ঢাকা ০২:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পে স্কেল বাস্তবায়ন পে কমিশনের প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করছে :অর্থ উপদেষ্টা প্রবাসীদের সুসংবাদ দিলেন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল প্লট দুর্নীতি মামলায় শেখ হাসিনা টিউলিপসহ ১৮ জনের মামলার রায় ২ ফেব্রুয়ারি চুয়াডাঙ্গায় সেনাবাহিনীর হাতে আটকের পর বিএনপি নেতার মৃত্যু ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ও গণভোটই নির্ধারণ করবে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ: ড. মুহাম্মদ ইউনূস ব্যক্তির স্বৈরাচার হওয়া রোধেই আইনসভার উচ্চকক্ষ : আলী রীয়াজ ইরানে বিক্ষোভকারীদের ওপর সরকারের দমন-পীড়ন, কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ইরানি জনগণই স্বৈরশাসকদের ক্ষমতাচ্যুত করবে: অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে সব ধরনের সংগঠনের নির্বাচন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে ইসি এমপি যদি সৎ হন, ঠিকাদারের বাপের সাধ্য নেই চুরি করার: রুমিন ফারহানা

কাস্টিং কাউচ ও ট্রয় নগরীর হেলেন

আকাশ বিনোদন ডেস্ক : 

রূপ ও অভিনয় দক্ষতা দিয়ে কোটি ভক্তের মন জয় করেছেন বলিউড অভিনেত্রী ইলিয়েনা ডি’ক্রুজ। ক্যারিয়ারে তার অভিনীত ৯০ শতাংশ ছবিই সুপারহিট অথবা ব্লকবাস্টার। ২০০৬ সালে তেলেগু চলচ্চিত্র ‘দেবাদাসু’-তে অভিনয়ের জন্য ওই বছরের সেরা নবাগত নায়িকা বিভাগে ফিল্ম ফেয়ার অ্যাওয়ার্ড জয় করেন।

এরপর পোকিরি (২০০৬), কিক (২০০৮) এবং জুলারি (২০১২) চলচ্চিত্রে তার সরব উপস্থিতি দর্শকদের মন জুড়িয়েছে। এসব সফলতার পেছনে রয়েছে অনেক সংগ্রামের গল্প ও চাকচিক্যে ভরা বলিউডে টিকে থাকার অভিজ্ঞতা।

সে অভিজ্ঞতা দিয়েই এখন দক্ষিণী সিনেমার পাশাপাশি বলিউড পাড়াতেও সমানভাবে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। সফলতা এখন তার কপালে জ্বলজ্বল করছে। সাফল্য পাচ্ছেন একের পর এক। অথচ আজকের অবস্থানে আসার পেছনে অনেক পিচ্ছিল পথ পেরিয়ে আসতে হয়েছে তাকে। হয়েছেন কাস্টি কাউচের মুখোমুখিও। ভাবা যায়! শুনে অবাক হবেন, ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে এ সুন্দরী অভিনেত্রী আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলেন। তাকে ঘিরে ধরেছিল বিষণ্ণতা ও বডি ডিসমরফিক ডিসঅর্ডারে। ২১তম ‘ওয়ার্ল্ড কংগ্রেস অব মেনটাল হেলথ’ শীর্ষক একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এ ধরনের মন্তব্য তিনি নিজেই করেছেন। ঘটনাগুলো বলার পেছনে কারণও ছিল। কেউ যাতে বিষণ্ণতায় ভুগে আত্মহত্যার পথ বেছে না নেয়।

ইলিয়েনা বলেন, ‘আমি আত্মসচেতন ব্যক্তি এবং সবসময়ই আমার শারীরিক গড়ন নিয়ে চিন্তায় থাকতাম। সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হতে চাইতাম। আমার সবসময় মন খারাপ থাকত। কিন্তু এ বিষয়ে সাহায্য পাওয়ার আগে বুঝতে পারিনি আমি বিষণ্ণতা এবং বডি ডিসমরফিক ডিসঅর্ডারে ভুগছি। এক পর্যায়ে আত্মহত্যার চিন্তা করেছিলাম এবং সবকিছু শেষ করে দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু যখন মেনে নিলাম, আমি যা এবং যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে চলছি সেটিই ঠিক তখন সবকিছু ঠিক হয়ে গেল।

