ঢাকা ০৭:৪৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে সব ধরনের সংগঠনের নির্বাচন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে ইসি এমপি যদি সৎ হন, ঠিকাদারের বাপের সাধ্য নেই চুরি করার: রুমিন ফারহানা ‘ধর্মের নামে ব্যবসা করে যারা নির্বাচনে জিততে চায়, তারা এ দেশে আর কখনো গ্রহণযোগ্যতা পাবে না’:ফারুক পার্থকে ছেড়ে দিলেন বিএনপির প্রার্থী গোলাম নবী গণহত্যার বিচারে ধরনের কম্প্রোমাইজ নয়: প্রসিকিউটর তামিম স্ত্রীর কোনো স্বর্ণ নেই, তাহেরির আছে ৩১ ভরি স্বর্ণ নির্বাচনে ভোট ডাকাতি যেন আর কখনো না ঘটে, সে ব্যবস্থা করতে হবে : প্রধান উপদেষ্টা ইরানে অর্ধশতাধিক মসজিদ-১৮০ অ্যাম্বুলেন্সে আগুন দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা নির্বাচনে ৩০ আসনে লড়বে এনসিপি: আসিফ মাহমুদ নির্বাচন বানচালে দেশবিরোধী শক্তি অপচেষ্টা ও সহিংসতা চালাচ্ছে : মির্জা আব্বাস

শিশু গৃহকর্মীকে তিন দিন টয়লেটে আটকে রেখেছিল

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সাভারের বাইপাইল এলাকায় গৃহকর্ত্রীর নির্যাতনের শিকার হয়ে রেবা খাতুন (১২) নামে এক গৃহকর্মী চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে অসুস্থ অবস্থায় পরিবারের লোকজন তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

গৃহকর্মী শিশুটি চাটমোহর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের ধূলাউড়ি কুঠিপাড়া গ্রামের দিনমজুর মো. নূর আলী ও নাসিমা খাতুনের মেয়ে। অভিযুক্ত গৃহকর্ত্রী সাভারের বাইপাইল এলাকার মোবাইল ব্যবসায়ী শাহীন আলমের স্ত্রী রাজিয়া সুলতানা আঁখি।

পরিবারের লোকজনের অভিযোগে জানা গেছে, তিন মাস আগে তাদের দূর-সম্পর্কের আত্মীয় নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের গড়মাটি গ্রামের আহসান হাবীব ও তার স্ত্রী শাহনাজ পারভীন তাদের মেয়ে আঁখি ও জামাই শাহীনের সাভারের ভাড়া বাসায় রেবাকে গৃহকর্মী হিসেবে রেখে আসেন। এর কিছুদিন পর থেকেই আঁখি বিভিন্ন অজুহাতে রেবাকে নির্যাতন করত।

মারধরের পাশাপাশি ভয় দেখাতে টয়লেটে বন্দি করে রাখা হতো। চাহিদামাফিক খেতে দেয়া হতো না। সম্প্রতি রেবা অসুস্থ হয়ে পড়লে আঁখি তার মা শাহনাজ পারভীনের মাধ্যমে রোববার গড়মাটি গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। পরে মোবাইলের মাধ্যমে বিষয়টি জেনে রেবার স্বজনরা তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে দিয়ে যেতে বলেন।

মঙ্গলবার সকালে শাহনাজ পারভীন রেবাকে তাদের বাড়িতে নিয়ে এলে তার শারীরিক অবস্থা দেখে সবাই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। পরে রাতে তাকে চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

বুধবার দুপুরে হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে দৈনিক আকাশকে রেবা বলে, ‘আমাকে ওই আপা (আঁখি) কথায় কথায় রুটি বানানোর বেলনা দিয়ে মারপিট করত। খাবার কম দিত। বাবা-মার সঙ্গে কথা বলার সময় পাশে বসে থাকত, যেন কিছু না বলি। তিন দিন আমাকে টয়লেটে বন্দি করে রেখেছিল। আমি ওদের কাছে আর যাব না।’ রেবার মা নাসিমা খাতুন দৈনিক আকাশকে বলেন, ‘আমার মেয়ের শারীরিক অবস্থা এমন ছিল না। তাকে নির্যাতন করে এমন করা হয়েছে। সারা শরীরের মারপিটের দাগ হয়ে আছে। আমরা গরিব মানুষ। আমি এর ন্যায়বিচার চাই।’

এদিকে চাটমোহর হাসপাতালে কথা হয় অভিযুক্ত গৃহকর্ত্রী আঁখি খাতুনের মা শাহনাজ পারভীনের সঙ্গে। তিনি দৈনিক আকাশকে বলেন, নির্যাতনের বিষয়টি সত্য নয়। মাঝেমধ্যে কথা না শুনলে আমার মেয়ে রেবাকে ভয় দেখাতো। সে আগে থেকেই অসুস্থ ছিল। তাকে ডাক্তার দেখানো হয়েছে। চিকিৎসার সব খরচ বহন করতে চেয়েছি। তারপরেও আমাদের দোষারোপ করা হচ্ছে।

চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা.স.ম. বায়েজিদুল ইসলাম দৈনিক আকাশকে বলেন, ‘রেবা নামের ওই শিশুটি শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হওয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এছাড়া সে অপুষ্টিতেও ভুগছে। চিকিৎসা শুরু হয়েছে। পুষ্টিকর খাবার খেলে শিগগিরই সুস্থ হয়ে উঠবে। তবে সময় লাগবে।’

