ঢাকা ১২:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাড্ডায় অটোরিকশা চালকদের সড়ক অবরোধে চরম ভোগান্তি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শামীম ওসমানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল জন্মহারে বড় ধস, অর্থনৈতিক সংকটের মুখে চীন স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ২১ আপিল শুনানিতে কোনো ধরনের পক্ষপাত করিনি : সিইসি নির্বাচনে অংশ নেবে কিনা ভাববে এনসিপি : আসিফ মাহমুদ প্রশাসন ধীরে ধীরে একটি রাজনৈতিক দলের দিকে ঝুঁকে পড়ছে : আব্দুল্লাহ মো. তাহের একটি রাজনৈতিক দল বিভিন্ন এলাকা থেকে ভোটারদের ঢাকায় স্থানান্তর করে আনছে: ফখরুলের অভিযোগ নরসিংদীতে দুই ব্যবসায়ীর ঝগড়ায় একজনের মৃত্যু, অভিযুক্তর বাড়িতে ভাঙচুর-আগুন ৭ কলেজ নিয়ে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ অধ্যাদেশ চূড়ান্ত

ত্রাণ পেতে যৌন কর্মে বাধ্য হচ্ছে সিরীয় নারীরা

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে সিরিয়ায় ত্রাণ দেবার সময় স্থানীয় লোকেরা সেখানকার নারীদের যৌন কাজে ব্যবহার করেছে বলে বিবিসি জানতে পেরেছে।

ত্রাণ কর্মীরা বলেছেন, খাদ্য সাহায্য এবং তাদের গাড়িতে করে কোথাও পৌঁছে দেবার বিনিময়ে ওই লোকেরা যৌন সুবিধা নিতো।

ত্রাণকর্মীরা বিবিসিকে বলেছেন, যৌন শোষণ সেখানে এতটাই ব্যাপক যে কিছু সিরিয়ান নারীরা ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রেই যেতেন না – কারণ তাহলে লোকে ভাববে যে তারা দেহদান করে ত্রাণসামগ্রী নিয়ে এসেছে।

কেয়ার এবং আন্তর্জাতিক উদ্ধার কমিটি (আইআরসি) নামে দুটি মানবিক সংস্থা ২০১৫ সালেই সতর্ক করে দিয়েছিল যে এমন ঘটনা ঘটছে। কিন্তু গত বছরেও ইউএনএফপিএর একটি রিপোর্টে দেখা যায় যে দক্ষিণ সিরিয়ায় ‘ত্রাণের বিনিময়ে যৌন সুবিধা নেয়া’ অব্যাহত রয়েছে।

দৃষ্টান্ত হিসেবে বলা হয়েছে, এক বেলার খাবার পেতে সিরিয়ান নারী বা অল্পবয়স্ক মেয়েরাও অল্প কিছু সময়ের জন্য কর্মকর্তাদের বিয়ে করে ‘যৌন সেবা’ দিয়েছে।

কোথাও ত্রাণ বিতরণকারীরা মেয়েদের কাছে তাদের ফোন নাম্বার চেয়েছে, কেউ বা গাড়িতে করে বাড়ি পৌঁছে দেবার বিনিময়ে ‘কিছু একটা’ চেয়েছে।

অনেক নারীকে ত্রাণ দেবার বিনিময়ে ‘তার বাড়িতে যাবার’ বা ‘তার সঙ্গে এক রাত কাটানোর’ ঘটনা ঘটেছে।

একজন ত্রাণকর্মী দাবি করেছেন যে, লোকজনের হাতে ত্রাণ পৌঁছানোর স্বার্থে তারা এসব দেখেও না দেখার ভান করেছিলেন।

ইউএনএফপিএর ভয়েসেস ফ্রম সিরিয়া ২০১৮ নামে এক রিপোর্টে বলা হয়, বিশেষ করে বিধবা বা তালাকপ্রাপ্তা নারী বা অল্পবয়সী মেয়ে ‘যাদের কোন পুরুষ রক্ষক নেই’ – তাদের এ রকম বিপদের ঝুঁকি বেশি।

কোনো কোনো নারী বলেছে, দারা এবং কুনেইত্রার স্থানীয় কাউন্সিলের পুরুষ কর্মীরা ত্রাণসামগ্রী আটকে রেখে নারীদের যৌন কাজে ব্যবহার করতো্ – জানান ডানিয়েল স্পেন্সার নামে একটি দাতব্য সংস্থার উপদেষ্টা।