আমি মনে করি এটিই বিষণ্ণতা থেকে মুক্তি পাওয়ার প্রথম ধাপ।’ পর্দায় নয়, এটাই ইলিয়েনার বাস্তব জীবনের গল্প। এখন সফল নায়িকা তিনি। তাই খোলামেলা মন্তব্য করতে কুণ্ঠাবোধ করেন না। অন্য নায়িকারা যে বিষয়টিকে ধামাচাপা দিয়ে রাখতে পছন্দ করেন তিনি সেটি অকপটেই বলে দেন। তার খোলামেলা মন্তব্য থেকে বাদ যান না অনেক বিখ্যাতজনরাও। সম্প্রতি গণমাধ্যমে একটি তথ্য ফাঁস করেন এ অভিনেত্রী। বলেন, ‘সিনেমায় নারীদের অভিনয়ের কোনো প্রশংসা করা হয় না।

তাদের নেয়া হয় শুধু শরীর দেখানোর জন্য।’ এমন কথা হলিউড-বলিউডের ক’জন অভিনেত্রী বলার সাহস দেখায়! অথচ ইলিয়েনা সে সাহস দেখিয়েছেন। ব্যক্তি জীবনে সাহসী এ অভিনেত্রী অভিনয় জীবনের প্রথম কাস্টিং কাউচে কথা ভুলতে পারছেন না এখনও। যা তাকে এখনও পীড়া দেয়। তাই চলচ্চিত্রের অন্তরালে ঘটা সব কাহিনী মুখ ফুটে বলে দিলেন তিনি। যদিও এসব বিষয়ে একটু মাতামাতি করলেই তো ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যাওয়ার কথা। ইলিয়েনার মতে, ‘কোনো তারকা নিজের ক্ষতি করতে চান না।

কারণ, প্রথম সারির এ তারকারা সবাই প্রতিষ্ঠিত। তাদের অনেকেরই দুর্ভাগ্য, কারণ অনেককেই কাস্টিং কাউচের শিকার হতে হয়েছিল।’ ইলিয়েনা আরও জানান, বলিউডে সবচেয়ে বেশি কাস্টিং কাউচের শিকার হন নতুন মেয়েরা। বলিউডে অভিনয়ের অনেক স্বপ্ন তাদের চোখে।

নিশ্চয়ই কেউ চান না, তাদের ক্যারিয়ার শুরুতেই শেষ হয়ে যাক। আর এ কারণেই কাস্টিং কাউচের ঘটনা সব সময় ধামাচাপা পড়ে যায়। এ অভিনেত্রী দাবি করেন, ভারতে বলিউডের অভিনেতা-অভিনেত্রীদের পূজা করা হয়। সেখানে কাস্টিং কাউচ নিয়ে মুখ খুললে যে ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যাবে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রিয়ালের নতুন কোচ আরবেলোয়া

কাস্টিং কাউচ ও ট্রয় নগরীর হেলেন

আপডেট সময় ০২:৫৫:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ মার্চ ২০১৮

আকাশ বিনোদন ডেস্ক : 

রূপ ও অভিনয় দক্ষতা দিয়ে কোটি ভক্তের মন জয় করেছেন বলিউড অভিনেত্রী ইলিয়েনা ডি’ক্রুজ। ক্যারিয়ারে তার অভিনীত ৯০ শতাংশ ছবিই সুপারহিট অথবা ব্লকবাস্টার। ২০০৬ সালে তেলেগু চলচ্চিত্র ‘দেবাদাসু’-তে অভিনয়ের জন্য ওই বছরের সেরা নবাগত নায়িকা বিভাগে ফিল্ম ফেয়ার অ্যাওয়ার্ড জয় করেন।

এরপর পোকিরি (২০০৬), কিক (২০০৮) এবং জুলারি (২০১২) চলচ্চিত্রে তার সরব উপস্থিতি দর্শকদের মন জুড়িয়েছে। এসব সফলতার পেছনে রয়েছে অনেক সংগ্রামের গল্প ও চাকচিক্যে ভরা বলিউডে টিকে থাকার অভিজ্ঞতা।