চাটমোহর থানার ওসি এসএম আহসান হাবীব দৈনিক আকাশকে বলেন, ‘খবর পেয়ে হাসপাতালে পুলিশ পাঠিয়েছিলাম। ঘটনাটি যেহেতু সাভার এলাকায় ঘটেছে তাই সেখানকার থানায় অভিযোগ দিতে হবে। এক্ষেত্রে ভুক্তভোগী ওই পরিবারকে সব রকমের সহযোগিতা করা হবে।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে সব ধরনের সংগঠনের নির্বাচন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে ইসি

শিশু গৃহকর্মীকে তিন দিন টয়লেটে আটকে রেখেছিল

আপডেট সময় ১১:১৫:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ মার্চ ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সাভারের বাইপাইল এলাকায় গৃহকর্ত্রীর নির্যাতনের শিকার হয়ে রেবা খাতুন (১২) নামে এক গৃহকর্মী চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে অসুস্থ অবস্থায় পরিবারের লোকজন তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

গৃহকর্মী শিশুটি চাটমোহর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের ধূলাউড়ি কুঠিপাড়া গ্রামের দিনমজুর মো. নূর আলী ও নাসিমা খাতুনের মেয়ে। অভিযুক্ত গৃহকর্ত্রী সাভারের বাইপাইল এলাকার মোবাইল ব্যবসায়ী শাহীন আলমের স্ত্রী রাজিয়া সুলতানা আঁখি।

পরিবারের লোকজনের অভিযোগে জানা গেছে, তিন মাস আগে তাদের দূর-সম্পর্কের আত্মীয় নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের গড়মাটি গ্রামের আহসান হাবীব ও তার স্ত্রী শাহনাজ পারভীন তাদের মেয়ে আঁখি ও জামাই শাহীনের সাভারের ভাড়া বাসায় রেবাকে গৃহকর্মী হিসেবে রেখে আসেন। এর কিছুদিন পর থেকেই আঁখি বিভিন্ন অজুহাতে রেবাকে নির্যাতন করত।

মারধরের পাশাপাশি ভয় দেখাতে টয়লেটে বন্দি করে রাখা হতো। চাহিদামাফিক খেতে দেয়া হতো না। সম্প্রতি রেবা অসুস্থ হয়ে পড়লে আঁখি তার মা শাহনাজ পারভীনের মাধ্যমে রোববার গড়মাটি গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। পরে মোবাইলের মাধ্যমে বিষয়টি জেনে রেবার স্বজনরা তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে দিয়ে যেতে বলেন।

মঙ্গলবার সকালে শাহনাজ পারভীন রেবাকে তাদের বাড়িতে নিয়ে এলে তার শারীরিক অবস্থা দেখে সবাই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। পরে রাতে তাকে চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

বুধবার দুপুরে হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে দৈনিক আকাশকে রেবা বলে, ‘আমাকে ওই আপা (আঁখি) কথায় কথায় রুটি বানানোর বেলনা দিয়ে মারপিট করত। খাবার কম দিত। বাবা-মার সঙ্গে কথা বলার সময় পাশে বসে থাকত, যেন কিছু না বলি। তিন দিন আমাকে টয়লেটে বন্দি করে রেখেছিল। আমি ওদের কাছে আর যাব না।’ রেবার মা নাসিমা খাতুন দৈনিক আকাশকে বলেন, ‘আমার মেয়ের শারীরিক অবস্থা এমন ছিল না। তাকে নির্যাতন করে এমন করা হয়েছে। সারা শরীরের মারপিটের দাগ হয়ে আছে। আমরা গরিব মানুষ। আমি এর ন্যায়বিচার চাই।’

এদিকে চাটমোহর হাসপাতালে কথা হয় অভিযুক্ত গৃহকর্ত্রী আঁখি খাতুনের মা শাহনাজ পারভীনের সঙ্গে। তিনি দৈনিক আকাশকে বলেন, নির্যাতনের বিষয়টি সত্য নয়। মাঝেমধ্যে কথা না শুনলে আমার মেয়ে রেবাকে ভয় দেখাতো। সে আগে থেকেই অসুস্থ ছিল। তাকে ডাক্তার দেখানো হয়েছে। চিকিৎসার সব খরচ বহন করতে চেয়েছি। তারপরেও আমাদের দোষারোপ করা হচ্ছে।

চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা.স.ম. বায়েজিদুল ইসলাম দৈনিক আকাশকে বলেন, ‘রেবা নামের ওই শিশুটি শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হওয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এছাড়া সে অপুষ্টিতেও ভুগছে। চিকিৎসা শুরু হয়েছে। পুষ্টিকর খাবার খেলে শিগগিরই সুস্থ হয়ে উঠবে। তবে সময় লাগবে।’

চাটমোহর থানার ওসি এসএম আহসান হাবীব দৈনিক আকাশকে বলেন, ‘খবর পেয়ে হাসপাতালে পুলিশ পাঠিয়েছিলাম। ঘটনাটি যেহেতু সাভার এলাকায় ঘটেছে তাই সেখানকার থানায় অভিযোগ দিতে হবে। এক্ষেত্রে ভুক্তভোগী ওই পরিবারকে সব রকমের সহযোগিতা করা হবে।’