ঢাকা ১২:১০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সম্প্রীতি বজায় রেখে নেতাদের রাজনীতি করার আহ্বান ডেপুটি স্পিকারের টাকা ছাপিয়ে ঋণ নয়, প্রাইভেট সেক্টরকে রক্ষা করাই নীতি: অর্থমন্ত্রী ২-৩ বছরের মধ্যে শিক্ষার নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়ন সম্ভব : গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হকারদের পুনর্বাসনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ‘ফেলুদা’খ্যাত অভিনেতা বিপ্লব মারা গেছেন আচরণবিধি লঙ্ঘনে শাস্তি পেলেন নাহিদা-শারমিন পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে কাজ করছে সরকার : অর্থমন্ত্রী কুমিল্লায় মহাসড়কের পাশে মিলল কাস্টমস কর্মকর্তার রক্তাক্ত মরদেহ অর্থনীতি মজবুত করতে প্রাণিসম্পদ খাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ : প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী হাজার চেষ্টা করলেও আ.লীগ হতে পারবেন না: বিএনপিকে জামায়াত আমির

তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগপত্র অনুমোদন দেয় দুদক: চেয়ারম্যান

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

দুর্নীতি দমন কমিশন প্রযোজনীয় এবং প্রমাণযোগ্য দালিলিক তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতেই অভিযোগপত্র অনুমোদন দিয়ে থাকে বলে জানিয়েছেন কমিশনের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। আর এ কারণে কমিশনের মামলায় সাজার হার ৭০ শতাংশ জানিয়ে তিনি শতভাগ সাজা অর্জনের লক্ষ্যের কথা জানান।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলাটি জাল নথিপত্র দিয়ে করা হয়েছে-বিএনপির পক্ষ থেকে আসা এমন অভিযোগের পর অন্য একটি প্রসঙ্গে দুদক চেয়ারম্যান এ কথা বলেন।

আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে যে মামলায় রায় হতে যাচ্ছে সেটি ২০০৮ সালের ৩ জুলাই দায়ের করে দুদক। ১৩ মাস পর ২০০৯ সালের ৫ আগস্ট খালেদা জিয়া, তারেক রহমানসহ ছয় জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন দুদকের সহকারী পরিচালক হারুন-অর রশিদ।

দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এই মামলায় ছয় আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড চেয়েছেন দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল। তিনি দাবি করেছেন, আসামিদের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণ হয়েছে। তবে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা দাবি করেছেন, পুরা মামলাটি করা হয়েছে জাল দলিলের ওপর ভিত্তি করে। এই মামলার কোনো সারবত্ত্বা নেই।

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে করা মামলা নিয়ে কোনো কথা না বললেও দুদক চেয়ার‌ম্যান বলেন, ‘প্রযোজনীয় এবং প্রমাণযোগ্য দালিলিক তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতেই কমিশন অভিযোগপত্র অনুমোদন দিয়ে থাকে।’

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ভুয়া নোটিশ পাঠিয়ে বা মিথ্যা মামলা দিয়ে মানুষকে হয়রানি বন্ধে দুদক সফলতা অর্জন করেছে। প্রতিষ্ঠান হিসেবে অনেক সমালোচনা থাকলেও দুদক বর্তমানে অনেক ভালো কাজ করছে বলেও দাবি করেন তিনি।

শনিবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ের মিলনায়তনে ‘কমিশনের দায়েরকৃত মামলার সফল নিষ্পত্তির লক্ষ্যে করণীয়’ শীর্ষক দিনব্যাপী এক কর্মশালার উদ্বোধন করেন দুদক চেয়ার‌ম্যান। কর্মশালায় দুদকের ময়মনংসিংহ, ঢাকা-২, টাঙ্গাইল ও ফরিদপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের অধীন পাবলিক প্রসিকিউটর ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন।

এ সময় আইনজীবীদেরকে আলামত, সাক্ষী উপস্থাপনসহ যুক্তি-তর্কের মাধ্যমে বস্তুনিষ্ঠভাবে মামলার দালিলিক নির্যাস উপস্থাপন করারও আহ্বান জানান দুদক চেয়ারম্যান।

দুদকের মামলায় সাজার হাজ ৩৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭০ শতাংশ হয়েছে জানিয়ে এই পরামর্শগুলো মানলে শতভাগ সাজার আকাঙক্ষা বাস্তবে পরিণত হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন ইকবাল মাহমুদ।

প্রকৃত দুর্নীতিপরায়ন ব্যক্তিদের শাস্তির মুখোমুখি করা গেলে দুর্নীতি প্রতিরোধে কমিশন সফল হবে মন্তব্য করেন দুদক চেয়ার‌ম্যান। পেশাগত পবিত্রতা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা বজায় রেখে কমিশনের মামলা পরিচালনার জন্য দুদকের আইনজীবীদের পরামর্শ দেন তিনি।

‘দুদকের আইনজীবীরা কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। তারা নাগরিকের জীবন, সম্পদ ও অধিকার সংরক্ষণে পেশাগত দায়িত্ব পালন করে। মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে আইনজীবীদের ভূমিকাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’

