অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
পদ্মাসেতুতে প্রথম স্প্যান বসেছে চার মাস আগে। এরপর প্রতি মাসে একটি করে বসার কথা থাকলেও দ্বিতীয়টা বসানে গিয়ে একের পর এক বাধা আসছে। সবশেষ শনিবার সেতুর পিলারের কাছে স্প্যান নিয়েও তা বসানো যায়নি।
সকাল ১০টা নাগাতই স্প্যানটি পিলারে বসে যাওয়ার খবর এসেছিল গণমাধ্যমে। সেতুর কর্মকর্তাদের বরাত দিয়েই এই খবর ছাপা হয়েছে। তবে ভাসমান ক্রেনটি পিলারের ঠিক যত কাছে গেলে স্প্যানটি বসানো যেতে, নাব্যতা সংকটের কারণে যেতে পারেনি ততটা। আর ক্রেনটি যেন যেতে পারে, সে জন্য ড্রেজিংও করা হয়। কিন্তু দিন শেষে এই কাজ শেষ করা যায়নি।
শনিবার সকাল থেকেই দ্বিতীয় স্প্যান সেভেন বি সুপার স্ট্রাকচারটি ৩৮ ও ৩৯ নং পিলারের উপর রাখার কাজ শুরু হয়। পদ্মা সেতুর প্রকৌশলীরা জানান, স্প্যানটি বসানোর পরীক্ষা সফল হয়। এরপরই তারা স্প্যান বসানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন।
বিকাল পাঁচটার দিকে আলোর স্বল্পতা এবং সার্ভে করতে প্রকৌশলীদের সমস্যা দেখা দেয়ায় বিকালে কাজ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন সেতুর কর্মীরা। রবিবার সকালে পিলারের উপর স্প্যান বসানোর কাজ আবার শুরু হবে বলে জানিয়েছেন প্রকৌশলীরা।
প্রকৌশলীরা জানান, ৩৮ নং পিলারের সঙ্গে সেভেন বি স্প্যানটিকে স্থায়ী ওয়েল্ডিং করে দেওয়া হবে। লোড বহনের জন্য লিফটিং ফ্রেম তৈরি করা হয়েছে। তবে স্প্যান স্থাপনের কাজ পুরোপুরি শেষ করতে রাত নয়টা থেকে ১০টা পর্যন্ত হয়ে যাবে বলে দুর্ঘটনা এড়াতে কাজ বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
পিলার থেকে ৫০০ মিটার দূরে রাখা হয়েেেছ ধূসর রঙের ১৫০ মিটার দৈঘ্যের্র ও তিন হাজার ১৪০ টন ওজনের স্প্যানটি।
প্রকৌশলীরা নির্ধারিত সময়, সিদ্ধান্ত এবং মতামত দিয়েও প্রতিবারই তা পরিবর্তন করায় সংবাদ মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।
৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সেতুতে ৪২ পিলারের ওপর বসবে ৪১টি স্প্যান। পদ্মা বহুমুখী সেতুর মূল আকৃতি হবে দোতলা। কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে নির্মিত হচ্ছে এ সেতুর কাঠামো।
এখনও যে ৪০টি স্প্যান বসবে, তার মধ্যে মাওয়ার কুমারভোগে নয়টি স্প্যান তৈরি হয়েছে। চীনে এরই মধ্যে তৈরি হয়ে আছে ১২টি। আর বাকি ১৯টি স্প্যান চীনে তৈরির প্রক্রিয়া চলছে।
গত ২০ জানুয়ারি মুন্সিগঞ্জে সেতু পরিদর্শনে গিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী জানান, এখন পর্যন্ত সেতুর সার্বিক অগ্রগতি ৫১.৫০ শতাংশ। এর মধ্যে নদী শাসনে ৩৫.৫০ শতাংশ মূল সেতুর অগ্রগতি ৫৬ শতাংশ।
পদ্মাসেতুর প্রথম স্প্যান বসানোর পর পিলারের কাজ করতে গিয়ে নদীর তলদেশে গভীর কাদার স্তর পাওয়া যায়। আর এই জটিলতার সমাধানে সেতুর নকশায় পরিবর্তন আনার কাজও শুরু হয়। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন, যে ৪২টি পিলারের ওপর দেশের সবচেয়ে বড় সেতুটি হচ্ছে তার মধ্যে ১৪টির নকশায় পরিবর্তন আনতে হবে। তবে এতে সেতুর নকশায় কোনো পরিবর্তন আসবে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।
২০১২ সালের ডিসেম্বরে পদ্মাসেতুর মূল কাজ উদ্বোধনের সময়ই ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে সেতুর কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। আর পিলার নির্মাণ নিয়ে জটিলতায় সেতুর কাজও পেছাবে না বলে জানিয়েছেন ওবায়দুল কাদের। মন্ত্রী বলেন, ‘পদ্মাসেতু সঠিক সময়ে উদ্বোধন করা হবে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 




















