ঢাকা ০৭:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে সব ধরনের সংগঠনের নির্বাচন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে ইসি এমপি যদি সৎ হন, ঠিকাদারের বাপের সাধ্য নেই চুরি করার: রুমিন ফারহানা ‘ধর্মের নামে ব্যবসা করে যারা নির্বাচনে জিততে চায়, তারা এ দেশে আর কখনো গ্রহণযোগ্যতা পাবে না’:ফারুক পার্থকে ছেড়ে দিলেন বিএনপির প্রার্থী গোলাম নবী গণহত্যার বিচারে ধরনের কম্প্রোমাইজ নয়: প্রসিকিউটর তামিম স্ত্রীর কোনো স্বর্ণ নেই, তাহেরির আছে ৩১ ভরি স্বর্ণ নির্বাচনে ভোট ডাকাতি যেন আর কখনো না ঘটে, সে ব্যবস্থা করতে হবে : প্রধান উপদেষ্টা ইরানে অর্ধশতাধিক মসজিদ-১৮০ অ্যাম্বুলেন্সে আগুন দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা নির্বাচনে ৩০ আসনে লড়বে এনসিপি: আসিফ মাহমুদ নির্বাচন বানচালে দেশবিরোধী শক্তি অপচেষ্টা ও সহিংসতা চালাচ্ছে : মির্জা আব্বাস

ঘাড়ে বন্দুক ধরলেও বন্দেমাতরাম গাইবো না: আবু আজমী

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

ভারতের বিজেপি-শিবসেনা শাসিত মহারাষ্ট্রে ‘বন্দেমাতরম’ সঙ্গীত বাধ্যতামূলক করার বিরোধিতা করেছেন সমাজবাদী পার্টির নেতা আবু আজমী ও মজলিশ ই ইত্তেহাদুল মুসলেমিন নেতা ওয়ারিস পাঠান। মহারাষ্ট্রের বিজেপি বিধায়ক রাজ পুরোহিত বন্দেমাতরম সঙ্গীত বাধ্যতামূলক করার পক্ষে সাফাই দিয়েছেন। গতকাল (বৃহস্পতিবার) তিনি বলেন, তিনি রাজ্য সরকারকে রাষ্ট্রীয় গীত বাধ্যতামূলক করার জন্য নয়া আইন আনার জন্য বলবেন।

রাজ পুরোহিত বলেন, আমি মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিসকে বলব, সম্প্রতি মাদ্রাজ হাইকোর্ট থেকে বন্দেমাতরম সঙ্গীত বাধ্যতামূলক করতে যে রায় দেয়া হয়েছে তা মহারাষ্ট্রেও গ্রহণ করা হোক।বিজেপি বিধায়ক রাজ পুরোহিতের এ ধরণের মন্তব্যের পর মহারাষ্ট্রে সমাজবাদী পার্টির সভাপতি ও বিধায়ক আবু আজমী বলেন, তিনি বন্দেমাতরমকে অবশ্যই সম্মান করেন কিন্তু যাই হোক না কেন তিনি তা গাইবেন না।

আবু আজমী বলেন, ‘যখন ভারত ভাগ হয়েছিল তখন এ কথা বলা হয়নি যে আমরা মুসলিমরা যদি ভারতে থাকি তাহলে আমাদের ওই সঙ্গীত গাইতে বাধ্য করা হবে। আপনারা আমাকে গুলি করতে পারেন অথবা দেশ থেকে বাইরে ছুঁড়ে ফেলতে পারেন কিন্তু আমি তা গাইব না।’

অন্যদিকে, আবু আজমীর সঙ্গে সহমত প্রকাশ করে ‘অল ইন্ডিয়া মজলিশ ই ইত্তেহাদুল মুসলেমিন’ বিধায়ক ওয়ারিস পাঠান বলেছেন, ‘আমার ঘাড়ে বন্দুক অথবা গলায় ছুরি ধরা হলেও আমি কোনোভাবেই বন্দেমাতরম গাইব না।’

ওয়ারিস পাঠান বলেন, তার দল সবসময় ওই ইস্যুর বিরোধিতা করেছে এবং যদি বিষয়টি বিধানসভায় তোলা হয় তখনও তার বিরোধিতা করা হবে। আবু আজমী এবং ওয়ারিস পাঠান দু’জনেই বলেছেন, ওই সঙ্গীত গেয়ে তাদের দেশপ্রেমের প্রমাণ দেয়ার জন্য বাধ্য করা যায় না।

