ঢাকা ১১:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২

সজনের ঔষধি গুণাগুণ!

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

গ্রাম-বাংলায় সজনে একটি পরিচিত গাছ। সজনে গাছ বাড়ে দ্রুত। দুই থেকে তিনবছরে ফুল দেয়। এই গাছের ফুল, পাতা, ফল সব কিছুই সুস্বাদু। গাছের বৈজ্ঞানিক নাম (Moringa Oleifera)। এই গাছটিকে মিরাকল ট্রি বা অলৌকিক গাছ নামেও আখ্যায়িত করা হয়েছে।

সজনে গাছের প্রতি গ্রাম পাতায় গাজরের থেকে ৪ গুণ বেশি ভিটামিন এ, দুধের থেকে ৪ গুণ বেশি ক্যালসিয়াম, কলার থেকে ৩ গুণ বেশি পটাসিয়াম, কমলা লেবুর থেকে ৭ গুণ বেশি ভিটামিন, দইয়ের থেকে ২ গুণ বেশি প্রোটিন আছে।

এই গাছে প্রায় ৩০০ রকমের অসুখের চিকিৎসা হয়। দক্ষিণ এশিয়ায় বহু বছর ধরে বাড়ির আনাচে-কানাচে, বনে-জঙ্গলে, পুকুরের ধারে এই গাছ দেখা যায়। সম্প্রতি সেনেগাল, মালির মতো আফ্রিকান দেশগুলোতে এর চাষ হচ্ছে বাণিজ্যিক ভাবে।

তেল-রসুন দিয়ে রান্না সজনে খেতে সুস্বাদু ও পুষ্টিকর। সজনে পাতা ও সজেনাতে আঁশ আছে, যা খাদ্যনালী ও অন্ত্রে পরিপাক তন্ত্রকে পরিষ্কার করে। বিশেষ করে তৈলাক্ত অনেক খাবার আমরা খাই, যার তেল রক্তনালীতে আটকে থাকে। এই গুলো বের করতে সজনে সাহায্য করে। সজনের মধ্যে আইসোথিয়োকাইনেটস নামে একটি উপাদান আছে, যা গ্যাস্ট্রিক, আলসার এবং গ্যাস্ট্রিক জনিত ক্যানসার ঠেকাতে সহায়তা করে। সজনেতে ছয়টি গুণ আছে-

পুষ্টির ভান্ডার: প্রোটিন, ভিটামিন এ, ভিটামিনসি, পটাসিয়াম, ক্যালসিয়ামের পাশাপাশি এতে আয়রনও আছে। আয়রনের দিক থেকে এটি পালং শাকের চেয়ে ৫ গুণ বেশি শক্তিশালী।

এন্টি-অক্সিডেন্টের খনি: সজনের পাতাকে এন্টি-অক্সিডেন্টের খনি বলা যায়। এর মধ্যে আছে ভিটামিন সি, বেটা-কেরোটিন, কিউরেকটিন এবং ক্লোরোজেনিকঅ্যাসিড। এসব উপাদান মানব দেহের জন্য উপকারী। সাধারণত, ক্লোরোজেনিক অ্যাসিড রক্তের চাপ ও শর্করা কমাতে বিশেষ কাজে দেয়। এশিয়ান প্যাসিফিক জার্নাল অব ক্যানসার প্রিভেনশনদারি করছে, সজনের পাতায় বিদ্যমান এন্টি-অক্সিডেন্ট ক্যানসার কোষ সৃষ্টিতে বাধা দেয়।

ডায়েবেটিস: এন্টি-অক্সিডেন্ট এবং আইসোথিয়োকাইনেটস নামের উপাদানগুলো নিয়মিত গ্রহণে ডায়েবেটিস কমে যায়। প্রতিদিন মাত্র ৫০ গ্রাম সজনের পাতা খেলে ডায়বেটিস ২১ শতাংশ হ্রাস পায়। এক চা চামচ করে সজনে পাতার গুড়া খেয়ে ডায়েবেটিস নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