দুদকের প্রধান কার্যালয় বর্তমানে সম্পূর্ণভাবে তদবিরবাজমুক্ত হয়েছে বলেও জানান ইকবাল মাহমুদ। বলেন, ‘কোনো লাভ হবে না জেনেই ফ্লোরে-ফ্লোরে তদবিরের জন্য ঘুরা বা অন্যভাবেও মামলার অনৈতিক তদবির নিয়ে কেউ এখন দুদকে আসেন না।’

কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন দুদকের মহাপরিচালক (আইন) মঈদুল ইসলাম, পরিচালক (প্রসিকিউশন) শেখ ফারুক হোসেন, উপপরিচালক (প্রসিকিউশন) মনিরুজ্জামান খান প্রমুখ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগপত্র অনুমোদন দেয় দুদক: চেয়ারম্যান

আপডেট সময় ০৭:২৮:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

দুর্নীতি দমন কমিশন প্রযোজনীয় এবং প্রমাণযোগ্য দালিলিক তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতেই অভিযোগপত্র অনুমোদন দিয়ে থাকে বলে জানিয়েছেন কমিশনের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। আর এ কারণে কমিশনের মামলায় সাজার হার ৭০ শতাংশ জানিয়ে তিনি শতভাগ সাজা অর্জনের লক্ষ্যের কথা জানান।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলাটি জাল নথিপত্র দিয়ে করা হয়েছে-বিএনপির পক্ষ থেকে আসা এমন অভিযোগের পর অন্য একটি প্রসঙ্গে দুদক চেয়ারম্যান এ কথা বলেন।

আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে যে মামলায় রায় হতে যাচ্ছে সেটি ২০০৮ সালের ৩ জুলাই দায়ের করে দুদক। ১৩ মাস পর ২০০৯ সালের ৫ আগস্ট খালেদা জিয়া, তারেক রহমানসহ ছয় জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন দুদকের সহকারী পরিচালক হারুন-অর রশিদ।

দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এই মামলায় ছয় আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড চেয়েছেন দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল। তিনি দাবি করেছেন, আসামিদের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণ হয়েছে। তবে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা দাবি করেছেন, পুরা মামলাটি করা হয়েছে জাল দলিলের ওপর ভিত্তি করে। এই মামলার কোনো সারবত্ত্বা নেই।

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে করা মামলা নিয়ে কোনো কথা না বললেও দুদক চেয়ার‌ম্যান বলেন, ‘প্রযোজনীয় এবং প্রমাণযোগ্য দালিলিক তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতেই কমিশন অভিযোগপত্র অনুমোদন দিয়ে থাকে।’

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ভুয়া নোটিশ পাঠিয়ে বা মিথ্যা মামলা দিয়ে মানুষকে হয়রানি বন্ধে দুদক সফলতা অর্জন করেছে। প্রতিষ্ঠান হিসেবে অনেক সমালোচনা থাকলেও দুদক বর্তমানে অনেক ভালো কাজ করছে বলেও দাবি করেন তিনি।

শনিবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ের মিলনায়তনে ‘কমিশনের দায়েরকৃত মামলার সফল নিষ্পত্তির লক্ষ্যে করণীয়’ শীর্ষক দিনব্যাপী এক কর্মশালার উদ্বোধন করেন দুদক চেয়ার‌ম্যান। কর্মশালায় দুদকের ময়মনংসিংহ, ঢাকা-২, টাঙ্গাইল ও ফরিদপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের অধীন পাবলিক প্রসিকিউটর ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন।

এ সময় আইনজীবীদেরকে আলামত, সাক্ষী উপস্থাপনসহ যুক্তি-তর্কের মাধ্যমে বস্তুনিষ্ঠভাবে মামলার দালিলিক নির্যাস উপস্থাপন করারও আহ্বান জানান দুদক চেয়ারম্যান।

দুদকের মামলায় সাজার হাজ ৩৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭০ শতাংশ হয়েছে জানিয়ে এই পরামর্শগুলো মানলে শতভাগ সাজার আকাঙক্ষা বাস্তবে পরিণত হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন ইকবাল মাহমুদ।

প্রকৃত দুর্নীতিপরায়ন ব্যক্তিদের শাস্তির মুখোমুখি করা গেলে দুর্নীতি প্রতিরোধে কমিশন সফল হবে মন্তব্য করেন দুদক চেয়ার‌ম্যান। পেশাগত পবিত্রতা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা বজায় রেখে কমিশনের মামলা পরিচালনার জন্য দুদকের আইনজীবীদের পরামর্শ দেন তিনি।

‘দুদকের আইনজীবীরা কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। তারা নাগরিকের জীবন, সম্পদ ও অধিকার সংরক্ষণে পেশাগত দায়িত্ব পালন করে। মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে আইনজীবীদের ভূমিকাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’

দুদকের প্রধান কার্যালয় বর্তমানে সম্পূর্ণভাবে তদবিরবাজমুক্ত হয়েছে বলেও জানান ইকবাল মাহমুদ। বলেন, ‘কোনো লাভ হবে না জেনেই ফ্লোরে-ফ্লোরে তদবিরের জন্য ঘুরা বা অন্যভাবেও মামলার অনৈতিক তদবির নিয়ে কেউ এখন দুদকে আসেন না।’

কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন দুদকের মহাপরিচালক (আইন) মঈদুল ইসলাম, পরিচালক (প্রসিকিউশন) শেখ ফারুক হোসেন, উপপরিচালক (প্রসিকিউশন) মনিরুজ্জামান খান প্রমুখ।