ঢাকা ১২:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

আটকে আছে বাংলাদেশ ভবনের উদ্বোধন

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: 

পশ্চিমবঙ্গের শান্তিনিকেতনে উদ্বোধনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত দু’দেশের ইতিহাস, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের মতো ব্যক্তিত্বদের কর্মকাণ্ড, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ, ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্কে সাংস্কৃতিক বোঝাপড়া নিয়ে গবেষণাধর্মী কাজ করার উদ্দেশ্যে তৈরি ‘বাংলাদেশ ভবন’। কিন্তু দু’দেশের রাজনৈতিক প্যাঁচে আটকে আছে এর উদ্বোধন।

২০১০ সালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের সময়ে বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগেই ওই ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয় দুই দেশ। শান্তিনিকেতনে ভবন তৈরির জন্য জমি দেবে বিশ্বভারতী। আর ভবন তৈরির জন্য যে ২৫ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে তা দেবে বাংলাদেশ সরকার। শান্তিনিকেতনে চিনা সরকার ও বিশ্বভারতীর যৌথ উদ্যোগে চিনা ভাষা পঠনপাঠনের জন্য চিনা ভবন বা জাপানি ভাষার জন্য নিপ্পন ভবন রয়েছে।

বাংলাদেশ ভবনের উদ্বোধন করতে আসার কথা রয়েছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। কিন্তু দু’দেশের ভোট রাজনীতির টানাপড়েনে আপাতত থমকে গিয়েছে এর উদ্বোধন।

দুই দেশের প্রাথমিক ভাবে লক্ষ্য ছিল ১৭ মার্চ, মুজিবর রহমানের জন্মদিনে বাংলাদেশ ভবনটির উদ্বোধন করার। সম্প্রতি বাংলাদেশ ভবন যে প্রস্তুত তা প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়কে অবগত করেছেন বিশ্বভারতীর অন্তর্র্বতীকালীন উপাচার্য সবুজকলি সেন। কিন্তু সমস্যা হল, দু’দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে শেষ সফরে ভারতে এসেছিলেন শেখ হাসিনা।

বাংলাদেশ হাইকমিশন সূত্র বলছে, প্রটোকল মেনে এরপর ঢাকা যাওয়ার কথা নরেন্দ্র মোদীর। সেই সফর না হওয়া পর্যন্ত হাসিনার পক্ষে ভারতে আসাটা প্রটোকলে আটকায়। তবে এই মুহূর্তে দুদেশের প্রধানমন্ত্রীর সফরের ঝাক্কি রয়েছে বেশ। এ বছরের শেষে বাংলাদেশে নির্বাচন। এই সময়ে হাসিনা যদি ভারতে আসেন, তাহলে স্বভাবতই প্রশ্ন উঠবে তিস্তা চুক্তির অগ্রগতি নিয়ে। মূলত পশ্চিমবঙ্গের আপত্তিতে ওই চুক্তি আটকে রয়েছে। ফলে তিস্তা প্রসঙ্গ তুলে হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামতে পারে বিরোধীরা। এতে ঘরোয়া রাজনীতিতে অস্বস্তিতে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে হাসিনা সরকারের।

আবার ভারতে লোকসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। আপাতত তাই বাংলাদেশে নির্বাচনের পরে যিনি প্রধানমন্ত্রী হবেন, তিনিই ওই ভবনের উদ্বোধন করবেন বলে বিশ্বভারতীকে জানিয়েছে কেন্দ্র।

প্রাথমিক ভাবে ঠিক হয়েছে বাংলাদেশ ভবনে একটি গ্রন্থাগার, আলোচনা কক্ষ ও প্রেক্ষাগৃহ, ডিজিটাল মিউজিয়াম, ঐতিহাসিক দলিল-দস্তাবেজ সংরক্ষণাগার, স্টুডিও ও রেকর্ড রুম থাকবে। ওই ভবনে মূলত শেখ মুজিবুর রহমান ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ সম্পর্কিত বিষয়ের উপরে গবেষণা করার ব্যবস্থা করা হবে। দু’দেশের মধ্যে এ বিষয়ে যে চুক্তি স্বাক্ষর হয় তাতে বলা হয়েছে ওই ভবনে একটি ছবির গ্যালারি থাকবে। যেখানে ঠাকুর পরিবারের সঙ্গে (দ্বারকানাথ থেকে রবীন্দ্রনাথ) বাংলাদেশের সম্পর্ক ছবির মাধ্যমে তুলে ধরা হবে। সূত্র: আনন্দবাজার

