ঢাকা ০১:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

খালেদার চিকিৎসায় বিশেষ মেডিকেল বোর্ড

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য চার সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠনের পর এক ঘণ্টাব্যাপী তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে। বোর্ডের চার চিকিৎসকই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপতালের। রবিবার দুপুরে এই বোর্ডের সদস্যরা কারাগারে বিএনপি নেত্রীকে পরীক্ষা নিরীক্ষা করেন।

চার চিকিৎসক হলেন, অর্থপেডিক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শামসুজ্জামান, নিউরোলজির মনসুর হাবীব, মেডিসিন বিভাগের টিটু মিয়া ও এবং ফজিকাল মেডিসিনের সোহেলী রহমান। এদের মধ্যে বোর্ডের প্রধান শামসুজ্জামান।

সামসুজ্জামান দৈনিক আকাশকে বলেন, ‘তার অবস্থা খুব খারাপ নয়। তবে, তার শরীরে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা রয়েছে। আমরা কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা করিয়েছে, কিছু ওষুধ দিয়েছি।’

কী বিষয়ে পরীক্ষা করেছেন-জানতে চাইলে এই চিকিৎসক বলেন, ‘এটি জানানো আমাদের মেডিকেল বোর্ডের নীতির মধ্যে পড়ে না।’

খালেদা জিয়ার দেশে চিকিৎসা করা সম্ভব নাকি বাইরে নিতে হবে-এমন প্রশ্নে শাসসুজ্জামান বলেন, ‘এই মন্তব্য করার মতো সময় এখনও আসেনি।’

আগামীকাল সোমবার কারাগারে খালেদা জিয়ার আবার স্বাস্থ্য পরীক্ষা হবে বলে জানিয়েছেন মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা। গত ৮ ফেব্রুয়ারি পাঁচ বছরের কারাদণ্ড পাওয়া বিএনপি নেত্রীর ‘অসুস্থতা’র বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি আলোচনা তৈরি হয়েছে। খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরেই হাঁটুর ব্যাথায় কাতর। তিনি দেশের বাইরে চিকিৎসাও করিয়ে এসেছেন।

গত ২৮ মার্চ জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়াকে অনিবার্য কারণ দেখিয়ে আদালতে হাজির না করার পর বিষয়টি সামনে আসে। পরদিন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কারাগারে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করার কথা ছিল। কিন্তু কারা কর্তৃপক্ষ তাকে বিএনপি নেত্রী অসুস্থ জানায়। এরপর আর সাক্ষাৎ হয়নি।

পরদিন মির্জা ফখরুল খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার সুযোগ দেয়ার দাবি জানান। আবার আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের একই দিন বলেন, প্রয়োজনে খালেদা জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসা করানো হবে।

খালেদা জিয়ার বিদেশ যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে অন্য রাজনৈতিক মানে আছে। এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরির পর পর বিএনপির নেতা-কর্মীরা জানতে চাইছেন সরকারের সঙ্গে বিএনপির সমঝোতার কোনো চেষ্টা চলছে কি না।

এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার ঢাকার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন আবুল ফজল মো. সাহাবুদ্দিন, ঢাকা সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার শাহিন খান এবং কারাগারের চিকিৎসক মাহমুদুর রহমান কারাগারে খালেদা জিয়াকে দেখে এসেছেন।

ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন জানিয়েছেন. খালেদা জিয়ার শারীরিক হাঁটুর সমস্যা রয়েছে। এই কারণেই তাঁর হাঁটতে কষ্ট হয়। এছাড়াও তাঁর গেঁটে বাত রয়েছে। তবে তার ব্লাড প্রেসার (রক্তচাপ) ও ব্লাড সুগার (রক্তের শর্করা) স্বাভাবিক আছে।

বিএনপি নেত্রীর স্বাস্থ্যের বিষয়ে এই তিন চিকিৎসক কারা কর্তৃপক্ষকে একটি প্রতিবেদনও দিয়েছেন। যদিও এই প্রতিবেদনে কী আছে, সে বিষয়ে কিছু বলতে চাইছেন না সিভিল সার্জন। কারা কর্তৃপক্ষও বিষয়টি প্রকাশ করতে নারাজ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

