ে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেছেন। এরই অংশ হিসেবে হঠাৎ করেই মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফেরেন খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলী রহমান সিঁথি। দেশে ফিরেই তিনি দেখা করেন খালেদা জিয়ার সঙ্গে। সেখানে শাশুড়ির সঙ্গে তার কী আলোচনা হয়েছে এ নিয়ে অবশ্য মুখ খোলেননি। সহসাই তিনি আবার দেখা করতে যাবেন, এমন খবর রয়েছে। শাশুড়ির গুলশানের বাসা ফিরোজায় অবস্থান করছেন সিঁথি। তার মামা শ্বশুর শামীম ইসকান্দারও পরিবারসহ সেখানে রয়েছেন।
বিএনপি নেতাদের দিয়ে সমঝোতা করালে তা গোপন থাকে না- এমন আশঙ্কা থেকেই খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যরা নিজেদের কাঁধে এ দায়িত্ব তুলে নিয়েছেন। এ কারণে পর্দার আড়ালে কী হচ্ছে বিএনপির অধিকাংশ নেতাই তা জানেন না। কোন প্রক্রিয়ায় আগাচ্ছে সমঝোতা প্রক্রিয়া, কারা যুক্ত এর সঙ্গে- তা নিয়েও অন্ধকারে রয়েছেন বিএনপি নেতারা। এ কারণে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ নেতারা সাক্ষাৎ পান না খালেদার। সাক্ষাতের অনুমতি পেয়েও খালেদার অসুস্থতার অজুহাতে নাজিমউদ্দিন রোডের কারাগারের পথ থেকে ফেরত আসতে হয়েছে মির্জা ফখরুলকে।
বিএনপি নেতারা প্রথমদিকে বিষয়টিকে গুজব বলে উড়িয়ে দিলেও এখন বুঝতে পারছেন পর্দার আড়ালে কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে। তাই এ নিয়ে তাদের সুর নরম। খালেদা জিয়ার পরিবার এই সমঝোতায় বিএনপির কোনো নেতাকে যুক্ত করতে আগ্রহী নয়। তবে এর সঙ্গে সরকারের এক প্রভাবশালী মন্ত্রী কাজ করছেন, যিনি জিয়া পরিবারেরও আত্মীয় বলে জানা গেছে।
সমঝোতা হলে প্যারোলে মুক্তি নিয়ে চিকিৎসার জন্য প্রথমে লন্ডনে যেতে পারেন খালেদা জিয়া। সেখান থেকে তিনি সৌদি আরবেও যেতে পারেন। সেখানে তিনি দীর্ঘ সময় অবস্থান করবেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খালেদা, তারেক রহমান বা তার পরিবারের কোনো সদস্য অংশ নেবেন না। কিন্তু বিএনপি অংশ নেবে। এসব শর্ত মেনেই মুক্তি পেতে যাচ্ছেন খালেদা- একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র এমন খবর নিশ্চিত করেছে।
খালেদা জিয়ার এমনিতেই বয়স হয়েছে। তিনি অসুস্থও। দীর্ঘদিন কারাগারে থাকলে তার জীবন বিপন্ন হতে পারে- এমন আশঙ্কা থেকে তার পরিবারের পক্ষ থেকে বিএনপি নেতাদের পাশ কাটিয়ে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের মতে, এভাবে একটা মানুষ কষ্ট পেতে পারেন না। এ বয়সে তার নাতনিদের সঙ্গে আরাম-আয়েশে জীবন কাটানোর কথা। সেখানে তিনি জেলে বসে তিল তিল করে মরছেন। স্বজনরা মনে করেন, খালেদা জিয়া বিএনপির জন্য সব কিছু উজাড় করে দিয়েছেন। নিজের জীবনের সব সুখ-শান্তি বিসর্জন দিয়েছেন। কিন্তু তার দুঃসময়ে বিএনপি উল্লেখ করার মতো কিছুই করতে পারেনি তার জন্য।
সমঝোতা নিয়ে খালেদা জিয়া পরিবারের এ গোপন মিশনকে ভালোভাবে দেখছেন না বিএনপির অনেক নেতা। তারা বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ। তাদের বিশ্বাস, সমঝোতার মাধ্যমে অসম্মানজনকভাবে কারামুক্ত হওয়ার লোক খালেদা জিয়া নন। তিনি এটা মেনে নেবেন না। তার অতীত ভূমিকা অন্তত তাই বলে।
তাদের মতে, খালেদা জিয়ার ভাইবোনরা রাজনীতি করেন না। তারা নির্জন কারাগারে খালেদা জিয়াকে দেখে আবেগপ্রবণ হয়ে এমন পথে হাঁটতে পারেন। কিন্তু খালেদা জিয়াই শেষ পর্যন্ত এমন সিদ্ধান্ত নেবেন না। পরিস্থিতি দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন বিএনপি নেতারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক নেতা বলেন, ম্যাডামের ভাইবোনেরা তার কষ্ট দেখছেন, একাকিত্ব দেখছেন, মুক্তির বিষয়টি দেখছেন।
রাজনৈতিক ভবিষ্যৎটি দেখছেন না। সমঝোতার মাধ্যমে মুক্ত হলে তিনি হয়তো কারাগার থেকে বের হবেন, কিন্তু এত দিনের অর্জিত রাজনৈতিক জীবনের অপমৃত্যু হবে।
যদিও সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, খালেদা জিয়াকে আটকে রাখার ক্ষেত্রে সরকারের কোনো হাত নেই। এটা সম্পূর্ণ আদালতের বিষয়।
আদালতেই নির্ধারিত হবে তিনি জামিন পাবেন কিনা। তবে অসুস্থতার কারণে তিনি যদি প্যারোল চান, সে ক্ষেত্রে অবশ্যই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তা বিবেচনা করে দেখবে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, দেশে চিকিৎসা না হলে মেডিকেল বোর্ড যদি প্রয়োজন মনে করে তিনি বিদেশে গিয়েও চিকিৎসা করাতে পারেন। এমন পরিস্থিতিতে গতকাল রবিবার খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষায় ৪ সদস্যের বিশেষ বোর্ড গঠন করেছে সরকার। ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক মো. সামিউজ্জামান, মনসুর হাবিব, টিটু মিয়া ও সোহেলী রহমান দুপুর সোয়া ১টায় কারাগারে গিয়ে এক ঘণ্টা খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন।
এমন পরিস্থিতিতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে আন্দোলন ছাড়া এখন অন্য কিছু চিন্তা করছে না দল। তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে সরকার অন্যায়ভাবে বন্দি করে রেখেছে। আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমরা ‘দেশনেত্রী’কে কারামুক্ত করব। তার আগে অন্য কোনো কিছু আমরা চিন্তা করছি না, করব না।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 

