এদিকে, ওই বিতর্কে রাজ্যের পরিবহণ মন্ত্রী ও শিবসেনা নেতা আবু আজমী এবং ওয়ারিস পাঠানকে দেশদ্রোহী বলে আখ্যা দিয়েছেন। রাউত বলেন, ওদের জানা উচিত বন্দেমাতরমে দেশপ্রেম প্রতিফলিত হয় এবং আমাদের সেনারা দেশের জন্য নিজেদের জীবন বিসর্জন দিচ্ছে। যদি ওরা এতই লজ্জিত হয় এবং রাষ্ট্রীয় গীত গাইতে না চান তাহলে তারা পাকিস্তানে চলে গেলেই ভালো হবে।

ভারতের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘জনগণমন’ জাতীয় সঙ্গীত হলেও বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘বন্দে মাতরম্ ’ সঙ্গীতের ২৬ লাইনের মধ্যে প্রথম দু’টি স্তবকের ১২ লাইনকে জাতীয় সঙ্গীতের স্বীকৃতি দেয়া হয়। বর্তমানে জনগণমন ভারতের জাতীয় সংগীত বা রাষ্ট্রগান ও বন্দেমাতরম ভারতের জাতীয় স্তোত্র বা রাষ্ট্রগীত হিসেবে বিবেচিত হয়।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি মাদ্রাজ হাইকোর্ট তামিলনাড়ুর স্কুল, কলেজ, সরকারি-বেসরকারি অফিস,কলকারখানা থেকে সর্বত্র ‘বন্দে মাতরম্’ গাওয়া বাধ্যতামূলক বলে ঘোষণা করেছে। গত বুধবার একটি চাকরি সংক্রান্ত মামলায় ওই রায় দেয় মাদ্রাজ হাইকোর্ট। ওই নির্দেশের পর যথারীতি দেশ জুড়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে ‘বন্দে মাতরম্ ’ গাওয়া বাধ্যতামুলক হলেই কী সকলের মনে দেশপ্রেম জেগে উঠবে?

‘বন্দে মাতরম্’ গান নিয়ে গবেষণাকারী তথা বর্ধমানের মানকর কলেজের স্তরের শিক্ষক বিজয় সাউ বলেন, ‘দুর্গাবন্দনার জন্য প্রথমে ওই গানটি লেখেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। পরে ওই গানটিকে আরও বড় আকারে লিখে তা ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত করেন।’

ভাষাবিদ পবিত্র সরকারের মতে, ‘এটি আদৌ প্রাসঙ্গিক নয়। কারণ জাতীয় সঙ্গীত গাইলেই দেশাত্ববোধ জেগে উঠবে, এটা অত্যন্ত ভুল ধারণা। বরং এটি সাধারণ মানুষের কাছে বেশ উৎপীড়নের বলেই মনে হয়।’ ‘বন্দে মাতরম্ ’-কে বাধ্যতামূলক করার জন্য যে প্রচেষ্টা চলছে, তার পিছনে রাজনৈতিক অভিসন্ধি থাকতে পারে বলেও তার অভিমত।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে সব ধরনের সংগঠনের নির্বাচন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে ইসি

ঘাড়ে বন্দুক ধরলেও বন্দেমাতরাম গাইবো না: আবু আজমী

আপডেট সময় ০১:৩৯:৫৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ জুলাই ২০১৭

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

ভারতের বিজেপি-শিবসেনা শাসিত মহারাষ্ট্রে ‘বন্দেমাতরম’ সঙ্গীত বাধ্যতামূলক করার বিরোধিতা করেছেন সমাজবাদী পার্টির নেতা আবু আজমী ও মজলিশ ই ইত্তেহাদুল মুসলেমিন নেতা ওয়ারিস পাঠান। মহারাষ্ট্রের বিজেপি বিধায়ক রাজ পুরোহিত বন্দেমাতরম সঙ্গীত বাধ্যতামূলক করার পক্ষে সাফাই দিয়েছেন। গতকাল (বৃহস্পতিবার) তিনি বলেন, তিনি রাজ্য সরকারকে রাষ্ট্রীয় গীত বাধ্যতামূলক করার জন্য নয়া আইন আনার জন্য বলবেন।

রাজ পুরোহিত বলেন, আমি মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিসকে বলব, সম্প্রতি মাদ্রাজ হাইকোর্ট থেকে বন্দেমাতরম সঙ্গীত বাধ্যতামূলক করতে যে রায় দেয়া হয়েছে তা মহারাষ্ট্রেও গ্রহণ করা হোক।বিজেপি বিধায়ক রাজ পুরোহিতের এ ধরণের মন্তব্যের পর মহারাষ্ট্রে সমাজবাদী পার্টির সভাপতি ও বিধায়ক আবু আজমী বলেন, তিনি বন্দেমাতরমকে অবশ্যই সম্মান করেন কিন্তু যাই হোক না কেন তিনি তা গাইবেন না।

