ঢাকা ০১:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মৃত্যু নির্বাচনে ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় জাতিসংঘের সহায়তা চাইলেন মুহাম্মদ ইউনূস থাইল্যান্ডে চলন্ত ট্রেনের ওপর ভেঙে পড়ল ক্রেন, নিহত ২২ জাস্টিস ফর হাদি, ইনশাআল্লাহ : মির্জা ফখরুল আলমগীর টাকা খেয়ে ভোট দিলে নেতা এসে রাস্তা খেয়ে ফেলবে: আখতার হোসেন সুষ্ঠু নির্বাচনে জার্মানির সহায়তা চাইলেন জামায়াত আমির জাতীয় পতাকা হাতে প্যারাস্যুট জাম্প, গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে বাংলাদেশ বরেণ্য লোকসংগীতশিল্পী ও মুক্তিযুদ্ধের কণ্ঠযোদ্ধা মলয় কুমার মারা গেছেন ভবিষ্যৎ অর্থনীতির শক্ত ভিত্তি গড়ার দায়িত্ব সরকারের : আশিক মাহমুদ গণভোটে ‘হ্যাঁ’র পক্ষে বিএনপি : নজরুল ইসলাম খান

‘সাকিব কি ভারতের বিপক্ষে এটা করতে পারতেন?’

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক:

পাসপোর্ট হাতে দিতে না দিতেই বলে উঠলেন, ‘ও, বাংলাদেশি? আচ্ছা, বাংলাদেশ ক্রিকেট দল এত ক্রেজি কেন?’ ক্রীড়া সাংবাদিক, টুর্নামেন্ট কভার করে ফিরছি- জানার পর যেন নড়েচড়ে বসলেন বন্দর নায়েক বিমান বন্দরের ওই ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা।

বুঝে নিলাম অন্য শ্রীলঙ্কানদের মতো তিনিও ভারি চটে আছেন। রীতিমত ক্ষুব্ধ বাংলাদেশ দলের প্রতি। এবং এ প্রতিবেদককে সেই রাগ, ক্ষোভ ঝেড়ে ফেলার উপযুক্ত ব্যক্তি মনে করে বসলেন কেন জানি!

বিনয়ের সঙ্গে বললাম, হ্যাঁ, বাড়াবাড়ি কিছু হয়েছে। তবে আম্পায়ারের খারাপ সিদ্ধান্তের কারণেই কিন্তু এটা হয়েছে। খুবই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত সেটা। ওই সময় এত বাজে সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া কঠিন।’

তিনি আমার যুক্তিতে আরো রেগে গেলেন। বললেন,‘ আপনি এখানে এসে নিশ্চয়ই দেখেছেন শ্রীলঙ্কানরা কতটা বিনয়ী। দেখেছেন, শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট বোর্ড কতটা সংযত। but we don’t care Bangladesh.’

বললাম,‘হ্যাঁ, বাংলাদেশকে কেয়ার করার কিছু নেই। এটা ঠিকই বলেছেন। শ্রীলঙ্কা সব দিক দিয়ে আমাদের চেয়ে অনেক এগিয়ে। তবে নিশ্চয়ই জানেন, বাংলাদেশ ও বাংলাদেশিরা সবসময়ই শ্রীলঙ্কাকে পছন্দ করে। শ্রীলঙ্কা অনেক সুন্দর দেশ। এদেশের মানুষজন খুবই বিনয়ী, ভদ্র। বরাবরই শ্রীলঙ্কার শুভাকাঙ্খী বাংলাদেশ।’

কিন্তু ভদ্রলোকের রাগ থামছেই না। ‘দেখেন, আম্পায়ারের ভুল হতেই পারে।তাই বলে খেলা বাতিল করতে চাওয়া কোন ধরনের আচরণ? আর ড্রেসিং রুমের দরজা ভেঙা? শ্রীলঙ্কায় এসে শ্রীলঙ্কার সম্পত্তির ক্ষতি করে গেলেন সাকিব!’

বললাম, ‘এটা অনিচ্ছাকৃত।ব্যাপারটা জয় উৎযাপন করতে গিয়েই হয়েছে। তারপরেও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড দু:খ প্রকাশ করেছে। সাকিব নিজেও অনুতপ্ত।’

আমার কথা উড়িয়ে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা আছেন তার যুক্তিতেই। কঠিন একটা প্রশ্ন করে বসলেন। ‘সাকিব কী ভারতের বিপক্ষে এমনটা করতে পারতেন? ভারতের মাটিতে গিয়ে ভারতের ড্রসিংরুমের ক্ষতি করে বিনা বাঁধায় কী দেশে ফিরতে পারতেন?’

‘আমরা ভারতকে পছন্দ করি না। আর শ্রীলঙ্কানরা সবচেয়ে বেশি অপছন্দ করেন বিরাট কোহলিকে। কারণ তিনি ঔদ্ধত্যপূর্ণ। কিন্তু ফাইনালে বাংলাদেশকে রেখে সবাই ভারতেকে সমর্থন করলো। এটা কী কারণে সেটা নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন।’

এবার চুপমেরে গেলাম। ভাবতে লাগলাম, ইমিগ্রেশন কর্মকর্তার কঠিন প্রশ্নটা নিয়ে। কঠিন প্রশ্ন বটে। আসলেই তো, ভারতের বিপক্ষে কী এমনটা করতে পারতেন সাকিব?