তেলেস মাতি: সজিনার বীজের তৈরি তেলে সত্যিই তেলেসমাতি আছে। অন্য যে কোনো ভেজিটেবেল অয়েল-এর চেয়ে এর গুণাগুণ বেশি। দীর্ঘ দিনের লিভারের রোগীর জন্য এ তেল খুব উপকারী। সজিনা গ্রহণে খাদ্যের গুণগত মান অটুট থাকে। পচনশীল খাবারকে দীর্ঘ স্থায়ীত্ব দিতে সজনের তেল খুব উপকারী। বাতের ব্যথা-বেদনায় এই তেল ব্যবহার করা যায় এবং শীতের আর্দ্রতা থেকে ত্বককে রক্ষা করা, রূপচর্চাতেও এই তেল কাজে লাগে।

কোলেস্টেরল: ঘাতক কোলেস্টেরলকে হত্যা করে সজনে হৃদপিণ্ডের বন্ধু হয়ে উঠতে পারে। থাইল্যান্ডে বহু বছর ধরে সজনেকে হৃদরোগের ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ৩ মাসের ব্যবহারে এটি কোলেস্টেরল লেভেল অর্ধেকে নামিয়ে আনতে পারে।

আর্সেনিক দূষণ: একটি বৈশ্বিক সমস্যা আর্সেনিক দূষণ। এই সমস্যা নিরোধে সজনের বীজ কিংবা পাতা ভূমিকা রাখে। এমনকি আর্সেনিক দূষণে আক্রান্ত রোগীকে সুস্থ করতে সজনে বীজ বা পাতা ব্যবহার কার্যকরী।

সাম্প্রতিক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, সজনে দানা পানি বিশুদ্ধ করণে সব চেয়ে ভালো প্রাকৃতিক উপায়। এক গবেষণা বলা হয়েছে, সজনের দানা পানি দূষণ রোধ করে, পানিতে কোনো রকম দূষণীয় ব্যাকটেরিয়া বা অন্য কোনো অণুজীব উপদান দ্রবীভূত হতে দেয় না। আমেরিকা, নামিবিয়া, ফ্রান্স ও বতসোয়ানার কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, সজিনার আণুবিক্ষণিক প্রোটিন উপাদান পানি বিশুদ্ধকরণে বিশেষ ভূমিকা রাখে। একইভাবে সজনে শরীরকে বিশুদ্ধ রাখে। সজনেকে আজকের বিশ্বে ‘সুপার ফুড’ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সজনের ঔষধি গুণাগুণ!

আপডেট সময় ১২:৪৫:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ মার্চ ২০১৮

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

গ্রাম-বাংলায় সজনে একটি পরিচিত গাছ। সজনে গাছ বাড়ে দ্রুত। দুই থেকে তিনবছরে ফুল দেয়। এই গাছের ফুল, পাতা, ফল সব কিছুই সুস্বাদু। গাছের বৈজ্ঞানিক নাম (Moringa Oleifera)। এই গাছটিকে মিরাকল ট্রি বা অলৌকিক গাছ নামেও আখ্যায়িত করা হয়েছে।

সজনে গাছের প্রতি গ্রাম পাতায় গাজরের থেকে ৪ গুণ বেশি ভিটামিন এ, দুধের থেকে ৪ গুণ বেশি ক্যালসিয়াম, কলার থেকে ৩ গুণ বেশি পটাসিয়াম, কমলা লেবুর থেকে ৭ গুণ বেশি ভিটামিন, দইয়ের থেকে ২ গুণ বেশি প্রোটিন আছে।

এই গাছে প্রায় ৩০০ রকমের অসুখের চিকিৎসা হয়। দক্ষিণ এশিয়ায় বহু বছর ধরে বাড়ির আনাচে-কানাচে, বনে-জঙ্গলে, পুকুরের ধারে এই গাছ দেখা যায়। সম্প্রতি সেনেগাল, মালির মতো আফ্রিকান দেশগুলোতে এর চাষ হচ্ছে বাণিজ্যিক ভাবে।

তেল-রসুন দিয়ে রান্না সজনে খেতে সুস্বাদু ও পুষ্টিকর। সজনে পাতা ও সজেনাতে আঁশ আছে, যা খাদ্যনালী ও অন্ত্রে পরিপাক তন্ত্রকে পরিষ্কার করে। বিশেষ করে তৈলাক্ত অনেক খাবার আমরা খাই, যার তেল রক্তনালীতে আটকে থাকে। এই গুলো বের করতে সজনে সাহায্য করে। সজনের মধ্যে আইসোথিয়োকাইনেটস নামে একটি উপাদান আছে, যা গ্যাস্ট্রিক, আলসার এবং গ্যাস্ট্রিক জনিত ক্যানসার ঠেকাতে সহায়তা করে। সজনেতে ছয়টি গুণ আছে-