খালেদার চিকিৎসায় বিশেষ মেডিকেল বোর্ড

আপডেট সময় ১১:০১:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ এপ্রিল ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য চার সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠনের পর এক ঘণ্টাব্যাপী তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে। বোর্ডের চার চিকিৎসকই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপতালের। রবিবার দুপুরে এই বোর্ডের সদস্যরা কারাগারে বিএনপি নেত্রীকে পরীক্ষা নিরীক্ষা করেন।

চার চিকিৎসক হলেন, অর্থপেডিক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শামসুজ্জামান, নিউরোলজির মনসুর হাবীব, মেডিসিন বিভাগের টিটু মিয়া ও এবং ফজিকাল মেডিসিনের সোহেলী রহমান। এদের মধ্যে বোর্ডের প্রধান শামসুজ্জামান।

সামসুজ্জামান দৈনিক আকাশকে বলেন, ‘তার অবস্থা খুব খারাপ নয়। তবে, তার শরীরে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা রয়েছে। আমরা কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা করিয়েছে, কিছু ওষুধ দিয়েছি।’

কী বিষয়ে পরীক্ষা করেছেন-জানতে চাইলে এই চিকিৎসক বলেন, ‘এটি জানানো আমাদের মেডিকেল বোর্ডের নীতির মধ্যে পড়ে না।’

খালেদা জিয়ার দেশে চিকিৎসা করা সম্ভব নাকি বাইরে নিতে হবে-এমন প্রশ্নে শাসসুজ্জামান বলেন, ‘এই মন্তব্য করার মতো সময় এখনও আসেনি।’

আগামীকাল সোমবার কারাগারে খালেদা জিয়ার আবার স্বাস্থ্য পরীক্ষা হবে বলে জানিয়েছেন মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা। গত ৮ ফেব্রুয়ারি পাঁচ বছরের কারাদণ্ড পাওয়া বিএনপি নেত্রীর ‘অসুস্থতা’র বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি আলোচনা তৈরি হয়েছে। খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরেই হাঁটুর ব্যাথায় কাতর। তিনি দেশের বাইরে চিকিৎসাও করিয়ে এসেছেন।

গত ২৮ মার্চ জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়াকে অনিবার্য কারণ দেখিয়ে আদালতে হাজির না করার পর বিষয়টি সামনে আসে। পরদিন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কারাগারে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করার কথা ছিল। কিন্তু কারা কর্তৃপক্ষ তাকে বিএনপি নেত্রী অসুস্থ জানায়। এরপর আর সাক্ষাৎ হয়নি।

পরদিন মির্জা ফখরুল খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার সুযোগ দেয়ার দাবি জানান। আবার আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের একই দিন বলেন, প্রয়োজনে খালেদা জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসা করানো হবে।

খালেদা জিয়ার বিদেশ যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে অন্য রাজনৈতিক মানে আছে। এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরির পর পর বিএনপির নেতা-কর্মীরা জানতে চাইছেন সরকারের সঙ্গে বিএনপির সমঝোতার কোনো চেষ্টা চলছে কি না।

এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার ঢাকার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন আবুল ফজল মো. সাহাবুদ্দিন, ঢাকা সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার শাহিন খান এবং কারাগারের চিকিৎসক মাহমুদুর রহমান কারাগারে খালেদা জিয়াকে দেখে এসেছেন।

ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন জানিয়েছেন. খালেদা জিয়ার শারীরিক হাঁটুর সমস্যা রয়েছে। এই কারণেই তাঁর হাঁটতে কষ্ট হয়। এছাড়াও তাঁর গেঁটে বাত রয়েছে। তবে তার ব্লাড প্রেসার (রক্তচাপ) ও ব্লাড সুগার (রক্তের শর্করা) স্বাভাবিক আছে।

বিএনপি নেত্রীর স্বাস্থ্যের বিষয়ে এই তিন চিকিৎসক কারা কর্তৃপক্ষকে একটি প্রতিবেদনও দিয়েছেন। যদিও এই প্রতিবেদনে কী আছে, সে বিষয়ে কিছু বলতে চাইছেন না সিভিল সার্জন। কারা কর্তৃপক্ষও বিষয়টি প্রকাশ করতে নারাজ।