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

আটকে আছে বাংলাদেশ ভবনের উদ্বোধন

আপডেট সময় ০১:৪৩:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ মার্চ ২০১৮

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: 

পশ্চিমবঙ্গের শান্তিনিকেতনে উদ্বোধনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত দু’দেশের ইতিহাস, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের মতো ব্যক্তিত্বদের কর্মকাণ্ড, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ, ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্কে সাংস্কৃতিক বোঝাপড়া নিয়ে গবেষণাধর্মী কাজ করার উদ্দেশ্যে তৈরি ‘বাংলাদেশ ভবন’। কিন্তু দু’দেশের রাজনৈতিক প্যাঁচে আটকে আছে এর উদ্বোধন।

২০১০ সালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের সময়ে বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগেই ওই ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয় দুই দেশ। শান্তিনিকেতনে ভবন তৈরির জন্য জমি দেবে বিশ্বভারতী। আর ভবন তৈরির জন্য যে ২৫ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে তা দেবে বাংলাদেশ সরকার। শান্তিনিকেতনে চিনা সরকার ও বিশ্বভারতীর যৌথ উদ্যোগে চিনা ভাষা পঠনপাঠনের জন্য চিনা ভবন বা জাপানি ভাষার জন্য নিপ্পন ভবন রয়েছে।

বাংলাদেশ ভবনের উদ্বোধন করতে আসার কথা রয়েছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। কিন্তু দু’দেশের ভোট রাজনীতির টানাপড়েনে আপাতত থমকে গিয়েছে এর উদ্বোধন।

দুই দেশের প্রাথমিক ভাবে লক্ষ্য ছিল ১৭ মার্চ, মুজিবর রহমানের জন্মদিনে বাংলাদেশ ভবনটির উদ্বোধন করার। সম্প্রতি বাংলাদেশ ভবন যে প্রস্তুত তা প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়কে অবগত করেছেন বিশ্বভারতীর অন্তর্র্বতীকালীন উপাচার্য সবুজকলি সেন। কিন্তু সমস্যা হল, দু’দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে শেষ সফরে ভারতে এসেছিলেন শেখ হাসিনা।

বাংলাদেশ হাইকমিশন সূত্র বলছে, প্রটোকল মেনে এরপর ঢাকা যাওয়ার কথা নরেন্দ্র মোদীর। সেই সফর না হওয়া পর্যন্ত হাসিনার পক্ষে ভারতে আসাটা প্রটোকলে আটকায়। তবে এই মুহূর্তে দুদেশের প্রধানমন্ত্রীর সফরের ঝাক্কি রয়েছে বেশ। এ বছরের শেষে বাংলাদেশে নির্বাচন। এই সময়ে হাসিনা যদি ভারতে আসেন, তাহলে স্বভাবতই প্রশ্ন উঠবে তিস্তা চুক্তির অগ্রগতি নিয়ে। মূলত পশ্চিমবঙ্গের আপত্তিতে ওই চুক্তি আটকে রয়েছে। ফলে তিস্তা প্রসঙ্গ তুলে হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামতে পারে বিরোধীরা। এতে ঘরোয়া রাজনীতিতে অস্বস্তিতে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে হাসিনা সরকারের।

আবার ভারতে লোকসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। আপাতত তাই বাংলাদেশে নির্বাচনের পরে যিনি প্রধানমন্ত্রী হবেন, তিনিই ওই ভবনের উদ্বোধন করবেন বলে বিশ্বভারতীকে জানিয়েছে কেন্দ্র।

প্রাথমিক ভাবে ঠিক হয়েছে বাংলাদেশ ভবনে একটি গ্রন্থাগার, আলোচনা কক্ষ ও প্রেক্ষাগৃহ, ডিজিটাল মিউজিয়াম, ঐতিহাসিক দলিল-দস্তাবেজ সংরক্ষণাগার, স্টুডিও ও রেকর্ড রুম থাকবে। ওই ভবনে মূলত শেখ মুজিবুর রহমান ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ সম্পর্কিত বিষয়ের উপরে গবেষণা করার ব্যবস্থা করা হবে। দু’দেশের মধ্যে এ বিষয়ে যে চুক্তি স্বাক্ষর হয় তাতে বলা হয়েছে ওই ভবনে একটি ছবির গ্যালারি থাকবে। যেখানে ঠাকুর পরিবারের সঙ্গে (দ্বারকানাথ থেকে রবীন্দ্রনাথ) বাংলাদেশের সম্পর্ক ছবির মাধ্যমে তুলে ধরা হবে। সূত্র: আনন্দবাজার