পুষ্টির ভান্ডার: প্রোটিন, ভিটামিন এ, ভিটামিনসি, পটাসিয়াম, ক্যালসিয়ামের পাশাপাশি এতে আয়রনও আছে। আয়রনের দিক থেকে এটি পালং শাকের চেয়ে ৫ গুণ বেশি শক্তিশালী।

এন্টি-অক্সিডেন্টের খনি: সজনের পাতাকে এন্টি-অক্সিডেন্টের খনি বলা যায়। এর মধ্যে আছে ভিটামিন সি, বেটা-কেরোটিন, কিউরেকটিন এবং ক্লোরোজেনিকঅ্যাসিড। এসব উপাদান মানব দেহের জন্য উপকারী। সাধারণত, ক্লোরোজেনিক অ্যাসিড রক্তের চাপ ও শর্করা কমাতে বিশেষ কাজে দেয়। এশিয়ান প্যাসিফিক জার্নাল অব ক্যানসার প্রিভেনশনদারি করছে, সজনের পাতায় বিদ্যমান এন্টি-অক্সিডেন্ট ক্যানসার কোষ সৃষ্টিতে বাধা দেয়।

ডায়েবেটিস: এন্টি-অক্সিডেন্ট এবং আইসোথিয়োকাইনেটস নামের উপাদানগুলো নিয়মিত গ্রহণে ডায়েবেটিস কমে যায়। প্রতিদিন মাত্র ৫০ গ্রাম সজনের পাতা খেলে ডায়বেটিস ২১ শতাংশ হ্রাস পায়। এক চা চামচ করে সজনে পাতার গুড়া খেয়ে ডায়েবেটিস নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

তেলেস মাতি: সজিনার বীজের তৈরি তেলে সত্যিই তেলেসমাতি আছে। অন্য যে কোনো ভেজিটেবেল অয়েল-এর চেয়ে এর গুণাগুণ বেশি। দীর্ঘ দিনের লিভারের রোগীর জন্য এ তেল খুব উপকারী। সজিনা গ্রহণে খাদ্যের গুণগত মান অটুট থাকে। পচনশীল খাবারকে দীর্ঘ স্থায়ীত্ব দিতে সজনের তেল খুব উপকারী। বাতের ব্যথা-বেদনায় এই তেল ব্যবহার করা যায় এবং শীতের আর্দ্রতা থেকে ত্বককে রক্ষা করা, রূপচর্চাতেও এই তেল কাজে লাগে।

কোলেস্টেরল: ঘাতক কোলেস্টেরলকে হত্যা করে সজনে হৃদপিণ্ডের বন্ধু হয়ে উঠতে পারে। থাইল্যান্ডে বহু বছর ধরে সজনেকে হৃদরোগের ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ৩ মাসের ব্যবহারে এটি কোলেস্টেরল লেভেল অর্ধেকে নামিয়ে আনতে পারে।

আর্সেনিক দূষণ: একটি বৈশ্বিক সমস্যা আর্সেনিক দূষণ। এই সমস্যা নিরোধে সজনের বীজ কিংবা পাতা ভূমিকা রাখে। এমনকি আর্সেনিক দূষণে আক্রান্ত রোগীকে সুস্থ করতে সজনে বীজ বা পাতা ব্যবহার কার্যকরী।

সাম্প্রতিক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, সজনে দানা পানি বিশুদ্ধ করণে সব চেয়ে ভালো প্রাকৃতিক উপায়। এক গবেষণা বলা হয়েছে, সজনের দানা পানি দূষণ রোধ করে, পানিতে কোনো রকম দূষণীয় ব্যাকটেরিয়া বা অন্য কোনো অণুজীব উপদান দ্রবীভূত হতে দেয় না। আমেরিকা, নামিবিয়া, ফ্রান্স ও বতসোয়ানার কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, সজিনার আণুবিক্ষণিক প্রোটিন উপাদান পানি বিশুদ্ধকরণে বিশেষ ভূমিকা রাখে। একইভাবে সজনে শরীরকে বিশুদ্ধ রাখে। সজনেকে আজকের বিশ্বে ‘সুপার ফুড’ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।