আবু আজমী বলেন, ‘যখন ভারত ভাগ হয়েছিল তখন এ কথা বলা হয়নি যে আমরা মুসলিমরা যদি ভারতে থাকি তাহলে আমাদের ওই সঙ্গীত গাইতে বাধ্য করা হবে। আপনারা আমাকে গুলি করতে পারেন অথবা দেশ থেকে বাইরে ছুঁড়ে ফেলতে পারেন কিন্তু আমি তা গাইব না।’

অন্যদিকে, আবু আজমীর সঙ্গে সহমত প্রকাশ করে ‘অল ইন্ডিয়া মজলিশ ই ইত্তেহাদুল মুসলেমিন’ বিধায়ক ওয়ারিস পাঠান বলেছেন, ‘আমার ঘাড়ে বন্দুক অথবা গলায় ছুরি ধরা হলেও আমি কোনোভাবেই বন্দেমাতরম গাইব না।’

ওয়ারিস পাঠান বলেন, তার দল সবসময় ওই ইস্যুর বিরোধিতা করেছে এবং যদি বিষয়টি বিধানসভায় তোলা হয় তখনও তার বিরোধিতা করা হবে। আবু আজমী এবং ওয়ারিস পাঠান দু’জনেই বলেছেন, ওই সঙ্গীত গেয়ে তাদের দেশপ্রেমের প্রমাণ দেয়ার জন্য বাধ্য করা যায় না।

এদিকে, ওই বিতর্কে রাজ্যের পরিবহণ মন্ত্রী ও শিবসেনা নেতা আবু আজমী এবং ওয়ারিস পাঠানকে দেশদ্রোহী বলে আখ্যা দিয়েছেন। রাউত বলেন, ওদের জানা উচিত বন্দেমাতরমে দেশপ্রেম প্রতিফলিত হয় এবং আমাদের সেনারা দেশের জন্য নিজেদের জীবন বিসর্জন দিচ্ছে। যদি ওরা এতই লজ্জিত হয় এবং রাষ্ট্রীয় গীত গাইতে না চান তাহলে তারা পাকিস্তানে চলে গেলেই ভালো হবে।

ভারতের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘জনগণমন’ জাতীয় সঙ্গীত হলেও বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘বন্দে মাতরম্ ’ সঙ্গীতের ২৬ লাইনের মধ্যে প্রথম দু’টি স্তবকের ১২ লাইনকে জাতীয় সঙ্গীতের স্বীকৃতি দেয়া হয়। বর্তমানে জনগণমন ভারতের জাতীয় সংগীত বা রাষ্ট্রগান ও বন্দেমাতরম ভারতের জাতীয় স্তোত্র বা রাষ্ট্রগীত হিসেবে বিবেচিত হয়।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি মাদ্রাজ হাইকোর্ট তামিলনাড়ুর স্কুল, কলেজ, সরকারি-বেসরকারি অফিস,কলকারখানা থেকে সর্বত্র ‘বন্দে মাতরম্’ গাওয়া বাধ্যতামূলক বলে ঘোষণা করেছে। গত বুধবার একটি চাকরি সংক্রান্ত মামলায় ওই রায় দেয় মাদ্রাজ হাইকোর্ট। ওই নির্দেশের পর যথারীতি দেশ জুড়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে ‘বন্দে মাতরম্ ’ গাওয়া বাধ্যতামুলক হলেই কী সকলের মনে দেশপ্রেম জেগে উঠবে?

‘বন্দে মাতরম্’ গান নিয়ে গবেষণাকারী তথা বর্ধমানের মানকর কলেজের স্তরের শিক্ষক বিজয় সাউ বলেন, ‘দুর্গাবন্দনার জন্য প্রথমে ওই গানটি লেখেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। পরে ওই গানটিকে আরও বড় আকারে লিখে তা ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত করেন।’

ভাষাবিদ পবিত্র সরকারের মতে, ‘এটি আদৌ প্রাসঙ্গিক নয়। কারণ জাতীয় সঙ্গীত গাইলেই দেশাত্ববোধ জেগে উঠবে, এটা অত্যন্ত ভুল ধারণা। বরং এটি সাধারণ মানুষের কাছে বেশ উৎপীড়নের বলেই মনে হয়।’ ‘বন্দে মাতরম্ ’-কে বাধ্যতামূলক করার জন্য যে প্রচেষ্টা চলছে, তার পিছনে রাজনৈতিক অভিসন্ধি থাকতে পারে বলেও তার অভিমত।