এ ব্যাপারে বিবিসির সঙ্গে কথা বলার সময় জাতিসংঘ এবং দাতব্য সংস্থাগুলো এ রকম ঝুঁকির কথা স্বীকার করেছে। তবে তারা বলছে এ ব্যাপারে তাদের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে এবং ওই অঞ্চলে তাদের সহযোগীদের মধ্যে এ ধরনের কাজ হচ্ছে বলে তাদের জানা নেই।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ত্রাণ পেতে যৌন কর্মে বাধ্য হচ্ছে সিরীয় নারীরা

আপডেট সময় ০৩:৩১:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে সিরিয়ায় ত্রাণ দেবার সময় স্থানীয় লোকেরা সেখানকার নারীদের যৌন কাজে ব্যবহার করেছে বলে বিবিসি জানতে পেরেছে।

ত্রাণ কর্মীরা বলেছেন, খাদ্য সাহায্য এবং তাদের গাড়িতে করে কোথাও পৌঁছে দেবার বিনিময়ে ওই লোকেরা যৌন সুবিধা নিতো।

ত্রাণকর্মীরা বিবিসিকে বলেছেন, যৌন শোষণ সেখানে এতটাই ব্যাপক যে কিছু সিরিয়ান নারীরা ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রেই যেতেন না – কারণ তাহলে লোকে ভাববে যে তারা দেহদান করে ত্রাণসামগ্রী নিয়ে এসেছে।

কেয়ার এবং আন্তর্জাতিক উদ্ধার কমিটি (আইআরসি) নামে দুটি মানবিক সংস্থা ২০১৫ সালেই সতর্ক করে দিয়েছিল যে এমন ঘটনা ঘটছে। কিন্তু গত বছরেও ইউএনএফপিএর একটি রিপোর্টে দেখা যায় যে দক্ষিণ সিরিয়ায় ‘ত্রাণের বিনিময়ে যৌন সুবিধা নেয়া’ অব্যাহত রয়েছে।

দৃষ্টান্ত হিসেবে বলা হয়েছে, এক বেলার খাবার পেতে সিরিয়ান নারী বা অল্পবয়স্ক মেয়েরাও অল্প কিছু সময়ের জন্য কর্মকর্তাদের বিয়ে করে ‘যৌন সেবা’ দিয়েছে।

কোথাও ত্রাণ বিতরণকারীরা মেয়েদের কাছে তাদের ফোন নাম্বার চেয়েছে, কেউ বা গাড়িতে করে বাড়ি পৌঁছে দেবার বিনিময়ে ‘কিছু একটা’ চেয়েছে।

অনেক নারীকে ত্রাণ দেবার বিনিময়ে ‘তার বাড়িতে যাবার’ বা ‘তার সঙ্গে এক রাত কাটানোর’ ঘটনা ঘটেছে।

একজন ত্রাণকর্মী দাবি করেছেন যে, লোকজনের হাতে ত্রাণ পৌঁছানোর স্বার্থে তারা এসব দেখেও না দেখার ভান করেছিলেন।

ইউএনএফপিএর ভয়েসেস ফ্রম সিরিয়া ২০১৮ নামে এক রিপোর্টে বলা হয়, বিশেষ করে বিধবা বা তালাকপ্রাপ্তা নারী বা অল্পবয়সী মেয়ে ‘যাদের কোন পুরুষ রক্ষক নেই’ – তাদের এ রকম বিপদের ঝুঁকি বেশি।

কোনো কোনো নারী বলেছে, দারা এবং কুনেইত্রার স্থানীয় কাউন্সিলের পুরুষ কর্মীরা ত্রাণসামগ্রী আটকে রেখে নারীদের যৌন কাজে ব্যবহার করতো্ – জানান ডানিয়েল স্পেন্সার নামে একটি দাতব্য সংস্থার উপদেষ্টা।

এ ব্যাপারে বিবিসির সঙ্গে কথা বলার সময় জাতিসংঘ এবং দাতব্য সংস্থাগুলো এ রকম ঝুঁকির কথা স্বীকার করেছে। তবে তারা বলছে এ ব্যাপারে তাদের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে এবং ওই অঞ্চলে তাদের সহযোগীদের মধ্যে এ ধরনের কাজ হচ্ছে বলে তাদের জানা নেই।