সে অভিজ্ঞতা দিয়েই এখন দক্ষিণী সিনেমার পাশাপাশি বলিউড পাড়াতেও সমানভাবে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। সফলতা এখন তার কপালে জ্বলজ্বল করছে। সাফল্য পাচ্ছেন একের পর এক। অথচ আজকের অবস্থানে আসার পেছনে অনেক পিচ্ছিল পথ পেরিয়ে আসতে হয়েছে তাকে। হয়েছেন কাস্টি কাউচের মুখোমুখিও। ভাবা যায়! শুনে অবাক হবেন, ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে এ সুন্দরী অভিনেত্রী আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলেন। তাকে ঘিরে ধরেছিল বিষণ্ণতা ও বডি ডিসমরফিক ডিসঅর্ডারে। ২১তম ‘ওয়ার্ল্ড কংগ্রেস অব মেনটাল হেলথ’ শীর্ষক একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এ ধরনের মন্তব্য তিনি নিজেই করেছেন। ঘটনাগুলো বলার পেছনে কারণও ছিল। কেউ যাতে বিষণ্ণতায় ভুগে আত্মহত্যার পথ বেছে না নেয়।

ইলিয়েনা বলেন, ‘আমি আত্মসচেতন ব্যক্তি এবং সবসময়ই আমার শারীরিক গড়ন নিয়ে চিন্তায় থাকতাম। সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হতে চাইতাম। আমার সবসময় মন খারাপ থাকত। কিন্তু এ বিষয়ে সাহায্য পাওয়ার আগে বুঝতে পারিনি আমি বিষণ্ণতা এবং বডি ডিসমরফিক ডিসঅর্ডারে ভুগছি। এক পর্যায়ে আত্মহত্যার চিন্তা করেছিলাম এবং সবকিছু শেষ করে দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু যখন মেনে নিলাম, আমি যা এবং যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে চলছি সেটিই ঠিক তখন সবকিছু ঠিক হয়ে গেল।

আমি মনে করি এটিই বিষণ্ণতা থেকে মুক্তি পাওয়ার প্রথম ধাপ।’ পর্দায় নয়, এটাই ইলিয়েনার বাস্তব জীবনের গল্প। এখন সফল নায়িকা তিনি। তাই খোলামেলা মন্তব্য করতে কুণ্ঠাবোধ করেন না। অন্য নায়িকারা যে বিষয়টিকে ধামাচাপা দিয়ে রাখতে পছন্দ করেন তিনি সেটি অকপটেই বলে দেন। তার খোলামেলা মন্তব্য থেকে বাদ যান না অনেক বিখ্যাতজনরাও। সম্প্রতি গণমাধ্যমে একটি তথ্য ফাঁস করেন এ অভিনেত্রী। বলেন, ‘সিনেমায় নারীদের অভিনয়ের কোনো প্রশংসা করা হয় না।

তাদের নেয়া হয় শুধু শরীর দেখানোর জন্য।’ এমন কথা হলিউড-বলিউডের ক’জন অভিনেত্রী বলার সাহস দেখায়! অথচ ইলিয়েনা সে সাহস দেখিয়েছেন। ব্যক্তি জীবনে সাহসী এ অভিনেত্রী অভিনয় জীবনের প্রথম কাস্টিং কাউচে কথা ভুলতে পারছেন না এখনও। যা তাকে এখনও পীড়া দেয়। তাই চলচ্চিত্রের অন্তরালে ঘটা সব কাহিনী মুখ ফুটে বলে দিলেন তিনি। যদিও এসব বিষয়ে একটু মাতামাতি করলেই তো ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যাওয়ার কথা। ইলিয়েনার মতে, ‘কোনো তারকা নিজের ক্ষতি করতে চান না।

কারণ, প্রথম সারির এ তারকারা সবাই প্রতিষ্ঠিত। তাদের অনেকেরই দুর্ভাগ্য, কারণ অনেককেই কাস্টিং কাউচের শিকার হতে হয়েছিল।’ ইলিয়েনা আরও জানান, বলিউডে সবচেয়ে বেশি কাস্টিং কাউচের শিকার হন নতুন মেয়েরা। বলিউডে অভিনয়ের অনেক স্বপ্ন তাদের চোখে।

নিশ্চয়ই কেউ চান না, তাদের ক্যারিয়ার শুরুতেই শেষ হয়ে যাক। আর এ কারণেই কাস্টিং কাউচের ঘটনা সব সময় ধামাচাপা পড়ে যায়। এ অভিনেত্রী দাবি করেন, ভারতে বলিউডের অভিনেতা-অভিনেত্রীদের পূজা করা হয়। সেখানে কাস্টিং কাউচ নিয়ে মুখ খুললে যে ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যাবে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।