ঢাকা ০৫:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঐতিহাসিক ৭ মার্চ আজ, মুক্তির বাণী শোনানোর দিন

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

আজ বুধবার ঐতিহাসিক ৭ মার্চ। মুক্তিকামী বাঙালি জাতিকে মুক্তির বাণী শোনানোর দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে বিশাল জনসমুদ্রে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তিকামী বাঙালি জাতিকে মুক্তির বাণী শোনান। এই দিনে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানের (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) এই মহান নেতা বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা করেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ তিনি বলেন, ‘রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরও দেবো। এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব, ইনশাআল্লাহ!’

কবি নির্মলেন্দু গুণ তার ‘স্বাধীনতা, এই শব্দটি কিভাবে আমাদের হলো’ কবিতার শেষাংশে লিখেছেন, ‘‘শত বছরের শত সংগ্রাম শেষে,/রবীন্দ্রনাথের মতো দৃপ্তপায়ে হেঁটে/ অতঃপর কবি এসে জনতার মঞ্চে দাঁড়ালেন।/ তখন পলকে দারুণ ঝলকে তরীতে উঠিল জল, হৃদয়ে লাগিল দোলা।/জনসমুদ্রে জাগিল জোয়ার সকল দুয়ার খোলা।/কে রোধে তাঁহার বজ্রকণ্ঠ বাণী?/ গণসূর্যের মঞ্চ কাঁপিয়ে কবি শোনালেন তাঁর অমর-কবিতাখানি;/‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম/ এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’।”

এ দিন বঙ্গবন্ধুর সেই ডাকে জেগে উঠেছিল ২৩ বছরের শোষণ আর নিপীড়নে পিষ্ট এদেশের মুক্তিপাগল জনতা। পেয়েছিল স্বাধীনতা যুদ্ধের দিক-নির্দেশনা। বাঙালি নিয়েছিল চূড়ান্ত লড়াইয়ের প্রস্তুতি।

বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাসে এক অনন্য সাধারণ দিন ৭ মার্চ। এই দিনে স্বাধীনতার মহানায়ক তার ১৮ মিনিটের ভাষণে সাড়ে সাত কোটি নিরস্ত্র বাঙালিকে সশস্ত্র জাতিতে পরিণত করেছিলেন। আগুন জ্বালিয়েছিলেন কোটি প্রাণে। ১৮ মিনিটের সেই ভাষণ গত বছর ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের দলিল হিসেবে স্বীকৃতি অর্জন করেছে।

এদিকে, দিবসটি উপলক্ষে আরেকবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসমুদ্র তৈরি করতে চায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। দিনটি উপলক্ষে ৭ মার্চ বুধবার বিশাল জনসভা ডেকেছে আওয়ামী লীগ। সেখানে এবার ভাষণ দেবেন বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই জনসভাকে জনসমুদ্রে রূপান্তর করতে সপ্তাহব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে চলেছে আওয়ামী লীগ। এরমধ্যে রয়েছে লিফলেট বিতরণ, গণসংযোগ ও যৌথসভা। এবার ঐতিহাসিক ৭ মার্চ বিশ্ব স্বীকৃতি পাওয়ায় দিনটিকে উপলক্ষে জনসভায় আলাদা করতে চায় আওয়ামী লীগ।

ঐতিহাসিক ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ভাষণে গর্জে ওঠে উত্তাল জনসমুদ্র। লাখ লাখ মানুষের গগণবিদারী স্লোগানের উদ্দামতায় বসন্তের মাতাল হাওয়ায় সেদিন পত্ পত্ করে ওড়ে বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত লাল-সবুজ পতাকা। লাখো শপথের বজ্রমুষ্টি উত্থিত হয় আকাশে। সেদিন বঙ্গবন্ধু মঞ্চে আরোহণ করেন বিকাল ৩টা ২০ মিনিটে। ফাগুনের সূর্য তখনও মাথার ওপর। মঞ্চে আসার পর তিনি জনতার উদ্দেশে হাত নাড়েন। তখন পুরো সোহরাওয়ার্দী উদ্যান লাখ লাখ বাঙালির ‘তোমার দেশ আমার দেশ বাংলাদেশ বাংলাদেশ, তোমার নেতা আমার নেতা শেখ মুজিব, শেখ মুজিব’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে।

এরপর বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে ৯ মাসের বীরত্বপূর্ণ সশস্ত্র লড়াই, ৩০ লাখ শহীদের আত্মাহুতির বিনিময়ে পাকিস্তানি সেনা ও তাদের এ দেশীয় দোসর রাজাকার, আলবদর, আলশামস বাহিনীকে পরাজিত করে ১৬ ডিসেম্বর বিজয় ছিনিয়ে আনে বাঙালি জাতি। শুরু হয় বাংলাদেশ নামের নতুন এক রাষ্ট্রের গৌরবযাত্রা।

বঙ্গবন্ধুর এই ঐতিহাসিক ভাষণের দিনটি প্রতিবছরের মতো এবারও যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হবে। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণী দিয়েছেন। দিনটি যথাযথ মর্যাদায় পালনের জন্য আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

কর্মসূচি

এবারের ৭ মার্চের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, ভোর ৬টা ৩০ মিনিটে বঙ্গবন্ধু ভবন ও দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, সকাল ৭টায় বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং দুপুর ২টায় ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা। এ জনসভায় সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঐতিহাসিক ৭ মার্চ আজ, মুক্তির বাণী শোনানোর দিন

আপডেট সময় ০১:০৭:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ মার্চ ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

আজ বুধবার ঐতিহাসিক ৭ মার্চ। মুক্তিকামী বাঙালি জাতিকে মুক্তির বাণী শোনানোর দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে বিশাল জনসমুদ্রে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তিকামী বাঙালি জাতিকে মুক্তির বাণী শোনান। এই দিনে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানের (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) এই মহান নেতা বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা করেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ তিনি বলেন, ‘রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরও দেবো। এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব, ইনশাআল্লাহ!’

