আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক:
কাটার মাস্টার মোস্তাফিজের মতো আরও এক পেস বোলারের সন্ধান মিলল। নতুন এই গতি মানবের নামইয়াসিন আরফাত। যার গতিতে বিধ্বস্ত ঢাকা লিগের অন্যতম শক্তিশালী দল আবাহনী। সুযোগ পেলে হয়তো এ আরাফাতই একদিন মোস্তাফিজকে ছাড়িয়ে যাবেন-এ আভাসই দিলেন তিনি!
লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে নিজের ক্যারিয়ারের তৃতীয় ম্যাচে খেলতে নেমে ৮ উইকেট শিকার করেন। বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে নতুন ইতিহাস গড়লেন গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের এই তরুণ। ক্রিকেট ইতিহাসে ১১তম বোলার হিসেবে এক ম্যাচে ৮ উইকেট শিকারের নজির স্থাপন করলেন নোয়াখালীর এই তরুণ।
ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগের অন্যতম শক্তিশীল দল আবাহনীকে ২৬.১ ওভারে ১১৩ রানেই অলআউট করে দিয়েছেন ১৯ বছরের এই তরুণক্রিকেটার।
আগামীর সম্ভাবনাময়ী এই পেস বোলাররের গতির সামনে পাত্তাই পায়নি জাতীয় দলের ক্রিকেটার এনামুল হক বিজয়, নাসির হোসেন, মোহাম্মদ মিথুন, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, নাজমুল হোসেন শান্ত, মাশরাফি বিন মুর্তজা এবং অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অধিনায়ক সাইফ হাসানরা।
বুধবার ফতুল্লাহ খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই খেলায় ইনিংসের তৃতীয় ওভারে বোলিং এসে ৩ বলে তুলে নেন (সাইফ ও শান্তকে) ২ উইকেট। ঠিক পরের ওভারে ৩ বলে নেন (নাসির ও মোসাদ্দেক) ২ উইকেট। নিজের প্রথম ৩ ওভারে ১১ রানে ৪ উইকেট তুলে নিয়ে আবাহনীকে একঘরে করে রাখেন আরাফাত। ৫ ওভারে ১২ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় আবাহনী।
ষষ্ঠ উইকেটে মেনন শর্মাকে সঙ্গে নিয়ে ৫৩ রানের জুটি গড়েন মিঠুন। তিনি ৪২ বলে ৪০ রান করে টিপু সুলনাতের বলে বিভ্রান্ত হয়ে সাজঘরে ফেরেন। এরপর আবার আবাহনীকে চেপে ধরেন আরাফাত।
দ্বিতীয় স্পেলে বোলিংয়ে এসে ফের ঝড় তুলেন। ইনিংসের ২৩তম ওভারে ৫ বলে তুলে নেন (মাশরাফি, সানজামুল ও আরিফুর ইসলাম সবুজ) ৩ উইকেট। ২৭তম ওভারের প্রথম বলে মেনন শর্মার উইকেট তুলে নিলে ১১৩ রানে থেমে যায় আবাহনীর আগ্রযাত্রা। আবাহনীর বিদেশী ক্রিকেটার মেনন শর্মার ৪৬ এবং মিঠুনের ৪০ রানের কল্যাণে শেষ পর্যন্ত ১১৩ রান তুলতে সক্ষম হয় লিগের সেরা দলটি। গাজীর হয়ে ৮.১ ওভারে ৪০ রানে ৮ উইকেটন নেন আরাফাত। এছাড়া ২ উইকেট নেন টিপু।
১১৪ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে ২১ রানে মেহেদী হাসান এবং মুমিনুল হক সৌরভের উইকেট হারিয়ে কিছুটা বিপদে পড়ে যায় গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স। তৃতীয় উইকেটে পাকিস্তানি ক্রিকেটার ফাওয়াদ আলমকে সঙ্গে নিয়ে ৯৩ রানের জুটি গড়ে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন অধিনায়ক জহুরুল ইসলাম অমি। ৭৮ বলে ৫২ রানের ইনিংস খেলেন জহুরুল। ৩৯ রান আসে ফাওয়াদ আলমের ব্যাট থেকে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
আবাহনী: ২৬.১ ওভারে ১১৩/১০ রান (মেনন ৪৬, মিঠুন ৪০; আরাফাত ৮/৪০)।
গাজী ক্রিকেটার্স: ২৯.৫ ওভারে ১১৪/২ রান (জহুরুল ৫২*, ফাওয়াদ ৩৯*)।
ফল: গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স ৮ উইকেটে জয়ী।
ম্যাচ সেরা: ইয়াসিন আরাফাত (গাজী ক্রিকেটার্স)।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 

























