ঢাকা ০৫:১০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬, ২৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আপত্তি থাকলে আগেই বলুন, বিল পাশের পর বলছেন আমি কিছু বুঝিলাম না:জামায়াত আমিরকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিএনপির উচিত বিতর্কিত কর্মকাণ্ডগুলো ৬ মাসের মধ্যেই শেষ করে ফেলা: সামান্থা খুলনায় ছেলের লাঠির আঘাতে মায়ের মৃত্যু এসএসসির খাতা মূল্যায়নে পরীক্ষকদের শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনা শত্রুতামূলক আচরণ না করলে হরমুজ দিয়ে মার্কিন জাহাজ চলতে পারবে: ইরান লেবাননে কোনো যুদ্ধবিরতি চলছে না, হামলা অব্যাহত থাকবে: নেতানিয়াহু বাংলা নববর্ষ উদযাপন ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার ডিএমপির উচ্চশিক্ষা, বৃত্তি ও দক্ষতা উন্নয়নে সহযোগিতা জোরদার করবে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া বর্তমান সরকার জুলাই বিপ্লবের চেতনার বহিঃপ্রকাশ: অ্যাটর্নি জেনারেল ১৬ বছরের দুর্নীতি-লুটপাটে অর্থনীতি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে: অর্থমন্ত্রী

খাবার স্যালাইনের আবিষ্কারক ডা. রফিকুল ইসলামের ইন্তেকাল

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

খাবার স্যালাইনের অন্যতম আবিষ্কারক ডা. রফিকুল ইসলাম ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি… রাজিউন)। সোমবার সকালে রাজধানীর বেসরকারি অ্যাপোলো হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। তিনি দুই মেয়ে ও এক ছেলে রেখে গেছেন।

ফেব্রুয়ারিতে ডা. রফিকুল ইসলাম হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। এ ছাড়াও তিনি বয়সজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। খ্যাতিমান চিকিৎসক রফিকুল ইসলাম ১৯৩৬ সালে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬৫ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেন। এছাড়া ব্রিটেনে ট্রপিক্যাল মেডিসিন ও হাইজিন বিষয়ে তিনি উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন।

চিকিৎসা বিদ্যায় অধ্যয়ন শেষে ডা. রফিকুল ইসলাম আইসিডিডিআরবিতে কর্মরত ছিলেন। ২০০০ সাল পর্যন্ত তিনি সেখানেই কর্মরত ছিলেন। ডা. রফিকুল ইসলাম বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন। বিশেষ করে খাবার স্যালাইন-ওআরএস আবিষ্কারের মাধ্যমে ডায়রিয়ার হাত থেকে লাখ লাখ শিশুর জীবন বাঁচান।

ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নাল দ্য ল্যান্সেট খাবার স্যালাইনকে চিকিৎসা বিজ্ঞানে বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার আখ্যা দিয়েছে। আর এর আবিষ্কারের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস।

জানা গেছে, মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের পশ্চিমবঙ্গে আশ্রিত বাংলাদেশিদের শরণার্থী শিবিরগুলোতে একবার কলেরা ছড়িয়ে পড়ে। তখন এর একমাত্র চিকিৎসা ছিল শিরায় দেয়া স্যালাইন (ইন্ট্রাভেনাস)। কিন্তু স্যালাইন সরবরাহ কম থাকায় শরণার্থীদের প্রাণ বাঁচাতে খাবার স্যালাইন ব্যবহার করা হয়। পরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা খাবার স্যালাইনকে স্বীকৃতি দেয়।

মুক্তিযুদ্ধের পর বাংলাদেশ সরকার ডায়রিয়ার চিকিৎসায় খাবার স্যালাইন ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করে। এ কারণে এটি ‘ঢাকা স্যালাইন’ নামেও পরিচিতি পায়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হবে ৪ শতাংশ: এডিবি

খাবার স্যালাইনের আবিষ্কারক ডা. রফিকুল ইসলামের ইন্তেকাল

আপডেট সময় ০৩:৪৮:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ মার্চ ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

খাবার স্যালাইনের অন্যতম আবিষ্কারক ডা. রফিকুল ইসলাম ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি… রাজিউন)। সোমবার সকালে রাজধানীর বেসরকারি অ্যাপোলো হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। তিনি দুই মেয়ে ও এক ছেলে রেখে গেছেন।

ফেব্রুয়ারিতে ডা. রফিকুল ইসলাম হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। এ ছাড়াও তিনি বয়সজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। খ্যাতিমান চিকিৎসক রফিকুল ইসলাম ১৯৩৬ সালে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬৫ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেন। এছাড়া ব্রিটেনে ট্রপিক্যাল মেডিসিন ও হাইজিন বিষয়ে তিনি উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন।

চিকিৎসা বিদ্যায় অধ্যয়ন শেষে ডা. রফিকুল ইসলাম আইসিডিডিআরবিতে কর্মরত ছিলেন। ২০০০ সাল পর্যন্ত তিনি সেখানেই কর্মরত ছিলেন। ডা. রফিকুল ইসলাম বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন। বিশেষ করে খাবার স্যালাইন-ওআরএস আবিষ্কারের মাধ্যমে ডায়রিয়ার হাত থেকে লাখ লাখ শিশুর জীবন বাঁচান।

ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নাল দ্য ল্যান্সেট খাবার স্যালাইনকে চিকিৎসা বিজ্ঞানে বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার আখ্যা দিয়েছে। আর এর আবিষ্কারের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস।

জানা গেছে, মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের পশ্চিমবঙ্গে আশ্রিত বাংলাদেশিদের শরণার্থী শিবিরগুলোতে একবার কলেরা ছড়িয়ে পড়ে। তখন এর একমাত্র চিকিৎসা ছিল শিরায় দেয়া স্যালাইন (ইন্ট্রাভেনাস)। কিন্তু স্যালাইন সরবরাহ কম থাকায় শরণার্থীদের প্রাণ বাঁচাতে খাবার স্যালাইন ব্যবহার করা হয়। পরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা খাবার স্যালাইনকে স্বীকৃতি দেয়।

মুক্তিযুদ্ধের পর বাংলাদেশ সরকার ডায়রিয়ার চিকিৎসায় খাবার স্যালাইন ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করে। এ কারণে এটি ‘ঢাকা স্যালাইন’ নামেও পরিচিতি পায়।