কবি নির্মলেন্দু গুণ তার ‘স্বাধীনতা, এই শব্দটি কিভাবে আমাদের হলো’ কবিতার শেষাংশে লিখেছেন, ‘‘শত বছরের শত সংগ্রাম শেষে,/রবীন্দ্রনাথের মতো দৃপ্তপায়ে হেঁটে/ অতঃপর কবি এসে জনতার মঞ্চে দাঁড়ালেন।/ তখন পলকে দারুণ ঝলকে তরীতে উঠিল জল, হৃদয়ে লাগিল দোলা।/জনসমুদ্রে জাগিল জোয়ার সকল দুয়ার খোলা।/কে রোধে তাঁহার বজ্রকণ্ঠ বাণী?/ গণসূর্যের মঞ্চ কাঁপিয়ে কবি শোনালেন তাঁর অমর-কবিতাখানি;/‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম/ এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’।”

এ দিন বঙ্গবন্ধুর সেই ডাকে জেগে উঠেছিল ২৩ বছরের শোষণ আর নিপীড়নে পিষ্ট এদেশের মুক্তিপাগল জনতা। পেয়েছিল স্বাধীনতা যুদ্ধের দিক-নির্দেশনা। বাঙালি নিয়েছিল চূড়ান্ত লড়াইয়ের প্রস্তুতি।

বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাসে এক অনন্য সাধারণ দিন ৭ মার্চ। এই দিনে স্বাধীনতার মহানায়ক তার ১৮ মিনিটের ভাষণে সাড়ে সাত কোটি নিরস্ত্র বাঙালিকে সশস্ত্র জাতিতে পরিণত করেছিলেন। আগুন জ্বালিয়েছিলেন কোটি প্রাণে। ১৮ মিনিটের সেই ভাষণ গত বছর ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের দলিল হিসেবে স্বীকৃতি অর্জন করেছে।

এদিকে, দিবসটি উপলক্ষে আরেকবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসমুদ্র তৈরি করতে চায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। দিনটি উপলক্ষে ৭ মার্চ বুধবার বিশাল জনসভা ডেকেছে আওয়ামী লীগ। সেখানে এবার ভাষণ দেবেন বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই জনসভাকে জনসমুদ্রে রূপান্তর করতে সপ্তাহব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে চলেছে আওয়ামী লীগ। এরমধ্যে রয়েছে লিফলেট বিতরণ, গণসংযোগ ও যৌথসভা। এবার ঐতিহাসিক ৭ মার্চ বিশ্ব স্বীকৃতি পাওয়ায় দিনটিকে উপলক্ষে জনসভায় আলাদা করতে চায় আওয়ামী লীগ।

ঐতিহাসিক ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ভাষণে গর্জে ওঠে উত্তাল জনসমুদ্র। লাখ লাখ মানুষের গগণবিদারী স্লোগানের উদ্দামতায় বসন্তের মাতাল হাওয়ায় সেদিন পত্ পত্ করে ওড়ে বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত লাল-সবুজ পতাকা। লাখো শপথের বজ্রমুষ্টি উত্থিত হয় আকাশে। সেদিন বঙ্গবন্ধু মঞ্চে আরোহণ করেন বিকাল ৩টা ২০ মিনিটে। ফাগুনের সূর্য তখনও মাথার ওপর। মঞ্চে আসার পর তিনি জনতার উদ্দেশে হাত নাড়েন। তখন পুরো সোহরাওয়ার্দী উদ্যান লাখ লাখ বাঙালির ‘তোমার দেশ আমার দেশ বাংলাদেশ বাংলাদেশ, তোমার নেতা আমার নেতা শেখ মুজিব, শেখ মুজিব’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে।

এরপর বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে ৯ মাসের বীরত্বপূর্ণ সশস্ত্র লড়াই, ৩০ লাখ শহীদের আত্মাহুতির বিনিময়ে পাকিস্তানি সেনা ও তাদের এ দেশীয় দোসর রাজাকার, আলবদর, আলশামস বাহিনীকে পরাজিত করে ১৬ ডিসেম্বর বিজয় ছিনিয়ে আনে বাঙালি জাতি। শুরু হয় বাংলাদেশ নামের নতুন এক রাষ্ট্রের গৌরবযাত্রা।

বঙ্গবন্ধুর এই ঐতিহাসিক ভাষণের দিনটি প্রতিবছরের মতো এবারও যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হবে। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণী দিয়েছেন। দিনটি যথাযথ মর্যাদায় পালনের জন্য আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

কর্মসূচি

এবারের ৭ মার্চের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, ভোর ৬টা ৩০ মিনিটে বঙ্গবন্ধু ভবন ও দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, সকাল ৭টায় বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং দুপুর ২টায় ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা। এ জনসভায় সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।