ঢাকা ০১:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬, ৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিশ্বকাপ খেলতে চায় বাংলাদেশও, বন্ধ হয়নি সব দরজা : বুলবুল নিউজিল্যান্ডে ভয়াবহ ভূমিধস, বহু মানুষ নিখোঁজ, উদ্ধার অভিযান জোরদার তারেক রহমানের প্রথম নির্বাচনি জনসভা, সিলেট আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে জনসমুদ্র ফ্যাসিস্ট গোষ্ঠী এখনো ওত পেতে আছে : উপদেষ্টা ফরিদা আখতার শাহজালালের মাজার জিয়ারত করলেন তারেক রহমান নির্বাচনে ১০ দলীয় জোট সরকার গঠন করবে: ডা. তাহের সারা দেশে বিদ্রোহীদের বহিষ্কার করল বিএনপি, তালিকায় যারা প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের ফল প্রকাশ, ৬৯ হাজারের বেশি উত্তীর্ণ আমার প্রতিদ্বন্দ্বী নির্বাচন করতে নয়, বানচাল করতে এসেছেন : নুর বিশ্বকাপে খেলতে হলে ভারতেই যেতে হবে, সিদ্ধান্ত আইসিসির

ফারুক হত্যা মামলার আংশিক সাক্ষ্যগ্রহণ

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলার আংশিক সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে। আগামীকাল বুধবার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার দুপুরে টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আবুল মনসুর মিয়ার আদালতে মামলার প্রধান আসামি টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানার উপস্থিতিতে আংশিক সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়।

বেলা ১১টার দিকে মামলার বাদী ও নিহত ফারুক আহমদের স্ত্রীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। আংশিক সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে দুপুর পৌনে একটার দিকে আদালত মুলতবি ঘোষণা করে।

সকাল সাড়ে নয়টার দিকে কাশিমপুর কারাগার থেকে সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানাকে টাঙ্গাইল কারাগারে আনা হয়। বেলা ১১টার দিকে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। এর আগে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে এমপি রানাকে আদালতে হাজির না করায় এই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ চারবার পিছিয়ে যায়।

মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও অতিরিক্ত পিপি মনিরুল ইসলাম খান জানান, মঙ্গলবার ফারুক হত্যা মামলার বাদী নিহত ফারুক আহমেদের স্ত্রী নাহার আহমেদ আংশিক সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। পরে আদালত মুলতবি দিয়ে পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করে।

এসময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন রফিকুল ইসলাম, আব্দুল গফুর, এস আকবর খান, জোয়াহেরুল ইসলাম প্রমুখ।

আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন ফায়জুর রহমান, খন্দকার নাজিম উদ্দিন, জহিরুল ইসলাম প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি জেলা আওয়ামী লীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ শহরের কলেজপাড়ায় নিজ বাসার সামনে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। এ ঘটনার দুই দিন পর নিহতের স্ত্রী নাহার আহমদ বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা দায়ের করেন। পরে মামলাটি জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কাছে স্থানান্তরিত হয়। তদন্ত কর্মকর্তা টাঙ্গাইল গোয়েন্দা পুলিশের তৎকালীন এসআই অশোক কুমার সিংহ (পিপিএম) এ হত্যাকাণ্ডে এমপি রানা ও তার ভাইদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পান।

দীর্ঘদিন তদন্ত শেষে ২০১৬ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি এমপি আমানুর রহমান খান রানা, তার ছোট ভাই ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান কাকন, টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পাসহ ১৪ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা টাঙ্গাইল গোয়েন্দা পুলিশের তৎকালীন পরিদর্শক গোলাম মাহফীজুর রহমান।

এরপর ২০১৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর এমপি রানা আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক। নয়বার তারিখ পেছানোর পর গত বছরের ৬ সেপ্টেম্বর দণ্ডবিধির ৩০২/ ১২০/৩৪ ধারায় সংসদ সদস্য রানা ও তার তিন ভাইসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু করে আদালত।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফারুক হত্যা মামলার আংশিক সাক্ষ্যগ্রহণ

আপডেট সময় ০৩:৪৯:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ মার্চ ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলার আংশিক সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে। আগামীকাল বুধবার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার দুপুরে টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আবুল মনসুর মিয়ার আদালতে মামলার প্রধান আসামি টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানার উপস্থিতিতে আংশিক সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়।

বেলা ১১টার দিকে মামলার বাদী ও নিহত ফারুক আহমদের স্ত্রীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। আংশিক সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে দুপুর পৌনে একটার দিকে আদালত মুলতবি ঘোষণা করে।

সকাল সাড়ে নয়টার দিকে কাশিমপুর কারাগার থেকে সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানাকে টাঙ্গাইল কারাগারে আনা হয়। বেলা ১১টার দিকে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। এর আগে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে এমপি রানাকে আদালতে হাজির না করায় এই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ চারবার পিছিয়ে যায়।

মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও অতিরিক্ত পিপি মনিরুল ইসলাম খান জানান, মঙ্গলবার ফারুক হত্যা মামলার বাদী নিহত ফারুক আহমেদের স্ত্রী নাহার আহমেদ আংশিক সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। পরে আদালত মুলতবি দিয়ে পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করে।

এসময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন রফিকুল ইসলাম, আব্দুল গফুর, এস আকবর খান, জোয়াহেরুল ইসলাম প্রমুখ।

আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন ফায়জুর রহমান, খন্দকার নাজিম উদ্দিন, জহিরুল ইসলাম প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি জেলা আওয়ামী লীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ শহরের কলেজপাড়ায় নিজ বাসার সামনে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। এ ঘটনার দুই দিন পর নিহতের স্ত্রী নাহার আহমদ বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা দায়ের করেন। পরে মামলাটি জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কাছে স্থানান্তরিত হয়। তদন্ত কর্মকর্তা টাঙ্গাইল গোয়েন্দা পুলিশের তৎকালীন এসআই অশোক কুমার সিংহ (পিপিএম) এ হত্যাকাণ্ডে এমপি রানা ও তার ভাইদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পান।

দীর্ঘদিন তদন্ত শেষে ২০১৬ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি এমপি আমানুর রহমান খান রানা, তার ছোট ভাই ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান কাকন, টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পাসহ ১৪ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা টাঙ্গাইল গোয়েন্দা পুলিশের তৎকালীন পরিদর্শক গোলাম মাহফীজুর রহমান।

এরপর ২০১৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর এমপি রানা আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক। নয়বার তারিখ পেছানোর পর গত বছরের ৬ সেপ্টেম্বর দণ্ডবিধির ৩০২/ ১২০/৩৪ ধারায় সংসদ সদস্য রানা ও তার তিন ভাইসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু করে আদালত।