শ্রীলঙ্কায় মাঠের খেলায় নাম করেছে বাংলাদেশ। তবে সঙ্গে কালো দাগও লেগেছে কিছুটা। নম্র ভদ্র বিনয়ী দল হিসেবে যে সুনাম কুড়িয়েছিল বাংলাদেশ, তার কিছুটা হলেও হারিয়েছে এই সফরে। সাকিব নিজেও তা বুঝতে পারছেন।

আগামীতে আরো সংযত, সাবধান থাকবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সাকিব। সেটাই যেন হয়। সাকিব যেন আরো পরিণিত হয়ে ওঠেন, একেবারে মাশরাফির বিন মর্তুজার মতো।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘সাকিব কি ভারতের বিপক্ষে এটা করতে পারতেন?’

আপডেট সময় ১০:০৯:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ মার্চ ২০১৮

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক:

পাসপোর্ট হাতে দিতে না দিতেই বলে উঠলেন, ‘ও, বাংলাদেশি? আচ্ছা, বাংলাদেশ ক্রিকেট দল এত ক্রেজি কেন?’ ক্রীড়া সাংবাদিক, টুর্নামেন্ট কভার করে ফিরছি- জানার পর যেন নড়েচড়ে বসলেন বন্দর নায়েক বিমান বন্দরের ওই ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা।

বুঝে নিলাম অন্য শ্রীলঙ্কানদের মতো তিনিও ভারি চটে আছেন। রীতিমত ক্ষুব্ধ বাংলাদেশ দলের প্রতি। এবং এ প্রতিবেদককে সেই রাগ, ক্ষোভ ঝেড়ে ফেলার উপযুক্ত ব্যক্তি মনে করে বসলেন কেন জানি!

বিনয়ের সঙ্গে বললাম, হ্যাঁ, বাড়াবাড়ি কিছু হয়েছে। তবে আম্পায়ারের খারাপ সিদ্ধান্তের কারণেই কিন্তু এটা হয়েছে। খুবই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত সেটা। ওই সময় এত বাজে সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া কঠিন।’

তিনি আমার যুক্তিতে আরো রেগে গেলেন। বললেন,‘ আপনি এখানে এসে নিশ্চয়ই দেখেছেন শ্রীলঙ্কানরা কতটা বিনয়ী। দেখেছেন, শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট বোর্ড কতটা সংযত। but we don’t care Bangladesh.’

বললাম,‘হ্যাঁ, বাংলাদেশকে কেয়ার করার কিছু নেই। এটা ঠিকই বলেছেন। শ্রীলঙ্কা সব দিক দিয়ে আমাদের চেয়ে অনেক এগিয়ে। তবে নিশ্চয়ই জানেন, বাংলাদেশ ও বাংলাদেশিরা সবসময়ই শ্রীলঙ্কাকে পছন্দ করে। শ্রীলঙ্কা অনেক সুন্দর দেশ। এদেশের মানুষজন খুবই বিনয়ী, ভদ্র। বরাবরই শ্রীলঙ্কার শুভাকাঙ্খী বাংলাদেশ।’

কিন্তু ভদ্রলোকের রাগ থামছেই না। ‘দেখেন, আম্পায়ারের ভুল হতেই পারে।তাই বলে খেলা বাতিল করতে চাওয়া কোন ধরনের আচরণ? আর ড্রেসিং রুমের দরজা ভেঙা? শ্রীলঙ্কায় এসে শ্রীলঙ্কার সম্পত্তির ক্ষতি করে গেলেন সাকিব!’

বললাম, ‘এটা অনিচ্ছাকৃত।ব্যাপারটা জয় উৎযাপন করতে গিয়েই হয়েছে। তারপরেও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড দু:খ প্রকাশ করেছে। সাকিব নিজেও অনুতপ্ত।’

আমার কথা উড়িয়ে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা আছেন তার যুক্তিতেই। কঠিন একটা প্রশ্ন করে বসলেন। ‘সাকিব কী ভারতের বিপক্ষে এমনটা করতে পারতেন? ভারতের মাটিতে গিয়ে ভারতের ড্রসিংরুমের ক্ষতি করে বিনা বাঁধায় কী দেশে ফিরতে পারতেন?’

‘আমরা ভারতকে পছন্দ করি না। আর শ্রীলঙ্কানরা সবচেয়ে বেশি অপছন্দ করেন বিরাট কোহলিকে। কারণ তিনি ঔদ্ধত্যপূর্ণ। কিন্তু ফাইনালে বাংলাদেশকে রেখে সবাই ভারতেকে সমর্থন করলো। এটা কী কারণে সেটা নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন।’

এবার চুপমেরে গেলাম। ভাবতে লাগলাম, ইমিগ্রেশন কর্মকর্তার কঠিন প্রশ্নটা নিয়ে। কঠিন প্রশ্ন বটে। আসলেই তো, ভারতের বিপক্ষে কী এমনটা করতে পারতেন সাকিব?

শ্রীলঙ্কায় মাঠের খেলায় নাম করেছে বাংলাদেশ। তবে সঙ্গে কালো দাগও লেগেছে কিছুটা। নম্র ভদ্র বিনয়ী দল হিসেবে যে সুনাম কুড়িয়েছিল বাংলাদেশ, তার কিছুটা হলেও হারিয়েছে এই সফরে। সাকিব নিজেও তা বুঝতে পারছেন।

আগামীতে আরো সংযত, সাবধান থাকবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সাকিব। সেটাই যেন হয়। সাকিব যেন আরো পরিণিত হয়ে ওঠেন, একেবারে মাশরাফির বিন মর্তুজার মতো।